- রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৩
- ... আরো কঠিন ফতোয়া চাপালে ভালো হয়। একদম পিঠ ঠেকে গেলে তবে যদি বাঙালি একটু রেগে ওঠে।
দুর, ও কিছু হবে না। প্রচুর লোক প্রতি বছর পুজো যে কেবল টাকাকড়ি হুজুগ প্রদর্শন ও 'ক্লাবের ছেলে'দের (এই ক্লাবের ছেলে ইত্যাদি গোষ্ঠীটা অবশ্য কয়েক দশক হল কম) মদ খাওয়ার ছুতো - এই নিয়ে অনুযোগ করেন। এসব কথা যে সর্বৈব মিথ্যে তাও না। এবার তার বদলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ফতোয়া - এইটা হল তৃণমূল পাল্টে বিজেপি নিয়ে আসার মত। তা সে তো পব করেই ফেলেছে।
আমাদের অবস্থাটাই বাঘে কুমিরে টানাটানির মধ্যে পড়ার মত হয়েছে। কলকাতা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পুজোর সময় যা পরিস্থিতি হয় তা খুবই, কী বলবো, অসুবিধাজনক বললে কম বলা হয়। এবার সে জিনিসের নিরসন বিজেপি আরেসেস ভিএইচপির সাম্প্রদয়িক এজেন্ডা পুরণে হোক- এ আরও ভয়ানক সম্ভাবনা।
ওদিকে পুজোর যে হুজুগে ভিড়, তার বড় অংশ অত কূটতর্ক নিয়ে মাথা ঘামায় না।
পুজোর সঙ্গে জড়িত যে বিপুল বাণিজ্য- তা মার খাবে, তার ফলে যদি কিছু হয়। তবে তাও হবে বলে মনে হয় না, কারন মারটা যারা খেতে পারে তারা সব ছোট ছোট অসংগঠিত ব্যাপার স্যাপার। তিমিঙ্গিলরা তো বহাল তবিয়তেই থাকবে।
পুজো যারা করে সেসব ক্লাবগুলি- সিপিয়েমের আমলে বাম ক্লাব হত। তৃণমূলের যেহেতু আলাদা করে, বা আদৌ, নীতিগত অবস্থান টাইপের কিছু ছিল না, তাই ক্লাবগুলিও বর্তমান সরকারপক্ষেই যাবে।
ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, তবে সংখ্যার বিচারে খুব কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না।
আরেকটা জিনিস কী বলো তো, প্রতি বছর বইমেলার সময় শয়ে শয়ে লোক এত বই কেন এত কবি কেন এত বাঙালী কেন শখের লেখকরা পয়সা দিয়ে বই ছাপে কেন, বইমেলায় ফিশ ফ্ৰাই কেন - এই নিয়ে অনুযোগ করেন; পুজোর সময় এত ভিড় কেন, প্যান্ডেলে 'মা' কই, এত ফুর্তি কেন এত এগরোল কেন -এই নিয়ে সার্কাজম করেন।
এবার মাছ ছিপ কোলাব্যাং চিল - সবই যখন বিজেপি নিয়ে নিল, তখন আহা ঐ আমাদের ঐহ্য ছিল- এ কথা বললেই বা লোকে শুনবে কেন।
ঐ একই কথা আইকনদের নিয়েও। রামমোহন বঙ্কিম বিদ্যেসাগর - সবাই হয় হিন্দুত্ববাদী নয় বৃটিশ স্তাবক ইত্যাদি ইত্যাদি। তো বিজেপি এসে যদি, আচ্ছা তাহলে তো উহারা আমাদেরই লোক, দিই গান বদলে বলে, তখন হাতে পেন্সিল নিয়ে বসে থাকতে হয়। আগের দিন যে কথা হচ্ছিল, কী হয়েছিল বড়, কী হলে কী হত তা না- তো গোলমালটা ঐখানে হয়। কী হয়েছিল তা দিয়ে আলোচনা করতে গেলে কেন হয়েছিল, তার পেছনে কী কী কারন থাকলেও থাকতে পারে, ঐ ঐ না হলে আর কী কী সম্ভাবনা ছিল- সেসব বিচার না করলে হাতির ল্যাজটা ধরা পড়ে।
শুধু বাঙালি বা ভারতীয় না, সব জাতিরই একটা চিন্তানায়ক লাগে, স্বীকার করতে ইচ্ছে না করলেও ওটা আসলে লাগে। ক্ষোভ রাগ দুঃখ থাকে কিন্তু সেটাকে ঠিক পথে ঘোরাতে না পারলে এই সব কুনাট্য হয়। সে ফরাসি বিপ্লবই বলো আমেরিকার গৃহযুদ্ধ বা সিভিল রাইটস আন্দোলনই বলো, আপামর পাঁচপেঁচি ছাপোষা জনগণ মারকাট করেছে বটে কিন্তু চিন্তা ভাবনার নেতৃত্ব তো ছিল। তো এই যুগে একটা ভয়াবহ অ্যান্টি ইন্টেলেক্চুয়াল হাওয়া হয়েছে- তা সে জিনিসও চাপ।
এই জেনজি ককরোচ - এরাই ভরসা। দেখা যাক কী হয়, আকবা।