এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ছোটদের নাটক -- ভূতেরা যখন জব্দ।

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১ বার পঠিত
  • ভূতেরা যখন জব্দ…..
     
    সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
     
    প্রাক্ কথন
    বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ ম ম করতে শুরু করলেই আমাদের সকলের মন মেতে ওঠে। আমাদের ঘরের মেয়ে আসছে এক আশ্চর্য নতুন উন্মাদনা নিয়ে।এই উপলক্ষে কতনা আয়োজন!
    পুজোর সময় ছোটোদের খুশি আর ধরেনা। বহুকাল আগে পেছনে ফেলে আসা কিশোর বেলার স্মৃতি হাতড়ে দেখি সেই আনন্দময় যাপনের আশ্চর্য সব ছবির মন্তাজ। পুজোয় সবাই মিলে নাটক করা এক অভ্যাসে পরিনত হয়ে গিয়েছিল। নিজেই নাটক লিখে তার মঞ্চায়নের ব্যবস্থা করেছি। সেই দিন গুলো হারিয়ে গেলেও স্বভাব তো যায়নি মলে! ছোটোরা রঙচঙে পোশাকে সেজেগুজে মঞ্চে অভিনয় করবে ভেবে এই নাটকটি লেখা হলো। ভাবনা মৌলিক নয়। তবে দেশের লোকজীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ নাটকে ভূতেরা আছে বটে তবে তারা জব্দ হয়েছে বুদ্ধির কাছে।
     
    নাটক – ভূতেরা যখন জব্দ……
     
    { মঞ্চের পর্দা তোলা হতেই দেখা যায় জনা পাঁচেক কিশোর বসে রয়েছে। সকলের বয়স ১১+, কেবলমাত্র বিল্টুই বয়সে খানিকটা ছোট। এখন গরমের ছুটি। স্কুলে যাওয়ার তাড়া নেই। বাইরে রোদে ঘোরাঘুরি করতেও মন চাইছে না। কেবলমাত্র গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপ লাগোয়া বটগাছের এমন নিবিড় ঘন ছায়ায় বসে থাকতেই দেদার আরাম। ছেলেরা তেমন‌ই বসে ছিল আর নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো। বিল্টু ছাড়া এই দলের অন্যান্য কিশোর সদস্যরা হলো অরুণ, সমীর, আকাশ ও তিলু। }
     
    বিল্টু
    আকাশ দাদা, একটা গল্প বলনা, সেই ভূতেদের জব্দ করার গল্পটা।
     
    তিলু
    কি বলিস্? ভুতেদের আবার জব্দ করা যায় নাকি? ওরাই তো সব্বাইকে ভয় দেখিয়ে জব্দ করে।
     
    বিল্টু
    তা হবে কেন? সবসময় বুঝি ওরাই জিতে যাবে? বুদ্ধি কি শুধু ভূতেদের থাকে, মানুষের নয়?
     
    সমীর
    থাকবেনা কেন? আমাদের বিল্টু বাবুই তো আছে যে ভুতেদের জব্দ করে বেড়ায়।
     
    ( এই রসিকতায় সবাই হেসে ওঠে।)
     
    আকাশ
    মিছিমিছি তোরা বিল্টুর পেছনে লাগছিস্। ‌ও আমার কাছে গল্প শুনতে চেয়েছে, ভূতের জব্দ হবার গল্প। এমন গল্প তো কতোই আছে। শুনবি তোরা?
     
