এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ~<>` | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪০559404
  • @তরমুজ, ভারত তথা সমগ্র উপমহাদেশে রাষ্ট্র চিরকালই টিকে রয়েছে organized systematic structural violence এর উপরে দাঁড়িয়ে l গত দুশো বছর ধরে ব্রিটিশ রাজের থেকেই এই নিয়ম l organized systematic structural violence না হলে ভারতে এমন কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সম্ভবই নয় যে কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারী নিয়ন্ত্রণ করে বেড়াবে l কাজেই রাষ্ট্রক্ষমতা না থাকলে কিছুতেই আরএসএসের মূলোৎপাটন সম্ভব নয় l সামাজিক ভাবে আরএসএসকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেবার দিকটা যেটা আপনি বলছেন সেটাও খারাপ নয় কিন্তু নিরঙ্কুশ রাষ্ট্রক্ষমতা না পেলে এবং আরএসএসের বিরুদ্ধে organized systematic structural violence না প্রয়োগ করলে সেটাও সম্ভব নয় l এছাড়াও গুজরাট উত্তরপ্রদেশ মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এ রাজ্যগুলোর কিছু structural economic reorganization দরকার যাতে এদের অর্থনীতির আমূল কিছু পরিবর্তন হয় l এসব রাজ্যের অর্থনীতির কাঠামোর থেকেই আরএসএস প্রবল আর্থিক শক্তি সংগ্রহ করে l একটা না ভাঙলে অন্যটা ভাঙ্গবেইনা l
  • qwerty | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৮559403
  • না না, সেটা জানি। সে কুণালও বেনামে প্রবন্ধ লিখেছিল এই জিনিসই বলে। কিন্তু এমার্জেন্সি আরএসএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা আর একে একে দুই করলে ঠিকই ছিল শুনে থেকে...
     
    নরফ্লক্স বা ব্যান্ডেড যাই ঠিক করবেন, আমার দিক থেকেও একটা করে।
  • দ | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৯559402
  • বরাবরই বলে একটা সেকশান। আমার এমার্জেন্সির সময়কার কথা মোটামুটি মনে আছে। এমার্জেন্সির সময় খগেন দত্ত ঠিক সময় অফিস যেতে বাধ্য হত এইটা ছোট থেকে শুনে এলাম। খগেনবাবু রাইটার্সে চাকরি করতেন। ট্রেন ঠিক সময় চলিত আরেকটা বড় প্রশংসাসুচক বাক্য ছিল।
  • qwerty | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৬559401
  • বাবাগো! লোকে আজকাল এমার্জেন্সির সমর্থনেও কথা বলছে
  • দ | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১০559400
  • ফিঙ্গার ডায়রিয়া
  • দ | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১০559399
  • ফিঙ্গার রইয়া। আঙুলে ব্যান্ড এইড লাগিয়ে দেখা যেতে পারে।
  • হিজিবিজি | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৪559398
  • নরফ্লক্স খেলে তো পাছু দিয়ে বেরনো বন্ধ হয়। পাছুতে নরফ্লক্স গুঁজে দিলে কি ভার্বাল ডায়েরিয়া বন্ধ হবে
  • অরিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৩৪559397
  • ধন্যবাদ yumba, Terence Tao এর এই বক্তব্যটিও পড়ার মত
  • yumba | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৮559395
  • এই মুহূর্তের তাজা খবর। ওপেনএআই ক্লেম করছে ওদের মডেল ন্যাভিয়ের-স্টোকস মিলিয়ন ডলার প্রব্লেম সলভ করে ফেলেছে। ওদিকে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক ত্রিস্তান বাকমাস্টার অভিযোগ করেছেন, তিনি ও তাঁর এক সহকর্মী, যিনি ওপেনএআইয়ের প্রতিপক্ষ এনথ্রোপিকে কাজ করেন, এনারা ন্যাভিয়ের-স্টোকসের একটা ব্রেকথ্রু খুঁজে পেয়েছেন ও ​​​​​​​সেইটা ওপেনএআইয়ের ​​​​​​​মডেল ​​​​​​​কোডেক্সের ​​​​​​​সঙ্গে ​​​​​​​আলোচনা ​​​​​​​করছিলেন। এনাদের ​​​​​​​পার্সোনাল চ্যাট ​​​​​​​থেকে ওপেনএআই ​​​​​​​এনাদের ​​​​​​​ব্রেকথ্রু ​​​​​​​সল্যুশনটা ঝেঁপে দিয়েছে। ​​​​​​​এই ​​​​​​​নিয়ে ​​​​​​​উত্তাল সারা বিশ্বের ​​​​​​​গণিত কমিউনিটি।
     
    ত্রিস্তান তাঁর ওয়েবসাইটে ​​​​​​​ঘটনার ​​​​​​​দীর্ঘ ​​​​​​​বিবরণ ​​​​​​​পোস্ট ​​​​​​​করেছেন। ​​​​​​​সেখান ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​উদ্ধৃত।
     
    I asked whether the model had been trained on, or had access to, our sessions
    in Codex, into which we had been putting all our drafts for the whole of this
    project. I was told the model did not look up user data. I asked again, about
    training, and I did not get an answer.
    Two proposals were offered to me. The first was that we post our Euler
    result, and that OpenAI post its Navier-Stokes result the next day. The second
    was that, after posting Euler, I alone write a paper presenting the Navier-Stokes
    result, acknowledging that an internal OpenAI model had resolved it. Sebastien
    twice asserted that he wanted Levent removed from authorship, and said it
    would all be simple if only it were not the case that, and it was so annoying
    that, Levent works at Anthropic. It was also said that if OpenAI posted after us,
    they would say that we deserved the Clay Prize, and that we were the “closest
    humans to the problem”. I declined both offers.
    I said that if OpenAI released its result in the way proposed I would go
    public with what happened. The reply was, “Why would you ruin your career?”
    I replied that I am an academic, and asked why he thought going public would
    ruin my career. The reply was, “If you don’t want me to be nice, then I don’t
    have to be nice.”
    Some time later Levent received a text proposing that he and Sebastien
    speak one on one, saying, “I don’t know if Tristan is being fully rational right
    now.” Levent declined and said conversations should be with me. Sebastien sent
    a follow-up email that night requesting to speak with me on Monday, September
    3 7th. I did not respond.
  • তরমুজ | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০১559394
  • কংগ্রেসের আরএসএস কে চেনার প্রয়োজনই নেই। কারন দুজনের লাইন আলাদা। আর দেশের চরিত্র বদলেছে বিজেপি ও তার সহযোগিদের জন্য। ইন্দিরা গান্ধির এমার্জেন্সি ঘোষণা আরএসএস বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল। তাতে আরএসএস এর পাশে দাড়িয়েছিল বামপন্থিরা। এবং আমিও এমার্জেন্সি.সমর্থন করি না। কিন্তু একে একে দুই করলে এমার্জেন্সি সমর্থনযোগ্য ছিল। কিন্তু রাজনীতিতে সবসময় একে একে দুই হয় না। কারন এটা পদার্থ বিজ্ঞান না। প্রথম জনতা সরকারের প্রথম কাজ ছিল সাধারন নাগরিকের সম্পত্তির অধিকার মৌলিক অধিকারের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া। .... বিপুল চাপ সৃষ্টি করলেই যে দেশ বিষমুক্ত হয়ে যাবে এমন ধারনা ঠিক নয়। আরএসএস এক দীর্ঘ সামাজিক কারনের ফল। যেমন বর্ণবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, ইত্যাদি। একে রাজনৈতিকভাবে বিতাড়িত করা যাবে না। একে সামাজিকভাবে বিতাড়িত করতে হবে। কেবল প্রচন্ড দমন পিড়ন করলে তারা সহানুভূতি আদায় করে আরো বিকট আকার ধারন করবে। আরএসএসকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলতে হবে।
  • purandar bhat | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৫২559393
  • মল্লারের লেটেস্ট পদ্যটা কেমন ​​​​​​​লাগল ​​​​​​​সবার? ইঞ্জিরিতে বান্ধবীর ​​​​​​​সঙ্গে ​​​​​​​শোয়াশুয়ি ​​​​​​​নিয়ে ​​​​​​​লিকেচে। ​​​​​​​পড়ে ​​​​​​​মন্তব্য ​​​​​​​করুন।
     
    গুরু, তুমি ​​​​​​​চালিয়ে ​​​​​​​যাও। ​​​​​​​পাবলিসিটি ​​​​​​​বাড়ানোর দিকটা ​​​​​​​আমরা ​​​​​​​দেখে ​​​​​​​নিচ্ছি।
     
    Yearning kiss
     
    আকাশ ছিল আহাম্মক
    বাতাস ছিল হিংসুটে
    হারিয়ে গেছে নতুনপথ
    হার মেনেছে নিন্দুকে
    যুগের সঙ্গে তাল মেলাই
    ছন্দে ভাঙছি আলসেমি
    প্রেমের দিকেই হাত বাড়াই
    পালক ওড়ায় সব শালিখ
    এখন দেখি গালটা পাত
    ছোট্ট একটা kiss করি
    এক বিছানায় একটা রাত—
    ঘুমোবি আয় বান্ধবী
  • !<>• | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:২১559392
  • @ তরমুজ, কংগ্রেসকে আদর্শবাদী হতে হবেনা l কিন্তু আরএসএসকে চিনতে ভুল হয়েছে এটা তো মানতেই হবে l কংগ্রেস এতো বড় ভুল করেছে যে রাষ্ট্রের চরিত্রই বদলে গেছে আরএসএসের হাত ধরে l কংগ্রেস ক্ষমতা আবার পেলে ভুল সংশোধন করবে কি ? Structural systematic violence ছাড়া আরএসএসের সমস্যার কোনো সমাধান নেই l
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৩559391
  • যেমন মমতা। মমতাকে কি আপনি আদর্শের বাণে বিদ্ধ করতে পারবেন? মমতাকে আপনার কাজ, নীতি নৈতিকতা, দুর্নীতি এই সব বাণে বিদ্ধ করতে হবে। কংগ্রেসের অবস্থাও তাই। আবার রাম ও বাম সরকারের ভূমিকা যতই অপদার্থতাপূর্ণ হোক না কেন, কর্মবাণে বিদ্ধ করতে গেলেই একজন চলে যাবে হিন্দু খতরে মে হে। এবং অন্যজন চলে যাবে বিপ্লবে।
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৪৪559390
  • অবশ্যই কংগ্রেসের মধ্যেকার 40% লোক আরএসএস এর ভাবধারায় বিশ্বাসী। কিন্তু কংগ্রেস তো কোনো আদর্শবাদী দল নয় তাই এই ব্যাপারটা বেশি মাথাব্যথার কারন নয়। কারন আরএসএস এবং বামপন্থী এদের মূল ভিত্তি হল আদর্শ। কিন্তু কংগ্রেস গান্ধিবাদী আদর্শের কথা আলাদা করে প্রচার করে না। এবং কংগ্রেসের মধ্যে থেকে ডিকটেটর মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন ইন্দিরা গান্ধি। আবার এই কংগ্রেসের হাত ধরেই অর্থব্যবস্থার উদারিকরন হয়েছে। যে কংগ্রেস এক সময় শিল্পের সরকারিকরন করেছিল। সুতরাং আদর্শের সাথে আদর্শের লড়াই হয়। শূণ্যের সাথে কিসের লড়াই? অন্যদিকে মানুষের রুজি রোজগারের কথা তো রাম ও বামেরা সেভাবে বলে না। তারা আদর্শপ্রধান রাজনীতি করে। এক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাথেও তাদের বিরোধ বাধার কারন নেই, মেলবন্ধন হওয়ারও কারন নেই। এই জায়গায় কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বি হল আপ, নীতিশ, স্ট্যালিন, নাইডু। সুতরাং রাম ও বামের সাথে কংগ্রেসের মেলবন্ধন ও বিরোধ কোনরূপ ফলদায়ী নয়।
     
    এই সিনেমাটা ভালো। এখানে বাঙালি রাম বাম ব্যখ্যাটা বেশ ভালোভাবে দেওয়া হয়েছে।
     
  • !<>• | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:০৯559389
  • আরএসএসের আজকের উত্থানের পিছনে কংগ্রেসের ভূমিকার কথাও বলতেই হবে l কংগ্রেস কোনোদিনই আরএসএসকে খতম করতে চায়নি যেহেতু কংগ্রেসীদের বড় একটা অংশই আরএসএসের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলো l খালিস্তানী, কাশ্মীরি, নাগা বা মাওবাদীদের যেভাবে কংগ্রেস anti-state চিন্নিত করে খতম করতে চেয়েছে তুলনামূলক ভাবে আরএসএসকে তো কিছুই করা হয়নি l আরএসএসের আজকের উত্থানের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিলো কংগ্রেসের l ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সুবর্ণ সুযোগ ছিলো কংগ্রেসের আরএসএসকে খতম করবার, গুজরাটে ও মধ্যপ্রদেশে পুরোপুরি রাষ্ট্রপতি শাসন জারী করে আরএসএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান (ঠিক যেভাবে আরএসএস ২০১৯ সালের পর থেকে কাশ্মীরে আর বস্তারে সামরিক শাসন জারী করেছে ) চালানো এবং সম্পূর্ণ ভাবে ওই এলাকাতে আরএসএসের মূলোচ্ছেদ করা l কংগ্রেস এর বড় সমস্যা যে সে আরএসএসকে অন্য যেকোন রাজনৈতিক দল বলে মনে করেছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ভুল l
  • Manali Moulik | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:০৮559388
  • তরমুজ অত‍্যন্ত বাজে বকে
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫৭559387
  • বামপন্থী ও হিন্দুত্ববাদীদের অবস্থা:
     
    "যদি জগাই মাধাই না থাকতো তবে
    নিমাইকে কি চিনতো লোকে?"
     
    তাই নিমাই হওয়ার জন্য জগাই মাধাই দরকার। কারন নিমাই হওয়া ছাড়া হওয়ার মত অন্য কোনো অপশন নেই।
  • হ্যাঁ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫০559386
  • গন্ধরাজের নামে ভাগাড়ের মাংস
  • b | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৪৫559385
  • দুদিনের জন্যে ডিহি কল্কেতা গেসলুম। মাস্তুতো ভাই জোমাটো টোমাটো থেকে অর্ডার করে একদিন জিশেনের চিকেন রোল আর একদিন বং কানেকশন থেকে ফিশ ফিঙ্গার আর চিকেন গন্ধরাজ খাওয়ালো। শেষের্টায় অবশ্য লেবু টেবুর গন্ধ টের পেলাম না, গুচ্ছের সয়াসস আর গরম মশলার কিম্ভুত মিক্স্চার।
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৩২559384
  • রাম বাম জোটের কয়েকটি বৈশিষ্ট হল,
     
    1. দুটিই আদর্শপ্রাণ। অর্থাৎ মানুষের নিত্য নৈমিত্যিক সমস্যার থেকে আদর্শকে তারা বেশি প্রাধান্য দেয়।
    2. দুটিই উগ্রতার তত্ত্বে বিশ্বাসী।
    3. দুটিই ব্রহ্মচর্য পালনে বিশ্বাসী।
    4. জাগতিক সমৃদ্ধির আকাঙ্খার থেকে শহিদ বা ভগবান হওয়ার আকাঙ্খা অধিক মাত্রায় পোষন করে।
    5. অহিংস তত্ত্বের প্রতি অসহিষ্ণু এবং সহিংতার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ।
    6. দুটিই পদার্থ বিজ্ঞানের থেকে সমাজ বিজ্ঞানকে উন্নততর বলে মনে করে।
  • r2h | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৩০559383
  • এইটা ঠিক কী জানি না, বোধহয় বিজেপি আরেসেসের সাফল্য, অভূতপূর্ব সাফল্যও বলা যায়। এক সময় বাঙালীর, মানে বিদগ্ধ না, এমনি সাধারন, আড্ডা চর্চার বিষয়ের মধ্যে বাজারের দরাদরই রুটি ভাত তরকারি সানিধাপামাগারেসা, একটু সুনীল সত্যজিত অত্যল্প ঋত্বিক অনেকটা উত্তম সুচিত্রা সৌমিত্র সাবিত্রী ইবে মোবা - এইসবের প্রাধান্য ছিল।
    আজকাল সেসব মিটে গেছে, আজকাল মনুবাদ মনুস্মৃতি সাভারকর হিন্দুত্ব মুসলমানত্ব- এইসব একেবারে মধ্য মঞ্চের আলো কেড়ে নিয়েছে।
    তা মন্দ না, জ্ঞানাঞ্জনের কাঠি দিয়ে খোঁচা দিয়ে যদি জাগিয়ে তোলা যায়। তবে খোঁচা খেয়ে দেখি সব কেবল উল্টোদিকে গড়িয়ে পড়ে, এ এক মুশকিল। পণ্ডিতেরা খুব অবজেক্টিভ তথ্য উদ্ধার করে বলছে, হুঁহুঁ, মনুস্মৃতিতে আছে অমুক লোক পশুর তুল্য। লোকমুখে সেই শুনে গুরুপদর মা তার নাতবৌকে গোয়াল ঘরে থাকতে দিচ্ছে।
    সে অবশ্য পণ্ডিতের দোষ না। তবে অধিকারীভেদের ব্যাপারটা ঘেঁটে গেছে আরকি, কিন্তু অধিকারী তো খুবই ইয়ে, মুখ্যমন্ত্রী বলে কথা। সে যাউগ্গা।

    আবার অন্যদিকে এই যে বাঙালী আইকনরা সবই দেখা যাচ্ছে মহা চাড্ডি, তাতে দ্বিজাতিতত্ত্ব ব্যাপারটা বেশ জমিয়ে প্রতিষ্ঠা হছে কিনা ভাবি মাঝে মাঝে।
    এইখানে আমি ঐ কী হলে কী হত, কার হাতে কী আপশন ছিল, কী সীমাবদ্ধতা ছিল, সেসব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে গেলে কী উপায় বা আদৌ কতটা সম্ভব ছিল, মানে এই ইনক্লুসিভিটি ইত্যাদির তত্ত্ব তো এই সেদিনের কথা, ঐসব একটু বিবেচনা করা সঙ্গত মনে করি, কিন্তু সে তো ঠিক ইতিহাসভাবনার সহি ধারা না।

    তো আর কী, যে কদিন পারা যায় জমিয়ে পাঁঠার ঝোল মেটে চচ্চড়ি ভুনা গোস্ত শূলপক্ক স্টেক এইসব খেয়ে নিই। না না, ভয় বাগেশ্বরকে না, ভয় হল কোলেস্টরল ফ্যাটি লিভার এইসবকে।
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:২১559382
  • //বামপন্থী চিন্তাবিদ্‌ মানবেন্দ্রনাথ রা্যের (এম এন রায়) সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতেন, অথচ, ‘দৈবী’ ক্ষমতা সম্পন্ন হিন্দু বাবাজীদের সহ্য করতে পারতেন না। এমনকি ধার্মিক অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদা তোলার বিরোধিতা করে টাকাটা দেশের বুভুক্ষু দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে বলতেন।//
     
    আমাদের দেশে রাম বাম জোট নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার আগে থেকে শুরু করে বর্তমান দিন পর্যন্ত এর দীর্ঘ ইতিহাস আছে।
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১৩559381
  • রঞ্জনবাবু হিন্দু ও হিন্দুত্বের উপযোগিতা সম্পর্কে সভারকরের দৃষ্টিভঙ্গির উপর আলোকপাত করুন। অর্থাৎ আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এ বাল লাগে কোন কাজে? আধুনিক উদারবাদীরা তো মনে করে ধর্মের থেকে শিল্প সাহিত্য বর্তমানে বেশি উপযোগি।
  • Ranjan Roy | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:০৬559380
  • অনেক বকবক করেছি।
    সাতদিনের জন্যে চুপ করলাম,
  • Ranjan Roy | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:০৩559379
  • ৫ ব্যক্তিজীবনে সাভারকর কতটুকু হিন্দু?

    ব্যক্তিগত জীবনে বিনায়ক সাভারকর ছিলেন সংস্কারমুক্ত। হিন্দু ধর্মের সংস্কার, ব্রাহ্মণ্যবাদ ও জাতপাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। বর্ণাশ্রম ও ধর্মীয় সংস্কার যে হিন্দুধর্মকে বিভক্ত করে দিয়েছে এবং অনেক ক্ষতি করেছে তা বারবার বলেছেন। রত্নগিরিতে থাকবার সময় তিনি দলিতদের জন্যে পতিতপাবন মন্দিরের দ্বার খুলে দেন এবং ছোঁয়াছুঁয়ি ও নানারকম সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। তাঁর উপস্থিতিতে বেশ কিছু অসবর্ণ বিবাহও হয়
    ।
    পুণের ব্রাহ্মণ সমাজ তাঁকে হিন্দুবিরোধী নাস্তিক বলে জেলা থেকে বহিষ্কারের আবেদন জানিয়ে কালেক্টরকে পিটিশন দিয়েছিল।
    সাভারকর জাতপাত মানতেন না। গরুকে মাতা বলতেন না। এবং জ্যোতিষেও বিশ্বাসী ছিলেন না। চিতপাবন মারাঠি ব্রাহ্মণ হলেও মাছ-মাংস খেতেন। খাবার নিয়ে বাড়াবাড়ি ওঁর পছন্দ নয়। এসব হিন্দুদের দুর্বল করেছে বলে ওঁর ধারণা। নিজের মৃত্যুতেও কোন শ্রাদ্ধ বা ধার্মিক সৎকার নিষেধ করেছিলেন।
    ‘গোমাতা’ বলা এবং গো-পূজা ওঁর মতে ‘বুদ্ধি-হত্যা’ ছাড়া আর কিছু নয়। গরু শুধু বাছুরের মাতা। গোমূত্র, গোবর খাওয়া নিয়ে ওঁর প্রবল বিতৃষ্ণা। কিন্তু গরু উপকারী পশু, তাই ওর সংরক্ষণ দরকার।[1]
    গোপাল গড়সের লেখাতেও জানা যায় যে ১৯২৯ নাগাদ, রত্নাগিরিতে থাকার সময়, উনি হিন্দুধর্মের আচার আচরণে ব্যাপ্ত কুরীতি নিয়ে ‘কির্লোস্কর’ পত্রিকাতে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতেন।

    জানকী বাখলে সাভারকরের মূল মারাঠিতে লেখা কবিতা, নাটক এবং বিশাল প্রবন্ধের ভাণ্ডারে গবেষণা করে দেখিয়েছেন দুটো বৈশিষ্ট্যঃ
    এক, হিন্দুধর্মের আচার আচরণে ব্যাপ্ত অন্ধবিশ্বাস নিয়ে তিনি ছিলেন নির্মম সমালোচক।
    দুই, আরেকদিকে মুসলিমদের প্রতি তাঁর তেমনই অন্ধ ঘৃণা। যদিও ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ নিয়ে লেখা বইয়ে মুসলমান বিদ্রোহী নেতা এমনকি হায়দর আলির জন্যেও পর্যাপ্ত শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু আন্দামান থেকে ফেরার পর তাঁর চোখে ভাল মুসলমান, মন্দ মুসলমান নেই। সব মুসলমান এক। তিনি নাটক লিখেছিলেন। তাঁর নাটকে সমস্ত মুসলিম চরিত্র জানোয়ার।

    উনি জাতিব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেও বলেন যে মুসলিম আমলে নিজেদের রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার খাতিরে এই ব্যবস্থা বেশি আঁটোসাটো হয়েছে, আজ দরকার নেই। [2]
    অনেকে অবাক হত—উনি বামপন্থী চিন্তাবিদ্‌ মানবেন্দ্রনাথ রা্যের (এম এন রায়) সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতেন, অথচ, ‘দৈবী’ ক্ষমতা সম্পন্ন হিন্দু বাবাজীদের সহ্য করতে পারতেন না। এমনকি ধার্মিক অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদা তোলার বিরোধিতা করে টাকাটা দেশের বুভুক্ষু দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে বলতেন।[3]

    যেসব ধর্মগুরুরা মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দিতে বলতেন তাঁদের তিরস্কার করে উনি বলতেন মানুষকে খাদ্যাভ্যাস দিয়ে বিচার করা ছেড়ে সবাইকে তাদের ইচ্ছে এবং সুবিধে মত খেতে দেয়া উচিত। বরং সবাই মাছ-মাংস খাওয়া অভ্যেস করলে দেশের খাদ্য সমস্যা অনেকটা দূর হতে পারে[4]।

    গান্ধীজির বিপরীতে উনি ব্রহ্মচর্য পালনকে কোন গুরুত্ব দিতেন না। যৌনতা নিয়ে কোন ন্যাকামি ওনার না-পসন্দ। বিপ্লবীদের ব্রহ্মচর্য পালন না করে ‘রতি’কে উপযুক্ত স্বীকৃতি দেওয়ার ওকালত করতেন। কেবল সন্তানোৎপাদন নয়, কাম-পরিতৃপ্তির আনন্দ মানবজীবনে পূর্ণতা আনে।[5]

    অনেকের অভিযোগ ছিল যে তাঁর রত্নাগিরি এবং বোম্বাই বাসের দিনে অনেক মেয়ে কমরেড বিনা পূর্ব অনুমতি যখন তখন আড্ডা মারতে যেত, কিন্তু জেনারেল কারিয়াপ্পা থেকে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকেও ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ ছাড়া এলে উনি হাঁকিয়ে দিতেন[6]।

    নিজে চিতপাবন মারাঠি ব্রাহ্মণ, কিন্তু নিজের ছেলে বিশ্বাস রাওয়ের উপনয়ন করান নি। নিজের স্ত্রী’র শ্রাদ্ধ এবং অন্যান্য ধার্মিক অনুষ্ঠান করতে বারণ করে দিয়েছিলেন[7]।
    আশি বছর বয়সে সিঁড়িতে পা পিছলে উরুর হাড় ভেঙে যাওয়ায় সার্জারি করতে হল। বাড়ি ফিরে বিছানায় তিনমাস শয্যাশায়ী। কয়েকজন জ্যোতিষ তাঁকে শুভ-অশুভ যোগ নিয়ে পরামর্শ দিতে এলে তাঁদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে ভাগিয়ে দিলেন।[8]
    অসুস্থ সাভারকর ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান। পীড়ায় অস্থির হয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু কামনা করেছিলেন, কিন্তু আইনে বাধে। তাই ধীরে ধীরে খাওয়াদাওয়া এমনকি জল পর্য্যন্ত ছেড়ে দিলেন।[9]
    তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তাঁর মরদেহ কোন চিতায় তোলা হয় নি, মন্ত্রোচ্চারণ করা হয় নি, বিনা আড়ম্বরে ইনসিনারেটরে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। বাড়ির কাছে কাকেদেরও কিছু আহার বা পিন্ড দেওয়া হোল না। সাভারকরের কাছে হিন্দু ধর্ম ব্যক্তিগত আচরণ না হয়ে রাজনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ রইল।[10]

    গবেষক ডক্টর জানকী বাখলে ঠিকই বলেছেন – ধার্মিক আচার আচরণ এবং খাদ্যখাাদ্য বিচারে সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও সাভারকরের একবগগা মুসলিম ঘৃণা আমাদের অবাক করে।

    [1] Purandare, “Savarkar, The True Story of The Father of Hindutva”, p. 200-01

    [2] Keer, Dhananjay “Veer Savarkar”, p. 533-34.

    [3] Purandare, “Savarkar, The True Story of The Father of Hindutva”, p. 345

    [4] ibid.

    [5] গোখলে, ‘স্বাতন্ত্র্যবীর সাভারকর”, পৃঃ ৪৭-৪৮ এবং ধনঞ্জয় কীর, “বীর সাভারকর”, পৃঃ ৪৭৭-৭৮।

    [6] Purandare, “Savarkar, The True Story of The Father of Hindutva”, p. 346--347

    [7] ibid, p. 346

    [8] ibid, p. 348

    [9] গোড়বোলে; ‘মালা উমজলেলে স্বতন্ত্রবীর সাভারকর’ (মারাঠি), পৃঃ ১৬২-৬৭।

    [10] Purandare, “Savarkar, The True Story of The Father of Hindutva”, p. 137
     
  • Manali Moulik | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫৯559378
  • @রঞ্জন স‍্যার, মানালি। laugh
    আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ধন‍্যবাদ জানবেন।
    আপনার সুগভীর আলোচনায় সমৃদ্ধ হলাম। সাভারকরের হিন্দুত্বের রেফারেন্স সত‍্যিই পদে পদে বিভ্রান্তিকর। আর আর্যগোষ্ঠী কাদের বলা হবে সেটাও একটা প্রশ্ন। এদিক দিয়ে সেই রেসিয়াল ষ্টিগমা এসে যায়। আর্য --শব্দটি প্রথম ম‍্যাক্সমুলার ব‍্যবহার করেছিলেন ভারতীয় ভাষাচর্চা করতে গিয়ে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা থেকে অন‍্যভাষাগুলিকে (ভোটচিনীয় / তিব্বতি বার্মিজ, অষ্ট্রোএশিয়াটিক ও দ্রাবিড়িয়) আলাদা করতে গিয়ে। এরসঙ্গে কোনো জাতিগোষ্ঠীকে যুক্ত করা ওনার নিজের ভাষাতেই 'ষ্টুপিড'। প্রথণ দিকে জুলিয়াস ক্ল‍্যারট (নামটা ভুল হতে পারে) দাবী তুলেছিলেন, এই ভাষাগোষ্ঠীর নাম 'ইন্দো-জার্মানিক' রাখা হোক কারণ সংস্কৃতের সঙ্গে জার্মান ভাষারই সাদৃশ‍্যটা নাকি বেশী। এখান থেকেই হিটলারবাবুর তত্ত্বের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে সেই ঊনবিংশ শতকেই। পরে পেন্কা বললেন, "Language is an organic product with organism connected to a racial group'.নাহলে আর্যদের সুপিরিয়রিটি প্রতিষ্ঠা হবে কীকরে? ভারতে অ‍্যানথ্রোপলজিক‍্যাল চর্চা কিন্তু দেখায় নিগ্রোবটু, প্রোটো-অষ্ট্রলয়েড, দ্রাবিড় ইত‍্যাদি বহুভাষাভাষির জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ছিলো। আবার নোয়ার গল্প টেনে এক লেখক (নামটা দেখে বলছি) স‍্যাম, হেম আর জ‍্যাফেটের কথা আনলেন। স‍্যামের successor সেমেটিক ভাষাগুলি বলে, হ‍েমের পুত্রকন‍্যারা প্রাচীন মিশরীয় ইত‍্যাদি ভাষা পৃথিবীতে আনে আর জ‍্যাফেটের সন্তানগণ সব ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা নাকি ব‍্যবহার করতো। তবে আর্যভাষা থেকে আদৌ আর্যজাতি বা মাইগ্রেশনের ধারণায় যাওয়া যায় কিনা এ নিয়েও বিতর্কের অবকাশ আছে। কিছু প্রত্নলিপি (মিট্টানি সাম্রাজ‍্যের) দেখিয়ে দিচ্ছে ইন্দ্র, নাসত‍্য, মিত্রবরুণ ইত‍্যাদিদের উপস্থিতি। সংস্কৃতের সঙ্গে মিলও অনেক বেশী।
     
    আপনার অসাধারণ আলোচনায় আরেকটি জিনিস পেলাম, যা হলো ওই পূর্বভারত ও উত্তরভারত নিয়ে সমস‍্যা। আর্যাবর্ত আর দাক্ষিণাত‍্যের মধ‍্যে মোটামুটিভাবে নর্মদা পরিখা আর বিন্ধ‍্য পর্বত প্রহরীর কাজ করে। পূর্ব নিয়ে ড.রণবীর চক্রবর্তী (ভারত ইতিহাসের আদিপর্ব-খন্ড ১) লিখেছেন, পুরাণে উল্লিখিত এক ঋষি, নাম বিদেহ মাঠব, হস্তে অগ্নি বৈশ্বানরকে ধারণ করে যাত্রা করেন ও পূর্বের সীমান্তে এসে থেমে যান কারণ সেখানে অগ্নির শিখা পৌঁছায় না। অর্থাৎ জলাভূমি ও অন্ত‍্যজ শ্রেণী অধ‍্যুষিত পূর্বভারত (কালীদাসের ভাষায়, "প্রাচীপ্রচুরং পয়সীঃ") সর্বদাই একটু ব‍্যাকফুটে ছিলো। আর দক্ষিণভারতের দ্রাবিড়িয় সাহিত‍্য (সঙ্গম) সাতবাহন, চের, চোল, পান্ড‍্য নিয়ে একটা আলাদা সেন্টিমেন্ট তাহলে থাকারই কথা।
     
    ‍যাই হোক, ভালো লাগলো ভীষণ। প্রচুর কিছু জানতে পারলাম ও সুযোগমতো রেফারেন্সগুলো পড়ার ইচ্ছে রইলো।
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫৭559377
  • হিন্দু ও হিন্দুত্ব চেনার মনে হয় না কোনো প্রয়োজন আছে। কারা ক্যালাচ্ছে আর কারা ক্যালান খাচ্ছে, এটা বোঝার প্রয়োজন আছে। সরকারকে ধর্মীয় তথ্য দিতে হয় বলে আমি হিন্দু। নতুবা ব্যক্তিগতভাবে আমি পার্শী সংস্কৃতির দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত। সরকারের খাতায় হিন্দু না লিখলে আমি পার্শী বা মুসলিম হতাম। .... আজ হিন্দুত্ব নিয়ে যে নাচানাচি হচ্ছে তার একটা বড় কারন আমাদের মনে রাখতে বাধ্য করা হয়েছে যে আমরা হিন্দু। এবং অন্যান্য ধর্মেও তাই, বাধ্য করা হয় মনে রাখার জন্য। তার কোনো বাস্তব উপযোগিতা থাক বা না থাক।
  • Ranjan Roy | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫৬559376
  • @qwerty | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১৭
     
    আপনার বক্তব্যের কন্টেক্সটে আসছি। দেখতে পাবেন, ওনার হিন্দু মিলিটারাইজেশন একটি ঐতিহাসিক কালখণ্ডে তাঁর মূল তত্ত্বের করোলারি মাত্র, আলাদা উপপাদ্য নয়।
     

    সাভারকর-মানস নিয়ে গবেষণায় সবচেয়ে আধুনিক রচনা ডঃ জানকী বাখলের ‘সাভারকর অ্যান্ড দ্য মেকিং অফ হিন্দুত্ব’।
    এই বইটি মারাঠি সাহিত্য, ব্রিটিশ পুলিশের কিছু দুর্লভ রিপোর্ট এবং সাভারকরের নিজের মারাঠি ভাষায় লেখা হাজারো প্রবন্ধ, নাটক এবং কবিতার অধ্যয়নের সম্মিলিত ফসল। এতে সাভারকরের বাল্যকাল থেকে লন্ডন প্রবাস, আন্দামান পর্ব, ভারতে ফিরে সক্রিয় রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে রত্নাগিরিতে বসে হিন্দুত্ব নিয়ে লাগাতার লেখার পর্ব, অর্থাৎ ১৯৩৭ সাল পর্য্যন্ত ধরা রয়েছে।

    উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ অব্দি মারাঠি বুদ্ধিজীবী সমাজ দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। একদল ইংরেজের থেকে স্বাধীনতা পাবার আগে সমাজ সংস্কারের পক্ষে, অন্যদল সংস্কার পরে হবে আগে স্বাধীনতা। লোকমান্য তিলক দ্বিতীয় দলের।

    ডঃ বাখলে দেখিয়েছেন যে সাভারকর -মানস এই দুই চিন্তাধারার সংশ্লেষণ (synthesis)। একদিকে তিনি মনুবাদী চিন্তা এবং পুরোহিততন্ত্রের তীব্র বিরোধী। তিনি ভাবেন- জাতিভেদ হিন্দু এবং খাদ্য নিয়ে বাছবিচার হিন্দু সমাজকে এগোতে দিচ্ছে না; এবং তিনি তাঁর গুরু তিলকের মত ইংরেজের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে সশস্ত্র সংগ্রামের পক্ষধর।

    আবার তাঁর রয়েছে পেশোয়ারাজের প্রতি মুগ্ধ আকর্ষণ। সুতরাং মুঘল সংস্কৃতি তাঁর চোখে বিদেশি এবং অভারতীয়। তাঁর ‘হিন্দু পদপাদশাহী’ গ্রন্থটি শেষ স্বাধীন হিন্দু শাসনের প্রতি বন্দনা এবং নিবেদন। বাখলে এখানে খুঁজে পেয়েছেন সাভারকরের তীব্র মুসলিম বিদ্বেষের শেকড়।

    এইখানে তিনি আরেক মারাঠি তিলকের থেকেও আলাদা। তিলক উগ্র -হিন্দুত্ব বিহীন হিন্দুধর্মের পক্ষধর। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যে বিশ্বাসী। ডিসেম্বর ১৯১৬ সালে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের মধ্যে যে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদিত হয় তাঁর রূপকার হলেন দু’জন—বাল গঙ্গাধর তিলক এবং মহম্মদ আলি জিন্না।

    রোমান্টিক সাভারকর নিজেকে অধিনায়ক ভাবতে অভ্যস্ত। তাঁর চিন্তায় যুদ্ধে কম্যান্ডার থাকে সবার পেছনে। সে পরিকল্পনা করে, নির্দেশ দেয়, সৈনিকদের লড়তে এবং আত্মত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু তাঁকে শেষ অবধি বেঁচে থাকতে হবে—যে কোন মূল্যে, ধরা পড়লে চলবে না।
    এটা যৌবনে লেখা দুটো বইয়েই পরিস্ফুট।
    বিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘ দ্য লাইফ অফ ব্যারিস্টার সাভারকর’, লেখক জনৈক চিত্রগুপ্ত।
    বইটির প্রথম প্রকাশক মাদ্রাজের কে জি পাল অ্যান্ড কোম্পানি। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত।

    বইটি কোন সিরিয়াস ইতিহাস চর্চা নয়, বরং অতি- নাটকীয় ঢঙে সাভারকরের ছেলেবেলা থেকে লণ্ডন প্রবাস এবং বোম্বাইয়ের আদালতে ৩০ জানুয়ারি ১৯১১, অর্থাৎ দ্বিতীয় মামলাটির রায় পর্য্যন্ত সময়ের বর্ণনা।
    লেখার স্টাইল জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যের, আজকালকার ‘ অমর চিত্রকথা’র মতন।
    তাতে সাভারকর ছোটবেলা থেকেই হিন্দু নায়ক।

    তাঁর তখন বালক বয়েস। বোম্বাই অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা বেঁধে যায়।
    সাভারকর তাঁর গ্রাম ভাগুরে ছোটদের একটি দল গঠন করে বোম্বাইয়ে হিন্দুদের উপর মুসলমানদের কথিত আক্রমণের প্রতিবাদে নিজের গাঁয়ে একটি পরিত্যক্ত মসজিদে রাত্তির বেলায় গিয়ে ঢিল ছুঁড়ে কাঁচ ভেঙে নিজেদের সার্থক মনে করেন।
    সেই বালকের দল যুদ্ধ যুদ্ধ খেলত। একদিকে হিন্দু, অন্যদিকের নাম কখনও মুসলিম, কখনও ক্রিশ্চান। সাভারকর সবসময় হিন্দুবাহিনীর সেনাপতি হতেন, এবং বলা বাহুল্য হিন্দুরা সর্বদা বিজয়ী হত।
    এতে আরও আছে যে রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যস্ত সাভারকর কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিতেন, কারণ ওই এডুকেশন সিস্টেম হাতপায়ের বেড়ির মত। কিন্তু সাভারকর প্রত্যেক পরীক্ষায় সফল হতেন।
    বাস্তবে, বিলেতি কাপড় পোড়ানোর আন্দোলনে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে ফার্গুসন কলেজ হোস্টেল থেকে কয়েক দিনের জন্যে সাসপেন্ড করে। কিন্তু ঐ বইয়ের হিসেবে তাঁকে বরাবরের মত কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
    বিনায়ক কিন্তু লণ্ডনে ব্যারিস্টা্রি পড়তে যাচ্ছেন। বইটিতে লেখা হল আসল উদ্দেশ্য ব্যারিস্টার হওয়া নয়, বরং ওখানকার ভবিষ্যতের ব্যারিস্টারদের দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করা!
    পি সাইনাথ এবং আরও অনেকের চোখে বইটি অতিশয়োক্তি এবং বাগাড়ম্বরে ভরা মনে হয়।

    একটা উদাহরণঃ
    ১৯০৭ সালে ২২শে অগাস্ট তারিখে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হল ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কংগ্রেস যাতে জার্মানির কমিউনিস্ট নেতা রোজা লুক্সেমবার্গ এবং কার্ল লিবনেখট উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ভারতের ডেলিগেট হিসেবে হাজির হয়ে ইন্ডিয়া হাউসের অন্যতম সংস্থাপক ভিকাজী কামা ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দিলেন, সঙ্গে ছিলেন বীরেন্দ্রনাথ চট্টো।[1]

    তখন প্যারিসে বাস করছেন মাদাম কামা, হেমচন্দ্র দাস। বীরেন্দ্রনাথ ‘চট্টো’ লণ্ডনের ইন্ডিয়া হাউস থেকে মাদাম কামার সহযোগী এবং সাভারকরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওঁর প্রয়াসে বার্লিন কমিটির আমন্ত্রণে মাদাম কামা সেখানে গিয়েছিলেন।।
    পতাকাটি বার্লিন কমিটির এবং এর ডিজাইন করেছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো। ইনি মেদিনীপুরে ড্রইং শিক্ষক ছিলেন এবং অনুশীলন দলের প্রভাবে ঘরবাড়ি বেচে প্যারিসে গিয়েছিলেন বোমা বানানো শিখতে।
    পরে হেমচন্দ্র দাস কানুনগোকে মানিকতলা বোমার মামলায় বারীন ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, উল্লাসকরদের সঙ্গে আন্দামানে পাঠানো হয়।

    চিত্রগুপ্তের লেখা ব্যারিস্টার সাভারকরের জীবনীতে বলা হয়েছে যে পতাকাটি ওনার অভিনব ভারত সংগঠনের!
    এছাড়া তখন তুরস্ক, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, আমেরিকায় লালা হরদয়ালের গদর পার্টির আন্দোলন—সবই নাকি আসলে সাভারকরের প্রেরণায় এবং ‘অভিনব ভারতের’ শাখার কাজ।
    অথচ সাভারকর লন্ডনে ছাত্র হিসেবে এসেছিলেন ১৯০৬ সালে, অর্থাৎ স্টুটগার্ট সম্মেলনের একবছর আগে।
    বইটির পিডিএফ savarkor.org থেকে এবং ইন্টারনেট লাইব্রেরি থেকে ডাউনলোড করা যায়।

    ১৯৮৬ সালে এর নতুন সংস্করণ ‘বীর সাভারকর’ নামে বের হয়। তার ভূমিকায় প্রকাশক ডক্টর রবীন্দ্র বামন রামদাস খোলসা করেন যে জীবনী লেখক চিত্রগুপ্ত আর কেউ নয়, বিনায়ক সাভারকর নিজে।
    এর আগেও ‘হিন্দুত্ব’ বইটি সাভারকর নিজের নামে না লিখে ‘A Maratha’(জনৈক মারাঠা) নামে লিখেছিলেন।
    পরের বই ‘হিন্দু পদপাদশাহী’তেও সাভারকরের ইতিহাস চর্চায় মারাঠা সাম্রাজ্যের পেশোয়ারাজ নিয়ে আবেগের প্রকাশ বেশি।
    মুঘল ইতিহাস চর্চার পথিকৃৎ আচার্য যদুনাথ সরকারের মতে—এই বইটি কথিত রোম্যান্টিক ইতিহাস লেখার নবীনতম উদাহরণ। ওনার কড়া সমালোচনা যে বইটিতে তথ্যের উৎস বলা হয় নি[2]।

    ওই ‘অধিনায়ক চিন্তা’ তাঁর মানসে এমন দৃঢ় ভাবে শেকড় গেড়েছে যে তিনি যখন ১৪ নভেম্বর ১৯১৩ তারিখে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার তৃতীয় চিঠিটি লেখেন এবং জেলের মধ্যে হোম সেক্রেটারি ক্র্যাডকের সঙ্গে দেখা করেন তখনও তাঁর ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিবেদন যে তাঁকে ছেড়ে দিলে অনেক ‘বিপথগামী’ ছেলে (যাঁরা তখনও সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী) সংবিধান-মানা নিয়মতান্ত্রিকতার পথে ফিরে আসবে[3]।

    সাভারকরের চিন্তায় পাশ্চাত্ত্য প্রভাব
    এক,
    ভারতীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যে দেশকে মাতা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। সেজন্যেই কল্পনায় আসে ভারতমাতা। বঙ্কিমচন্দ্র, মুকুন্দদাস, দ্বিজেন্দ্রলাল, রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের গানে, অবনীন্দ্রনাথের ছবিতে—সবার কল্পনায় আঁকা রয়েছে দেশমাতৃকা।
    আমাদের পরম্পরায় দেশ কখনই পিতা নয়। তাই বলা হয় –মাতৃভূমি।

    কিন্তু সাভারকর মানসে দেশ হল পিতৃভূমি-ফাদারল্যাণ্ড। অতএব, পিতৃভূমি, পুণ্যভূমি এবং রক্তের বন্ধন—এই হল হিন্দুত্বের এবং হিন্দুরাষ্ট্রের নাগরিকের পরিচয়।
    এই পিতৃভূমির ধারণাটি খাঁটি ইউরোপীয়—সে স্তালিনই হোন, কি হিটলার, সবাই আহ্বান করেন ফাদারল্যান্ডের নামে।

    দুই,
    সাভারকর ইংল্যান্ডে গিয়ে ইতালিয় বিপ্লবী মাজ্জিনির আত্মজীবনী অনুবাদ করেন, প্রথমে মারাঠিতে, পরে ইংরেজিতে। তাঁর আরাধ্য ছিলেন ইতালিয়ান বিপ্লবী মাজ্জিনি-- ভারতের শিবাজী, শ্রীকৃষ্ণ নয়। মাজ্জিনিও ইতালির অভ্যূত্থান ব্যর্থ হওয়ায় লণ্ডনে এসে বিপ্লবের পরিকল্পনা করেছিলেন।
    তেমনই ভারতে ১৮৫৮ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও সাভারকর ১৯০৯ পর্য্যন্ত স্বপ্ন দেখতেন ইংরেজমুক্ত ভারতের জন্য আরেকটি মাজ্জিনির নিও ইতালি স্টাইলে অভ্যুত্থানের।
    হিংসা এবং রক্তপাতে সাভারকরের বিন্দুমাত্র অনীহা ছিল না। তাঁর লেখায় বিদ্রোহ,রক্তপাত এবং প্রতিশোধ শব্দগুলো ঘুরে ফিরে আসে।
    “Revolt, bloodshed and revenge have often been instruments created by nature to root out injustice and introduce and era of justice”[4]

    তবে ইংল্যান্ডে ছাত্রাবস্থায় সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭) নিয়ে লেখা বইটিতে ‘হিন্দুত্ব’ নিয়ে একটি শব্দও নেই। বরং হিন্দু-মুসলমান ঐক্য নিয়ে আবেদন রয়েছে। তাতে পিতৃভূমির বদলে ছিল ভারতমাতা, এবং হিন্দু ও মুসলমান একই মায়ের সন্তান, অতএব ভাই[5]।

    This is a Jehad for independence![6] ‘Spears of Marhattas and Crescents of Islamites’[7] Hindu Muslim were thirsting for the blood of the Englishmen.[8] The mob dragged Mrs. Chambers from the bungalow and killed her with knives.[9]
    তাই হিন্দু-মুসলমানের রক্ত ঝরবে না। বরং ইংরেজের রক্তে ভারতভূমি সিক্ত হবে।
    এটা তাঁর আন্দামান বাসের আগের চিন্তা (ধরা যাক ১৯১১ পর্য্যন্ত) ছিল।

    আন্দামান থেকে ফিরে তাঁর বক্তব্য বদলে যায়। যদিও তিনি তাঁর আন্দামানের স্মৃতিকথায় লিখেছেন—তামিল, মারাঠি এবং বাঙালি মুসলমানেরা নিষ্ঠুর অথবা হিন্দুবিদ্বেষী ছিল না। কিন্তু পাঠান, বালুচ এবং পাঞ্জাবীরা ক্রুর ব্যবহার করত এবং হিন্দুদের ‘কাফের’ বলে ঘৃণা করত[10]।

    সাভারকর নিজেকে ভারতের মাজ্জিনি ভাবতেন। কিন্তু লন্ডনে কার্জন-উইলি এবং নাসিকে ম্যাজিস্ট্রেট জ্যাকসন হত্যার ও কুড়িটি পিস্তল ভারতে পৌঁছে দেয়ার পর আন্দামানে দশ বছর সাজা ভোগার পর তাঁর সশস্ত্র বিপ্লবের সক্রিয় কার্যসূচী শেষ হয়ে যায়। কিন্তু স্বপ্ন মরে না।

    উনি বড়ভাই গণেশ সাভারকরকে (বাবারাও) একটি চিঠিতে বলেছিলেন—দেখে নিও, ভবিষ্যতে ইতিহাসের একটি অধ্যায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে-- ‘সাভারকর যুগ’। [11]
    তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে নেতাজি সুভাষ নিখোঁজ হলে অনায়াসে অনুগত জীবনীলেখক
    ধনঞ্জয় কীরকে দিয়ে উনি লিখিয়ে নেন—উনি ভারতের মাজ্জিনি এবং সুভাষচন্দ্র তাঁর শিষ্য গ্যারিবলদি।
    এটা যে কত বড় ছলনা সেটা আমরা আগে দেখেছি। এই বইয়ের ৭.৫ অধ্যায় দেখুন।
    তিন,
    ইতিহাসবিদ ডক্টর বিনায়ক চতুর্বেদী তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘ হিন্দুত্ব অ্যান্ড ভায়োলেন্সঃ ভি ডি সাভারকর অ্যান্ড পলিটিকস্‌ অফ হিস্টরি’তে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে সাভারকরের জন্য হিন্দুত্ব ছিল একটা শব্দমাত্র নয়, বরং ভারতের ইতিহাস, এবং রক্ত ও ইতিহাসের ধারা।
    তাঁর চোখে হিন্দুত্ব ছিল যুগ যুগ ধরে পৌরুষের প্রকাশ। তাঁর চিন্তায় রক্তধারা এবং রক্তপাতের উপমা উদাহরণ বারে বারে ফিরে আসে।

    সেই কারণে ওঁর চোখে বৌদ্ধধর্ম এবং অহিংসা আত্মঘাতী। প্রথম বই হিন্দুত্ব, তারপর হিন্দু পদপাদশাহী এবং শেষ বই Six Glorious Epochs of Indian History (ভারত ইতিহাসের ছয় গৌরবময় যুগ) জুড়ে শুধু বীর এবং বিজয়ী হিন্দুরাজাদের চারণগাথা।
    এগুলো অবশ্যই প্রথাগত ইতিহাস চর্চা নয়, বরং আবেগসিক্ত কাহিনী। তাই সমস্ত মনুষ্য জাতির রক্ত মিশ্রিত এবং ‘পিওর ব্লাড’ বলে কিছু হয় না বলে যুক্তি দিলেও তিনি হিন্দুদের রক্ত তুলনামূলক ভাবে বেশি ‘বিশুদ্ধ’ গোছের আজগুবি দাবি করে বসেন, এবং ‘রক্তের বন্ধনকে’ হিন্দু তথা ভারতীয় হওয়ার অন্যতম শর্ত মনে করেন।

    চার,
    বাস্তবে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ সাভারকরের মননে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
    তাঁর ইতিহাস চর্চায় হিন্দুরা ভারতে ‘বহিরাগত’, মধ্য এশিয়া থেকে বেরিয়ে পরা আর্য্যদের একটি শাখা। তিনি ঋগবেদ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে হিন্দুরা ভারতের আদি অধিবাসী পণি ও দাসদের বলপূর্বক ধ্বংস করেছিল এবং তাদের এলাকা দখল করেছিল।
    তিনি এরজন্য গর্বিত এবং আশা করেন যে এইভাবে একদিন হিন্দুরা পুনঃ ভারতের ভৌগলিক ক্ষেত্রে থেকে বেরিয়ে পড়বে এবং সমগ্র বিশ্বে তাদের প্রভূত্ব এবং উপনিবেশ স্থাপন করবে। (হিন্দুত্ব বইটি দ্রষ্টব্য)।
    সেজন্যেই হিটলারের চেকোশ্লোভাকিয়া এবং পোল্যান্ড আক্রমণ নেহরুর কাছে নিন্দাজনক হলেও সাভারকরের মতে প্রশংসনীয়। উনি খোলাখুলি বলেন— অবিলম্বে হিন্দুদের শিল্পের বিকাশ এবং সামরিকীকরণ[12] আমাদের লক্ষ্য।

    [1] এই স্বাধীনতা সংগ্রামী মহিলার নামে দিল্লির সরোজিনী নগর স্টেশনের কাছে মাদাম ভিকাজী কামা প্লেস রাস্তা এবং একটি মেট্রো স্টেশন রয়েছে।

    [2] মডার্ন রিভিউ পত্রিকার এপ্রিল-মে ১৯২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত আচার্য যদুনাথ সরকারের প্রবন্ধ, এবং ফাড়কে ‘ শোধ সাভারকরাঞ্চা’ পৃঃ ১০০-১০১।

    [3] ডঃ আর সি মজুমদার, ‘পেনাল সেটলমেন্টস অফ আন্দামান অ্যান্ড নিকোবর’, ১৯৭৫, ভারত সরকার, পৃঃ ২০৫

    [4] Savarkar, “The First War of Independence, 1857. PP- 217-19.

    [5] Ibid, pp- 72.

    [6] Ibid, pp. -81.

    [7] Ibid, pp. 88.

    [8] Ibid, 100.

    [9] Ibid, 101.

    [10] সাভারকর ‘মাঝি জন্মাথেপ’(মারাঠি), পৃঃ ৭০-৭২; এবং পুরন্দরে ‘সাভারকর’, পৃঃ১৯০।

    [11] সাভারকর সমগ্র (হিন্দি), খণ্ড ২, পৃঃ ৫৭২, সম্পাদনা প্রফেসর নিশিকান্ত মিরাজকর এবং অন্য; প্রভাত প্রকাশন, দিল্লি; ২০২০

    [12] সাভারকর, ‘হিন্দু রাষ্ট্র দর্শন’, পৃঃ ১১৩
     
  • Ranjan Roy | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪৬559375
  • কে হিন্দু, আর কে হিন্দু নয়ঃ
    এবার দেখা যাক, পিতৃভূমি, রক্তের বন্ধন এবং পূণ্যভূমির তিন শর্ত মেনে সাভারকর ভারতে কাদের হিন্দু বলছেন এবং কাকে কাকে বাতিল করছেন।

    যারা ভারতের নাগরিক শুধু নয়, একই সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করে তারা সবাই হিন্দু, ধর্ম যাই হোক। অতএব হিন্দুধর্মের অনুগামী যত সম্প্রদায়, সনাতনী, আর্যসমাজী, নাথ সম্প্রদায়, শৈব, বৈষ্ণব, শাক্ত, ব্রাহ্মমত এমন কি নাস্তিক ও চার্বাকপন্থী সবাই হিন্দু। একই মাপদণ্ডে শিখ, জৈন, বৌদ্ধ সবাই সাংস্কৃতিক হিন্দু।
    কারণ, তারা তিনটে পরীক্ষাতেই পাশ করেছে। হিন্দুস্থান তাদের পিতৃভূমি, বিবাহাদি মোটামুটি নিজেদের সম্প্রাদায়ের মধ্যেই হয়—অতএব ধরে নেওয়া যায় একই রক্তধারা প্রবাহমান। আর এদের ধর্ম বা সম্প্রদায় আলাদা হলেও প্রবর্তক বা গুরু হিন্দুস্থানেই জন্মেছেন।
    অতএব, এঁদের পিতৃভূমি ও পূণ্যভূমি এক এবং অভিন্ন।

    এইজন্যেই হিন্দুস্থানে বংশানুক্রমে বসবাস করেও যে যাঁরা ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান এবং ক্রীশ্চান হয়েছেন তাঁরা হিন্দু নন। যদিও তাঁদের পিতৃভূমি হিন্দুদের সঙ্গে অভিন্ন, রক্তধারার ক্ষেত্রেও তাই। আচার আচরণ ঐতিহ্যও অনেকটা হিন্দুদের সঙ্গে মেলে, তাদের দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁদের পূণ্যভূমি হিন্দুস্থানে নয়, আরব মরু ও প্যালেস্তাইনে।

    সুতরাং কোন বিদেশী এবং অন্য ধর্মের লোক যদি হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন? তাহলেও হবে না। তিনি ধার্মিক হিন্দু হতে পারেন, কিন্তু তাঁর মধ্যে হিন্দুত্ব নেই। কারণ, তাঁর পিতৃভূ এবং পূণ্যভূ আলাদা, রক্তধারা আলাদা।
    মেয়েদের ক্ষেত্রে? যদি কোন বিদেশি নারী হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন এবং হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করেন, তাহলে তিনি হিন্দু। কারণ, বিয়ের পর তাঁর স্বামীর দেশ, সমাজ সব তাঁরই হয়ে যায়।

    স্পষ্টতঃ সাভারকর নারীর স্বতন্ত্র সত্তায় বিশ্বাসী নন। পতিনিষ্ঠা এবং পতির জন্যে ত্যাগ ও সতীত্বই তাঁর মতে হিন্দু নারীর আদর্শ, এ নিয়ে স্বতন্ত্র আলোচনা হতে পারে।

    ওপরের নিয়মে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হলেন সিস্টার নিবেদিতা। তাঁর পিতৃভূমি ও পূণ্যভূমি আলাদা, রক্তধারাও। এবং তিনি কোন হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করেন নি।
    কিন্তু তিনি হিন্দু আদর্শ ও সংস্কৃতিকে এমন নিবিড় ভাবে গ্রহণ করেছেন যে সব technicality অবান্তর এবং অনাবশ্যক হয়ে গেছে।
    ‘for she had adopted our culture and come to adore our land as her Holyland’. She felt she was a Hindu and that is, apart from all technicalities the real and most important test’.[1]
    তবে সাভারকর মনে করেন এরকম একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ সেই বহুপ্রচলিত ইংরেজি প্রবাদ অনুযায়ী মূল নিয়মের যথার্থতাই প্রমাণিত করে।

    আবার উনি বলছেন যে বৈদিক যুগেও এমন লোকজন বা জনগোষ্ঠী ছিল যারা বৈদিক ধর্মের অনুগামী ছিল না, যেমন ঋগবেদে বর্ণিত ‘পণি, দাস ও ব্রাত্য’ (The Panees, the Dasas, the Vratyas).[2]
    যদিও এরা সাভারকরের মতে ‘racially and nationally they were conscious of being a people by themselves’.
    দেখাই যাচ্ছে, যে এখানে বৈদিক পণি, দাস ও ব্রাত্যদের জন্য তিনটের মধ্যে দুটো শর্ত সিদ্ধ হচ্ছে, তৃতীয়টি নয়। কাজেই এরা নিঃসন্দেহে, সাভারকরের মতে, হিন্দু নয়।
    তাই বোধহয়, হিন্দুত্ব বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৪২) থেকে সামনের মলাটের ভেতরে ঋগবেদের শ্লোক ৮-২৪-২৭ মুদ্রিত হয়ে চলেছে যার অর্থঃ
    “আমাদের সপ্তসিন্ধুকে সম্পদশালী কে করেছে? তুমিই হে প্রভু। এখন আমাদের শত্রু দাসেদের ধ্বংস করতে তোমার বজ্র হানো”!

    উল্লেখযোগ্য যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রয়াত প্রাণপুরুষ গুরুজী গোলওয়ালকর তাঁর We or Our Nationhood Defined (1939) এবং Bunch of Thoughts (1966) বইয়ে একই চিন্তার প্রতিধ্বনি করেছেন। একই যুক্তিতে হিন্দুজাতির এবং রাষ্ট্রের তিন আভ্যন্তরীণ বিপদ বা শত্রুকে চিহ্নিত করেছেন—মুসলিম, ক্রীশ্চান এবং কমিউনিস্ট[3]। এই তিন গোষ্ঠীর পিতৃভূমি ভারত হলেও পূণ্যভূমি আলাদা যে!

    তত্ত্বকথা এবং ইতিহাসচর্চার শেষে উনি বলছেন যে হিন্দুস্থানে বাস না করেও বিদেশে থেকে বা বিদেশি বাবা-মার সন্তান হয়েও যদি কেউ হিন্দুস্থানকে পিতৃভূ এবং পূণ্যভূ মনে করে আমাদের দেশকে ভালবাসে তাহলে সে অবশ্যই হিন্দু।
    দেখাই যাচ্ছে, সাভারকর পিতৃভূ এবং রক্তের বন্ধনকে তাঁর তত্ত্বের দুর্বল অংশ বলে বুঝেছিলেন। এবার উনি বললেন যে হিন্দুর জন্যে পিতৃভূ কোন ভৌগলিক সীমা বা নির্ণায়ক বাধা নয়। ডাক দিলেন-- হিন্দুস্থানের এবং হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি ভালবাসা নিয়ে তারা ছড়িয়ে পড়ুক উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু, গড়ে তুলুক হিন্দু উপনিবেশ; সমগ্র বিশ্বই তাদের ভৌগলিক সীমা।[4]
    তবে হিন্দুত্ব (১৯২৩) বইটির কোথাও বৃটিশ উপনিবেশ বা ইংরেজদের ভারত অধিকার নিয়ে একটি পংক্তিও নেই। যদিও বইটি নিজের নামে নয়, লেখা হয়েছে ‘A Maratha’ নামে এবং গোপনে ছাপা হয়েছিল।


    [1] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, p. 126

    [2] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, p. 107

    [3] Golwalkar M S Bunch of Thoughts, Part Two, Chapter XII “Internal Threats”, pp 166—194. Vikrama Prakashan, Bangalore -18. 1966.

    [4] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, p. 117, 136. বইটির শেষ পংক্তি।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত