মৎস্যজীবীরা এখনো জম্বুদ্বীপ ফিরে পাবার অপেক্ষায় : শশাঙ্ক দেব
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১১ জুলাই ২০১০ | ১১৫২ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩
জম্বুদ্বীপের ঘটনাকে ""মানুষকে বাদ দিয়ে সংরক্ষণের"" এক নেতিবাচক উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয় - ""জম্বুদ্বীপের মৎস্যজীবিকা ছিলো প্রকৃতির অনুযোগী অভ্যাস - তাঁদের জাল হাতে বোনা হতো। জালের এমন ব্যবস্থা ছিলো যাতে শুধু বয়স্ক মাছ ধরা পড়তো, শিশু মাছ ধরা হতো না। তাঁরা সূর্যের আলোয় মাছ শুকোতেন। তাঁরা প্রকৃতির থেকে ঠিক ততটুকুই নিতেন, যতটুকু তাঁদের প্রয়োজন ছিলো""। এই কথাটাই তাঁদের পাশে থাকা পরিবেশবাদীরা বলতে চেয়েছিলেন। জম্বুদ্বীপের বাদা বন সমুদ্রের লবণাক্ত ঝড় থেকে মৎস্যজীবীদের পেশাকে রক্ষা করত বলেই মৎস্যজীবীরা এই বাদাবনের রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। এ তাঁদের বই পড়ে বক্তৃতা শুনে প্রকৃতি রক্ষা করার প্রয়াস নয়। একেবারে জীবিকার প্রয়োজন থেকে পরিবেশ রক্ষার চেতনা। দু:খের কথা "বিশুদ্ধ পরিবেশবাদীরা" একথা বুঝলেন না। মৎস্যজীবীদের উৎখাত করার অতি উৎসাহে তারা এমনকি বাংলাদেশ থেকে আসা দুষ্কৃতীদের চোরাচালান ইত্যাদির অভিযোগ তুললেন। অথচ জম্বুদ্বীপের অবস্থান বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের যেকোন অঞ্চল বা দ্বীপের তুলনায় সবথেকে দূরে, পশ্চিম প্রান্তে। আর সীমান্ত থেকে ৯৬ কি.মি. দূরে এই দ্বীপে কোন চোরাচালান বা সাধারণ অপরাধের একটি অভিযোগও কখনও কোনোদিন পুলিশের খাতায় ওঠেনি। অথচ শুধু অনুমানের ভিত্তিতে এরকম অভিযোগ মৎস্যজীবীদের উচ্ছেদের যুক্তিকে সবল করেছিলো।
কিন্তু আসলে উচ্ছেদের যুক্তি কি ছিলো?