এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ঘাসফুল ও হ্যামলিনের বংশীবাদক: একটি উত্তর-আধুনিক রূপকথা

    হারামির হাতবাক্স লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৮৩ বার পঠিত
  • আজকাল বাজারে সততার দাম ঠিক কত, সেটা জানার জন্য আপনাকে কোনো অর্থশাস্ত্রীর কাছে যেতে হবে না; পাড়ার মোড়ে নীল-সাদা রঙের একটা জীর্ণ ল্যাম্পপোস্ট দেখলেই বুঝবেন—এখানে উন্নয়ন এখন ফেরিওয়ালার হাঁকডাকের মতো। আমাদের প্রিয় রাজনৈতিক দলটির বিবর্তন অনেকটা সেই বিরিয়ানির আলুর মতো—আগে যা ছিল পার্শ্বচরিত্র, এখন তা-ই হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল আকর্ষণ। বাকি চাল-মাংসের (পড়ুন: সাধারণ জনতা) অস্তিত্ব এখন কেবল সেই আলুকে মহিমান্বিত করার জন্য।
     
    বাংলার আকাশ-বাতাস এখন এক অদ্ভুত 'ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে' বন্দি। আগে লোকে দলবদল করত আদর্শের টানে, এখন করে আর্দ্রতার টানে। বর্ষা নামলেই যেমন ব্যাঙেরা ডাক পাড়ে, তেমনি নির্বাচনের হাওয়া দিলেই এ-ফুল ও-ফুলে ঝাঁপ দেওয়াটা এখন কোনো নৈতিক স্খলন নয়, বরং একটি 'ফিটনেস রেজিম' মাত্র। শরীরের ফ্যাট ঝরানোর মতো করেই জননেতারা নিজেদের পুরনো আনুগত্য ঝরিয়ে ফেলছেন। এই যে অবলীলায় এক গেট দিয়ে ঢুকে অন্য গেট দিয়ে বেরিয়ে আসা—একে বেইমানি বলাটা বড়ই অর্বাচীনতা; এটা আসলে একপ্রকার রাজনৈতিক 'পার্কুর' (Parkour)।
     
    "দুর্নীতি এখন আর কোনো অপরাধ নয়, ওটা এখন এক ধরণের জীবনশৈলী বা লাইফস্টাইল। খামারে ঘাস বাড়লে গরু তো আসবেই, কিন্তু সমস্যা হলো ঘাস যখন নিজেই গরুকে খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়।"
     
    প্রশাসনিক এই সুশৃঙ্খল বিশৃঙ্খলা দেখে মনে হয়, আমরা আসলে এক বিরাট জাদুঘরের ভেতরে আছি। যেখানে উন্নয়নের পোস্টারগুলো রঙিন, আর সাধারণের জীবনটা সাদাকালো। দিদির সুরক্ষা-কবচ হোক বা দাদার জনসংযোগ—সবই যেন মঞ্চস্থ করা এক একটি মহাকাব্য। ক্যামেরার সামনে বৃদ্ধার পা ছুঁয়ে প্রণাম করা আর ক্যামেরার পেছনে সেই পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া—এই শিল্পকলা আয়ত্ত করতে অনেকগুলো 'তৃণমূল' স্তর পার হতে হয়।
     
    আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা কেউই এতে অবাক হই না। আমরা হাসিমুখে লাইনে দাঁড়াই—কখনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য, কখনো বা দুর্নীতির লাইনে নাম লেখাতে। আসলে এই দলটির বড় সাফল্য এটাই যে, তারা আমাদের মধ্যে থাকা সেই আদিম লোভটাকে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিয়েছে। এখন পকেটমার ধরা পড়লে পুলিশ তাকে মারধরের বদলে হয়তো জিজ্ঞেস করে, "ভাই, পার্সেন্টেজটা ঠিকমতো ভাগ করেছ তো?"
     
    বাঙালির চায়ের আড্ডায় এখন আর রবীন্দ্রনাথ নেই, আছে ইডি-সিবিআইয়ের রুট ম্যাপ। আমরা হাসছি, কারণ কান্নাটা এখন বড় বেশি মহার্ঘ। দেওয়ালে ঘাসফুল আঁকা আছে, আর আমরা সেই ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছি—একদিন নিশ্চয়ই এই ঘাস থেকেই ধান হবে। তবে সেই ধানে চাল হবে কি না, নাকি কেবলই চিঁড়ে ভেজানো নাটক—সেটা অবশ্য মহাকালের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার বিষয়।
     
    আপাতত, আসুন আর এক ভাঁড় চা খাই। চিনিটা একটু কম দেবেন, কারণ রাজ্যের রক্তে সুগার (পড়ুন: প্রশাসনিক অস্থিরতা) এমনিতেই বেশ চড়া।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • tuhin | 198.244.***.*** | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৮740048
  • আপনি সত্যি লিখেছেন। ফলে এখানে অনেকের জ্বলবে। আপনি লিখতে থাকুন। গুরুতে চটিচাটাদের দঙ্গলে একজন সৎ লেখক পেলাম।
  • albert banerjee | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৬740053
  • "আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা কেউই এতে অবাক হই না। আমরা হাসিমুখে লাইনে দাঁড়াই—কখনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য, কখনো বা দুর্নীতির লাইনে নাম লেখাতে" ---- কোনো নোট বন্দির বা SIR, জানি না আমি কোন দেশের হয়ে যাই। না আদৌ কোনো দেশ আছে কিনা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন