এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শীতকালের রক্তমাংস

    Suman Mukherjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০ বার পঠিত
  •  
                     বিনিদির পাগুলো মাটির ওপরে দুলছিলো। নাইটির নিচে যতটা দেখা যাচ্ছিলো সেখানে অল্প বিস্তর ছোট ছোট লোমের আভাস। বড় বড় চোখে আকাশ নেই, বাতাস নেই, নদী নেই, মন্ডলদের বিল নেই। কালো পানকৌড়ি টুপ্ করে ডুব দিয়ে মাছ খুঁজে মরছে। ছিল, গতকাল বিকেলে যখন দেখা হয়েছিল তখন ছিল। নিড়ানো ধান, ধূসর বক, রবিদার স্প্লেন্ডার, ছিল। এখন নেই। এখানে বিনিদির নেমে আসা থুতনিতে-চুলে ঢাকা গেছে গলায় জড়ানো শাড়িটা, বাকিটা ওপরের দিকে উঠে, অনেক দূরে উঠে হারিয়ে গেছে। এইসমস্ত ঝিঁঝিঁর ডাক সরিয়ে বিনিদির পাদুটো ধরে ওপরে তুলতেই ওর ল্যারিণক্সে শীতের শুকনো হাওয়া ঢুকে পড়লো। আমার কাঁধে দুটো পা, দুটো পেছন, একটা ডবল পেট, দুটো বুক চেপে বসলো। এবার ছটফটিয়ে দুলছে। আরেকটু ওপরে তুলে ধরার চেষ্টায় হাঁপিয়ে পড়লাম। পিসিমা ওই নিচে পড়ে। পাকা মাটির মেঝেতে পড়ে মেয়ের সর্বনাশের সুপ্তিতে বিভোর।
    - ‘পিসি, ও দুলি পিসি.... পিসি, ও দুলি পিসি.... দুলি পিসিইইইই....’।
    আরশোলাটা সরসরিয়ে চলে গেলো দুলি পিসির হাতের পাশ দিয়ে। সব দেখেশুনেও ছটফটিয়ে এঁঠো থালা খুঁজে পেতেই শান্ত হয়ে গেল। চারিদিকে আর কেউ নেই! গাঁয়ের দুপুরে ঢেকে আছে পাড়া। মা দোতলার ছাদের পাশের ঘরটায় ঘুমিয়ে পড়েছে বোধহয়। ওখানে রোদ আসে, মা আর রোদ পাশাপাশি ঘুমোয়, আগে যেমন আমি ঘুমোতাম। বিনিদির ঠান্ডা পায়ের বিপরীতে লেপের গরমের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিলো।
    - ‘রাহিল.. এ রাহিইইইল’।
    মাঠে যাবার রাস্তা পার করে, তালসারির আড়াল সরিয়ে ডাকটা রাহিলের চালওঠা বাড়ির উঠোনে পৌঁছলে রাহিল রিনরিনে একটা আওয়াজ শুনতে পেলো। সেটা তালপাতার আলসেমিও হতে পারে কিংবা কাঁড়াগাড়ির ক্লান্তিও হতে পারে। ততক্ষনে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমা হতে শুরু করেছে আমার কাঁধে, হাতে।
    - ‘কেউ আছে?.... পিসিমাআআআ.... ও পিসিমা.. ওঠো... ধরো বিনিদিকে, আমি কাউকে ডেকে আনি। ওঠো গোওওও...’।

                  ‘যাই, যাই, যাই, যাই..’ বলে টিয়াটা চেল্লাচ্ছিলো। অচেনা লোকজন দেখতে পেলে ও শুধু ওইটুকুই বলতে পারতো। বিনিদি দাঁড়িয়ে ছিল রবিদার বাড়ির দোরে। কিন্তু একবার মাত্র টোকা দিয়েছিলো শিকলিতে, শিকলিটাও একবারই গোত্তা খেয়ে থেমে যায়। নীরব অপেক্ষার পর মরচে জমে যাওয়াই স্বাভাবিক। রবিদা অনেকক্ষণ পর ঘুম চোখে বেরিয়ে এসে দেখলো বিনি চলে যাচ্ছে। মনসার থান পেরিয়ে। মজা রোদেও বিনিদির তেলজমা বিনুনিটা চকচক করছিলো। রবিদা সেটা খেয়াল করতে করতে ঘরে ঢুকে পড়লো। ফের বেরিয়ে এসে প্লাস্টিকের কচিকলাপাতি মগটা দিয়ে জল ঢেলে দিলো টিয়ার খাঁচার জল রাখার বাটিতে। ফিরে তাকালো রাস্তার দিকে, বিনিদির ফিরে যাবার দিকে। কিন্তু চুলে এখন আর সেই চকচকে ভাবটা নেই। সুপ্রিয়দের বাড়ির কাঁঠাল গাছের তলায় রোদ আসে না। রবিদা বিরক্ত হয়ে ঢুকে পড়লো ঘরে। গত রাতের ধকল কাটতে কাটতে বেলা হয়ে যাবে। বিনির যাবার রাস্তা দিয়েই আবার যেতে হবে ক্লাবে। ওখানে খিচুড়ির সাথে মুরগী। কষানোর সময় ওতে রামের বোতল উপুড় করে দেবার দায়িত্ব তার। একটা মৃত্যুতে হেলদোল নেই কারো। নদীপাড়ে যেমন কথা ছিল তেমন করেই মেলা বসেছে। বিনিদি পিসিমাকে ঘরের হেলায় রেখেই গাঁ উজাড় করে মেলা পালতে গেছে সবে। কারোকে শুধালে বলবে 'কুটুম আসিচে, ফেরত পাঠায়ে দেবো নাকি!' রবিদাও গতকাল রাতে পাওয়া বোতলটা একবার নেড়ে চেড়ে দেখে নিতে গেলে হাত ঠান্ডা হয়ে গেল। তাপের চাপে কাঁচ উষ্ণ হয়, তরল দুঃখ জমে, আরাম লাগে হেভি।

                  'মেরেও আরাম হয়রে রব্যা, গেদে আরাম, একবার মেরেই দ্যাখ।' 'পেঁপেঁ  পেঁ.. পেঁ পেঁ পেঁ, পেঁপেঁ পেঁ..' মাঠে প্রিমিয়ার লীগ চলছিল। আজ ফাইনাল ম্যাচ, ধুলকুমারী ভার্সেস বাবুপাড়া। রোদ নেমে এসেছে, কেলিয়ে গেছে বললেও চলে। ছায়া নেই। রবিদা ভাবলো রোদটা জোরালো থাকলে ভালো হত। আলো ছায়া আলাদা করা যেত। বিনা ছায়ায় প্রদীপদার কথাগুলো রহস্যজনক শোনাচ্ছিলো। ওদের পেছনে আচারওয়ালা এসে হাঁক দিতেই প্রদীপদা হাত নেড়ে সরিয়ে দিলো। লোকটা তার সাইকেল নিয়ে এগিয়ে গেলো। স্পোকের তিরতির আওয়াজ রবিদার একান থেকে ওকান পেরিয়ে চলে যেতেই প্রদীপদা রবিদার কানে কানে বললো 'ধানের গাড়ী যাবে না। কেমন করে যাবে না তোর দায়িত্ব।' বলে উঠে গেল। রবি এতক্ষনে ভালো করে খেয়াল করলো শ'তিনেক লোক মাঠের আসেপাশে, মাঠটাকে গন্ডি দিয়ে রেখেছে। ছক্কা উড়ে এলে গন্ডিটা ভেঙে গিয়ে বলটাকে যাবার রাস্তা করে দিচ্ছে। রবিদার দিকে সেই থেকে একটাও আসেনি। প্রদীপদা এই অফসাইডে কাভারের দিকেই বসে ছিল, গায়ে রোদ লাগাচ্ছিলো। কথা হয়ে যাবার পর ডিপ স্কোয়ারে বাউন্ডারীর পর যে চিয়ার লিডারের নাচের ছাউনি করা হয়েছিল সেখানে নাচ দেখতে চলে গেলো। ওদের আসানসোল থেকে আনা হয়েছে। সেখানে প্রদীপদার চেনাশোনাআনাগোনা আছে। ওর বাড়বাড়ন্তে গাঁয়ের দুপাঁচ ঘর জ্বলেপুড়ে থাকে। প্রদীপদা সেসব কেয়ার করে।

                  আগুন জ্বলছিলো, জ্বললে ধোঁয়া উড়বে সেটা কে না জানে। কিন্তু এরাতের ধোঁয়াগুলো উড়ে উড়ে রবিদার কাঁধে পিঠে চাপ হয়ে বসছিলো। গায়ে ডিওর গন্ধ চাপা দিয়ে পোড়া গন্ধের ভাবভালোবাসা জমা হচ্ছিলো।
    - 'পঙ্কজদা মাইরি ক্যানে করতে গেলো ওসব?',
    - 'যে ঝান্ডা ধরেচিলি সেটাই রাখতে পাত্তিস।'
    - 'আবার গাড়োলটা সেদিন বোলচিলো, ঠ্যাঙ্গা একটাই ঝান্ডা শুদু বদলে নুবো.. ভাব একবার কি হারামি।'
    - 'হ বাপের বয়সি লোককে বাখান দে তোরা, এদিকে যে আদ্দেক গ্রাম ওটাই করে, মিটিংয়ে গিয়ে খেয়ে ঘুরে আসে তার বেলায় কিছু হয় না!'
    - 'সেতো পার্টির থেকে ইন্ট্রাকশান আসে, তবে করে',
    - 'হ, পঙ্কজ কাকার মতো গায়ের জোরে সবাইকে খেপিয়ে করে না।',
    - 'দুদিন বাদে গ্রামে বিরোধী পার্টি এনে ঢোকালে পোদ্যার বাজার পড়ে যাবে..'।
    - 'তুইও ঝান্ডা চেঞ্জ করবি নাকি!',
    - 'সুযোগ পেলে ছাড়বো ক্যানো? এখানে পোদ্যা কেলা একাই লুটবেক? মদ মাগি মানি আমারো লাগব্যে..'।
    - ‘বালির কারবার করচিলি তাই কর, তারপর ইটের পাঁজা খুললি, তাও হলো না আবার বউকে প্রধান বান্যাবেক বাড়া’।
    - ‘তুই কেলা আগে তোর মোবাইলটা গুঁজে রাখ..’
    - ‘ছাড়িয়ে দে তো এদিকে, ইটে গুঁজব, ভালো আগুন হবে’
    - ‘তোর বাঁড়াটা গুঁজ বোকাচোদা..’
    - ‘আঃ.. মোবাইল চালাবি তো কালভাটপাড়ে বোস গা’
    - 'তাহলে পঙ্কজকে কি করা যাবে.. বল?’
    - ‘পরশু কিষান মান্ডি যাবে বলেছে তো ধান বেচতে..'
    - '..আটকে দিলেই হলো'।
    - 'সকাল সকাল গাঁয়ের মাঝে আটকালে চোখে লাগবে না! তার চে কাল মকর চানের পর ডেকে মাল খাওয়াবো, মালে কম করে নাইট্রো মিশিয়ে দেবো'।
    - '..সুপারফেসিলিটিতে দিন কতক জমা থাকলেই কি মাথা ঠিক হয়ে যাবে?'
    - 'সময় তো পাওয়া যাবে, না ঘুরলে ঘোরাতে হবে লাস্টে।'
    - 'বিনিকে সামলাতে পারবি?'
    - 'সামলানোর কি আছে? যেমন আছে তেমনি থাকব্যে..'।
    - 'ঢেঙ্গি মেয়েছেলার অত দৌড়ঝাঁপ ভালো না..।'
    - ‘কে রে?..’
    - ‘কই, কেউ ছিল নাকি?’
    - ‘.. ইটগাদার দিকে কেউ ছিল লাগলো..’

                  কাঁটানটের ঝোপ দিয়ে দৌড়ছিলাম। সাপটা এই শীতেও বেরিয়ে ছিল? রবিদাদের আড্ডার আগুনের দিকে তাকিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে গেছল তাই সাপটাকে খেয়াল করিনি। রবিদারা ক্ষেতের দিকে আসবে না মনে হচ্ছে। যাহোক করে এক্ষুনি বাড়ি পৌঁছতে হবে। তারপর বাকিটা মা’র দায়িত্ব। যা হবে দেখা যাবে। ভয় লাগছে ভীষণ। শম্ভুদা কিংবা সতুদা দেখেনিতো আমাকে! সতুদার মুরগীর খামার থেকে মুরগী আমি ঝাড়িনি, তবু উদমা মেরেছিল, শোধবোধ বাকি রয়ে গেল। জিতেন মাস্টার উত্কট হলেও লোক ভাল, থাক, মাথায় না হয় পরের জন্মে ঢিলানো যাবে। ঝুমুদির মাকে ডাক্তারখানা নিয়ে যাবে কে? কাকিমার দুই ছেলে প্লাস আমি থেকে মাইনাস হয়ে যাবে একটা। আরেকটু বড় হলে পিসেমশাই রাণীগঞ্জ কোলিয়ারিতে চাকরি করে দেবে বলেছিল, আর হলো না। দৌড়তে দৌড়তে মণ্ডলদের পুকুরটা পেরিয়ে গেছি। ওটাতে আমাদেরও আনা আছে। সামনের মাসে ভাগ পেতাম, যাকগে বাকিরা খাবে। ঘরের পাশের বাঁশঝাড় দেখতে পাচ্ছি, এখনও চোখ খোলা, যদিও বুজে আসছে। আচ্ছা, বিনিদিকে রবিদাদের প্ল্যানটা জানাতে হতো, কিন্তু জানাবে কে? স্পিরিটের গন্ধ.. দাদা ঝগড়া করছে নার্সের সাথে.. সাপে কাটার দাগ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না.. কাঁটানটের আঁচড়ের ভিড়ে হারিয়ে গেছে.. ডাক্তার অপেক্ষা করতে বলেছে.. কতক্ষন?

    - ‘না শালা, তুমি যাবে না’।
    - ‘আমি যাবই, না যেতে পারলে আমার নাম পঙ্কজ লয়’।
    - ‘আটকা মালটাকে, শালা গলা পর্যন্ত ডুবে আছে..’
    - ‘কার গায়ে চাপিয়ে দেবে কে জানে’!
    মকর চান শেষ হয়ে গেছে সকালে। বাঁধের জলে গ্রাম থেকে বারেক্কে প্রায় সবাই মকর ডুব দিয়ে গেছে। আসুথ গাছের তলায় কাচা জামা রেখে নেয়ে এসে আগুনে হাত শুকিয়ে কাপড় বদলে ঘর গেছে। কড়ায়ে গরম সর্ষের তেলে শুকনো লঙ্কা গোটা জিরা দিয়ে যে ঝাঁঝ হয় তাতে জুড়িয়ে যাওয়া পিঠা ফেললে শীত যাবার আখ্যান তৈরি হয়। যাদের তর সয় না তারা বাঁধের ধারে প্লাস্টিক পেতে কুসুম বিচ ছড়ানো হলদা মুড়ি তেল দিয়ে মেখে খেয়েফেলে গেছে। মাটিতে এখনো পড়ে আছে কিছু কিছু। কিছু কিছু কুকুর আর পাখিরা খেয়ে গেছে। মণ্ডলদের বৌদি তার আসে-পাশের মেয়ে-মহিলাদের সঙ্গে করে টুসু সমেত এসেছিল নাচতে নাচতে। আশা ভিডিও করেছিল মোবাইলে। সে ভিডিও এতক্ষণে আপলোড হয়ে গেছে ট্রেন্ডিং গান দিয়ে। টুসুর চৌডল ওই দিকে পানায় আটকে পড়ে আছে আর মাটিতে পড়ে আছে মেয়েদের পায়ের ছাপ। কিছুটা রোদে খেয়ে নিয়েছে, কিছুটা খেয়ে নেবে ইঁট ভাটার গাড়ি। অবশ্য আজ ওরা নেই। চান সেরে পিঠা খেয়ে বেরিয়ে গেছে, কখন ফিরবে কেউ জানে না। পঙ্কজের কিন্তু নেশাটা আজ বেশিই হয়েছে। কেন হয়েছে বাকিরা জানে, পঙ্কজ জানে না। এর জেরে পঙ্কজের জেদ আজই ওর ধার করা ট্রাক্টরে ধান নিয়ে কিষান মান্ডি যাবে। গিয়ে টাকা নিয়ে ফেরত আসবে। কিছুটা বিনিকে দেবে আর কিছুটা দিয়ে মদ কিনে নেশাটা আরো ঘোরালো করবে। তাই সে আজ মদ গিলতে এসেছে ট্রাক্টর ভরা ধান নিয়েই।
    - '.. আমি এই এএএই-খান-তক গিলে চালিয়েছি, আমাকে লারবি তোরা।'
    পঙ্কজ 'ব' ছাপ মারা কালো তির্পল থেকে উঠে টের পেল এখন শীতের হাওয়া শনশন করে বইছে আর সূর্যের তাতটা ঝিমিয়ে যাচ্ছে। ঘুরে ইটের গাদালটা পেরিয়ে যেতেই একটা ইট নেশার ঘোরে খাড়া হয়ে গেল আর পঙ্কজের পা জড়িয়ে ধরলো। শ্রদ্ধায় নত হয়ে পঙ্কজও মাটি ছুঁলো। পড়ে যেতেই প্লাস্টিকের গ্লাস থেকে মদ ছেত্রে গেল ঘাসের আগা গোড়ায়। সুজলা সুফলা ধরণী তৃপ্ত হলো। সতু এই সুযোগে পঙ্কজের পিঠে চেপে বসলো। রাজনৈতিক শব সাধনা, মানুষকে নেশাগ্রস্থ করে তার ঘাড়ে চেপে তাকেই শাসন। পরেশ ছুটে গেল ট্রাক্টর থেকে চাবি নিতে।
    - 'গাড়িটা লিয়ে সোজা ঢুকিয়ে দে, এখানে রাখলেই খেপ চাপব্যে..'
    রবির ওঠার ইচ্ছে হলো না।  পরেশ চাবি ঘোরালে ইঞ্জিনের ধড়ফড়ে হকপকিয়ে গেল এখানের এমবিয়েন্স। পঙ্কজ আর পাখির দল দুইই ফরফড়িয়ে উড়ে গেল ইজ্জত বাঁচাতে। পড়ে রইল সতু আর পাখিদের কালো সাদা হাগা। অগত্যা রবিকেও উঠতেই হলো। পরেশের হাত থেকে ট্রাক্টর গড়িয়ে যেতেই পঙ্কজ সামনে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
    - 'লিয়ে যাবি তো আমার উপর দিয়ে লিয়ে যা কেলা'।
    লালমাটির এই রঙ্গমঞ্চ থেকে রবি আর পাঁচ-ছ’ মিটার দূরে থাকতে থাকতেই ট্রাক্টরের সামনের চাকা উঠে গেল পঙ্কজের কোমরে। রবি, পরেশ, সতু, শম্ভু, সন্টু ওরা সবাই ট্রাক্টরের ইঞ্জিনের একঘেয়েমি ছাপিয়ে মট মট করে হাড় ভাঙার ভোঁতা আওয়াজ শুনতে পেল। তারপর শব্দটা বাঁধের পাড়ে পড়ে গোঙাতে লাগলো। পরেশ খেয়াল করলো ওর পাছার নিচে ট্রাক্টরের সিট আর তারও নিচে মাটিতে পঙ্কজকাকা। ও হড়বড় করে পায়ে চাপ দিয়ে গাড়ি সরাতে গেল। ফলত পেছনের ডানদিকের চাকাটাও পঙ্কজের পিঠে চাপার সুযোগ পেয়ে গেলো। বাকিরা থির হয়ে দেখলো এভাবেও ডা'নে খায়! রবির সম্মোহণ কেটে গেলে লাফিয়ে পরেশকে সরিয়ে গাড়ি বন্ধ করলো। ততক্ষনে পোষের দুপুর এসমস্ত রক্তারক্তির  ঝুটঝামেলা থেকে পালিয়ে বেঁচেছে।

                 বিনিদি কাঁঠাল গাছ পেরিয়ে আর দাঁড়াতে পারলো না। প্রথমে নারেগার বোর্ডটায় পিঠ দিয়ে বসলো তারপর কাঁদতে কাঁদতে হেলে পড়লো রাস্তা আর বাগান শুরুর সন্ধিস্থলে। ফলে যে চুল এতক্ষন আলো ঠিকরে ফিরিয়ে দিচ্ছিলো সেটাই ধুলো খড় জড়ো করে খেলতে লাগলো। যেন খুব মজা হয়েছে। গতকাল রাত্রে বিনিদির বাবাকে পোড়ানোর পর প্রদীপদা আগ বাড়িয়ে বাবলা ডাল তুলে রাস্তায় রেখেছিল। রেখে ডিঙানোয় সাহায্য করার অছিলায় বিনিদির হাত ধরতে গেছিলো, বিনিদি বেখেয়ালে হাত বাড়িয়েও সরিয়ে নেয়। প্রদীপ সেটা কেয়ার করেছিল। মেয়েদের শ্মশানে যাবার বারণে বিনিদিও কেয়ার করেনি, তাই খোলা চুলে জড়িয়ে যেসব প্রেতাত্মা নিয়ে ফিরেছিল তারা বাবলা কাঁটা দেখেও ডরায়নি। তারাই বিনিদিকে দিয়ে প্রদীপ সরকারকে অকথা-কুকথা বলিয়ে নিয়েছিল। প্রদীপ সরকারের তাতে অনেকগুলো বাল ছেঁড়া গেছিলো। এবং সে খেয়াল করে দেখেছিলো শ্মশানযাত্রী লোকজনসব বেমক্কা ভূত লাগার মতন দাঁড়িয়ে পড়েছে। তাদের ঘোর কাটার পর তারা সবাই টের পেলো সকাল হয়ে গেছে আর নদীপাড়ের মেলা স্টার্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বিনিদি আর পিসিমা দেখলো ওদের ঘরের সামনের বেড়া, ফুলের টব সব ভেঙেটেঙে দিয়ে শ্মশানের ভূত ঘাড় থেকে নেমে, উড়ে আসুথ গাছের ডাল ছুঁয়ে আকাশপানে পালিয়ে গেছে। হতবাক হয়ে ঘণ্টাখানেক বসে থাকার পালা কেটে গেলে বিনিদি টের পেল পেট গুড়গুড় করে উঠছে। সেই সকাল থেকে এখনও মাঠ যাওয়া না হলেও খিদে তার ঠিক সময় করে এসে গিয়েছে। বিনিদি উঠে বালতি নিয়ে টিউবকল থেকে জল আনতে গেলো। জল দিয়ে কি হবে সেও জানে না, হয়তো অভ্যাসবশে বা হয়তোবা জল দিয়েই জীবন সৃষ্টি হয়েছিল বলে। টিউবকলের ঠান্ডা কালো হাতলে হাত ছোঁয়ানোর আগেই মন্ডলদা বললো, 'তোদের ছোঁয়া বারণ, কমিটি বলে গেছে।' বিনিদি আবার কবেইবা বারণ শুনেছে! ছুঁয়ে দিল। 'গাঁ ছাড়া করবে.. বৌদিকে লিয়ে কোথায় যাবি?' বিরক্ত হয়ে তাই বিনিদি রবিদার বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিল। গতকাল কানাঘুষোয় শুনেছিল বাপের শেষ মদপার্টির দলবলের নাম। ওর মধ্যে রবিই পরিচিত।

    - 'আপনি কি কামারপাড়ায় নামবেন। সিটটা রাখবেন'।
    - 'না না, আগের মাসেই তো পনেরো টাকায় গেলাম, আজ কুড়ি বলছেন যে!.. আমার কাছে এটাই আছে।' ধুলো উড়ছে, শিরশিরে শুকনো ধুলোর মিহিময় অস্বস্তির চত্বর। ডালে ডালে শুকনো পাতা ঝুলে আছে, ঝাঁপিয়ে নামবে, গা ছুঁয়ে, হাতবুলিয়ে চলে যাবে, জানোয়ার। ভাঙা জানলা দিয়ে বাঁকাচোরা হাওয়া ঢুকছে। অনেক পথ হেঁটে আসা বগলের ভিজে কাপড়ে শিরশির করে কার্তিক মাস। দুটো হাতের চাপের মাঝে শুকনো সময় গলে চ্যাটচেটে হয়ে জমে থাকে এখন।
    - 'ওঃ ঠেলবেন না, আমিও নামবো তো।'
    - 'নাঃ, লাগবে না। সামনেই, চলে যাবো।' বিনিদির দুপাশের খাবারের দোকান, কাপড়ের দোকান বিনিদির পেটের দিকে তাকিয়ে থাকে, পেটে সেঁধিয়ে যেতে চায় ওরা। পেটের জলে স্নান সেরে আরেকবার জীবন শুরু করবে। বিনিদি এতসব ভাবেনা। শীতকালের রোদ ভাবে, ওর এই সামনের কয়েকটা মাস কাজ নেই এইসব উল্টোপাল্টা ভাবনা ছাড়া।
    - 'স্যারের সাথে দেখা করবো।..'
    - 'না, সেবার তো কাজ হয়নি।..'
    - 'হয়নি, সেটাই বলে আসবো, আরেকবার যদি..।'
    - 'দিন লিখে নিচ্ছি স্লিপটা।..' এরপর অপেক্ষা করতে হয়। এইসময় পৃথিবীর জন্মদিন থেকে আজ অবধি আউড়ে নিতে হয় মনে মনে। অস্তিত্ব সংকট কেটে যায়।
    - 'স্যার এখনও কেউ কিছুই করছে না।..'
    - 'না স্যার।..'
    - 'গ্রামে পুকুর, টিউকল কিছুই ইউজ করতে দেয় না। গ্রামের বাইরে যেতে হলে এই পেট নিয়ে শানপাড়ের রাস্তা দিয়ে ঘুরে ঘুরে আসতে হয় স্যার।..'
    - 'একটা কাজের ব্যবস্থা যদি করে দিতেন..!'
    - 'জন্মালে এটাকে পালতে হবে তো স্যার।..'
    - 'এর বাবাকে ছাড়ানোর জন্য কিছু করলেও থাকতে খেতে পেতাম স্যার।'..
    - 'হ্যাঁ?..'
    - 'পারবো স্যার লিখতে। আগেও দুবার দিয়েছি স্যার।..'
    - 'এইবার আপনি যদি একটু নিজে দেখতেন..'
    - 'আচ্ছা।..'
    - 'এই সামনের ঘরটায় বড়োবাবুর কাছে জমা দিয়ে যাবো?..'
    - ‘একটা কাগজ দিন না!’
    - ‘লাগবে না পেন আছে’।
    এরপর বিনিদি আগামী এগারো মিনিট ধরে বিগত ছ'মাস আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালো কাগজে কলমে। ‘প্রতি, মাননীয় জেলা শাসক,
    আপনার প্রতি আমার বিনীত নিবেদন এই যে আমি শ্রীমতি জ্যোৎস্না দাস, আপনার জেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে আমি ও আমার মা বসবাস করি। আমার বাবা পঙ্কজ রায় গত বছর জানুয়ারি মাসে একসিডেন্টে মারা যান। পরে গ্রামের বিশ্বস্ত লোকের সূত্রে জানতে পারি যে, তার মারা যাওয়াতে আমাদের গ্রামের প্রদীপ সরকারের হাত আছে। বর্তমানে তার স্ত্রী গ্রাম প্রধান আছে। আমার বাবাকে মেরে ফেলার কারণ তিনি বিরোধী পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। বাবা মারা যাবার পর আমাকে ও আমার মাকে গ্রামে একঘরে করে দেওয়া হয়। পুকুরের, টিউবকলের জল নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুজো পার্বনে আমাদের যোগ দিতে দেওয়া হয় না। জিজ্ঞেস করলে জানা যায় গ্রামের ষোলোআনা কমিটির এটাই সিদ্ধান্ত। ব্লক অফিসে, পুলিশে জানালে তারা নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেবার কথা বলে। বাঁধের থেকে জল বয়ে আনতে আমরা বাধ্য হই। শহরে আসার জন্য আমাদের ঘুরপথের রাস্তা ধরে আসতে হয়। আমাদের অল্পখানি জমিতে সবজি ফলিয়ে বিক্রি করে আমাদের চলে। এরকম অবস্থায় গত জুন মাসের চব্বিশ তারিখে আমি আর মা গ্রামের চব্বিশ প্রহর কীর্তন শুনতে আর পূজা দিতে বাবুপাড়ার ষোলোআনায় যাই সন্ধ্যাবেলায়। সেখানে ক্লাবের ছেলেরা আমাদের গালাগাল দিয়ে চলে যেতে বলে। মা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ী চলে যায়। কিন্তু আমি প্রদীপ সরকারের সাথে দেখা করার জন্য সেখানে অপেক্ষা করি। তারপর প্রদীপ সরকার পনেরো কুড়ি মিনিট পরে এসে আমাকে ঝুট ঝামেলা করতে বারণ করে আর তেল মিলের কাছে ডেকে নিয়ে যায় বসে কথা বলবে বলে। সেখানেই সে তার আরো দুই শাগরেদের সাথে আমাকে ধর্ষণ করে। গ্রামের চারিদিকে মাইক বাঁধা ছিল বলে কেউ আমার চিৎকার শুনতে পায়নি। ওরা চলে গেলে আমি ভোররাতে বাড়ী ফিরে আসি। এরপর দুদিন বাড়ী থেকে বেরোবার সাহস পাইনি। তিন দিনের দিন থানায় এফআইআর করতে যাই। এই খবর জানাজানি হলে সেখানে প্রদীপ সরকার আসে ও তার আদেশে রবি মন্ডলকে পুলিশ আমাকে রেপ করার কেস দেয়। সে এখন জেলে। তারপর থেকে আমাকে ঘনঘন থানা, হাসপাতাল কোর্ট যাওয়াআসা করতে হয়। এর মাঝে কখন আমার পেটে বাচ্চা আসে তার খবর পাই নাই। এই অবস্থা আমি জানতে পেরে ডাক্তারের কাছে যাই, তখন ডাক্তাররা আমাকে গর্ভপাত করাতে বারণ করে। অতএব, এই পরিস্থিতিতে আপনার নিকট অনুরোধ এই যে আমার এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই ধর্ষকদের অর্থাৎ প্রদীপ সরকার, সজল মণ্ডল ও সনটু মণ্ডলের শাস্তির ব্যবস্থা করুন ও রবি মণ্ডলকে জেল থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করুন। এবং এর সাথে আমার ও আমার মায়ের খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য দয়া করে আমার একটি কাজের ব্যবস্থা করে আমাকে বাধিত করবেন।
    ইতি বিনীত - জ্যোৎস্না দাস।'

    এই পর্যন্ত লিখে বিনিদি চোখ তুলে তাকাতেই ওর মাথাটা ঘুরে গেলো। মানসিক চাপ, প্রেগনেন্সি? নাহ, সে চাপ বিগত কয়েকমাস ধরে গায়ে গতরে এমন ঠেলা দিচ্ছে যেটা বিনিদির আয়ত্তে এসে গেছে। আসলে সাদা কাগজের শরীর থেকে যেসমস্ত আলো বিনিদির চোখে এতক্ষণ ধরে বাসা বেঁধেছিল সেআলো বিনিদি মাথা তুলতেই হুড়মুড় করে বেরিয়ে অফিসের ফলস সিলিংএর এলইডির সাথে মিলিয়ে গেল। এই কারসাজিতে বিহ্বল হয়ে বিনিদি কাগজটাকে ভাঁজ করে উঠে দাঁড়ালো। অনাগ্রহী সিনথেটিক আলোয় বিনিদি যা দেখতে পেলো, যা খেয়াল করতে পারলো সেটা জেলা শাসক, অফিসার, বড় বাবু, গ্ৰুপ ডি, সিকিউরিটি, ফোর-ফোল্ড ফাইল, রেজিস্টার, মিডিয়া, নেটিজেন, পার্টিঅফিস, লালমাটি, সবাই.. সব্বাই টের পাচ্ছিলো। শুধু টের পাচ্ছিলো না পেটের বোকা মাংসপিন্ডটা। তাকে জানানোর দায়ও কারো ছিল না বটে। এই পরিস্থিতিতে বিনিদি সিঁড়ির দিয়ে নেমে যাবার পথ ধরলো। হাতের গরমে দিব্যি আরামে ঝুলে রইলো কাগজের চিঠি। অফিসের বেঞ্চে রাখা থাকলো পেন।

                  আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। গোড়ালি উঁচু করে পায়ের আঙ্গুলগুলোও হাঁপিয়ে পড়েছে। বিনিদি নড়ে নড়ে উঠছে জোরে ধাক্কা দিয়ে। ব্যালেন্স কেঁপে যাচ্ছে।
    - "রাহিল.. এ রাহিইইইল.. "।
    বাইরে হাট্টিটি ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই? সন্টুদার দোতলা উঠছে পশ্চিমকোণে, সেখান থেকে পাটা পেটার আওয়াজ আসছে অবশ্য। যদিও সে অনেক দূর। আওয়াজের আবার কাছ দূর! তাহলে আমারটা যাচ্ছে না ক্যানো? ফটকার আওয়াজ, বাজনার আওয়াজ, ফুর্তির আওয়াজের জের বেশি! দুঃখের আওয়াজ বেশি দূর যায় না! বড় জোর পাশের বাড়ী। এটা মানুষজনের জানা ছিল বলেই অ্যাম্বুলেন্সের শব্দকে তীব্র বানিয়েছে আরো।
    - "রাহিইইইল..",
    এই শেষ বারের মত ডাকলাম। ডেকে বিনিদির পা দুটো ছেড়ে দিলাম শেষমেষ। বিনিদি মনে হয় চালের থেকে একটু নিচে নেমে এলো। ছেড়ে পিসিমাকে টপকে দৌড়োলাম রাহিলের বাড়ির দিকে। বিনিদির বেড়ালটা ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে আমাকে দেখলো মহুয়া গাছের তলা থেকে। মনে হলো ও বলবে, ‘শীতকাল বড়ই অপার্থিব। রাহিলকে তুলে নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে দুজনে ফিরলাম পিসিমার তারস্বরে কান্না শুনতে শুনতে। দুজনে চেয়ে দেখলাম ততক্ষনে বিনিদির গলা, কাঁধ, দুটো হাত হার মেনে আলগা হয়ে গেছে। ঝুলে ঝুলে, দুলে দুলে শীতকাল ছেড়ে রেখে চলে গেছে। রাহিল আমার হাত ঝাঁকিয়ে বললো, 'ধরেছিলি তো ছাড়লি ক্যানো?'
     
    .........................................................................................................................................

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন