আশিটি বছর ধরে পথ হাঁটিতেছি আমি ধান্ধার পথে। শৈশবে শুকতারা সাময়িকী চুরি, কর্ণফুলি পাড় থেকে
শিক্ষার অজুহাতে আটলান্টিক পাড়ে, অনেক ঘুরেছি আমি।
সত্তর দশকে, জিয়ার গ্রাম সরকারের ধূসর জগতে, সেখানে ছিলাম আমি। আরও দূর অন্ধকারে,
টাঙাইলের খিলদা-কালিহাতী গ্রামে, আমি ব্যস্ত প্রাণ এক,
সুযোগের উপকূলে সাঁতরাতেছিলাম আমি পাতকূয়া ব্যাঙ,
আমারে দু দণ্ড শান্তি দিয়েছিল জোবরার গ্রামীণ ব্যাংক।
সুদ নিই কবেকার গ্রামীণ মহাজন-সম চক্রবৃদ্ধি হারে,
ব্যর্থ হলে ঋণ পরিশোধে, কেড়ে নিই হাঁস-গরু-ঢেউটিন সব;
কোটি টাকা মূলধন জমে গেলে,পায়ে ধরে শেখের বেটির
রেলওয়ের ওয়ারলেস লাইন জুড়ে গড়ে তুলি গ্রামীণ ফোন;
গ্রামীণ শক্তি দই, গ্রামীণ চেক, গ্রামীণ হাবিজাবি, আরও কত কী...
ইউনুস ফাউন্ডেশনে আমিই কর্মকর্তা, আমিই নিয়োগকর্তা!
অনুষ্ঠানে আমি আয়োজক, প্রধান অতিথি, সভাপতিও আমিই
আমি, আমি, আমি, আমিময় আমার পৃথিবী!
ধান্দার ঢেউয়ে ভেসে সাফল্যের দ্বীপে আমি এক সফল নাবিক,
নোবেল যদি না পাই, এই জীবনেরে মোর ধিক শত ধিক।
দিতে মোর কোষ্ঠকাঠিন্য, শুধু নিতে জানি আমি।
আমারে গিলিবে মাছ? মাছেরই গিলে ফেলি আমি বোয়াল রাঘব।
দান? নিশ্চয়ই করি, ক্লিন্টন ফাউন্ডেশনে, ভবিষ্যতে লাভের আশায়!
দু হাতে পাচার করি গরীবের টাকা। অবসর? এ কী অলুক্ষুণে কথা!
ফুসফুসে যতক্ষণ আছে শ্বাস, যত পারি, দিয়ে যাবো বাঁশ!
মহাভণ্ড আমি, মিথ্যা বই সত্য বলি না! বিশ্বাস করি না পরকালে,
খাবো চুষে, নেবো শুষে ইহকালে সঅব! আয়কর? শোনামাত্র
গাত্রদাহ শুরু হয় মোর। দেশের যা কিছু ভালো: পদ্মাসেতু, ঢাকা মেট্রো,
একুশের বইমেলা, বিজয়দিবস... সব মোর দু’চোখের বিষ!
দেশের সপক্ষে যারা, হাসিনা যেমন, গলা দাবাইতে করে হাত নিশপিশ।
নববর্ষ, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধে বিবমিষা, পাকিস্তান হ্যায় মেরা বহুত পেয়ারা —
রাজাকারে ডেকে বলে: ‘আভি তক থে কাঁহা, ভাই মেরা ইয়ারা?’
দশক দেড়েক পরে, মেটিকুলাস ডিজাইনে হাসিনাকে
চেকমেট করে জুলাই জঙ্গীরা মোরে ডেকে আনে প্রভুর ইঙ্গিতে।
গ্র্যাফিটি, ট্র্যাফিক করে মূর্খ জেঞ্জি ঘরে ফিরে গেলে শুরু হলো আসল নাটক। শত কোটি আয়কর মাফ,
পত্রপাঠ মিটে গেলো মামলা ছিল যত। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে
ছিল যত লোক, ঢুকালাম সব কারাগারে মিথ্যা মামলায়।
বার বার ভাঙা হলো ৩২ নম্বর, হাজারো মাজার, সংখ্যালঘু-নিপীড়ন!
সংখ্যালঘু? আরে না না, আওয়ামি দোসর সব!
খুন হলো হাজারে হাজার, নির্বাসিত বেশুমার, রাস্তায় বেরুলেই মব!
তারপর শুরু হলো সিংহাসন রক্ষার সংগ্রাম: ভারতের বিরোধিতা,
সাত বোন ধর্ষণ, পূর্ণিমা শীলের মতো, মুরগীর গলা, হাসিনার নাটুকে বিচার, জলকর্তা ইউনুস, আক্রান্ত ছায়ানট, ভষ্মীভূত দু’দুটি পত্রিকা।
মবের হাতে জীয়ন্তে পুড়ে মরে মালাউন দীপু চন্দ্র দাশ!
খেলারাম খেলিলাম, প্রভুর ইঙ্গিতে, ক্ষমতার ছিল যত তাস।
মাত্র তিন মাসের মেয়াদে কেটে গেলো ভয়াবহ অষ্টাদশ মাস।
ক্ষীণ সূঁচ হয়ে ঢুকে বেরোলাম হয়ে মহা ফাল!
আশ্চর্য! আমার পা চাটে তবু, এমন রয়েছে কত হাজার আবাল!
ফারুকীর সিনেমার মতো, শনিবার সন্ধ্যায় বাঙালিরও মুক্তি মেলে না।
শার্টের গোটানো হাতায় হারানো ক্ষমতার গন্ধ শোঁকে শকুন আসিফ।
এক খলিল ছাড়া সবাই বিদায় হলো। দুরারোগ্য রোগের মতন
বিদায়ে বিশ্বাসী নই, ভাইরাস আমি সওদাগর লেদু মিয়া সূত,
নিতম্বে বিনা পদাঘাতে রাষ্ট্রদেহ ছেড়ে যাবো!’ আব্দার অদ্ভুত!
‘ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে, ভাতিজা! আমাদের কবে হবে স্থান?’
ফোন করেছিল চিমসানো নিতম্ব-যুগল, ক্ষীণ স্বরে, তারেকের ঠাঁই।
নাক চেপে তারেক বলেছে: ‘ওস্তাদ কী কহিলেন, কিছু বুঝি নাই!’
ফেসবুক