মর্সিয়া- বাঙালির দহলিজ নিংড়ানো ভুলে যাওয়া কান্নাগান : গৌতম রায়
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : উৎসব | ১২ নভেম্বর ২০২০ | ৩০৪৬ বার পঠিত
খাদ্যাভাস থেকে কথ্য ভাষা-- দুইয়ের ক্ষেত্রেই বাঙালির ভিতরে পূর্ববঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গ -- এই দুই ভৌগোলিক অবস্থান জনিত কিছু ফারাক আছে।সেই ফারাকগুলিকে খুব বড় মৌলিক ফারাক হয়তো বলা যায় না।কিন্তু সেই ফারাককে ঘিরেই বাঙালির সামাজিক আবর্ত আজ ও অনেকটাই আন্দোলিত হয়।তবে ঘটি বা বাঙাল, কেউ ই আজ তাঁদের যাপনচিত্রে , নিজেদের ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যগুলি প্রায় মৌলিক ভাবে মেনে চলছেন, এমনটা দাবি করেন না।আর এই মেনে না চলার ভিতর দিয়েই কিন্তু সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের একটা সুন্দর ধারা বিকাশ লাভ করেছে।
বাংলা ও বাঙালি জীবনে সু্ফি প্রভাব - প্রথম কিস্তি
: গৌতম রায়
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : ইদের কড়চা | ১৩ মে ২০২১ | ৩৬০৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ৪
বাংলায় আদম পীরের প্রভাব সেই একাদশ শতকের পূর্ববর্তী সময়কালে থেকে আজও সমানভাবে বিদ্যমান। হিন্দু-মুসলমানের সমন্বয়ী সংস্কৃতির এক অসামান্য ভাবধারা নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশে আদম পীর বিশেষ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গিয়েছেন। আদম পীর সম্পর্কে খুব সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যথেষ্ট মুশকিলের ব্যাপার। আদম পীরকে অনেকেই হযরত পীর আদম বলে অভিহিত করে থাকেন। কেউ কেউ বলেন বাবা আদম শহীদ। কিন্তু তাঁর জন্ম কোথায় ,তাঁর তিরোধানই বা কোথায়, কিভাবে হয়, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তারিখ --এই সব কোনো কিছুই সঠিকভাবে জানতে পারা যায় না। তাঁর পারিবারিক পরিচয় ও কিন্তু খুব সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। খানিকটা অনুমান এবং অনুরাগীদের রেখে যাওয়া পরম্পরাগত বিফরণ এবং তাঁদের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন গল্পগাছা কে নির্ভর করেই আদম পীর সম্বন্ধে কিছু কিছু ধারনা আমাদের উঠে আসে।
বাংলা ও বাঙালি জীবনে সুফি প্রভাব - দ্বিতীয় কিস্তি : গৌতম রায়
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : ইদের কড়চা | ২৮ মে ২০২১ | ৩৫০৭ বার পঠিত
রামপ্রসাদ সেনের বিভিন্ন ধরনের উপাসনামূলক গানের ভিতরেও যেভাবে বাংলার কৃষি সমাজের তৎকালীন পরিস্থিতির বিববরণ আমরা পাই, সেই দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু রামপ্রসাদের অনেক আগে থেকেই সুফি সাধকরা বাংলায়, তাঁদের বিভিন্ন ধরনের সাধনার তরিকার ভেতর দিয়ে উপস্থাপিত করতে শুরু করেছিলেন। এই দিক থেকে বিচার করে বলতে হয় যে, সুফি সাধনাতে এই অর্থনীতি ভিত্তিক আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে রামপ্রসাদ সেনও কি অনেকাংশই গ্রহণ করেছিলেন? সেই চেতনা আমরা উনিশ শতকের সমন্বয়বাদী ধারার প্রধান সাধক শ্রীরামকৃষ্ণের ভেতরেও দেখতে পাই। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে গুরু গোবিন্দ রায় (ওয়াজেদ আলি খান) এর কাছ থেকে ইসলাম ধর্মের মূল মন্ত্র এবং কলমা গ্রহণ করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। পবিত্র কোরানের মতে কলমা হচ্ছে স্বীকারোক্তি এবং দেহ মন শুদ্ধির উপাসনা মন্ত্র।