    ( সকলে একসাথে বলে ওঠে… হ্যাঁ হ্যাঁ শুনবো )
     
    { আকাশকে মাঝখানে রেখে গোল হয়ে বসে সকলে। সকলের মুখে চোখে ফুটে ওঠে চরম ঔৎসুক্য এবং আগ্রহ। }
     
    বিল্টু
    ( অধৈর্য্য হয়ে বলে ) ও, আকাশ দাদা ! শুরু করোনা। আমার যে আর তর সইছে না।
     
    আকাশ
    ( মুচকি হেসে। ) আরে বাপু দাঁড়া। সে তো অনেক কাল আগের গল্প, তার ওপরে আবার ভুত…..
    অনেক দিন আগে ওই বকুলপুর গ্রামে এক পরামাণিক থাকতো। তার নাম ছিল গোপাল। পরামাণিক কাদের বলে জানিস্ তো,যারা আমাদের চুল কাটেন তারা।
     
     
    ( এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যান্তর ঘটবে। মঞ্চের একদিকে উপদৃশ্যের পটভূমি তৈরি করা হবে। সেখানে একটা গাছের নিচে ইট পেতে চলছে গোপাল পরামাণিকের সেলুন ডি ইটালিয়া। সকাল বেলা গোপাল সবে এসে পৌঁছেছে গাছ তলায়। গাছতলা ঝেড়ে, জল ছিটিয়ে নিজের বসার জলচৌকিতে বসতে না বসতেই…..। এক বৃদ্ধ মানুষ মঞ্চে প্রবেশ করেন। নাম হরিমোহন।)
     
    হরিমোহন
    ( একটু ভাঙা গলায় বলে)
    এই যে বাবা গোপাল, এসে পড়েছিস্? সকাল থেকে তোর অপেক্ষায় ছিলাম। দে তো বাবা ! দাঁড়িটা বেশ খোলতাই করে কামিয়ে। কুটুম বাড়ি নেমতন্ন খেতে যাবো। একটু সাফসুতরো হয়ে না গেলে চলে? দে বাবা।
     
    গোপাল
    রোশো কাকা। খুর কাঁচি সব আগে বার করি। তুমি হলে আমার আজকের ব‌উনির খদ্দের। এমন খাসা কামিয়ে দেবো যে তোমার কুটুমবাড়ির লোকজন একেবারে অবাক হয়ে যাবে। এসো। এই গদির ওপর বসে পড়ো।
     
    হরিমোহন
    ( গদগদ হয়ে) দে গোপাল দে। অনেক দিন পর কুটুম বাড়ি যাবো। কামাই ভালো হলে তোর কথা পাঁচ কান করে আসবো।
     
    গোপাল
    কোনো চিন্তা করতে হবে না খুড়ো। এই গোপাল পরামাণিকের হাতের করতব আর এই খুরের জাদু দেখে লোকজন একেবারে চমকে যাবে। ( দাঁড়ি কামাতে কামাতে গুনগুন করে গান গেয়ে ওঠে গোপাল। )
     
    এসো গো, কে আছো গো
    গোপালের এই সেলুন ঘরে।
    দু মিনিটে হবে কামাই
    নিজেকে আর চিনবে না রে।
    এসো গো সকাল সকাল
    ইটালিয়া সেলুন ঘরে।
    টুরু টু, টুটুর টু টু ……
    গোপালের এই সেলুন ঘরে।।
     
    হয়ে গেছে কাকা! এই দেখে নাও আয়নায়। তোমার ওই খোলতাই করে কামানো হয়েছে কিনা?
     
    ( হরিমোহন আয়নায় নিজেকে দেখে খুব খুশি হয়। )
     
    হরিমোহন
    বাহ্! এ তো একেবারে শহুরে বাবুদের মতো লাগছে রে গোপাল! একেই বলে কুটুমবাড়ি কাটিং। এই নে বাবা তোর মজুরি। ৩২ আনা পয়সা বকশিশ দিলাম। ও আর তোকে ফেরত দিতে হবে না। কাকা বলে ডেকেছিস যখন তখন এটুকু তো করতেই হবে। চলিরে গোপাল।
    (হরিমোহন খুশি মনে প্রস্থান করে। যেতে যেতে গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠে –
    এসো গো কাটতে দাঁড়ি
    গোপালের এই সেলুন ঘরে।……
     
     
     
    ( হরিমোহন একরকম নাচতে নাচতে প্রস্থান করে। নাটক ফিরে আসে চেনা গল্পের আসরে। )
     
    বিল্টু
    বাহ্! এতো দারুন মজার মানুষ ওই খুড়ো মশাই! আর গোপাল পরামাণিকের গানটাও দারুন হয়েছে।
     
    তিলু
    এবার থেকে চুল কাটতে সেলুনে গেলে আমাদের চাঁদু দাকে বলবো ঐ কুটুমবাড়ি কাটিং করে দিতে। বেশ হবে ব্যাপারটা, তাইনা?
     
    অরুণ
    এই,তোরা থামবি? গল্পের মাঝখানে এমন ব্রেক কষছিস্ কেন?
     
    সমীর
    ঠিক বলেছিস অরুণ। ভূতের গল্প শুনতে বসে এমন কাটিং হলে মজাটাই বেমালুম উবে যায়।
     
    বিল্টু
    আরে, এসব হচ্ছে ইন্টারভেল – জলপানের বিরতি। আকাশ দাদা তুমি গল্পের ছেঁড়া সুতো আবার নতুন করে জুড়ে দাও দেখি। ভুতেরা কীভাবে জব্দ হলো তা জানতে মন কেমন আকুলি বিকুলি করছে।
     
    আকাশ
    গোপালের সেলুন ডি ইটালিয়ার এখন বেজায় নামডাক। আশপাশের এলাকার লোকজন কাজে কম্মে এই গাঁয়ে এলে একবার অন্তত বটতলা ঘুরে যায়। গোপাল‌ও তার অতি পরিচিত কাঠের বাক্স হাতে নিয়ে এদিক ওদিক চলে যায়। এরকম কাজের টানে গোপাল সেবার গিয়েছে ওই হিরণ্যপুরে।
    সেখানকার এক র‌ইস আদমির বাড়িতে দেদার কামিয়ে অনেক উপহার নিয়ে গোপাল ফিরছে নিজের গ্রামে……
     
    ( গল্পের আসর থেকে আলো সরে যায়। আলো এসে পড়ে গোপালের ওপর। দেখা যায় মাথার ওপরে এক ঢাউস সাইজের বোঁচকা। বোঁচকা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে গোপাল। অনেকটা পথ তাকে পাড়ি দিতে হবে। )
     
    গোপাল
    বাপরে বাপ! এই বোঁচকা নিয়ে হাঁটা যায়? এটাকে যে ফেলে দিয়ে যাবো সে উপায়ও নেই। কতরকমের উপহার রয়েছে তাতে। এসব পেয়ে আমার গিন্নি বেজায় খুশি হবে। এসব জিনিস তো কস্মিনকালেও চোখে দেখেনি। আমিও কি ছাই দেখেছি? না পা চালিয়ে চলি।আলো থাকতে থাকতে ওই শ্যাওড়া তলাটা পেরিয়ে যেতে পারলেই আর চিন্তা নেই। রাম রাম,রাম রাম…..
     
    ( আবার গল্পের আসরে ফেরে নাটক। আকাশ গল্প করতে থাকে। বাকিরা সবাই গল্পের নেশায় মশগুল…)
     
    আকাশ
    তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে চলতে থাকে গোপাল। শ্যাওড়া তলার কথা মনে পড়তেই মনে ভয় ঢুকে যায়। এদিকে হয়েছে কি ওই শ্যাওড়া গাছে থাকে একদল ভূত। এই গাছটা তাদের অনেকদিনের আস্তানা। গাছের মগডালে বসে তারাও দূর থেকে দেখে গোপালকে। আর দেখতে পেয়েই তারা শুরু করেছে নতুন জল্পনা…..।
     
    ( মাঠের শেষে এক বিশাল শ্যাওড়া গাছে তিনটে ভূত উদো, বুধো আর শুধো পা দুলিয়ে দুলিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো আর ইতিউতি ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছিল চারপাশ। সন্ধের এখনও বেশ খানিকটা সময় বাকি, অথচ এখন থেকেই এই ভূতের দল রীতিমতো সক্রিয়। )
     
    শুধো
    এ্যাঁই উঁদো বুঁধো। আমি যা দেখি তোঁরা তা দেঁখিস ?
     
    উদো
    তুই এই দুক্কুরবেলায় তোর ন্যাবা লাগা চোখে কি দেখিস তা আমি বলবো কী করে?
     
    বুধো
    এ্যাঁই, থেকে থেকে ঐ মনিষ্যিদের মতো ঝগড়া করিস নি তো! এমনটা আমার একদম পছন্দি হয়না। ( খানিক সময় তাকিয়ে থেকে বলে ) আইসছে, আইসছে। গুটিগুটি পায়ে হেঁটে শিকার আইসছে। শুধো,তুই কি এই শিকারের কথাই ক‌ইছিলি?
     
    উদো
    শিকার? মানে মনিষ্যি? ( আনন্দ আর আক্ষেপ মেশানো স্বরে)
    বাব্বারে বাব্বা! আজ রেতে জমিয়ে ফিস্টি করবো আমরা। এ কথা আমি কিন্তু পষ্ট করে বলে দিলুম। কতোদিন ভালো মন্দ খাওয়া হয়না।
     
    শুধো
    এখন বড্ডো নাফাচ্ছিস যে! তখনতো বললি আমার চোখে নাকি ন্যাবা হয়েছে। বড়ো বলে একটু মান্যি করার শিক্ষেটাও নেই। সাধে কি আর গলায় দড়ি বেঁধে ঝুলে পড়েছিলি?
     
    বুধো
    এই ফোড়ন কাটা স্বভাব ছাড়তো। লোকটা কাছে এয়ে পড়েছে। ঠিক গাছতলায় এলেই আমরা তিনজন একসাথে ওর সামনে লাফ দিয়ে পড়বো। ব্যাটা একদম ভড়কে যাবে। একথা মনে থাকে যেন তোদের।
     
    উদো আর শুধো
    ( একসাথে ফিসফিসিয়ে বলে) ওসব বলতে হবে না। আমরা একেবারে তৈরি।
     
    ( এদিকে গোপাল দুরু দুরু বুকে গাছের সামনে পৌঁছে যায়)
     
    গোপাল
    রাম রাম রাম রাম। এই তো সেই ভুতের আস্তানা। তলা দিয়ে না গিয়ে একটু পাশ কাটিয়ে যাই। ব্যাটারা এই দিনমানে নিচ্চ‌ই বের হবে না।
     
    উদো
    এ্যাঁই, ও যে পাশ কাটিয়ে পালাচ্ছে। খাজনা জমা না দিয়ে পালাবে ভাবছে। চল, লাফিয়ে পড়ি।
     
    বুধো
    এতো দেখছি মহা ধড়িবাজ! আমাদের নজর এড়িয়ে যাবে কোথায় বাছাধন। চল লাফিয়ে পড়ি।
     
    ( তিনজনে একসাথে গোপালের পথ আগলে দাঁড়ায় )
     
    উদো বুধো শুধো
    ( একসাথে নাকি সুরে)
    এ্যাঁই যে বাবু গোঁপাল ! যাচ্ছ বুঝি পালিয়ে?
    বসে আছি সেই থেকে আজ, যাচ্ছ কেন এড়িয়ে?
     
    বুধো
    তোমায় দিয়ে ব‌উনি হলে
    কাটবে ভালো দিনটা,
    তক্কে তক্কে থাকতে গিয়ে
    উতল মোদের মনটা।
     
    গোপাল
    ( বেশ সাহস দেখিয়ে বলে )
    তোমরা কে? এমন ভাবে আমার পথ আগলে দাঁড়িয়েছো? একি মগের মুলুক নাকি? দিনদুপুরে রাহাজানি করছো? দেশে আইন কানুন নেই নাকি?
     
    শুধো
    দেখো কাণ্ড! গোপাল বাবু আমাদের আইন দেখাচ্ছে! বলি, এটা হলো ভূতেদের রাজত্ব। এখানে তোদের জ্যান্ত মানুষের আইন চলবে না। আমাদের মুখের কথাই এখন আইন বুঝলি?
     
    গোপাল
    ( কান্নার স্বরে)
    সে তো দিব্যি টের পাচ্ছি। আমি বাপু ছাপোষা গরীব মানুষ। আমাকে কেন বিপদে ফেলছো? আমাকে ছেড়ে দাও বাবারা। এই হাতজোড় করছি।
     
     
    ( নাটক আবার ফিরে আসে চেনা গল্পের আসরে। সকলের চোখ মুখেই উত্তেজনা গোপালের পরিণতির কথা ভেবে। )
     
    তিলু
    ভূত গুলো কী করলো গোপালকে? সব কেড়েকুড়ে নিলো?
     
    আকাশ
    চেষ্টা তো করছিলো। গোপাল তো সমানে রাম নাম জপে চলেছে তিন ভূতকে ঠেকিয়ে রাখার জন্য।
     
    বিল্টু
    সেই ছড়াটা বুঝি গোপাল জানতো না।
    ভূত আমার পুত, পেত্নি আমার ঝি
    বুকের মাঝে রাম লক্ষণ, করবে আমার কি ?
     
    অরুণ
    জানতো না আবার? এসব ছড়া তো আমরা মা ঠাকুমার কাছে শুনে শুনে মুখস্থ করে ফেলেছি।
     
    সমীর
    আরে এসব ছেড়ে,আসল গল্পে ফের না কেন? ভূতের সঙ্গে এতোক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকা যায়?
     
    আকাশ
    ভূতগুলোও নাছোড়বান্দা। কিছুতেই গোপালকে ছাড়বে না। শেষে গোপালের মাথায় এক বুদ্ধি খেলে গেল।
     
    বিল্টু
    গোপালের মাথায় নতুন কি বুদ্ধি খেলে গেল?
     
     
    ( নাটক আবার ফিরে এসেছে শ্যাওড়া গাছের নিচে। গোপালকে ঘিরে ধরে তিন ভূত তখন নৃত্য করছে আর খেনো গলায় গাইছে। )
     
    উদো বুধো আর শুধো
     
    ( তিন ভূত একসাথে )
     
    ওরে ব্যাটা গোপাল
    বলছি যে ভালো কথা,
    শুনে নে, শুনে নে, শুনে নে।
    ন‌ইলে বিপদ হবে,
    বেঘোরে পরাণ যাবে
    মেনে নে, মেনে নে, মেনে নে।
     
    গোপাল
    ( হঠাৎ চিৎকার করে বলে ওঠে)
    এ্যাঁই !থামো বলছি। ন‌ইলে তোমাদের দশাও কিন্তু এই বাক্সবন্দী তিন ভূতের মতো করে ছাড়বো বলে দিলাম। এটা কি গান হচ্ছে? সুর নেই,তাল নেই,লয় নেই। একে তো খেনো গলা,তার ওপর এই কুৎসিত গান আর নাচ। থামো….
     
    বুধো
    ভারি আস্পদ্দা তো তোর। আমাদের রাজত্বে এসে আমাদের ভয় দেখানো?
     
    গোপাল
    খবরদার। এক পাও এগোবে না। বাক্সের ঢাকনা খুলে দেখাবো ওই তেঁতুল তলার ভূতেদের কি হাল? ( বাক্সের দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে বলে ওঠে ) এ‌্যাঁই নেন্টি,পান্টি ঝন্টি! চুপ করে থাকবি ? না আবার আড়ং ধোলাই দেবো ?
     
    উদো
    ( ভয়ে ভয়ে বলে )
    বুধো দাদা! ব্যাপারটা তো আমার মোটেও ভালো ঠেকছে না। আগ বাড়িয়ে কিছু না করাই ভালো।
     
    শুধো
    তাই বলে এই নাপতে ব্যাটার কাছে আমাদের মাথা নোয়াতে হবে? এরপরে তো আমাদের কেউই মানবে না। আমাদের কাজকম্মো সব চৌপাট হয়ে যাবে।
     
    উদো
    ( ভয়ে ভয়ে)
    বুধো দাদা! তুমি একবার গিয়ে দেখো দেখি ওই গোপালের বাক্সে সত্যি সত্যিই কী আছে? ও ব্যাটা মহা ধড়িবাজ। কোন্ মতলব ফেঁদেছে কে জানে?
     
    বুধো
    ( ভয়ে ভয়ে)
    শেষ পর্যন্ত আমি? হাট ফেল করে মরেছিলাম। আমার হৃদযন্ত্রের হাল খুব খারাপ। শুধো,তুই যা ভাই, আমার ঠিক ভালো ঠেকছে না।
     
     
    শুধো
    ( হাত ছুঁড়ে,গলা খাকারি দিয়ে বলে)
    ক‌ই ? দেখি বাক্সের ভেতর কী আছে? ( গলা কেঁপে ওঠে)
     
    ( বাকি দুজন কাঁপতে থাকে সমানে)
     
    গোপাল
    ক‌ই এগিয়ে এসো। সব তড়পানি ছুটে যাবে।
     
    (বাক্সের ঢাকনা খুলে শুধোর সামনে মেলে ধরে। বাক্সের ভেতরে থাকা আয়নার ভেতর নিজের মুখ দেখে শুধো একলাফে তিন পা পিছিয়ে যায়। )
     
    শুধো
    (কাঁপা গলায় বলে)
    ওরে উদো বুধো! ওই বাস্কের ভেতরে আমার মতো একটা শুধোকে বন্দি করে রেখেছে। চল চল পাইলে চল। নাহলে আমাদেরকে ধরে নিয়ে যাবে।
     
    উদো
    বলো কি গো দাদা? এমন ক্ষমতা ওই গোপাল পরামাণিকের?
     
    গোপাল
    ( দাপটের সঙ্গে বলে)
     
    দাপটের এখন দেখেছো কি? আজ সব কটাকে এই বাক্সের ভেতর পুরে নে যাবো। তবে টের পাবে আমার দাপট! আমি হলাম ভূপাল পরামাণিকের নাতি, নেপাল পরামাণিকের ব্যাটা শ্রী গোপাল পরামাণিক। আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিতে এয়েছো এই সে দিনের ছোকরা ভূতেরা? ক‌ই ? ক‌ই গেলি উদো বুধো শুধো?কাউকে তো দেখছিনা। এই সাহস নিয়ে ভূতগিরি করতে নেমেছে! ভাগ, এই শেওড়াতলা থেকে। আর যদি দেখিনা…..
     
    ( নাটক আবার ফিরে আসে গল্পের আসরে। )
     
    বিল্টু
    ( হাততালি দিয়ে ওঠে)
    দারুন গল্প আকাশ দাদা। ভূতেরাও তাহলে জব্দ হয়?
    ( বিল্টু গান গেয়ে ওঠে। বাকিরা গলা মেলায়)
     
    ভূতেরাও জব্দ হলো,
    গোপালের বুদ্ধি বলে,
    মিছে মোরা ভয়েই মরি
    মন আঁধারে ডুবলে পরে।
    যুক্তি দিয়ে যাচাই করে
    করলে বিচার ভাইরে!
    ভয় ডর সব উধাও হবে
    চিন্তা কিছু নাইরে।
     
    সবাই একসাথে গাইতে থাকে।
     
    । ধন্যবাদ সবাইকে।
     
     
     
    * অভিনয়ে আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। অনুমোদন বাঞ্ছনীয়।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন।