এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • চেয়ার-কল্পতরু ও অশ্রুজলের অলিম্পিক

    হারামির হাতবাক্স লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬ বার পঠিত
  • রাহুল থেকে মমতা, উদ্ধব থেকে তেজস্বী—সবার চোখে একটাই স্বপ্ন; আর সেই স্বপ্নের ভিত গড়তে জ্ঞানেশ কুমারের চেয়ারে চাপানো হচ্ছে ষড়যন্ত্রের দোহাই। ভোট চুরির গল্প, শতাংশ বাড়ার "রহস্য" আর পাঞ্জাবের কূপমণ্ডূক নীরবতা নিয়ে এক অকাট্য ফ্যান্টাসি-ভ্রমণ।

    এক: পাঁচ সিংহাসনের স্বপ্নদর্শন

    আর চিন্তা নেই। একেবারেই চিন্তা নেই। দেশের রাজনৈতিক জ্যোতিষশাস্ত্রে এইবার নাকি মহাসংযোগের কাল। রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী—আর লাইন দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উদ্ধব ঠাকরে, তেজস্বী যাদব—সবাই স্বপ্ন দেখছেন মুখ্যমন্ত্রীর আসনের। বাঙালি মায়েরা যেমন কৃষ্ণের সাজে ছেলেকে সাজিয়ে ডালা সাজান, তেমনি এই পাঁচটি "মহাত্মা" নাকি নিজেদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা করে ঠিক করেছেন—কে কোন চেয়ারে বসবেন, আর কে সেই চেয়ারের পিঠে চামড়ার কভার পরাবেন। ভাবলেই তো গায়ে কাঁটা দেয়!

    কিন্তু একি! এই যে সুমহান স্বপ্নের ক্যানভাস, তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একটিমাত্র লোক—জ্ঞানেশ কুমার! হ্যাঁ, সেই জ্ঞানেশ কুমার, যাঁকে ঘিরে গোটা "দিমাগী নকশাল" ইকোসিস্টেম নাকি সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই দেখল—ওঁর চেয়ারে নাকি বসে আছেন স্বয়ং "দেশদ্রোহীদের" কান্ডারি! আর সেই আবিষ্কারের আনন্দে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে উদ্ধব ঠাকরে—সবাই যেন হঠাৎই পেয়ে গেলেন "বোধোদয়ের" আলো। আহা! এমন "বোধোদয়" যদি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে থাকত, তবে হয়তো আজকের ছাত্ররা বিজ্ঞানী হত না, হয়ে যেত অভিযোগ-বিদ্যার অধ্যাপক!

    এই "বোধোদয়"-এর পেছনে যুক্তিটা কী? যুক্তিটা হলো—এই দেশটা নাকি "দেশদ্রোহীদের" হাতে চলে গেছে! আর সেই "দেশদ্রোহী" কারা? যারা নির্বাচনে জিতে সরকার গড়েছে! আর সেই "দেশপ্রেমিক" কারা? যারা নির্বাচনে হেরে গেছে! আহা, কত সরল হিসাব! যদি এই সরল হিসাব ধরেই রাজনীতি চলত, তবে পৃথিবীর সব হেরে যাওয়া দলই "দেশপ্রেমিক" আর জেতা দলই "দেশদ্রোহী" হয়ে যেত। তাহলে তো আফ্রিকার একাধিক দেশে গণতন্ত্র মানেই "দেশদ্রোহ"! আর সেই দেশগুলোর বিরোধী দলগুলো মানেই "মহান দেশপ্রেমিক"! এত বড় আবিষ্কার করে ফেলল যারা, তাদের নোবেল দেওয়া উচিত—"কল্পবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক ফ্যান্টাসি" বিভাগে!

    দুই: দ্বিমতের দু'লাইন, গাবজালের মহাকাব্য

    দু'লাইন খবর। মাত্র দু'লাইন। কোনও এক কাগজে বেরিয়েছে—নির্বাচন কমিশনের দু'জন আধিকারিক নাকি কোনও বিষয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। ব্যাস! আর তারপর যা কাণ্ড! যেন কেউ সাইক্লোনের বাটন চেপে দিয়েছে। "গেল গেল" রব। টিভি চ্যানেলের স্ক্রিনে তো তখন লাইভ ভোট-প্রক্রিয়া না, মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্র!

    আরে ভাই, একবার ভেবে দেখুন তো—কোনও প্রতিষ্ঠান চলে না দ্বিমত ছাড়া? প্রতিদিন সকালে সাংবাদিকদের নিউজরুম মিটিংয়ে কত দ্বিমত হয় জানেন? একজন বলেন সোনিয়া গান্ধীর ছবি বড় করে ছাপব, আরেকজন বলেন মোদীর! একজন বলেন এই খবরটা ফ্রন্ট পেজে, আরেকজন বলেন স্পোর্টস পেজে! দিনের শেষে সিদ্ধান্ত হয় একটাই—যেটা চূড়ান্ত। এটাই তো দুনিয়ার নিয়ম। এই নিয়মে না আছে কোনও দেশদ্রোহিতা, না আছে সংবাদমাধ্যমের চরিত্রহরণ। যারাই কোনো প্রতিষ্ঠান চালায়, তারা জানে—দ্বিমত পোষণ করা অধিকারের মধ্যে পড়ে। আর দ্বিমত মানেই ষড়যন্ত্র নয়। দ্বিমত মানেই বিদ্রোহ নয়।

    কিন্তু আমাদের "বুদ্ধিজীবী"-দের কী হবে? তাঁদের তো জ্ঞান দিতেই হবে! খবর কাকে বলে, খবর কী করে হয়—এসবের "মহাজ্ঞান" বিতরণ করতে হবে। তাঁরা কী জানেন না যে সুপ্রিম কোর্ট যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় হস্তক্ষেপ করেছিলেন, তখনও নাকি দ্বিমত ছিল? তখন কি সেই দ্বিমতকারীরা "গাবজাল" দিচ্ছিলেন? নাকি তাঁরা তখন সংসার করার ব্যস্ততায় ছিলেন? যে দু'জন কমিশনার আজ "বিপ্লবী" হয়ে উঠেছেন, তাঁরা এতদিন কোথায় ছিলেন? ঘুমিয়ে ছিলেন? নাকি শুধু দিনের শেষে সিদ্ধান্ত মেনেই সই করছিলেন?

    আর যদি সত্যিই তাঁরা "বিপ্লবী" হয়ে থাকেন, তবে এই এতদিন ধরে "গাবজাল" দেওয়ার মানে কী? বিপ্লবীরা কি সাধারণত দিনের পর দিন বসে বসে চা খান? নাকি তাঁরা সেই "বিপ্লব" করেন, যার জন্য প্রথমে দরকার হয় "টিভি টাইম"? আর সেই টিভি টাইমটা মেলে—যখন কোনও কাগজে দু'লাইন খবর বেরোয়। আহা! কী চমৎকার "বিপ্লবী" মডেল! এই মডেলের নাম দেওয়া যাক—"মিডিয়া-নির্ভর বিপ্লববাদ"! যেখানে আগে খবর বেরোবে, তারপর বিপ্লব হবে। উল্টো নয়!

    তিন: ভোটিং পার্সেন্টেজের মূর্খ বীজগণিত

    এখন আসা যাক "বৈজ্ঞানিক" যুক্তিতে। যুক্তিটা হলো—জ্ঞানেশ কুমার কমিশনার হওয়ার পর থেকে নাকি ভোটিং পার্সেন্টেজ হু হু করে বেড়ে গেছে! তাহলে বুঝি এই লোকটাই ভোট চুরি করছেন? আর মোদী জিতে যাচ্ছেন?

    আহা রে আমার মাথার ঘিলু বেচা বুদ্ধিজীবীর দল! কার ছেঁড়া মোজা শুঁকে বসে আছিস তোরা? কোন পরম ব্রহ্মাণ্ডের গাঁজা চেটে এত বড় আন্তর্জাতিক জ্ঞান চচ্চড়ি বানাচ্ছিস?

    শুনে রাখো—প্রতি বছর নতুন ভোটার এলিজিবল হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা আঠারো পূর্ণ করছে। ভোটার তালিকা রিভিশন হচ্ছে। নাম যোগ হচ্ছে, বাদ পড়ছে মৃতদের। তাহলে কি ভোটিং পার্সেন্টেজ তোদের মাথার টিকির মতো একই জায়গায় স্থির হয়ে থাকবে? ওঠানামা করবে না? তুই কি জন্মের পর থেকে একই উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছিস? বড় হোসনি? চুল বাড়েনি? নাকি তোর মাথার চুলগুলোও ইলেকশন কমিশনের ষড়যন্ত্রে পড়ে গেছে?

