ধূসর ঘুঘু পাখির দেশে : নলিনী বেরা
বুলবুলভাজা | গপ্পো | ১১ অক্টোবর ২০১৬ | ১৯৯৭ বার পঠিত
আমি নাড়ানাড়ি করছি একটা দূরবীন নিয়ে। দূরবস্তুর দর্শন সাধন যন্ত্রবিশেষ, টেলিস্কোপ। যার কাজই হ্ল দূরস্থিত বস্তুকে দৃশ্যতঃ নিকটস্থ বা বর্ধিত করা। গালিলেওর দূরবীন বলে চালানোর চেষ্টা করছে নাকি বিক্রেতা?
না না, তা নয়। আমি যন্ত্রটির গুণাগুণ পরীক্ষার ছলে প্রথমেই বিক্রেতা যুবকের মুখের ওপর ফোকাস নিবন্ধ রাখলাম। সে আমার সামনে অনেক বড় হয়ে প্রতিভাত হ’ল।
ঈষৎ লালচে দাড়ি। দাড়ির লোমকূপগুলি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বাঁ ঠোটের কোণে হসন্তের মত সামান্য কাটা দাগ। কোথকার মানুষ সে? ফ্রান্স? জার্মানী? স্পেন? পর্তুগাল? বুলগেরিয়া? রোমানিয়া? হাঙ্গেরি না কিরঘিজস্থানের?
নাকি সিরিয়া ইরাক ইরান তুরষ্ক আফগানিস্থান মিশরের? ভারতীয়ও তো হতে পারে। কেননা আজ যারা ইউরোপের ভবঘুরে, জিপসী, রোমানী, এককালে তারা ছিল ভারতীয়ই।
গোবরের টেরাকোটা : নলিনী বেরা
বুলবুলভাজা | বাকিসব : মোচ্ছব | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ১৪৮৬ বার পঠিত | মন্তব্য : ৮
নদীতে মৎস্য শিকার, অন্ধকারে নদীজলে টর্চের আলো ফেলে মাছ ধরার সে এক অদ্ভুত কৌশল। টর্চের নীলাভ আলো মাছের চোখে পড়লে জলেও খালবিলে মাছ স্থির হয়ে যায়। নড়তে চড়তেও পারে না আর। তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারলেই হলো। কেউ কেউ তো তলোয়ারের কোপ মেরেই মাছটাকে করে ফেলে দু'টুকরা, নদীজলে রক্তারক্তি কাণ্ড। শশাঙ্ক বেহেরা অতোটা আবার নিষ্ঠুর নয়। টর্চের ফোকাস মাছের উপর ফেলে রেখে অন্য হাতে মাছটাকে খপ করে তুলে নেয় সে। তার যে জীবন্ত ধরাতেই আনন্দ। এই কিছুদিন পূর্বেও সুবর্ণারেখা নদীতে ইলিশ উঠত। খান্দারপাড়া গ্রামের ঝড়েশ্বর পানী আর মাধব পানী দুই ভাই, নদীবুকে পাটায় দাঁড়িয়ে দিবারাত্রি অষ্টপ্রহর জাল ফেলত। দিনে তাদের গড়ে বত্রিশটা ইলিশেরও রেকর্ড আছে। এখন সে দিনকাল আর নাই। জিজ্ঞাসা করলে তারাও তেরচা করে বলে "আঘু তভু অনেক ইলশা উঠতায় সুবনরেখায়। অখন সে ইলশা কুবে আছে জানু?কলকাতায়!"
কলমি শুশনি : নলিনী বেরা
বুলবুলভাজা | গপ্পো | ১০ নভেম্বর ২০২১ | ৪০৬৪ বার পঠিত | মন্তব্য : ১১
বলাই বাহুল্য, আমাদের নবতিপর ঠাকুমার ভালো নাম সুষমা হলেও শাকপাল্হার নামেই ডাক নাম ছিল ‘শুশনি’। বয়সে ছোট ছিল বলেই আমরা ‘ন্যাঙটা ভুটুঙ সাধের কুটুম’ তার ছোট বোনকে ‘ছুটকী ঠাকুমা’ বলেই হাঁকাহাঁকি করতাম। আমাদের দলে ভিড়ে বড়ঠাকুমাও সময় সময় তার ছোটবোনকে ‘ছুটকী' নামেই সম্বোধন করত। তা, ঘাসের ডগায় ‘কাঁকর-পড়া’ শুরু হলে, ‘বিরি বাইগন’ গাছে মাকড়শার জালের উপর হিলঝিল করে ‘কাঁকর’ পড়লে – সুবর্ণরেখা নদীধারে কারিকুরি পাখিরা এসে মেলা বসালে, হি-হি ঠান্ডা হাওয়া চালালে – আমাদের নবতিপর ঠাকুমাও কেমন যেন আনচান করে –
- এই বুঝি সে আসে – আসে –
- কে? কে ঠাকুমা?
- কে আবার! তোদের ছুটকী ঠাকুমা। অ্যাই! অ্যাই ললিন! অ্যাই অ্যাই ছিমন্ত! যা না রে! টিক্কে আগেই যা, দেখবু ‘ধঁচা-বঁধা’ গাড়ি করি ছুটকি আসেটে।