এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শরৎচন্দ্রের নারী  :  একটি ব‍্যক্তিগত পর্যালোচনা

    Manali Moulik লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪৩০ বার পঠিত
  • ক্লাস এইট-নাইন। বয়ঃসন্ধির এথনিক ষ্টেজ, মাথাগরমের কাল। রূপকথার রাজকুমারী, সুনীলের সোনালী-দুঃখ, হুমায়ুন আহমেদের 'মায়াবতী' ছাড়িয়ে স্বপ্নে,হোমওয়ার্কে, লুকিয়ে বইপড়ায় ঢুকে পড়েছেন ইলা মিত্র, লতিকা সেন থেকে সিলিয়া সানচেজ বা বলিভিয়ার তানিয়া। ছোটোবেলার ঘুম-ঘুম মুগ্ধতায় লেগেছে জৈষ্ঠ‍্যের জ্বালাপোড়া রোদ। এরমধ‍্যেই এক শীতের বিকেলে চোখ রাখা ষোড়শী আর জীবানন্দের উপাখ‍্যানে। বেশ কিছুটা পড়ার পরেই যেখানে ষোড়শীকে পাইক-লাঠিয়ালরা টেনে নিয়ে গিয়ে জমিদার জীবানন্দের সামনে হাজির করলো, সেই অংশটায় পৌঁছানো। জীবানন্দের মাতলামো আর লাম্পট‍্যের চিহ্নে ঘরটির বর্ণনা 'নরকের খন্ডচিত্র'। দেয়ালে ঝুলছে ভোজালি, বুকের কাছে দো-নলা বন্দুক আর দুটি নতুন চকচকে পিস্তল। সাদা-কালো-বেঁটে-লম্বা-দিশি -বিলিতী নানারকম মদের বোতলে ঘর পরিপূর্ণ। সেখানে ষোড়শীকে কদর্য অপমান ও বাক‍্যধর্ষণের পর যখন সে 'মরফিয়া' ওষুধ দিয়ে যেতে বলে, আর কম্পিত হস্তে বিনাবাক‍্যব‍্যয়ে ষোড়শী তাই করে, মাথায় আগুন জ্বলে গিয়েছিলো তখনই। নাহয় পূজারী গৃহস্থের মেয়ে একটা কাঁচের বোতল তুলে এক ঘা দিতে পারবেই না, নাহয় পাইকের দল বাবুর ঘরের বাইরেই বসে আছে, কিন্তু বাবা, তাদের তো অক্ষর পরিচয় নেই ! মরফিয়া কাঁচের ঝিনুকে আধ-ঝিনুকের বেশী হলেই ও ব‍্যাটার নিদ্রা আর ভাঙবে না, তা সেটা মুখে ঠুসে দিতে কী হয়েছিলো? ষোড়শী কেঁদেছে আজন্মপূজিতা মা চন্ডীর কাছে এই মহাপাপিষ্ঠের মুক্তির বার্তা জানিয়ে। যার কাছে ধর্ম-অধর্ম জ্ঞান নেই, শ্মশান ও গৃহের ফারাক নেই, প্রাণ নেওয়া, নারীর সম্মান নেওয়া তুচ্ছ কাজ -- নিজের প্রাণ সুরার স্রোতে বিলীন করে দেওয়াটাও তেমনি, তার উদ্ধার কি মা চন্ডীর পক্ষেও সম্ভব? হয়তো সেই পাপিষ্ঠের মুক্তি কোনো অর্থেই নেই। তবু প্রশ্ন জাগে মনে, জীবানন্দদের সংশোধন কি সত‍্যি সম্ভব? নাকি আরো অনেক অনেক তারাদাস চক্রবর্তীরাই বাস্তব? আজকে নাম ও রূপ বদলে জীবানন্দরাই পরমানন্দে 'সভ‍্য সমাজে' চড়ে বেড়ান। তো কথা হলো, ভীষণ রেগে বিষম খেয়ে ওই উপন‍্যাসটা সেখানেই পড়া বন্ধ করেছিলাম, খুলেছি আবার বহু পরে। অমর কথাশিল্পীর বহু সৃষ্টির মধ‍্যেই জীবানন্দ আর ষোড়শী আমাকে সবথেকে বেশী ভাবিয়েছে। এখানে মনে পড়ে বিদেশী কবির বিখ‍্যাত উক্তি, "Love is cannibal." জীবানন্দের উক্তি ছিলো গোমস্তা এককড়ির প্রতি
    -- "আর বুঝলে বাপু....আমি বিবাহ করিনি, কোনোদিন করবোও না। তা বলে তো ভীষ্ম বা শুকদেব হইনি। সুতরাং বুঝলে,....ওটা চাই।"
    এককড়ি লজ্জায় মুখ নামায়। জমিদারে গোমস্তা পর্যন্ত যে প্রসঙ্গের উল্লেখে লজ্জা পায়, তা যে মানুষ অবলীলায় বলে যেতে পারে, সেও আসতে পারে সৃষ্টির সীমানায়। শরৎচন্দ্রের বিশেষত্ব তাই বাস্তব নিরূপণ করা নয়, চরিত্র সৃজন করার থেকে অনেক অনেক বেশী বাস্তব চরিত্র তুলে ধরা। জীবানন্দ তার শারীরিক বা যৌন তৃপ্তির যে আঙ্গিক খুঁজে পেয়ে নিজেকে বিজয়ী ভাবে, তাকে পরাজিত করার প্রচেষ্টায় নয় বরং আত্মসমীক্ষার দ্বারা নিজের অবস্থান খুঁজে নেয় ষোড়শী। এইপ্রসঙ্গেই মনে পড়লো, সম্প্রতি প্রকাশিত অ‍্যাঞ্জেলা কার্টারের সম্পাদিত বই ' দ‍্যা ব্লাডি চেম্বার' -এর কথা। চিরন্তন ইউরোপীয় রূপকথার গল্পগুলিকে নব আঙ্গিকে, নতুন মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তুলে ধরেছেন লেখিকা। আমাদের অতিপরিচিত ছোটগল্প 'লিটিল রেড রাইডিং হুড' সেখানে বনপথে নিজের পরিবারের সদস‍্যদের খুঁজতে গিয়ে যে সুদর্শন পুরুষের দেখা পায়, আসলে সে ওয়‍্যার-উল্ফ। তার পরিতৃপ্তি যেমন নিগ্রহে, তেমনি তার অস্থির লালসার নিয়ন্ত্রক হয়ে রেড রাইডিং হুড খুঁজে নেয় নিজস্ব যৌন পরিচয়। নারীমাংসের উল্লেখ হয়তো তাই এতো ঘুরেফিরে সাহিত‍্যে আসে। আধুনিক সাহিত‍্যিক হিমাদ্রীকিশোর দাশগুপ্তের 'বন্দরসুন্দরী' তে ভর্তৃকা তার প্রভুকে প্রশ্ন করে, "মৎস‍্য রন্ধনে খাদ‍্য গ্রহণ করে মানুষের তৃপ্তি হয়। তবে মৎস‍্য একটি খাদ‍্যদ্রব‍্য। কেবল নারীর নামই মৎস‍্যগন্ধা কেন হয়?" আর নিজেকে এই তথাকথিত ' piece of meat' হিসাবে দেখতে দেখতেই কি আসে নারীর যৌনতার প্রতি বিতৃষ্ণা? নাকি নিছক সামাজিক ট‍্যাবুই তাকে প্রতিহত করে জার্মেইন গ্রিয়ার কথিত 'engage with libido' চিন্তন থেকে? নোবেলজয়ী সাহিত‍্যকীর্তি 'ভেজেটেরিয়ান' এর মূল নায়িকার মধ‍্যে আমরা যেভাবে দেখতে পাই আমিষ খাবারের প্রতি অনাসক্তি। কারণ প্রত‍্যহ যৌনমিলনের সময়ে যে নিজে ব‍্যবহৃত হচ্ছে একখন্ড মাংস হিসাবে। তাই ধীরে ধীরে খাদ‍্যে অনীহা ও মনুষ‍্যসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সে নিজেকে দেখে একটি উদ্ভিদে রূপান্তরিত হতে। যেখানে খাদ‍্য-খাদক সম্পর্ক নেই, আছে কেবল নীরব শান্তি (বিধিসম্মত সতর্কীকরণ : এটা পড়ে কেউ আবার পবর আমিষ-নিরামিষ বিতর্কে ঝাঁ করে ঢুকে পড়বেননি, তেমন হলে যৌনতা ও ক‍্যানিবালিজম এবং আমিষ বিতর্কের ডিসকোর্স নিয়ে পরে লেখার ইচ্ছে রইলো।)
    শরৎচন্দ্রের সৃষ্টি করা নারীচরিত্র বললেই, ঘুরেফিরে মনে আসে সেই পাত পেড়ে পাখা নেড়ে খাওয়ানোর উপাখ‍্যান। যাকে মেয়েরা যে সুখ চোখের সামনে যত্ন করে পুরুষকে খাইয়ে পায়, তেমনটা আর কোথাও নয় বলে, কালবেলার অনিমেষ উল্লেখ করো, "শরৎচন্দ্রীয় সুখ।" অবশ‍্য আমার পরবর্তী উপলব্ধির কথা এই যে, তথাকথিত নারী-পুরুষ দৃষ্টিতে না দেখে সমকালীন সমাজের একটি চলমান চিত্র এঁকে তিনি পথের দিশাও কোথাও কোথাও দিয়ে গেছেন। কেবল 'রানিং কমেন্ট্রি' অনুসরণ করা ইউরিপিডিস নন, সত‍্য-শিব-সুন্দরের অলৌকিক আরাধনায় থাকা সফোক্লিস নন, তিনি বাংলার সমাজরূপের পরিপূর্ণ চিত্রকর। ঘোর অমানিশায় পথ হারাতে হারাতে তাই সব‍্যসাচীর খোঁজে আজও দৃষ্টিপ্রদীপ জ্বেলে রাখা যায়। আর আলোর এক ঝলক দেখতে পাই, যখন বেণী জমিদারের সহস্র শাসন সত্ত্বেও রমার মহামায়া পুজোয় গোটাকয়েক ব্রাহ্মণ ছাড়া সমস্ত হিন্দু-মুসলমান সুবিশাল সংখ‍্যক প্রজা থাকে অনুপস্থিত। পাহাড় প্রমাণ অন্নব‍্যঞ্জন পড়ে থাকে, তবু নিত‍্য অনাহারে মরা কৃষকরা তাদের ছোটবাবুর জেলযাত্রায় ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে থাকে সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে। পল্লীসমাজের রমার চরিত্রটি দেবদাসের থেকেও ট্র‍্যাজিক। দেবদাস সংসারের পদপ্রান্তে এসে ফেলে যন্ত্রণাদগ্ধ শেষ নিঃশ্বাস আর রমা সংসার ত‍্যাগ করে খুঁজে চলে শেষ শান্তির মুহূর্তটি। তবুও সব জটিলতাকে ছাপিয়ে পল্লীসমাজের চিরকালীন আলোর নিশান এই, কেবল জমিদার আর ব্রাহ্মণ পারে না ছোটোলোকদের সমাজচ‍্যুত করতে, ছোটোলোকরাও পারে উচ্চ সমাজ ত‍্যাগ করতে। হিন্দু-মুসলমান এক হতে পারে শুধু দুর্ভাগ‍্য ও দারিদ্র‍্যের আত্মীয়তার বন্ধনে। সনাতনের মতো হাড় জিরজিরে, নিঃস্ব লোকের কন্ঠেও উচ্চারিত হতে পারে, "আমার নয় জমি, হালবলদ আপনার কাছে বাঁধা আছে বড়বাবু। কিন্তু ছেলেছোকরাদের তো রক্ত গরম, তারা সব জাফর আলির বাড়ি ষাট করছে। হিন্দু-মোসলমান সব ভাই পাতিয়েছে। একটু সাবধানে, বাবু।"
    সনাতনের চাপা বিদ্রূপে বা জ্বলে ওঠা কৃষকের লাঠির ঘায়ে বেণীর শিক্ষা নয়, বেণীর প্রকৃত শিক্ষা মাতৃবক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। রমার শয‍্যাপ্রান্তে তাই বেণীর আঘাত প্রসঙ্গে বিশ্বেশ্বরী বলেন, "এ যদি ক্ষমা করতে না পারবো তবে আর সংসারে শিখলুম কী মা? জানবে, কয়লাকে শতবার ধুলেও পরিচ্ছন্ন হয়না, তাকে আগুনে পোড়াতে হয়।"
    বাঙালির চিরকেলে বাণী, "মায়ের বাড়া অসহায় জীব নেই" যেন কোথাও গিয়ে বিশ্বেশ্বরীর সাদা থানের আঁচলে ঘেরা সোনার বরণ পা-দুটিতে কঠিন আঘাত খেয়ে পড়ে। তিনি রমাকে বুকে করে সংসার ত‍্যাগ করতে পারেন, কৃষককে সাহস দিতে পারেন আবার সন্তানের নির্মম কাজের চরম শাস্তিকে সমর্থন করার স্পর্ধা রাখেন। শরৎচন্দ্রের নারীচরিত্রদের কোনো নির্দিষ্ট বন্ধনীতে বাঁধা সহজ কাজ নয়। ভারতীর তো স্বাধীনতায় নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক থেকে সুমিত্রার মতো আশ্চর্য নারী যেমন সেখানে উপস্থিত, তেমন ললনা বা শুভদার মতো সর্বহারা স্বরও অশ্রুত নয়। বাংলার প্রতিদিনের যাপনের সুর তাঁর কলমে গ্রন্থিত। আজকে হিন্দু-মুসলমান-বাঙালি-বিহারীকে একবার স্পন্দিত করার জন‍্য রামদাস তলওয়ারকরের উচ্চকন্ঠের ঘোষণা যেমন জরুরি মনে হয়, তেমনই একজন বিজয়া, একজন ভারতী বা একজন নবতারাও বঙ্গভূমে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েনি। শুধু সময়ের দাবী মেনে পটপরিবর্তন চলে তার চালচিত্রে, চিত্রণের ধারায়।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কৌতূহলী | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:০৮742704
  • চমৎকার।
    ''চরিত্রহীন'' এর কিরণময়ীকে নিয়ে আলাদা করে বিশ্লেষণ দরকার খুব।,এ নিয়ে আপনার মতামত কাম্য।
  • Manali Moulik | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:১১742706
  • ধন‍্যবাদ কৌতুহলী। অবশ‍্যই চেষ্টা করবো পরে।
    'চোখের বালি'তে বিনোদিনী আর এই চরিত্রহীনের কিরণময়ী, এই দুজনের পরিণতি একেবারে মেনে নিতে পারি না।
  • MP | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৮742724
  • মানালী, শরৎবাবুর লেখা থেকে বিশ্লেষণ খুবই ভালো হয়েছে l লজ্জার মাথা খেয়ে একটা প্রশ্ন করছি l আমার শরৎবাবুর গল্প ভালো পড়া নেই তেমন আসলে জীবানন্দের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো ? মুক্তি কি সে পেয়েছিলো ? ষোড়শীর কি হয়েছিলো ? গল্পের একটু খানি বলে আপনি বেশ রহস্য তৈরী করে দিয়েছেন তাই শেষটাও জানতে চাইছি l হিমাদ্রিকিশোরের বন্দরসুন্দরীর নায়িকার নিজস্ব এজেন্সি ছিলো কিন্তু হিমাদ্রিকিশোরের চার সুন্দরীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী এজেন্সি সম্ভবত কাশ্মীর সুন্দরী গল্পের নায়িকার l
  • Manali Moulik | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৭742728
  • হ‍্যাঁ, MP. সেই যা হয় আর কী....চরম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করে জীবানন্দ লিভার - টিভার চিবিয়ে ফেলে। তখন ষোড়শীর যত্ন ও সেবায় তার মানসিক পরিবর্তন ঘটে। সে জমিদারি, মাতলামি, প্রজার উপর অত‍্যাচার সব ত‍্যাগ করে ষোড়শীকে গ্রামের দায়িত্ব দিয়ে চলে যেতে চায়। ষোড়শীও তার হাত ধরে, তারপর সেই লম্পট জমিদারের মুক্তি ঘটে মানে দৈহিক না, মানসিক ও নৈতিক পরিবর্তন আর কী...
     
    হিমাদ্রীকিশোরের রচনাগুলি আপনারও পড়া জেনে খুব খুশী হলাম। হ‍্যাঁ, আপনার মত ঠিক তবে বন্দরসুন্দরী আমার দারুণ লাগে। পোর্তুগাল, দাক্ষিণাত‍্য বাণিজ‍্যপথ মিলিয়ে একটা বেশ দারুণ ব‍্যাপার....
  • Debanjan Banerjee | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০৫742730
  • মানালী,
     
    হিমাদ্রিকিশোরের চারটি সুন্দরী গল্প আছে | বন্দরসুন্দরী, খাজুরাহো সুন্দরী, কাশ্মীর সুন্দরী ও সোমনাথ সুন্দরী | এদের মধ্যে কাশ্মীর সুন্দরী গল্পটিই সবচেয়ে ভালো লাগে | বন্দরসুন্দরী বা খাজুরাহো সুন্দরী গল্পদুটিও খুবই সুন্দর | সোমনাথ সুন্দরী বেশ স্টিরিয়োটাইপ গল্প |
     
    শরৎবাবুর ষোড়শী ও অত্যাচারী জমিদার জীবানন্দের গল্পটির শেষ পরিণতি আপনার পছন্দ নয় কেন ? জমিদার এর মৃত্যু হলেই ভালো হতো কি আপনার কাছে ?
  • Manali Moulik | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:১১742733
  • না দেবাঞ্জনদা, পছন্দ নয় এরকম ঠিক বলা চলে না। ভালোই কিন্তু বাস্তবে আদৌ কোনো ফিউডাল লর্ড এভাবে ক্ষমতা দেয় না বা দৈব-প্রভাবেও বদলে যায় না। পরিবর্তন হলে হবে, সেবা অথবা অসুস্থতার দিনে মন বদলালেও বদলাতে পারে। অন্ততঃ ষোড়শীর অনুগত সর্দার বা অন‍্যান‍্য গ্রামবাসী কৃষকের হাতে গোটা চারেক থাপ্পড় খেলে আমার মতে একটা 'হ‍্যাপি এন্ডিং' হতো। সে যাগ্গে !
     
    হ‍্যাঁ বন্দরসুন্দরী আর সোমনাথ সুন্দরী আমারও বেশ ভালো লাগে। বাকিদুটো সময়ের অভাবে পড়ে ওঠাই হয়নি
  • syandi | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৫৯742758
  • হিমাদ্রিকিশোরের গল্পগুলির নরম কপি আছে কারো কাছে? এই লেখকের লেখা পড়া তো দূরে থাক, নামটাই প্রথম শুনলাম।
  • Ranjan | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫২742760
  • দেখার নতুন দৃষ্টিকোণ l
    বাঁধা গত এর বাইরে l
    অনেকদিন গুরুর পাতায় এরকম লেখা পড়ি নি l
     
    আমি এই উপন্যাসে সবসময় অস্বস্তি বোধ করেছি l আবার ভেবেছি লেখক আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন আরেক সত্যের মুখোমুখি হতে l
    যেখানে রং সাদা বা কালো নয়, ধূসর l
  • Manali Moulik | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪০742762
  • ধন‍্যবাদ স‍্যান্ডিদা।
    রঞ্জন স‍্যার, আমার এই লেখাটি সার্থক। আপনার ভালো লেগেছে মানে অনেকটা প্রাপ্তি। ধন‍্যবাদ জানবেন।
  • Debanjan | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৭742767
  • @মানালী, নারী প্রত্যহ যৌন সম্পর্কের সময়ে ব্যবহৃত হয় একখন্ড মাংস হিসেবে এটি তো একটা বেশ ইন্টারেস্টিং এবং unique viewpoint l তবে এখান থেকে vegeterianism এর যে conclusion draw করছেন সেটাও কেন জানি অতিসরলীকরণ বলেই মনে হয় l আমি তসলিমা নাসরিন এর একটা লেখা ও ইরানের একটা কাহিনীর উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি সুযোগ পেলেই নারীও পুরুষের দিক থেকে সামান্য সম্মতি পেলেই পুরুষের শরীর কেও একখন্ড মাংস হিসেবে যৌন আনন্দের জন্যে ব্যাবহার করতে পারে l অর্থাৎ objectification শুধু পুরুষই করেনা, নারীও করতে পারে l এ প্রসঙ্গে মনে পড়লো যে হিমাদ্ৰীকিশোরের "বিপরীত বিহার" গল্পটাতে এক ব্যর্থ ও প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক, তার নিজের অজ্ঞাতেই এক অশরীরি প্রেতিনীর কাছে নিজের শরীর সমর্পন করে প্রেতিনীর অতৃপ্ত যৌন আনন্দের চরিতার্থ হওয়ার মধ্যে দিয়েই জীবনে বেঁচে থাকবার সামান্য আনন্দটুকু পেতে চায় l
  • Manali Moulik | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৯742770
  • হ‍্যাঁ দেবাঞ্জনদা পারেই তো। আমি জেনেরালাইজ এজন‍্য করেছি যে পুরুষতন্ত্রে মেয়েরাই বেশী শোষিত ও যৌনবস্তু হিসাবে ব‍্যবহৃত হয়। পুরুষ হয়না কে বলেছে? ক্ষমতাচক্র বদলালেই হয়। এরকম অনেক উদাহরণ আছে। বিপরীয় বিহার আর রম্ভা গল্পদুটো আমারও ভালো লাগে।
  • syandi | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:১৩742771
  • @দেবাঞ্জন, অনেক ধন্যবাদ জানবেন।

    @ মানালী, আমাকে শুধু শুধু ধন্যবাদ জানালেন কেন বুঝতে পারলাম না। আমি তো নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া কিছু করি নি এই টইয়ে!
  • Manali Moulik | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪১742772
  • অজ্ঞতা প্রকাশ নয়, একটা সাহিত‍্যকীর্তির রেফারেন্স শেয়ার করা গেলো। পক্ষান্তরে ধন‍্যযোগ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন।