এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  প্রবন্ধ

  • গ্রেট নিকোবর: একটি সবুজ দ্বীপের ভাগ্য, একটি সভ্যতার প্রশ্ন

    সিংগল k
    প্রবন্ধ | ১৬ জুন ২০২৬ | ৯৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • গ্রেট নিকোবর: একটি দ্বীপের ভাগ্য, একটি সভ্যতার প্রশ্ন

    ভূমিকা: এই গল্প শুধু একটি দ্বীপের নয়
    আমাজনের কথা মনে আছে? ব্রাজিলের সেই অপার সবুজ — পৃথিবীর ফুসফুস — যেটাকে কয়েক দশক ধরে কেটে সাফ করা হচ্ছে? কখনো রাস্তার নামে, কখনো কৃষির নামে, কখনো উন্নয়নের নামে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কুবিচেক ১৯৫০-এর দশকে রাজধানী সরিয়ে ব্রাসিলিয়া বানালেন, সেই সূত্রে একটা হাইওয়ে গেল আমাজনের ভেতর দিয়ে, সেই হাইওয়ে ধরে মানুষ গেল, তারপর গেল কাঠ ব্যবসায়ীরা, তারপর রাঞ্চার্স, তারপর খনি কোম্পানি। প্রতিটা পদক্ষেপ আলাদা আলাদাভাবে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছিল। কিন্তু মিলিয়ে দেখলে? একটা মহাবিপর্যয়।
    সোভিয়েত ইউনিয়ন — যারা পুঁজিবাদের ঘোর বিরোধী ছিল — তারা তুলো চাষের জন্য আরল সাগরের জল সরিয়ে নিল। একসময়ের পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ আজ মরুভূমি। কঙ্গোর কোবাল্ট, ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল, আমেরিকার পুরনো বনভূমি — গল্পটা সব জায়গায় এক। শুধু অভিনেতা বদলায়, চিত্রনাট্য বদলায় না।
    তাহলে প্রশ্নটা মতাদর্শের নয়। পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র — কোনোটাই এই প্রলোভন থেকে মুক্ত নয়। প্রশ্নটা হলো ক্ষমতা আর জবাবদিহিতার। যখন ক্ষমতা একদিকে কেন্দ্রীভূত হয় আর প্রকৃতি ও মানুষ দুর্বল থাকে — তখন যা হওয়ার তাই হয়।
    এই প্রেক্ষাপটে আসুন কথা বলি গ্রেট নিকোবর দ্বীপের কথা। এটা শুধু একটি দ্বীপ বাঁচানো বা না বাঁচানোর গল্প নয়। এটা একটা সভ্যতার প্রশ্ন — আমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত নিই, কার জন্য নিই, আর কে সেই সিদ্ধান্তের মূল্য চোকায়।

    প্রথম পর্ব: দ্বীপটা আসলে কী?
    আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একদম দক্ষিণে, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে — গ্রেট নিকোবর। মাত্র ৮৬৫ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপে বাস করে মাত্র আট হাজার মানুষ। কিন্তু এই ছোট্ট দ্বীপটি পৃথিবীর অন্যতম বিরল জীববৈচিত্র্যের আধার।
    এখানে আছে লেদারব্যাক কচ্ছপ — পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কচ্ছপ, যারা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই সৈকতে ডিম পাড়তে আসে। আছে নিকোবর মেগাপড — এমন একটি পাখি যে মাটিতে গর্ত করে ডিম পাড়ে এবং সূর্যের তাপেই সেই ডিম ফোটে। আছে নোনা জলের কুমির। আছে এমন অনেক প্রজাতির গাছ ও প্রাণী যারা শুধু এই দ্বীপেই পাওয়া যায় — পৃথিবীর আর কোথাও নয়।
    আর আছে শম্পেন উপজাতি। ভারতের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির একটি। বাইরের পৃথিবীর সাথে তাদের যোগাযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। তারা এই বনেই বেঁচে আছে — হাজার হাজার বছর ধরে।
    এই দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থানও অসাধারণ। মালাক্কা প্রণালীর মুখে — পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রপথের একটির ঠিক কিনারায়। প্রতি বছর যে পরিমাণ সামুদ্রিক বাণিজ্য এই পথে হয়, তার পরিমাণ কল্পনাতীত।
    এই দ্বীপে ভারত সরকার ৮১,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছে।

