আমার চেয়ে কয়েক বছরের জুনিয়র একটি ছেলে। মোটামুটি দরিদ্রই বলা চলে। বাবা ইলেকট্রিকের মিস্ত্রির চাকরি করেন, মা গৃহবধূ।থার্ড ইয়ারে পড়ার সময়ে বাবার চাকরি চলে গেল। কিছু কমপেনসেশন পেলেন তিনি। একটা বাড়ি তৈরি করছিলেন, সেটা ইনকম্পলিট রইল। অটো কিনলেন। অটো একদিন পুরো চুরি হয়ে গেল। হাত খালি।
পুত্র তখন ফোর্থ ইয়ারে উঠেছে। জমিয়ে প্রেম করছে এক রাশিয়ান মেয়ের সঙ্গে। আরও প্রায় দুবছর বাকি ডিগ্রি পেতে।
ওর সমস্ত ক্যালকুলেশন যা ছিল ভবিষ্যতের জন্য, সব এক মুহূর্তে ছারখার।
চাকরি খুঁজছিল। প্রেমিকা খুব সাপোর্ট করত ওর লড়াই। ক্লাসে যেত না। পড়াশুনো প্রায় ডিসকন্টিনিউড।
ওদিকে বাড়ি থেকে নিয়মিত চিঠি আসছে মা বাবার খুঁকখুঁকে কান্না, খোকা ফিরে আয়।
একটা ছোট কাজ পেয়েছিল, প্র্যাক্টিকালি পিএ টাইপের কাজ। কিন্তু ও ওর বসের সঙ্গে ছায়ার মতো ঘুরত। সেলসের কাজ শিখে ফেলল। কোনও ক্রমে টায়েটুয়ে ফিফথ ইয়ার। এটা ফাইনাল ইয়ার প্রায় গোটা বছরই প্রোজেক্ট যেটা ডিফেন্ড করতে হয়, প্লান্টে গিয়ে থাকতে হয়, অনেক দূরে।
ও ডিপ্লোম ডিফেন্ড করতে পারে নি। মাটি কামড়ে কাজটা শিখেছিল, সঙ্গে নেটওয়ার্কিং।
ফিফথ ইয়ারের মাঝামাঝি এসে বলল অন্য রিপাবলিকে চলে যাচ্ছে — তেমির তাউ।
আর্সেনাল মিত্তাল।
ওর ডিগ্রি পাওয়া হলো না।
গার্লফ্রেন্ডকে বৌ বানানোর আগে কোলকাতায় গিয়ে বাবার জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করেছিল, মাসে মাসে বাবা চারশো টাকা সুদ তুলতে পারবে শুধু। ১৯৯৫।
তেমির তাউয়ে বেতন মোটামুটি। দুজন মেয়ে জন্মালো সেখানেই। ও থেমে থাকে নি। ওর দুজন রাশিয়ান কোলিগ ছিলো। তাদের সঙ্গে বসে মাল খেতে খেতে আক্ষেপ — কী গাঁড় মারাচ্ছি এখানে? বিজনেস বুঝে গেছি, কিছু ক্লায়েন্ট কনট্যাক্ট ও আছে। আমরা নিজেরাই স্টিলের ব্যবসা করব।
কটা মাস তিনজনে পাগলের মতো খাটল। ব্যাংক লোন থেকে শুরু করে সব তৈরি হলো। আজ ছেলেটা কাজাখস্তানের একজন নামকরা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট। হাজার দেড়েক লোক খাটছে। রাশিয়াতেও ব্রাঞ্চ আছে। চিনের সঙ্গে ব্যবসা করছে। মেশিন আসে ইয়োরোপ থেকে, কিছু মেশিন লোকাল।
মাঝে ২০১৫ নাগাদ বিশাল লস হয়েছিল, প্রায় ডুবেই যাচ্ছিলো। ফের উঠে দাঁড়িয়ে এখন বিশাল ব্যবসা। আমি দেখে এসেছি। অনেক কম্প্রোমাইজ করতে হয়, ঘুষও দিতে হয়, সব বলল। ওর ব্যবসা তেমির তাউয়ে নয়, আলমাতিতে।