    ভোট চুরির গল্পও তো সেই একই "শ্রেণির" আরেকটি সংস্করণ। কাগজে-কলমে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ নেই—শুধু চিৎকার, শুধু আর্তনাদ, শুধু প্রেস কনফারেন্সে জলীয় চোখ। এত নাটক করলে তো সত্যিই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে চলে যাওয়া উচিত! ওখানে অন্তত নাটকের জন্য টাকা মেলে, আর এখানে? এখানে নাটকের জন্য ভোট চাওয়া হয়!

    আর এই "ভোট চুরি"-র গল্পটা কে প্রথম বলে? সে বলে—"আমি হেরে গেছি, মানে ভোট চুরি হয়েছে!" ভাই, যদি হারলেই ভোট চুরি হয়, তবে পৃথিবীর প্রতিটি নির্বাচনে যারা হারে, তাদের সবার তো ভোট চুরি হয়েছে! তাহলে তো আমেরিকায় ট্রাম্প হেরে গেলে ভোট চুরি, ব্রিটেনে করবিন হেরে গেলে ভোট চুরি, আর পশ্চিমবঙ্গে বামেরা হেরে গেলে ভোট চুরি! এই "তত্ত্ব" যদি মেনে নেওয়া হয়, তবে পৃথিবীতে কেউ কখনও হারে না—সবাই জেতে, শুধু ভোট চুরি হয়! কী চমৎকার! গণতন্ত্রের এমন "নতুন সংজ্ঞা" আগে কেউ দেয়নি! নোবেল কমিটি ঘুমিয়ে আছে!

    চার: আলটিমেটামের অশ্বারোহী ও পাঞ্জাবের কুলুপ

    আর এই যে কথায় কথায় "৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিতে হবে", "৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিতে হবে" বলে বাচ্চাদের মতো ধমকি দিস—সেটা পার পেয়ে যাচ্ছিস একটাই কারণে—প্রথমবার তোদের কায়দামতো সাইজ করা হয়নি! তোদের পিঠে একবার কষে কঞ্চি আর সঠিক চিকিৎসা হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আরশোলা জনতা পার্টি নাকি দেশজুড়ে "বিশাল" আন্দোলন শুরু করবে! তিন ভাই, তিনে মিলে চটি চাটাচাটি!

    কিন্তু এই যে এত বড় আন্দোলনের ডঙ্কা, এই যে এত বিশাল প্রতিবাদ—পাঞ্জাবের দিকে তোদের পা চলে না কেন রে ভাই? ওখানকার মন্ত্রীর পদত্যাগ কেন চাইছিস না? ওখানকার মন্ত্রী আর অর্থদেবেদের চক্করে তো একটা জ্যান্ত লোক শেষমেশ আত্মহত্যা করে ফেলল! সেই নিয়ে তো তোদের মহামান্য মুখে কুলুপ আঁটা! কথা সরবে না তো তখন!

    দিল্লির ভোটে হেরে গেলে ভোটচুরি, কিন্তু পাঞ্জাবে লোক মরলে চুপ! এই দ্বিচারিতার নাম কী? নাকি নাম দেওয়া হয় "প্রগতিশীল রাজনীতি"? নাকি "ধর্মনিরপেক্ষতার" সংজ্ঞা এটাই—যেখানে নিজের দলে মরলে "দুর্ঘটনা", আর অন্য দলে মরলে "ষড়যন্ত্র"?

    আর এই যে ৪৮ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম—এটা কি রাজনীতি? নাকি এটা সেই "বাঁশি"র সুর, যার ফুটোয় দিনের শেষে নিজেদের মুণ্ডু গলিয়ে দিতে হবে? আলটিমেটাম দিয়ে কেউ কখনও প্রধানমন্ত্রী হয়নি, আর এখানেও হবে না। তবে হ্যাঁ, "আলটিমেটাম-রাজনীতি" নামে একটা নতুন "আর্ট ফর্ম" তৈরি হয়েছে—যেখানে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা সময়সীমা ঠিক করতে হয়, আর সন্ধ্যায় সেটা ভুলে যেতে হয়। কী দুর্দান্ত "রণনীতি"! কী অসাধারণ "নেতৃত্ব"!

    পাঁচ: ট্রল, দালালি ও জাতীয়তাবাদের সরল হিসাব

    আর যদি ব্যক্তিগতভাবে যারা আমাকে ট্রল করেন—তাঁদের জন্য বলি। আমি দালালি করি। হ্যাঁ, করি। আমি জাতীয়তাবাদের দালালি করি, আমি সাংবাদিকতার দালালি করি। বেশ করি। কারণ এই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যদি দেশের পক্ষে কথা বলা "দালালি" হয়, তবে সেই "দালালি"-র শিরোনামে আমি গর্বিত। আর যারা এই "দালালি"-র বিরুদ্ধে সরব হন—তাঁরা কী? তাঁরা কি "দেশের" দালাল? নাকি "বিদেশের"? নাকি শুধুই "অন্ধকারের"?

    এই যে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে... থুড়ি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে "আন্দোলন"—এটা কী? এটা কি রাজনীতি? নাকি এটা সেই "বাঁশি"র সুর, যার ফুটোয় দিনের শেষে নিজেদের মুণ্ডু গলিয়ে দিতে হবে?

    আর এই "আন্দোলন" শব্দটা নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন আছে। "আন্দোলন" মানে কি রাস্তায় বসে থাকা? নাকি "আন্দোলন" মানে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা? নাকি "আন্দোলন" মানে টিভি চ্যানেলে টক-শো-তে চিৎকার করা? যদি এই তিনটার যেকোনও একটাই "আন্দোলন" হয়, তবে বাংলাদেশের রিকশাওয়ালা তো প্রতিদিন "আন্দোলন" করছে! কারণ সে তো প্রতিদিন রাস্তায় বসে থাকে, আর প্রতিদিন তার ফেসবুকে "আন্দোলনের" ছবি ওঠে!

    তবে একটা কথা স্বীকার করি—এই "দিমাগী নকশাল" বুদ্ধিজীবীরা "প্রতিবাদ"-এর যে মডেল তৈরি করেছেন, তা বড় চিত্তাকর্ষক। প্রথমে একটা সময়সীমা ঠিক করবেন। তারপর সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলে বলবেন, "সরকার সময়সীমা মানেনি!" তারপর আবার নতুন সময়সীমা দেবেন। তারপর আবার... এভাবে চলতেই থাকবে। এটাকে বলে "চক্রাকার প্রতিবাদ মডেল"—যেখানে প্রতিবাদের চেয়ে সময়সীমা বড় হয়ে যায়! আর সময়সীমা যত বড় হয়, ততই "আন্দোলন" দীর্ঘায়িত হয়! কী অসাধারণ!

    ছয়: খবর কাকে বলে, আর কে বলে সাংবাদিক

    শেষে একটা প্রশ্ন রেখে যাই—খবর কাকে বলে? খবর কি করে হয়? কারা সাংবাদিক, কারা নয়? এসব বড় বড় বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে দেখা যাক না ভবিষ্যৎ কী হয়। কে গাবজাল দিচ্ছিল আর কে নিজের কাজ করে যাচ্ছিল—সেটা তো আগামী দিনেই দেখা যাবে।

    তবে হ্যাঁ, একটা কথা বলা দরকার—যারা নির্বাচন কমিশনের চেয়ারে বসে থাকা লোকটাকে "দেশদ্রোহী" বলার সাহস দেখাচ্ছে, তাদের একবার আয়নায় মুখ দেখে নেওয়া উচিত। কারণ আয়না তো কখনও "দালালি" করে না। আয়না শুধু সত্য দেখায়। আর সেই সত্য হলো—এই দেশের মানুষ এখনও নিজের ভোট দিতে জানে। সে ভোট চুরি হয় না, সে ভোট কেউ চুরি করতে পারে না। আর যারা চুরির গল্প বলে জনতার মাথায় ঘোল ঢালতে চায়—তারা আসলে নিজেদের পরাজয়ের আতঙ্কেই অন্ধ হয়ে আছে।

    তাই আর চিন্তা নেই। একেবারেই চিন্তা নেই। রাহুল প্রধানমন্ত্রী হবেন—স্বপ্নে। মমতা মুখ্যমন্ত্রী হবেন—গল্পে। আর জ্ঞানেশ কুমার থাকবেন—চেয়ারে। এইটুকুই বাস্তব। বাকিটা কল্পনা। আর এই কল্পনার জগতে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের জন্য একটা পরামর্শ—একবার বাইরে বেরিয়ে আসুন। দেখুন, সূর্য এখনও পূর্বেই ওঠে। ভোটও পড়ে—মেশিনে। আর গোনা হয়—নির্বাচন কমিশনের চেয়ারে বসে থাকা লোকটার নজরদারিতে। এইটুকু মেনে নিলেই আর কোনও "ষড়যন্ত্র"-এর গন্ধ পাবেন না। আর না পেলে তো কথাই নেই!
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন।