সব স্কুলেই নরেন্দ্রপুরের পরিবেশ চায়
উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম আদৃত।
~~~~~~~~~~~~~~~~~
সমীরণ দাস
.
সৌজন্যে :
আনন্দবাজার পত্রিকা
১৫ মে ২০২৬। ।
.
দিনে ছ’ঘণ্টা পড়াশোনা। আর তাতেই উচ্চ মাধ্যমিকে বাজিমাত করল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের আদৃত পাল। ৪৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সে। আদৃতের পাশাপাশি নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের আরও ১৭ জন ছাত্র জায়গা করে নিয়েছে মেধা তালিকায়। প্রথম দশের প্রায় সব স্থানেই (সপ্তম বাদে) নরেন্দ্রপুরের কোনও না কোনও ছাত্র জায়গা পেয়েছে।
স্কুলের পরিবেশ এবং শিক্ষকদেরই এক বাক্যে এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিচ্ছে কৃতী ছাত্রেরা। আগামী দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চায় আদৃত। সে বলছে, “শিক্ষকদের নির্দেশ মেনে পড়াশোনা করেই এই সাফল্য। দু’-এক নম্বরের এ দিক-ও দিকে হয়তো কয়েক জন মেধা তালিকায় জায়গা পেয়েছে। তাতে অন্যদের কৃতিত্ব কমে না। আমিও মাধ্যমিকে একাদশ স্থানে ছিলাম।” এ দিন ভিডিয়ো কলে আদৃতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাতে আপ্লুত আদৃত। তার ইচ্ছে, নতুন সরকারের আমলে রাজ্যের সব স্কুলের পরিবেশ হোক নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের মতো। আদৃতের কথায়, “সব স্কুল হয়তো আবাসিক করা যাবে না। কিন্তু আশ্রমিক পরিবেশটা বোধ হয় তৈরি করা যায়।”
আদৃতের বাবা জীবনকৃষ্ণ পাল ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে কর্মরত। মা ফাল্গুনী পাল কাজ করেন দ্য ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সে। খাদ্যরসিক আদৃত নতুন খাবার পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্কুলে খেলাধুলোর সুযোগ থাকলেও সে সবে মন নেই তার। বরাহনগরের বাসিন্দার অকপট স্বীকারোক্তি, “খেতে খুব ভালবাসি। বেশি নড়াচড়ার কাজ ভাল লাগে না। তাই খেলাধুলো করি না। তবে, স্কুলে গল্পপাঠ, আবৃত্তি, তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় অংশ নিয়েছি।”
নরেন্দ্রপুরের অন্য দুই ছাত্র ঋতব্রত নাথ এবং ঐতিহ্য পাছাল ৪৯৫ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় যুগ্ম ভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছে। দু’জনেরই বাড়ি সোনারপুরে। ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় তারা। সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার একটি ধাপ শেষ করে পরের ধাপের জন্য অপেক্ষা করছে দু’জনেই। আদিত্য বলে, “মাধ্যমিকে একটুর জন্য মেধা তালিকায় থাকতে পারিনি। এ বারের সাফল্য বাবা-মা এবং অবশ্যই স্কুলের শিক্ষকদের জন্য।” ঋতব্রতের কথায়, “উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারে প্রত্যাশিত ফল হয়নি। জানতাম, ভাল করে খাটলে ফাইনাল সিমেস্টারে ভাল করব। বাবা-মা পাশে ছিলেন। শিক্ষকদের অবদানও অনস্বীকার্য।”
এ ছাড়াও, ৪৯৪ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থানে আছে সৌম্য রায়। ৪৯৩ নম্বর পেয়ে চতুর্থ অর্কদ্যুতি ধর। ৪৯২ নম্বর নিয়ে যুগ্ম ভাবে পঞ্চমে দু’জন— প্রিয়াংশু মুখোপাধ্যায় এবং আলেখ্য মাইতি। ষষ্ঠ স্থানে আছে এই স্কুলের চার ছাত্র— প্রত্যুষ মণ্ডল, শুভদীপ দিন্দা, পল্লবকুমার ভাওয়াল এবং অনিমেষ মুখোপাধ্যায়। তাদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯১। অরিত্র সরকার এবং ফারহান আলি ৪৮৯ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থান দখল করেছে। ৪৮৮ পেয়ে নবম সোহম বেজ। ৪৮৭ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে আছে এই স্কুলের আরও চার ছাত্র— সাগ্নিক ঘটক, মেঘন অধিকারী, সোহম ভৌমিক ও সৃজন পাল।
এ দিন ফল প্রকাশের পরে প্রশাসনের তরফে নরেন্দ্রপুরের কৃতীদের ডেকে পাঠানো হয় বারুইপুর মহকুমাশাসকের দফতরে। উপস্থিত সাত ছাত্রের হাতে মহকুমাশাসক মুদ্রা গ্যারোলা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সই করা শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেন। আদৃতের বাড়ি থেকেই তার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলিয়ে দেয় ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসকের দফতর। পরে নরেন্দ্রপুরে যায় আদৃত।
স্কুলের ভাল ফলাফলে খুশি শিক্ষকেরাও। প্রধান শিক্ষক স্বামী ইষ্টেশানন্দ বলেন, “এর আগে এক বার ২৩ জন মেধা তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। এ বার ১৮ জন পেল। বাকিরাও ভাল ফল করেছে। এই ফল খুবই স্বস্তিদায়ক। স্কুলের পরিবেশ, শৃঙ্খলা, ছাত্রদের অধ্যবসায়েই এই সাফল্য।”