হিন্দু বাঙালির শেষ সুযোগ ছিল এটা। একটা ভুল বোতামে চাপ দিলেই ধুলিয়ানের সেই গৃহবধূর চোখের জলে ভাত মেখে খাবার দশা হতো। পশ্চিমবঙ্গের ভোটিং মানচিত্র দেখলেই বোঝা যাবে, এই সত্য দেরীতে হলেও শেষ অব্দি হিন্দুবাঙালি হৃদয়ঙ্গম করেছে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে সেকুলারিজমের নামে যে অপচেষ্টা হয়েছে নোয়াখালির দাঙ্গা, গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, একাত্তরের গণহত্যাকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার, ফাইনালি মানুষ সেটা বুঝেছে। পশ্চিমবঙ্গ কেন তৈরী হয়েছে সেই শিক্ষা দিয়ে গেছে ২০২৫এর ধুলিয়ান। ধন্যবাদ ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াকে, এই এথনিক ক্লিঞ্জিংকে অ্যাকনলেজ করার জন্য। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব মোমেন্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গ খুব বেশী হলে দুই বছর দূরে ছিল।
যারা ভাবছেন এটা অ্যান্টি ইনকাম্বেন্সি ভোট, তারা অর্ধসত্য বুঝছেন। কলকাতাসেন্ট্রিক নাগরিক চেতনার বাবল থেকে বেরিয়ে আসুন, জেলাগুলোর দিকে তাকান, বুঝে যাবেন কার বিরূদ্ধে কারা ভোট দিয়েছে। এরপরেও আপনাকে চাড্ডি বলে লেবেলিং করা হবে, "হিন্দু খতরেঁ মে হ্যায়" বলে টিটকিরি কাটা হবে। কিন্তু লজ্জা পাবেন না, বরং গর্বের সাথে বলুন বিজেপিকে ভোট দিয়েছি। বেশ করেছেন, কারণ আপনার সামনে অন্য অপশান বিশেষ ছিল না। একদল মোয়াজ্জেন ভাতা চালু করে কওমি মাদ্রাসার প্রসার ঘটিয়েছে তো আরেকদল সরাসরি ISF, SDPI জাতীয় উগ্র ইসলামিক শক্তির সাথে হাত মিলিয়েছে। খেয়াল করে দেখবেন ডোমকলের মোস্তাফিজুর পুরো কেন্দ্রে কাদের বিরূদ্ধে লড়ে জিতেছে, সেখান থেকে ডোমকলে নিজের রিপ্রেজেন্টেশানের পার্সেন্টেজ কষে নিন। পরে বামপন্থার জয়, শ্রমিকের জয়টয় বলে নেচে নেবেন।
তৃণমূল আর সিপিএমকে আলাদা করে দেখবেননা, এরা একই পলিটক্স করে, ইসলামতোষণের পলিটিক্স। সংখ্যালঘু শব্দটাকে মাথা থেকে মুছে নিন, ৩৫% ভোটব্যাঙ্ক কোনো লঘু ব্যাপার নয়, যে কোনো মুহূর্তে পলিটিক্সকে আপনার বিরূদ্ধে স্যুইং করার জন্য যথেষ্ট৷ তখন হঠাৎ দেখতে পাবেন, মমতাজবেগম মাথায় হিজাব পরে নামাজ ঠুকছেন। আর সেলিমসায়েব ধুলিয়ানে গিয়ে জঙ্গি ফ্যামিলিকে অ্যাডভোকেট সাপ্লাই করছে চন্দনদাস, হরগোবিন্দদাসেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নিহত দেখানোর জন্য৷ সিপিএমের গ্রাসরুট লেভেলের কর্মীদের জন্য খারাপই লাগে, এরা সৎ, পার্টিলাইনকে ফলো করে এই বাজারেও লড়ে যায়। কিন্তু এদের শীর্ষ নেতৃত্ব যে নৃশংস বিশ্বাসঘাতকতা করছে এদের সাথে তা অবিশ্বাস্য।
পানিহাটিকে অভিনন্দন। এক ধর্ষিতার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতাকে তুলে ধরার জন্য। কলতানের মত একটি অসভ্য ক্যান্ডিডেটের জামানত বাজেয়াপ্ত করানোর জন্য৷ অভয়া আন্দোলনের ওনারশিপ হাইজ্যাক করা রুখে দেওয়ার জন্য। ওই কেন্দ্রে নির্মল ঘোষের পরিবার বাদে যারা তৃণমূলকে (এবং সিপিএমকে) ভোট দিয়েছে, তাদের মাথার ডাক্তার দেখানো দরকার।
শুভেন্দুবাবুকে অভিনন্দন। নন্দীগ্রামের কম্ফোর্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারতেন। তবু ভবানীপুরে মমতাজবেগমের কেল্লায় ঢুকে আপনি যা খেলা দেখালেন, এর জন্য গাটস লাগে৷ মমতা সিপিএমের সাথে যে গাটস দেখিয়েছিল একদা, আজ আপনি সেই রেয়ার পলিটিকাল ফ্লেয়ার দেখালেন। মুখ্যমন্ত্রী হলে মমতার পথে চলে যাবেন না, অনুরোধ রইল। ইংরেজি তুলে, কারখানা তুলে, কম্পিউটার তাড়িয়ে, রাজ্যশিক্ষার পিন্ডি চটকে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাবোন এক করে রাজ্যকে শ্মশান করে দিয়েছে। ফলে আপনার দায়িত্ব অনেক। বাঙালি ট্যালেন্টেড, বাঙালি কর্মঠ। কালও ছিল, আজও আছে। দরকার ডিরেকশানের, আশা রাখলাম।মমতা। আপনার মত ইভিল, কুটিল, নৃশংস পলিটিশিয়ান ভারতে আর একটিও আসেনি। জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে এসেছিলেন। সেই ম্যান্ডেটকে আপনি ইউজড টিস্যুর মত জঞ্জালের গাদায় ফেলে দিয়েছেন। উন্নয়নের বদলে ভিক্ষার পাত্র ধরিয়েছেন রাজ্যের হাতে। দুটো জেনারেশানের চাকরি চুরি করে নিয়েছেন, কুকুরের মত রাস্তায় ফেলে মেরেছেন। শত শত চোর নিয়ে ক্যাবিনেট বানিয়েছেন। একটা ক্রাইম সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন যা সরাতে শেষে সেনা নামাতে হলো। কলাম্বিয়া, মেক্সিকোয় এসব হয়৷ আপনি কালীঘাটের নর্দমার পোকা ছিলেন, সেখানেই পোকার মত মরবেন। এ রাজ্যের অসংখ্য কর্মহীন যুবার, নিগৃহীত শিক্ষকের, ধর্ষিতা নারীর, উদবাস্তু মানুষের অভিশাপ আপনার সাথে থাকবে আপনার জীবনের শেষদিন অব্দি৷
পরিশেষে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হবে না, আমরা হতে দেবো না। জয় হিন্দ। জয় বাংলা।
We serve the realm. Someone must.