বাঁদররা কিন্তু হাসছে : অরিন্দম চক্রবর্তী
বুলবুলভাজা | কূটকচালি | ২০ এপ্রিল ২০০৭ | ১৮০৯ বার পঠিত
মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করার অহঙ্কারে অন্যজীবকে হেয় করাই যেন আমাদের জন্মগত অধিকার। বিশেষত: বাঁদরদের ওপর আমাদের আক্রোশ যেন একটু বেশীই। কথায় কথায় রেগে গেলেই আমারা একে অপরকে "বাঁদর" বলে আখ্যা দিই। "বাঁদরামো ঘুচিয়ে দেব" বলে গাল পাড়ি। সত্যি কথা বলতে কী, রাগ হবে নাই বা কেন? এ ধরাধামের সবচেয়ে উন্নততম জীব আমরা। সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি শাখায় আমাদের পান্ডিত্য অপরিসীম! আর আমাদের পূর্বপুরুষ কী না ওরকম একটি ইতর প্রাণী! তবে আজ এই শ্লাঘাকে কিন্তু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা। ল্যাজ খসিয়ে মাতব্বরি মারার দিন শেষ। আগে আমাদের শরীরে ছেড়ে গিয়েছিল "অ্যাপেনডিক্স' নামক ক্ষুদ্র ও আপাত নিরীহ একটি অঙ্গকে এখন শুনছি এইচ.আই.ভি ভাইরাসটিও নাকী তাদের দান। গেরোটা এখানেই। সময় সুযোগ পেলে অ্যাপেনডিক্সকে কেটে বাদ দেওয়া যায়। তাতে প্রাণনাশের ঝুঁকি কম, কিন্তু একবার এইচ.আই.ভি ভাইরাস শরীরে ঢুকলে আর নিস্তার নেই। মরিবেই মরিবে।
মানবিক হয়েই ম্ত্যু - বাঁদররা কী ভাবছে : অরিন্দম চক্রবর্তী
বুলবুলভাজা | কূটকচালি | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ | ১৮৯০ বার পঠিত
রোজ রাতে পাঁচজন বাঁদরের সঙ্গে গল্প করি আমি। গল্প যেরকম হয় আর কি , হ-য-ব-র-ল টাইপের। যেমন ধরুন - পৃথিবীর সব জোকস সর্দারজীদের নিয়ে কেন হয়? বাঙালি মেয়েরা "মা" হয়ে গেলে কেমন একটা হয়ে যায়! চাকরিতে ছেলেদের "মেয়ে বস" আর মেয়েদের "ছেলে বস" কতটা জরুরী, ঘরে বাইরে শাশুড়ি আর বৌ-এর সর্ম্পকের সঙ্গে দিল্লী ও বঙ্গের রাজনীতিতে সিপিএম আর কংগ্রেসের কতখানি মিল ও অমিল, এবছর ইলিশের দামটা কেন এত চড়া, ইত্যাদি ইত্যাদি।
একটি ভয় জনিত রোগ : অরিন্দম চক্রবর্তী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৯ জুলাই ২০০৭ | ১২৯৪ বার পঠিত
ভয়। সর্বজনবিদিত একটি ভয়ংকর ভাইরাস। জন্মের পূণ্যলগ্নে (মানুষের, কারণ পুণ্যের আবছা ঠিকাণা একমাত্র তাদেরই আছে) "হবে" কী "হবে না" এই আশঙ্কার পিঠে চেপে এটি মানবদেহে প্রবেশ করে। এরপর এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় একটু একটু করে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিস্তার করতে থাকে এবং অবশেষে একসময় তা পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত হয়। এই ভাইরাস সামাজিক ও দৈহিক সমস্ত রোগ্প্রতিরোধক ক্ষমতাকে দূর্বল করে দেয় এবং তার ফল স্বরুপ মানব দেহে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়। তিনশ তেত্রিশ কোটী ভয়রোগ আছে। তবে জনপ্রিয়তার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ম্ত্যু, যা কিনা সব সময়, সব কালে, সব প্রানীদের মধ্যেই দেখা যায়। আর দ্বিতীয়টি বউ-এর ভয়। তবে র্যাঙ্কিং-এ এটি দ্বিতীয়, কারণ এই রোগটি কেবলমাত্র বিবাহিত পুরুষদের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়। খুব সম্প্রতি না হলেও অরো একটি রোগ এই মূহুর্তে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে - তা হল লেখা ও পড়ার ভয়।
ক্রমেই তোমরা "স"-এর মহিমা বুঝিতে পারিবে : অরিন্দম চক্রবর্তী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৩ ডিসেম্বর ২০০৭ | ১৬০০ বার পঠিত
যেভাবে সোমের পরে মঙ্গল আসে, মঙ্গলের পরে বুধ, ঠিক সেইভাবেই রিজওয়ানুর পরে নন্দীগ্রাম, নন্দীগ্রামের পরে তসলিমা, তসলিমারে পরে সৌরভের শতরান এল। এল, চলেও গেল। থেকে গেল মূখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, সুশীল সমাজের গন্তব্য আর অবশ্যই তির্যকের মন্তব্য। প্রথম দুটি ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও শেষের ঘটনাটি রাজনীতি মুক্ত। সমাজনীতিই সেখানে একমাত্র আলোচ্য বিষয়। আর সমাজনীতির বিষয় আমি বাঁদরদের, খুবই নীতিবাগিশ বলে মনে করি। সংকট্ময় মূহুর্তে ওদের সাহায্যে আমি অনেক সমস্যার গভীরে প্রবেশ করতে পারি। সেদিনও এরকম হল। ভাবছেন তো, কোনদিনের কথা বলছি? দাঁড়ান একটু সবুর করুন, বলছি একে একে।
ব্যক্তিগত স্পেস, আত্মজীবনী সব ঘেঁটে ঘ, বাঁদররা কী বলছে শুনুন : অরিন্দম চক্রবর্তী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮ | ১৮১৯ বার পঠিত
কয়েকদিন বাজারের দাম এত বেড়ে গিয়েছিল যে নাভিশ্বাস উঠছিল সংসার চালাতে। মাঝে ভেবেছিলাম সংসার থেকে পালাব, সাধনসঙ্গিনী জোগাড়ও করে ফেলেছিলাম কিন্তু সে পে স্লিপ দেখতে চেয়ে বসল। তা দেখালাম কিন্তু দেখে বলে চার অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যায় মাইনে না পেলে আমি তোমার সাধন সঙ্গিনী হব না। মাইনে জিজ্ঞেস করা অপরাধ কিনা, আমি সে সব জটিল প্রশ্ন যাইনি। চুপচাপ চেপে গেছি। ঘরে ফিরে আবার পুরোনো খেলা শুরু করে দিয়েছি, আদিখ্যেতার চরম নিদর্শন অনেকটা প্যাঁচা কহে প্যাঁচানি, খাসা তোর চেঁচানি স্টাইলে। বৌ বলছে, তুমি কী ভাল, আমি ততোধিক চেঁচিয়ে বলছি, তুমি ভালোরও ভালো।
"স" এর কী বাহার! বাঁদররা গাইছে - মা, মাগো মা : অরিন্দম চক্রবর্তী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৮ জানুয়ারি ২০০৯ | ১৫৭৬ বার পঠিত
ওরা পাঁচজন যেদিন আমার সঙ্গে থাকে , সেদিন আমি শাহেনশা। পৃথিবীর সব রকম জটিল সমস্যার সমাধান আমি এক মিনিটে করে ফেলি। বর্ষপূরণ বা বর্ষবরণের রাত্রে এবার ওদের সঙ্গে দেখা হয়নি, দেখা হ'ল এই বছরের গোড়ায়। আমি তিন পাত্তর চড়িয়ে বাড়ির উল্টোদিকের কদমগাছটাতে বসে পা দোলাচ্ছি, এদিক ও দিক দেখছি , এমন সময় ওরা এল। ওরা পাঁচজন আর ওদের মধ্যে একমাত্র মহিলা পুঁটি। প্রথমে এসে ওরা একটু লাফালাফি, ঝাপাঝাপি করে , তারপর থিতু হয়ে বসে। বসল। বয়জ্যেষ্ঠ বাঁদরটি আমাকে দেখে বলল,