তখন বাজারে 128 জিবি SSD জলের দরে পাওয়া যাচ্ছিল, দাম পড়ছিল সাতশো থেকে নশো টাকা। হাফ ডজন কিনেছিলাম, আর সব বন্ধুবান্ধবকে উপদেশ দিয়েছিলাম যত পারে যাতে কিনে রাখে, কারন ঐ দাম শিপিং কস্টেরও নিচে। নিজের কাছেও ৫০০জিবি SSD ছিল পুরোনো। সব মিলিয়ে মিশিয়ে, USB to SATA কেবল দিয়ে ঐ টিপিলিঙ্কের USB Hub এ লাগিয়ে দিলাম। নেট দেখে দেখে কিছু টুইক করতে হল, যেমন ধরুন নিজে থেকে রিবুট হলে যাতে ওএস অপেক্ষা করে থাকে, আগে ইউএসবি ড্রাইভগুলো মাউন্ট হবার জন্য, ইত্যাদি সামান্য খুঁটিনাটি।
(যাঁরা কম্পোনেন্ট চেনেন না, তাঁদের সুবিধার জন্য কোনটা কি, সেটা সব জিনিসের গায়ে লিখে দিয়েছি)
ফল হল একটি রোবাস্ট আর্মবিয়ান সার্ভার, যা ২৪x৭ চালু, নামমাত্র বিদ্যুত খরচ। নেটে যেকোন জায়গা থেকে অলওয়েজ অ্যাক্সেসেবল।
তাতে আমার কি সুবিধে হল?
আমার গুগুল ড্রাইভে টোটাল জায়গা ছিল ১৫ জিবি, যার মধ্যে প্রায় পুরোটাই খেয়ে নিয়েছিল ছবি,আর সামান্য কিছু ভিডিও। আর প্রচুর ডকুমেন্ট, যা ইন্টারনেটে আমাকে যে কোন জায়গা থেকে একসেস করতে হত। আর কিছু দিন গেলেই আমাকে গুগুলের স্পেসের জন্য সাবস্ক্রিপশন নিতে হত।
এখন এই সেট টপ বক্সে চালালাম নিচে লেখা সার্ভিসগুলো -
0) Immich- গুগুল ফোটোস এর FOSS ভার্সন।
1) File Browser - গুগুল ড্রাইভের সহজ সরল গোলগাল ভার্সন।
2) Navidrome - আমার সকল গানের ভান্ডারী,আমার যত মিউজিকের গোলাঘর।
3) Audiobookshelf - আমার যত বইয়ের আড়ত। পিডিএফ, নানারকম ফর্ম্যাটের ইবুক, সকল কিছু।
4) Vaultwarden - পাসওয়ার্ডের দখল গুগুলের বাসা থেকে নিজের হাতে।
5) Fresh RSS - হাফপ্যান্ট ও লাঠি না নিয়েই সমস্ত ফিড এগ্রিগেট করার উপায়।
6) Link Stack - লিঙ্কট্রির ওপেন/ফ্রী ভার্সন
7) Tailscale demon- ভিপিএনে আমার অন্যত্র থাকা অন্য মেশিনে জুড়বার উপায়, ফোন,ল্যাপটপ,ট্যাবলেট সব এক লোকাল নেটে।
8) Syncthing- কোনো ফাইল বা ফোল্ডার আমার ল্যপটপ,ফোন,ট্যবলেট ডেস্কটপে সিঙ্ক্রোনাইজ করার উপায়।
9) Memos- গুগুল কিপ এর বিকল্প বা নোট রাখার উপায়। টু-ডু লিস্ট ইত্যাদি।
10) Excalidraw- ঝটপট রেখাচিত্র বানানো ও রাখার উপায়।
11) Uptime Kuma - সিস্টেমের হেল্থ মনিটর। কোন সার্ভিস চলছে কোনটা বসে গেছে সেটা রিয়েলটাইম দেখা।
12) Dozzle- ডকার কন্টেনারের লগ রিয়েলটাইম দেখার উপায়।
13) Homepage- সিস্টেমটার একটা হোমপেজ
14) Docker ও Portainer - সবকিছুই ডকার কন্টেনারে চালানো। তাই কন্টেনারগুলোর নিয়ন্ত্রন নিতে সচিত্র পোর্টেনার
15) Cloudflare demon - ক্লাউডফ্লেয়ার ফ্রী টিয়ার সার্ভিসে বাইরের ইন্টারনেটে উন্মুক্ত করা, যাতে ভিপিএন ছাড়াও ব্যবহার করতে পারি।
16) AdGuardHome- বাড়ির ভেতর অ্যাডভার্টাইজমেন্টের প্রবেশ নিষেধ।
ডকার, ক্লাউডফ্লেয়ার ডিমন আর টেলস্কেল ডিমন, শুধু বেয়ার মেটালে চালালাম, বাকি সব চলল - ডকারে, কন্টেনারাইজড সার্ভিস হিসেবে।
শুধু আমি একাই নয়, চাইলে আমি এগুলো আপনাদের সঙ্গেও শেয়ার করতে পারতাম, যদি আমার ব্যান্ডউইথ একটু বেশী হত, বা টিভিবক্সের জায়গায় ডেস্কটপ কম্পুটার দিয়ে সার্ভারটা বানাতাম। আমার একার পক্ষে ঐ টিভিবক্স প্রয়োজনের তুলনায় উদ্বৃত্ত হলেও, একসঙ্গে পাঁচ বা দশজন, যদি ন্যাভিড্রোমে মিউজিক স্ট্রীম করতে শুরু করেন, তবে ঐ অ্যামলজিক সার্ভার সামলাতে পারবে না।
আপনাদের ঐ সার্ভিসগুলোর লিঙ্ক দিচ্ছি, কিন্তু একসেস দিতে পারছি না ঐ উপরোক্ত কারনে, তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। যেদিন সত্যিকারের প্রাচুর্য্যের সভ্যতায় প্রবেশ করব, সেদিন আর আমাকে এরকম স্বার্থপরের মত শুধু লিঙ্ক দিতে হবে না, সবাইকে স্বাগত জানাতে পারব - দরজা খুলে।
এগুলোর নাম পাসওয়ার্ডের জায়গা অব্দি যদি আপনার মেশিনে খুলে থাকে, তবে আপনি সাককেসফুলি আমার বাড়িতে, আমার মায়ের ফেলে দেওয়া টিভিবক্সটির ভেতর আসতে পেরেছিলেন। (কলকাতায় গত দুদিনের প্রবল ঝড়বৃষ্টির কারনে ইন্টারনেট একটু স্লো চলছে, তাই আগামী দু এক দিন একটু স্লো খুলতে পারে।)
গুগুল তো একাউন্ট প্রতি পনেরো জিবি ফ্রী স্টোরেজ দেয়। আমার ইমিচে 43,715 টা ছবি আছে আর 402 খানা ভিডিও আছে, মোট স্পেস খেয়েছে 145.9 জিবি।

ভাবুন - কোথায় পনেরো জিবি আর কোথায় একশ পঁয়তাল্লিশ জিবি। চাইলেই আমি আরও বাড়িয়ে নিতে পারি স্পেস, কারন সেটা তো আমার হাতে। গুগুলের স্পেস ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় ঐ পনের জিবির পুরোটাই ব্যবহার করছি ইমেল আর অন্যন্য গুগুল সার্ভিসের জন্য। পনের জিবি ওসবের জন্য উদ্বৃত্ত।
সিসি সাহার দোকান থেকে আজ অব্দি যত সিডি কিনেছি, সব রাখতে পেরেছি লসলেস ফর্ম্যাটে,কমপ্রেস করে এমপিথ্রি বা অগ করতে হয় নি। আর এমপিথ্রি যা ছিল সে সব তো আছেই।
বইপত্রের তো পুরো লাইব্রেরী, আজ অব্দি যত জায়গায় যত ট্রেনিং নিয়েছি, দিয়েছি, তার যাবতীয় ট্রেনিং ম্যানুয়াল, রিসার্চ পেপার, যন্ত্রপাতির ইউজার্স ম্যনুয়াল। আরও কত কি।
ভল্টওয়ার্ডেনে আমার সমস্ত পাসওয়ার্ড। গত ৩০+ বছর ধরে যত পাসওয়ার্ড জমেছে সব রয়েছে ওর মধ্যে, আদিম নেটস্কেপ, মোজিল্লা, ক্রোমিয়াম ও গুগল ক্রোমে যত পাসওয়ার্ড ছিল সব ইম্পোর্ট করে নিয়েছি। ওর পাসওয়ার্ড ফাইলটার একটা ব্যাকআপও রাখা আছে।
যেসব সাইটের আরেসেস ফিড নিয়ে রেখেছি, বা পয়সা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন নিয়েছি সেসব ফিড জমা হয় ফ্রেশ আরেসেসে। টুক করে খোলো আর এক ঝলকে একসঙ্গে দ্যাখো।
মেমো বোধহয় আমার সবচে বেশী কাজে লাগে। পকেট নোটবুকের মত, যা খুশী ইনস্ট্যান্ট নোট নাও বা বুলেটেড লিস্ট বা চেকবক্সড লিস্ট। পুরোনো কিছু ফেলা যায় না, সব আর্কাইভে জমাও।
সব নিজের কুক্ষিগত। নেট ছাড়া আর কিছু বাইরের কারও কন্ট্রোল নেই এসবের ওপর। গুগুল দেখতে পাবে না যে, আজ চালডাল নুনতেল কি কেনার লিস্ট করেছি। কোনো জিনিস কিনে বিলটা ডকুমেন্ট হিসেবে ছবি তোলার আগে ভাবতে হবে না, যে ছবি রাখার স্পেস আছে তো ? যথেচ্ছ স্ক্রীনশট নেবার আগেও স্পেসের চিন্তা করতে হবে না।
এ সমস্ত সুবিধা আমি পেয়ে থাকি, মা তাঁর একটি সেটটপ বক্স বাতিল করে দিয়েছিলেন বলে, ষাঠের দশকে রিচার্ড স্টালম্যান বলে এক ছাত্রের প্রিন্টার ড্রাইভার ইউনিক্সে আটকে গেছিল বলে, আর অবশ্যই হাজার হাজার মানুষ তাঁদের মনুষ্যত্বের ঊর্ধে উঠে, রাতজেগে, মেট্রিক্স ছবির নিওর মত ফ্রি সফটওয়্যার লিখে গেছেন বলে। আমি এঁদের সবার কাছে, এবং নাম জানি না এরকম আরও বহু লোকের কাছে ঋণী।
এঁদের সবার, এবং আপনাদের সবার আশীর্বাদ মাথায় করে, এবারের ঘরেলু কৃবুচরের প্রজেক্টও সফল হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।