আগের আগের পোস্ট টাতে কিছু বদলালাম, বামানের গুষ্টিপুজো আর একটি ক্যাটিগোরির ভুলছিল। লসাগু স্মরণ ইত্যাদি, :
লাইভ ল সাইট টি খবর করেছে, জাস্টিস জয়মাল্য বাগচি গতকাল , সাধারণ বাঙালি নামের তারতম্যে অনর্থক লজিকাল ডিসক্রিপান্সির নোটিশ আসছে, উদাহরণ নিজে ই দিয়েছেন কুমার থাকা না থাকা , রয়, রে আর রায় এর পার্থক্য থাকা ইত্যাদি। যদিও গতকালকের লিখিত অর্ডারে এই পর্যবেক্ষনটির সরাসরি উল্লেখ নেই। গত 4.2.2026 তারিখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোর্টে নিজে ই বলেছিলেন, ব্যানার্জি - বন্দ্যোপাধ্যায় ইত্যাদির সাধারণ ফারাকের কথা।
চীফ জাস্টিসের আগের দিনের পর্যবেক্ষনের মধ্যেই ছিল দত্ত নামের নানা ভ্যারিয়েশনের কথা বা 2002 এর বাংলা ভোটার তালিকা থেকে সফ্টওয়ার দিয়ে অনুবাদ করে তারপরে তার সঙ্গে 2025 এর তালিকার পার্থক্য খোঁজার ফলে এটা হচ্ছে এটাও বলেছিলেন , এবং সকলে ই বলছিলেন ইসি আই যে লজিকাল ডিসক্রিপান্সির কল এনেছে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তাতে প্রচুর সমস্যা হচ্ছে যা হওয়ার কথা না।
কপিল সিবাল.বলেছিলেন লজিকাল ডিসক্রিপান্সি বা ম্যাপিং এর নিয়মাবলী যা ব্যবহৃত হচ্ছে সফট ওয়ারে তার বিশদ তালিকা দিক কমিশন, তাহলে তার সাংবধানিক ভিত্তি বোঝা যাবে, সেসব তারা দেয় নি, বিচারক দের লিখিত অর্ডারে বিষয়টি না থাকার কারণে সম্ভবতঃ।
তবে চীফ জাস্টিস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পরে বলেন এবং অর্ডারে লেখেন, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুবাদ বা ট্রানসলিটারেশনের ফলে বানানের সমস্যার কথা.. বলতে গিয়ে dialect শব্দটি ব্যবহার করেন language এর বদলে। এর মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের আপত্তি করার কারণ খুঁজে পাওয়ার কথা যেহেতু শব্দ টা ব্যবহার করছেন প্রধান বিচারপতি স্বয়ং, কিন্তু সেরকম কোনো নোট দেখিনি এখনো।
এইটা যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে ক্ষমতাসীন রা বুঝতে পারছেন এটা ভালো। তবে প্রথমতঃ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স যে ততটা ইন্টেলিজেন্ট হয় নি সেটা পরিষ্কার। এবং আর্টিফিসিয়াল কিছু না এস.আই আর এর ছত্রে ছত্রে বাংলা প্রশাসনিক বায়াস রয়েছে, এটা লুকোনোর জন্য সরকার সমর্থকের ন্যারেটিভে প্রযুক্তির কথা বলা হচ্ছে যেন তার নিয়মাবলী স্বয়ংক্রিয় এবং সারল্যে ভরা। অনেকটা একজন অফিসারের সাক্ষাৎকার গুলির মতো।-:)))
আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে অরিজিত মুখার্জির লেখা পড়া যেতে পারে।
দ্বিতীয়তঃ সাংবিধানিক পদে ক্ষমতাসীন রা , তাঁদের রেকর্ডেড বক্তব্যে উদাহরণ যা ব্যবহার করছেন সব ই হিন্দু উচ্চ বা অগ্রণী বর্ণ নামের। বিচার ব্যবস্থায় বা প্রশাসনে, মতুয়া, রাজবংশী, আদিবাসী মুসলমান রা নে ই বলে ই তাঁদের নামের সাধারণ পার্থক্যের বিষয়টা মূলধারায় উঠে ই আসছে না। যেন তাঁরা পঞ্চভূতে মিলিয়ে আছেন। এই whitewash আমেরিকায় হলে রাল্ফ এলিসন রা অন্ততঃ উপন্যাস লিখতেন, ইনভিসিবল ম্যান, এখেনে তরুন গল্পকার সাদিক হুসেন একটা গল্পে লিখেছেন শহর, গ্রাম, ব্যক্তির নামের , পরিচিতির জন্মপূর্ব অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু সে তো সন্ত্রস্ত পলায়ন। নন ফিকশন সংবাদের জগতে তা ই মূল ধারার বা ইরের মানুষের হয়রানির খবর পেতে গেলে তিতিবিরক্ত জনতার সাধারন মানুষের বা পাড়ার উপকারি শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের সোশাল মেডিয়া ফীডের উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে। তার মধ্যে একজন হলেন সাবির আলি। এঁদের ফীড গুলো দেখলে বোঝা যাচ্ছে মহম্মদ বা শেখ বা বেগম বা বিবি বা রব ইত্যাদি নামের বানামে সাধারণ বৈচিত্রের কথা। অবশ্য প্রক্তন ভাম.রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বীরভূমে চেনা মুসলমান পাড়ায় চেনা নামে চোখ রেখে দেখেছি এক ই সমস্যা।
এছাড়া সন্তান সংখ্যার সমস্যা তো আছে ই। indian express কাগজের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী বেশি সন্তান সংখ্যার সমস্যা বা বাবা মায়ের সঙ্গে বয়সের অপেক্ষাকৃত কম পার্থক্যে সমস্যার কমিশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী গোটা রাজ্যে তেরো লক্ষ, অথচ নোটিশ গেছে 58 লক্ষ। তাহলে কি বাকি 45 লক্ষর সমস্যা মিটে গেল, জানার উপায় নেই
জাস্টিস বাগচি ও বলছেন ছয় না, চার বা পাঁচ জন সন্তান থাকলে ও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
এটা পরিষ্কার নয় তাহলে লজিকাল ডিস্ক্রিপান্সিতে যদি মোট এক কোটি বত্রিশ.লক্ষ নাম এ থাকে তাহলে তার কতটা শতাংশ এসেছে নামের সাধারণ পার্থক্যের জন্য? কমিশন সেটা স্বীকার করবে? হিসেব দেবে? তাতে অগ্রণী জাতি ছাড়া বাকিদের প্রতিনিধিত্ব রইলো কিনা তার হিসেবে কে দেবে?
আর দুজন হলেন মোস্তারি বানু, যিনি অভিযোগ করেছেন বাবার সঙ্গে 27 বছরের, মায়ের.যঙ্গে বাইশ বছরের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি ভুল নোটিশ পেয়েছেন এবং অসংখ্য সাধারণ মুসলমান ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন ফেসবুকে বলছেন তাঁদের গ্রামের বা অঞ্চলের লজিকাল ডিসক্রিপান্সি র ভুল এবং আজগুবি সব নিয়মের কথা। বহুনিন্দিত সিপি এম এর রাজ্য সম্পাদক মহম্ম্দ সেলিম, তিনি একটি প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলেন নামকরনের মতাদর্শের নানা লকমের বদলের কথা, বাংলার মুসলমান দের নামে সেকুলার নামকরণের এক সময়কার জনপ্রিয়তার কথা। উদাহরণ দিচ্ছিলেন তাঁর এক আত্মীয়ার নামের যাঁর নাম শিউলি।
কয়েকটি পদবী ধরে একটি গবেষণা সংস্থা এবং অন্তত একজন সোশাল কমেন্টেটর কিছু ডেমোগ্রাফিক অবসার্ভেশন করেছেন অবশ্য। কিন্তু খুব স্বাভাবিক ভাবেই সেই পদবী তালিকা নির্ভুল, আশানুরূপ ডেমোগ্রাফিক ক্যাটিগোরির নির্নায়ক হিসেবে তখনি ধরা যাবে যখন তার সেনসাস বা অন্য সমাজ বিজ্ঞান গবেষণার ভিত্তি থাকবে। যেমন ধরুন মাঝে দক্ষিনপন্থী ফিড গুলিতে খবর বেরোলো দাস এবং বিশ্বাস সন্দেহজনক, কারণ বিশ্বাস পদবী মুসলমান না হিন্দু না যম্ভাব্য অনুপ্রবেশকারী কেউ বুঝতে পারছে না আর দাস মানে তাকে বর্ণ ব্যবস্থায় বা সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ প্যাটার্নে কোথায় রাখা হবে বোঝা যাচ্ছে না।
তো সব ই কমিশন জানে, কোর্টে সাবমিশন, পর্যবেক্ষন অর্ডার সব ই আসছে, কিন্তু সে মুখ লুকোচ্ছে একটি চার্টারে, যেখানে সংবিধান তাকে ভোটার তালিকা তৈরি করার একছত্র অধিকার দিয়েছে। তা ই নাগরিকের.হয়রানি শেষ.ও হচ্ছে না, সামান্য বদলের ফলে যে ভুক্তভোগীদের নতুন আশ্বাস আসবে সেটা ও আসছে না, সব্যসাচী চ্যাটার্জি রা চেষ্টা করছেন এটা বোঝাতে যে কোর্ট বলছেন হিয়ারিং এর বা নোটিফিকেশনের সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে কিন্তু কোর্ট যেহেতু কমিশনের কর্মপদ্ধতির পুংখানুপুংখ তে ঢুকতে চা ইছে না তা ই এটা কতদূর তাঁরা বোঝাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট সকল কে তা ই নিয়ে আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
প্রতিটি রেফারেন্সের লিংক ই পরবর্তীতে যোগ করে দেব, in order of reference in above text.
(আসলে প্রায় সব রেফারেন্স ই আগের ধারাবাহিক পোস্ট গুলিতে আছে।)