@qwerty | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১৭
আপনার বক্তব্যের কন্টেক্সটে আসছি। দেখতে পাবেন, ওনার হিন্দু মিলিটারাইজেশন একটি ঐতিহাসিক কালখণ্ডে তাঁর মূল তত্ত্বের করোলারি মাত্র, আলাদা উপপাদ্য নয়।
সাভারকর-মানস নিয়ে গবেষণায় সবচেয়ে আধুনিক রচনা ডঃ জানকী বাখলের ‘সাভারকর অ্যান্ড দ্য মেকিং অফ হিন্দুত্ব’।
এই বইটি মারাঠি সাহিত্য, ব্রিটিশ পুলিশের কিছু দুর্লভ রিপোর্ট এবং সাভারকরের নিজের মারাঠি ভাষায় লেখা হাজারো প্রবন্ধ, নাটক এবং কবিতার অধ্যয়নের সম্মিলিত ফসল। এতে সাভারকরের বাল্যকাল থেকে লন্ডন প্রবাস, আন্দামান পর্ব, ভারতে ফিরে সক্রিয় রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে রত্নাগিরিতে বসে হিন্দুত্ব নিয়ে লাগাতার লেখার পর্ব, অর্থাৎ ১৯৩৭ সাল পর্য্যন্ত ধরা রয়েছে।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ অব্দি মারাঠি বুদ্ধিজীবী সমাজ দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। একদল ইংরেজের থেকে স্বাধীনতা পাবার আগে সমাজ সংস্কারের পক্ষে, অন্যদল সংস্কার পরে হবে আগে স্বাধীনতা। লোকমান্য তিলক দ্বিতীয় দলের।
ডঃ বাখলে দেখিয়েছেন যে সাভারকর -মানস এই দুই চিন্তাধারার সংশ্লেষণ (synthesis)। একদিকে তিনি মনুবাদী চিন্তা এবং পুরোহিততন্ত্রের তীব্র বিরোধী। তিনি ভাবেন- জাতিভেদ হিন্দু এবং খাদ্য নিয়ে বাছবিচার হিন্দু সমাজকে এগোতে দিচ্ছে না; এবং তিনি তাঁর গুরু তিলকের মত ইংরেজের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে সশস্ত্র সংগ্রামের পক্ষধর।
আবার তাঁর রয়েছে পেশোয়ারাজের প্রতি মুগ্ধ আকর্ষণ। সুতরাং মুঘল সংস্কৃতি তাঁর চোখে বিদেশি এবং অভারতীয়। তাঁর ‘হিন্দু পদপাদশাহী’ গ্রন্থটি শেষ স্বাধীন হিন্দু শাসনের প্রতি বন্দনা এবং নিবেদন। বাখলে এখানে খুঁজে পেয়েছেন সাভারকরের তীব্র মুসলিম বিদ্বেষের শেকড়।
এইখানে তিনি আরেক মারাঠি তিলকের থেকেও আলাদা। তিলক উগ্র -হিন্দুত্ব বিহীন হিন্দুধর্মের পক্ষধর। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যে বিশ্বাসী। ডিসেম্বর ১৯১৬ সালে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের মধ্যে যে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদিত হয় তাঁর রূপকার হলেন দু’জন—বাল গঙ্গাধর তিলক এবং মহম্মদ আলি জিন্না।
রোমান্টিক সাভারকর নিজেকে অধিনায়ক ভাবতে অভ্যস্ত। তাঁর চিন্তায় যুদ্ধে কম্যান্ডার থাকে সবার পেছনে। সে পরিকল্পনা করে, নির্দেশ দেয়, সৈনিকদের লড়তে এবং আত্মত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু তাঁকে শেষ অবধি বেঁচে থাকতে হবে—যে কোন মূল্যে, ধরা পড়লে চলবে না।
এটা যৌবনে লেখা দুটো বইয়েই পরিস্ফুট।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘ দ্য লাইফ অফ ব্যারিস্টার সাভারকর’, লেখক জনৈক চিত্রগুপ্ত।
বইটির প্রথম প্রকাশক মাদ্রাজের কে জি পাল অ্যান্ড কোম্পানি। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত।
বইটি কোন সিরিয়াস ইতিহাস চর্চা নয়, বরং অতি- নাটকীয় ঢঙে সাভারকরের ছেলেবেলা থেকে লণ্ডন প্রবাস এবং বোম্বাইয়ের আদালতে ৩০ জানুয়ারি ১৯১১, অর্থাৎ দ্বিতীয় মামলাটির রায় পর্য্যন্ত সময়ের বর্ণনা।
লেখার স্টাইল জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যের, আজকালকার ‘ অমর চিত্রকথা’র মতন।
তাতে সাভারকর ছোটবেলা থেকেই হিন্দু নায়ক।
তাঁর তখন বালক বয়েস। বোম্বাই অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা বেঁধে যায়।
সাভারকর তাঁর গ্রাম ভাগুরে ছোটদের একটি দল গঠন করে বোম্বাইয়ে হিন্দুদের উপর মুসলমানদের কথিত আক্রমণের প্রতিবাদে নিজের গাঁয়ে একটি পরিত্যক্ত মসজিদে রাত্তির বেলায় গিয়ে ঢিল ছুঁড়ে কাঁচ ভেঙে নিজেদের সার্থক মনে করেন।
সেই বালকের দল যুদ্ধ যুদ্ধ খেলত। একদিকে হিন্দু, অন্যদিকের নাম কখনও মুসলিম, কখনও ক্রিশ্চান। সাভারকর সবসময় হিন্দুবাহিনীর সেনাপতি হতেন, এবং বলা বাহুল্য হিন্দুরা সর্বদা বিজয়ী হত।
এতে আরও আছে যে রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যস্ত সাভারকর কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিতেন, কারণ ওই এডুকেশন সিস্টেম হাতপায়ের বেড়ির মত। কিন্তু সাভারকর প্রত্যেক পরীক্ষায় সফল হতেন।
বাস্তবে, বিলেতি কাপড় পোড়ানোর আন্দোলনে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে ফার্গুসন কলেজ হোস্টেল থেকে কয়েক দিনের জন্যে সাসপেন্ড করে। কিন্তু ঐ বইয়ের হিসেবে তাঁকে বরাবরের মত কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বিনায়ক কিন্তু লণ্ডনে ব্যারিস্টা্রি পড়তে যাচ্ছেন। বইটিতে লেখা হল আসল উদ্দেশ্য ব্যারিস্টার হওয়া নয়, বরং ওখানকার ভবিষ্যতের ব্যারিস্টারদের দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করা!
পি সাইনাথ এবং আরও অনেকের চোখে বইটি অতিশয়োক্তি এবং বাগাড়ম্বরে ভরা মনে হয়। একটা উদাহরণঃ
১৯০৭ সালে ২২শে অগাস্ট তারিখে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হল ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কংগ্রেস যাতে জার্মানির কমিউনিস্ট নেতা রোজা লুক্সেমবার্গ এবং কার্ল লিবনেখট উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ভারতের ডেলিগেট হিসেবে হাজির হয়ে ইন্ডিয়া হাউসের অন্যতম সংস্থাপক ভিকাজী কামা ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দিলেন, সঙ্গে ছিলেন বীরেন্দ্রনাথ চট্টো।
[1] তখন প্যারিসে বাস করছেন মাদাম কামা, হেমচন্দ্র দাস। বীরেন্দ্রনাথ ‘চট্টো’ লণ্ডনের ইন্ডিয়া হাউস থেকে মাদাম কামার সহযোগী এবং সাভারকরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওঁর প্রয়াসে বার্লিন কমিটির আমন্ত্রণে মাদাম কামা সেখানে গিয়েছিলেন।।
পতাকাটি বার্লিন কমিটির এবং এর ডিজাইন করেছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো। ইনি মেদিনীপুরে ড্রইং শিক্ষক ছিলেন এবং অনুশীলন দলের প্রভাবে ঘরবাড়ি বেচে প্যারিসে গিয়েছিলেন বোমা বানানো শিখতে।
পরে হেমচন্দ্র দাস কানুনগোকে মানিকতলা বোমার মামলায় বারীন ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, উল্লাসকরদের সঙ্গে আন্দামানে পাঠানো হয়।
চিত্রগুপ্তের লেখা ব্যারিস্টার সাভারকরের জীবনীতে বলা হয়েছে যে পতাকাটি ওনার অভিনব ভারত সংগঠনের!
এছাড়া তখন তুরস্ক, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, আমেরিকায় লালা হরদয়ালের গদর পার্টির আন্দোলন—সবই নাকি আসলে সাভারকরের প্রেরণায় এবং ‘অভিনব ভারতের’ শাখার কাজ।
অথচ সাভারকর লন্ডনে ছাত্র হিসেবে এসেছিলেন ১৯০৬ সালে, অর্থাৎ স্টুটগার্ট সম্মেলনের একবছর আগে।
বইটির পিডিএফ savarkor.org থেকে এবং ইন্টারনেট লাইব্রেরি থেকে ডাউনলোড করা যায়।
১৯৮৬ সালে এর নতুন সংস্করণ ‘বীর সাভারকর’ নামে বের হয়। তার ভূমিকায় প্রকাশক ডক্টর রবীন্দ্র বামন রামদাস খোলসা করেন যে জীবনী লেখক চিত্রগুপ্ত আর কেউ নয়, বিনায়ক সাভারকর নিজে।
এর আগেও ‘হিন্দুত্ব’ বইটি সাভারকর নিজের নামে না লিখে ‘A Maratha’(জনৈক মারাঠা) নামে লিখেছিলেন।
পরের বই ‘হিন্দু পদপাদশাহী’তেও সাভারকরের ইতিহাস চর্চায় মারাঠা সাম্রাজ্যের পেশোয়ারাজ নিয়ে আবেগের প্রকাশ বেশি।
মুঘল ইতিহাস চর্চার পথিকৃৎ আচার্য যদুনাথ সরকারের মতে—এই বইটি কথিত রোম্যান্টিক ইতিহাস লেখার নবীনতম উদাহরণ।
ওনার কড়া সমালোচনা যে বইটিতে তথ্যের উৎস বলা হয় নি[2]।
ওই ‘অধিনায়ক চিন্তা’ তাঁর মানসে এমন দৃঢ় ভাবে শেকড় গেড়েছে যে তিনি যখন ১৪ নভেম্বর ১৯১৩ তারিখে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার তৃতীয় চিঠিটি লেখেন এবং জেলের মধ্যে হোম সেক্রেটারি ক্র্যাডকের সঙ্গে দেখা করেন তখনও তাঁর ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিবেদন যে তাঁকে ছেড়ে দিলে অনেক ‘বিপথগামী’ ছেলে (যাঁরা তখনও সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী) সংবিধান-মানা নিয়মতান্ত্রিকতার পথে ফিরে আসবে
[3]।
সাভারকরের চিন্তায় পাশ্চাত্ত্য প্রভাব এক,
ভারতীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যে দেশকে মাতা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। সেজন্যেই কল্পনায় আসে ভারতমাতা। বঙ্কিমচন্দ্র, মুকুন্দদাস, দ্বিজেন্দ্রলাল, রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের গানে, অবনীন্দ্রনাথের ছবিতে—সবার কল্পনায় আঁকা রয়েছে দেশমাতৃকা।
আমাদের পরম্পরায় দেশ কখনই পিতা নয়। তাই বলা হয় –মাতৃভূমি।
কিন্তু সাভারকর মানসে দেশ হল পিতৃভূমি-ফাদারল্যাণ্ড। অতএব, পিতৃভূমি, পুণ্যভূমি এবং রক্তের বন্ধন—এই হল হিন্দুত্বের এবং হিন্দুরাষ্ট্রের নাগরিকের পরিচয়।
এই পিতৃভূমির ধারণাটি খাঁটি ইউরোপীয়—সে স্তালিনই হোন, কি হিটলার, সবাই আহ্বান করেন ফাদারল্যান্ডের নামে।
দুই,
সাভারকর ইংল্যান্ডে গিয়ে ইতালিয় বিপ্লবী মাজ্জিনির আত্মজীবনী অনুবাদ করেন, প্রথমে মারাঠিতে, পরে ইংরেজিতে। তাঁর আরাধ্য ছিলেন ইতালিয়ান বিপ্লবী মাজ্জিনি-- ভারতের শিবাজী, শ্রীকৃষ্ণ নয়। মাজ্জিনিও ইতালির অভ্যূত্থান ব্যর্থ হওয়ায় লণ্ডনে এসে বিপ্লবের পরিকল্পনা করেছিলেন।
তেমনই ভারতে ১৮৫৮ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও সাভারকর ১৯০৯ পর্য্যন্ত স্বপ্ন দেখতেন ইংরেজমুক্ত ভারতের জন্য আরেকটি মাজ্জিনির নিও ইতালি স্টাইলে অভ্যুত্থানের।
হিংসা এবং রক্তপাতে সাভারকরের বিন্দুমাত্র অনীহা ছিল না। তাঁর লেখায় বিদ্রোহ,রক্তপাত এবং প্রতিশোধ শব্দগুলো ঘুরে ফিরে আসে।
“Revolt, bloodshed and revenge have often been instruments created by nature to root out injustice and introduce and era of justice”
[4]তবে ইংল্যান্ডে ছাত্রাবস্থায় সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭) নিয়ে লেখা বইটিতে ‘হিন্দুত্ব’ নিয়ে একটি শব্দও নেই। বরং হিন্দু-মুসলমান ঐক্য নিয়ে আবেদন রয়েছে। তাতে পিতৃভূমির বদলে ছিল
ভারতমাতা, এবং হিন্দু ও মুসলমান একই মায়ের সন্তান, অতএব ভাই[5]।
This is a Jehad for independence!
[6] ‘Spears of Marhattas and Crescents of Islamites’
[7] Hindu Muslim were thirsting for the blood of the Englishmen.
[8] The mob dragged Mrs. Chambers from the bungalow and killed her with knives.
[9]তাই হিন্দু-মুসলমানের রক্ত ঝরবে না। বরং ইংরেজের রক্তে ভারতভূমি সিক্ত হবে।
এটা তাঁর আন্দামান বাসের আগের চিন্তা (ধরা যাক ১৯১১ পর্য্যন্ত) ছিল।
আন্দামান থেকে ফিরে তাঁর বক্তব্য বদলে যায়। যদিও তিনি তাঁর আন্দামানের স্মৃতিকথায় লিখেছেন—তামিল, মারাঠি এবং বাঙালি মুসলমানেরা নিষ্ঠুর অথবা হিন্দুবিদ্বেষী ছিল না। কিন্তু পাঠান, বালুচ এবং পাঞ্জাবীরা ক্রুর ব্যবহার করত এবং হিন্দুদের ‘কাফের’ বলে ঘৃণা করত
[10]।
সাভারকর নিজেকে ভারতের মাজ্জিনি ভাবতেন। কিন্তু লন্ডনে কার্জন-উইলি এবং নাসিকে ম্যাজিস্ট্রেট জ্যাকসন হত্যার ও কুড়িটি পিস্তল ভারতে পৌঁছে দেয়ার পর আন্দামানে দশ বছর সাজা ভোগার পর তাঁর সশস্ত্র বিপ্লবের সক্রিয় কার্যসূচী শেষ হয়ে যায়। কিন্তু স্বপ্ন মরে না।
উনি বড়ভাই গণেশ সাভারকরকে (বাবারাও) একটি চিঠিতে বলেছিলেন—দেখে নিও, ভবিষ্যতে ইতিহাসের একটি অধ্যায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে-- ‘সাভারকর যুগ’।
[11]তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে নেতাজি সুভাষ নিখোঁজ হলে অনায়াসে অনুগত জীবনীলেখক
ধনঞ্জয় কীরকে দিয়ে উনি লিখিয়ে নেন—উনি ভারতের মাজ্জিনি এবং সুভাষচন্দ্র তাঁর শিষ্য গ্যারিবলদি।
এটা যে কত বড় ছলনা সেটা আমরা আগে দেখেছি। এই বইয়ের ৭.৫ অধ্যায় দেখুন।
তিন,
ইতিহাসবিদ ডক্টর বিনায়ক চতুর্বেদী তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘ হিন্দুত্ব অ্যান্ড ভায়োলেন্সঃ ভি ডি সাভারকর অ্যান্ড পলিটিকস্ অফ হিস্টরি’তে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে সাভারকরের জন্য হিন্দুত্ব ছিল একটা শব্দমাত্র নয়, বরং ভারতের ইতিহাস, এবং রক্ত ও ইতিহাসের ধারা।
তাঁর চোখে হিন্দুত্ব ছিল যুগ যুগ ধরে পৌরুষের প্রকাশ। তাঁর চিন্তায় রক্তধারা এবং রক্তপাতের উপমা উদাহরণ বারে বারে ফিরে আসে।
সেই কারণে ওঁর চোখে বৌদ্ধধর্ম এবং অহিংসা আত্মঘাতী। প্রথম বই হিন্দুত্ব, তারপর হিন্দু পদপাদশাহী এবং শেষ বই Six Glorious Epochs of Indian History (ভারত ইতিহাসের ছয় গৌরবময় যুগ) জুড়ে শুধু বীর এবং বিজয়ী হিন্দুরাজাদের চারণগাথা।
এগুলো অবশ্যই প্রথাগত ইতিহাস চর্চা নয়, বরং আবেগসিক্ত কাহিনী। তাই সমস্ত মনুষ্য জাতির রক্ত মিশ্রিত এবং ‘পিওর ব্লাড’ বলে কিছু হয় না বলে যুক্তি দিলেও তিনি হিন্দুদের রক্ত তুলনামূলক ভাবে বেশি ‘বিশুদ্ধ’ গোছের আজগুবি দাবি করে বসেন, এবং ‘রক্তের বন্ধনকে’ হিন্দু তথা ভারতীয় হওয়ার অন্যতম শর্ত মনে করেন।
চার,
বাস্তবে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ সাভারকরের মননে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
তাঁর ইতিহাস চর্চায় হিন্দুরা ভারতে ‘বহিরাগত’, মধ্য এশিয়া থেকে বেরিয়ে পরা আর্য্যদের একটি শাখা। তিনি ঋগবেদ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে হিন্দুরা ভারতের আদি অধিবাসী পণি ও দাসদের বলপূর্বক ধ্বংস করেছিল এবং তাদের এলাকা দখল করেছিল।
তিনি এরজন্য গর্বিত এবং আশা করেন যে এইভাবে একদিন হিন্দুরা পুনঃ ভারতের ভৌগলিক ক্ষেত্রে থেকে বেরিয়ে পড়বে এবং সমগ্র বিশ্বে তাদের প্রভূত্ব এবং উপনিবেশ স্থাপন করবে। (হিন্দুত্ব বইটি দ্রষ্টব্য)।
সেজন্যেই হিটলারের চেকোশ্লোভাকিয়া এবং পোল্যান্ড আক্রমণ নেহরুর কাছে নিন্দাজনক হলেও সাভারকরের মতে প্রশংসনীয়। উনি খোলাখুলি বলেন— অবিলম্বে হিন্দুদের শিল্পের বিকাশ এবং সামরিকীকরণ[12] আমাদের লক্ষ্য।[1] এই স্বাধীনতা সংগ্রামী মহিলার নামে দিল্লির সরোজিনী নগর স্টেশনের কাছে মাদাম ভিকাজী কামা প্লেস রাস্তা এবং একটি মেট্রো স্টেশন রয়েছে। [2] মডার্ন রিভিউ পত্রিকার এপ্রিল-মে ১৯২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত আচার্য যদুনাথ সরকারের প্রবন্ধ, এবং ফাড়কে ‘ শোধ সাভারকরাঞ্চা’ পৃঃ ১০০-১০১। [3] ডঃ আর সি মজুমদার, ‘পেনাল সেটলমেন্টস অফ আন্দামান অ্যান্ড নিকোবর’, ১৯৭৫, ভারত সরকার, পৃঃ ২০৫ [4] Savarkar, “The First War of Independence, 1857. PP- 217-19.[5] Ibid, pp- 72.[6] Ibid, pp. -81.[7] Ibid, pp. 88. [8] Ibid, 100. [9] Ibid, 101. [10] সাভারকর ‘মাঝি জন্মাথেপ’(মারাঠি), পৃঃ ৭০-৭২; এবং পুরন্দরে ‘সাভারকর’, পৃঃ১৯০। [11] সাভারকর সমগ্র (হিন্দি), খণ্ড ২, পৃঃ ৫৭২, সম্পাদনা প্রফেসর নিশিকান্ত মিরাজকর এবং অন্য; প্রভাত প্রকাশন, দিল্লি; ২০২০[12] সাভারকর, ‘হিন্দু রাষ্ট্র দর্শন’, পৃঃ ১১৩