একটা জিনিস খুব অদ্ভুত লাগে, এতকিছুর মধ্যেও এই শিক্ষিত সোমি বাঙালীদের অনেকের মধ্যে দেখি সব কিছুকে জাস্টিফাই করার বা নিজেই সবচেয়ে ঠিক প্রমাণ করার একটা আপ্রাণ চেষ্টা। এবং সেই চক্করে তারা এখন এসে লিখছে তারা ইসলামোফোবিয়া থেকে এদের সমর্থন করে এটা নাকি সম্পূর্ণ ভুল, বাম আর সেকুলার দের মিথ্যে প্রচার। আসলে তারা উন্নয়ন ও বিগত সরকারের অপশাসনের বিরূদ্ধে ভোট দিয়ে সরকার পাল্টেছে। প্রথম কথা এটা সত্যি যে খালি এই টাইপস জনতার ভোটে সরকার উল্টোয় নি। সমস্ত ফ্যাক্টর গুলি এক হয়ে উল্টেছে। তার মধ্যে "SIR" আছে, দুই ফেজ ভোট আছে, সেন্ট্রাল ফোর্স আছে, অ্যান্টি ইনকাম্বেনসি আছে।
কিন্ত কথা হচ্ছে এই সোশ্যাল মিডিয়া ও এত রকমের ইনফর্মেশনের যুগে শিক্ষিত লোকেরা যদি বলে শিক্ষা শিল্প চাকরি এসবের জন্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে তাহলে এদের কী বলতে হয়!
কেন্দ্রে বারোবছরে কী হয়েছে কী হচ্ছে তা কি এদের চোখে পড়েনা? আমি এখন রায়পুরে। ২০১৪ তে যখন দেশ স্বাধীন হল তখন একমাত্র ছত্তিশগড় আর এম পি তে এদের সরকার অর্থাৎ ডাবল এঞ্জিন।
রায়পুরের আশেপাশের কৃষিজমি সব নামমাত্র দামে নিয়ে নয়া রায়পুর গড়া হচ্ছে তখন, দিল্লির বিকল্প হবে সে। বড় বড় পাবলিক সেক্টর কে জমি ও নির্দেশ দেওয়া হল কর্পোরেট অফিস শিফট করতে। বেশীরভাগই গড়িমসি করতে লাগল,ইনফ্রা নেই, যোগাযোগ বাজে। দু একটি আংশিক শিফট করল। বলা হল প্রচুর শিল্প হবে, বড় বড প্রাইভেট কম্পানি আসবে। চারদিকের জমি এদের নেতারা কম দামে কিনে চড়া দামে রিয়েল এস্টেট কে বিক্রি করে রাতারাতি কোটি কোটি মুনাফা করল। এখন এত বছর পরে দেখছি বিশাল এলাকা মাইলের পর মাইল খালি। রাজ্যের সরকারী অফিস তুলে এনেছে, প্রচুর পয়সা খরচ করে রাস্তা আলো ইত্যাদি কিন্ত মানুষের বসবাস নেই, ব্যবসা নেই অফিস নেই। যাদের জমি নিয়েছিল তারা এখন কোথায় কে জানে!
একটু চাকরির কথা বলি। একটি মহারত্ন কম্পানি ২০১৪ সালে যাদের এমপ্লয়ি সংখ্যা ছিল ৩৩০০০, সেটি আজকে দাঁড়িয়েছে ১৭০০০। ব্যবসা কি কমেছে? না বরং বেড়েছে। তাহলে রাতারাতি সবাই কি দিগুন এফিশিয়েন্ট হয়ে গেছে? কী জানি ? তবে যা জানি তা হল, অন্যান্য অনেক কেন্দ্রীয় সরকারী এবং আধা সরকারী সংস্থার মত এখানেও এখন নানা স্কিলড জব শর্ট টার্ম বা কন্ট্র্যাক্ট স্টাফ দিয়ে করানো হয়। এটি কিন্ত বরাবরই প্রফিট মেকিং সংস্থা।
এ হচ্ছে ২০১৪ র পরের মাস্টারস্ট্রোক। ইঞ্জিনিয়ারিং করা ছেলেপুলেদের দু বছর বা তিনবছরের কন্ট্র্যাক্টে নেওয়া হয়, কোনো সুবিধে দিতে হয়না, রেগুলার এমপ্লয়ীদের যা প্রাপ্য।
নীচু লেভেলে ডিপ্লোমা ছেলেদেরও একই অবস্থা।
২০১৮ তে আমার কাছে স্কিলড জবের মজদুররা পেত পাঁচ হাজার, টেকনিশিয়ানরা দশ আর সুপারভাইজার রা পনেরো। এখনো টাকাটা খুব বেশী বাড়েনি। এদের অবস্থা কেমন বলে মনে হয়?
আনএমপ্লয়মেন্টের যা সিন তাতে ভালো ভালো কলেজের ছেলেরা যাদের বাড়ি থেকে বিদেশে পাঠাবার সংস্থান নেই তারা তাই করে।
এরা কাজ কম করে চাকরির চেষ্টাতেই থাকে রাতদিন, বাধ্য হয়ে তাই কম্পানিতে কাজের মানও পড়ে যাচ্ছে। তবে তাতে আর কী এসে যায়!
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতেও তাই চলছে। নতুন রিক্রুটমেন্ট বন্ধই প্রায়। অ্যাড হক দিয়ে কাজ চালাতে বলা হয়। এখানে আবার প্রচুর পরিমানে রিটায়ার্ড লোকেদের পাওয়া যায় যারা অনেক অভিজ্ঞ এবং টাকারও বিশেষ চাহিদা নেই,তাই এখানে নতুনদের সেই কাজ পেতেও অসুবিধে।
ভোট দিয়েছেন বেশ করেছেন, আবার দিন বার বার দিন, কিন্ত উন্নয়নের জন্যে, বাংলার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করতে এগুলো বাদ দিন।