    দ্বিতীয় পর্ব: প্রকল্পটা আসলে কী — এবং সেটা কি আদৌ নিশ্চিত?
    ২০২১ সালে ঘোষিত এই প্রকল্পে আছে —
    একটি আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। একটি বিমানবন্দর। সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের জন্য একটি শহর। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি বাস্তবায়ন করবে ANIIDCO — আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সমন্বিত উন্নয়ন নিগম।
    এখানেই প্রথম প্রশ্ন জাগে।
    বর্তমানে গোটা আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ চলে ডিজেল জেনারেটরে। বিদ্যুতের এই দুর্বল পরিকাঠামোয় একটি বিশাল আন্তর্জাতিক বন্দর আর শহর চালাবে কীভাবে? সরকার বলছে সৌর, বায়ু আর তরঙ্গশক্তিতে — নবায়নযোগ্য শক্তিতে।
    কিন্তু একটু ভাবুন। একটি ২৪ ঘণ্টা চলা আন্তর্জাতিক বন্দর এবং বিমানবন্দরের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই। সৌর বা বায়ুশক্তি প্রকৃতির মর্জির উপর নির্ভরশীল — রাতে সূর্য নেই, ঝড়ে বায়ুকল বন্ধ হয়। এই অঞ্চলে ভূমিকম্প আর সুনামির ইতিহাস আছে। তাহলে এই শক্তি পরিকল্পনা কি আদৌ বাস্তবসম্মত?
    অথচ ভারত রাশিয়া থেকে ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তি পেতে পারত। রাশিয়ার আকাদেমিক লোমোনোসভ ২০১৯ সাল থেকে সফলভাবে চলছে। এই প্রযুক্তি এই ধরনের প্রত্যন্ত দ্বীপের জন্য আদর্শ। কিন্তু সেটা বেছে নেওয়া হয়নি।
    কেন? হয়তো কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র "সবুজ উন্নয়ন"-এর গল্পে মানায় না। আর "সবুজ" তকমাটা দরকার — বিরোধিতা ঠেকাতে।

    তৃতীয় পর্ব: কার অনুমতি নিয়ে?
    ২০২২ সালে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হলো। কিন্তু কীভাবে?
    বন অধিকার আইন ২০০৬ বলে — যেকোনো বনভূমি অধিগ্রহণের আগে সেখানকার আদিবাসী ও বনবাসীদের গ্রামসভার সম্মতি বাধ্যতামূলক। এই আইনটি কে তৈরি করেছিলেন? মীনা গুপ্তা — তৎকালীন উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব।
    এই মীনা গুপ্তাই এখন কলকাতা হাইকোর্টে PIL করেছেন। কারণ তিনি অভিযোগ করেছেন যে তাঁর নিজের লেখা আইনটিই ভাঙা হয়েছে।
    অভিযোগ কী?
    যে গ্রামসভাগুলি বনভূমি হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছে, সেগুলি আসলে অ-আদিবাসী বসতি স্থাপনকারীদের পঞ্চায়েত — শম্পেন বা নিকোবরী আদিবাসীদের বৈধ প্রতিনিধি নয়। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বন অধিকার কমিটি গঠনের কোনো নথি নেই। কোরাম পূর্ণ হয়নি। আর যে উপজাতীয় কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল — সেই কাউন্সিল পরে নভেম্বর ২০২২-এ সেই সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
    সরকার সেই প্রত্যাহার উপেক্ষা করে এগিয়ে গেছে।
    মীনা গুপ্তা কে? শুধু একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা নন। তিনি বন অধিকার আইনের স্রষ্টা। তিনি ওড়িশার নিয়ামগিরি পাহাড়ে বেদান্ত কোম্পানির বক্সাইট খনির বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছিলেন — সেই মামলায় আদিবাসীরা জিতেছিল। তিনি শৈশবের একাংশ কাটিয়েছেন আন্দামান-নিকোবর দ্বীপে।
    সরকারের আইনজীবী আদালতে তাঁকে "হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা, এই মামলায় কী স্বার্থ?" বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
    কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরা সেই আপত্তি নাকচ করে দিয়েছেন।

    চতুর্থ পর্ব: বাংলার সাথে এই মামলার যোগ
    এখানেই বাংলার পাঠকের একটু সরাসরি সম্পর্ক আছে।
    আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিচার বিভাগ কলকাতা হাইকোর্টের অধীনে। পোর্ট ব্লেয়ারে কলকাতা হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ আছে।
    মীনা গুপ্তার PIL-এর বিচার করছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত — ২৩ জুন ২০২৬।
    মাত্র কদিন পরে।
    মে মাসে আদালত স্পষ্ট বলেছে — "জাতীয় গুরুত্ব আছে মানেই কোনো প্রকল্প আইনের ঊর্ধ্বে নয়।" শম্পেন ও নিকোবরী জনগোষ্ঠীকে আদালত বলেছে "অত্যন্ত ভঙ্গুর" — এবং PIL গ্রহণ করেছে।
    সরকার এই PIL বারবার আটকানোর চেষ্টা করেছে। প্রতিবার ব্যর্থ হয়েছে।
    এবার একটু থামুন। পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার। কেন্দ্রেও বিজেপি। কলকাতা হাইকোর্ট যদি ২৩ জুন গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের বিরুদ্ধে কোনো রায় দেয় বা স্থগিতাদেশ জারি করে — তাহলে কী হতে পারে?
    ইতিহাস বলে — যখন কোনো প্রতিষ্ঠান অসুবিধাজনক হয়ে ওঠে, সেই প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠিত হয়।
    আন্দামান-নিকোবরের জন্য একটি আলাদা হাইকোর্ট তৈরি করা সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণ সম্ভব। পোর্ট ব্লেয়ারে কোর্টের পরিকাঠামো আছে। সেটাকে "স্বাধীন হাইকোর্ট"-এ রূপান্তর করতে শুধু একটি সংসদীয় সিদ্ধান্ত দরকার। এবং প্রশাসনিক সুবিধার নামে এটি ঘোষণা হলে কেউ আপত্তি করার সুযোগ পাবে না।
    বাংলার সাথে আন্দামানের সম্পর্ক শুধু প্রশাসনিক নয়। সেলুলার জেলে যে বাঙালি বিপ্লবীরা নির্বাসিত হয়েছিলেন — বারীন্দ্র ঘোষ, বটুকেশ্বর দত্ত — তাঁদের রক্তে ভেজা সেই মাটির বিচার এখনো কলকাতার হাতে। ২৩ জুনের পর হয়তো থাকবে না।

    পঞ্চম পর্ব: তেলের গল্প — থ্রিলারের মোড়
    এতক্ষণ যা পড়লেন সেটা তো ছিল পরিচিত গল্প — বন কাটা, আদিবাসী উচ্ছেদ, আদালতের লড়াই। এবার একটু অন্যরকম মোড়।
    ২০২০ সালে — গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ঘোষণার ঠিক আগে — ভারত সরকার প্রায় তিন দশকের বিরতির পর আন্দামান সাগরে সমুদ্র-তলের জরিপ (seismic survey) শুরু করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এল ব্ল্যাকফোর্ড ডলফিন — একটি ৫২ বছর পুরনো সেমি-সাবমার্সিবল তেল-অনুসন্ধান রিগ। নরওয়েজিয়ান কোম্পানির এই রিগটি উত্তর সাগর থেকে শুরু করে গানা, ব্রাজিল, মেক্সিকো ঘুরে এসেছে।
    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ঘোষণা করলেন — শ্রী বিজয়াপুরম-২ কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
    এবং তারপর এলো সেই ঘোষণা যা সবাইকে চমকে দিল — "ভারত হয়তো আন্দামান সাগরে গায়ানার মতো বিশাল তেলক্ষেত্র আবিষ্কার করতে চলেছে।"
    গায়ানা! দক্ষিণ আমেরিকার সেই ছোট্ট দেশ যেখানে এক্সনমোবিল ৪০টি কূপ খুঁড়ে ১১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল পেয়েছে — যা রাতারাতি দেশটির ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
    কিন্তু একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন।
    রিগ এলো অক্টোবর ২০২৪-এ। গ্যাসের ঘোষণা সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ। মাত্র ১১ মাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন একটি অনুসন্ধান কূপ থেকে মাঠের আকার নির্ধারণ করতে কয়েক বছর লাগে। গায়ানাতে ২০১৫ সালে প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল — উৎপাদন শুরু হয়েছে ২০১৯-এ, চারটি বছর পর, ৪০টি কূপের পর।
    আর প্রথম কূপটি — শ্রী বিজয়াপুরম-১ — কিন্তু শুকনো। কোনো গ্যাস নেই। এই তথ্যটি কোনো সরকারি ঘোষণায় আসেনি। এটি জানা গেছে দ্বিতীয় কূপের ঘোষণায় লুকিয়ে থাকা একটি বাক্য থেকে।
    ONGC-র দুটি আল্ট্রা-ডিপওয়াটার কূপেও কোনো ঘোষণা নেই — শিল্পমহলে নীরবতা সাধারণত শুকনো কূপের ইঙ্গিত।
    তৃতীয় কূপের ঘোষণা এলো ৫ জুন ২০২৬-এ — ২৩ জুনের PIL শুনানির ঠিক আঠারো দিন আগে।
    কাকতালীয়?

    ষষ্ঠ পর্ব: কে লাভবান হবে?
    এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — এই সবকিছুতে কার লাভ?
    প্রথম স্তর — গাছ কাটার ঠিকাদার। প্রথম পর্যায়েই সাত লক্ষ এগারো হাজার গাছ কাটা হবে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টের সেগুন, পদৌক, গুরজান কাঠের বাজারমূল্য বিপুল। এই কাঠের ঠিকা পেলে রাতারাতি কোটিপতি হওয়া যায়। বন্দর সফল হোক বা না হোক — গাছ তো কাটা হয়ে যাবেই।
    দ্বিতীয় স্তর — নির্মাণ কোম্পানি। ৮১,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প। ৩০ বছরের নির্মাণ। L&T, Afcons, JSW — এরা ইতিমধ্যে আগ্রহপত্র জমা দিয়েছে।
    তৃতীয় স্তর — বন্দর পরিচালক। আদানি পোর্টস-এর নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রস্তাবিত মডেল হলো — সরকার ৭০% নির্মাণ খরচ বহন করবে, বেসরকারি কোম্পানি ৩০% বিনিয়োগ করবে, কিন্তু পরিচালনার সম্পূর্ণ অধিকার পাবে। আরও আছে — প্রথম সুযোগের অধিকার (Right of First Refusal) যা ভবিষ্যতে দ্বীপে আর কোনো প্রতিযোগী আসতে পারবে না।
    চতুর্থ স্তর — জমি ফটকাবাজ। পোর্ট ব্লেয়ারে ইতিমধ্যে গ্রেট নিকোবরের জমি কেনার বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসছে। সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের শহর হলে জমির দাম যা হবে — সেটা এখনই কেউ কেউ বুঝে গেছেন।
    পঞ্চম স্তর — তেল কোম্পানি। গ্রেট নিকোবরের বন্দর, বিমানবন্দর, শহর — এই পুরো পরিকাঠামো ভবিষ্যতে আন্দামান সাগরের অফশোর তেল উত্তোলনের লজিস্টিক ঘাঁটি হিসেবেও কাজ করতে পারে। সরকারের টাকায় বানানো পরিকাঠামো, তেল কোম্পানির সুবিধায়।
    সবচেয়ে অদৃশ্য স্তর — আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ৮১,০০০ কোটি টাকা মানে বিশাল ব্যাংক ঋণ, বন্ড, বিমা, পরামর্শ ফি। এই স্তরটি কখনো খবরে আসে না।

    সপ্তম পর্ব: সরকার নিজেই বিভ্রান্ত?
    এখানে একটি অদ্ভুত তথ্য।
    ২০২৪ সালের আগস্টে অর্থ মন্ত্রণালয়ের Public Investment Board জানিয়েছে — এই প্রকল্পের কোনো স্পষ্ট কৌশলগত উদ্দেশ্য নেই।
    তারপর ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একই প্রকল্পকে "কৌশলগত" বলে ঘোষণা করল।
    একই প্রকল্প, একই দ্বীপ, একই পরিকল্পনা। এক বছরের মধ্যে "কৌশলগত উদ্দেশ্যহীন" থেকে "জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য" হয়ে গেল।
    কৌশলগত তকমার সুবিধা? তথ্য জানার অধিকার আইন (RTI) প্রযোজ্য নয়। সংসদে প্রশ্ন করা কঠিন হয়ে যায়।
    সমালোচকরা বলছেন — সামরিক অংশ আসলে মোট প্রকল্প এলাকার মাত্র ৫%। বাকি ১৬০ বর্গকিলোমিটার বাণিজ্যিক। এই বাণিজ্যিক প্রকল্পকে সামরিক বলা কতটা সৎ?

    শেষ কথা: পাথর গড়িয়ে দেওয়ার সময়

    আমরা কি শুধু দর্শক?
    বাংলার সাথে আন্দামানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, আবেগের, সাংস্কৃতিক। সেলুলার জেলের কথা আমরা ভুলিনি। সেই দ্বীপের বিচারের দায়িত্ব এখনো কলকাতার হাতে।
    ২৩ জুন — ঠিক আর কদিন পরে — কলকাতা হাইকোর্টের বেঞ্চ হয়তো একটি ঐতিহাসিক রায় দেবে। অথবা দেবে না। কিন্তু বাংলার মানুষ যদি এই মুহূর্তে জানেন — তাহলে অন্তত জবাবদিহিতার একটা চাপ থাকে।
    গ্রেট নিকোবরের লেদারব্যাক কচ্ছপ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সেই সৈকতে ডিম পেড়েছে। শম্পেনরা হাজার হাজার বছর সেই বনে বেঁচেছে। সেই গল্পটা কি এখানেই শেষ হয়ে যাবে?
    সেটা ঠিক করার একটু সুযোগ হয়তো আছে — এখনো।
    _______________________________________________________________________
    তথ্যসূত্র: Mongabay India, The Wire, The India Forum, Time Magazine (জুন ২০২৬), LiveLaw, Bar and Bench, ONGC ও Oil India-র সরকারি ঘোষণা, কলকাতা হাইকোর্টের আদেশ (মে ২০২৬)
    এই লেখাটি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। এটি অনুসন্ধানমূলক প্রবন্ধমাত্র — পাঠক নিজেই বিচার করুন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • | ২৪ জুন ২০২৬ ১২:০৯747815
  • আমি স্ক্রোলেরগুলোই পড়েছি সবকটা। সেখান থেকেই ম্যাপ বদলে প্রবাল অদৃশ্যের গল্পটা।পেয়ে এখানে লিখেছিলাম। সরি লিংক কটাও দেওয়া উচিৎ ছিল।
     
    কি বলব কেলোদা শাঁসেজলে পুষ্ট মানুষদের সারাদিনে একটা স্কোয়ার মিল না পাওয়া বাচ্চাদের ডিম না খেতে দেওয়া নিয়ে এমন নীচতা দেখছি যে আর কিছুই লিখতে পড়তে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে হিমালয়ের কোন ফোন নেটওয়ার্কের বাইরের গ্রামে গিয়ে বসে থাকি।
    দুদ্দুদ্দুর্র
  • k | ২৪ জুন ২০২৬ ১৩:০৬747816
  • দমদি, হিমালয়ে গেলে ধর্মটাও করুন।
    মাননীয় শ্রীল প্রভুপাদ এ সি ভক্তিবেদান্তস্বামী, মানে শ্রী অভয় চরন দে র পৈতৃক বাড়ি হল আমার পাডায় তস্য গলির ভেতরে। ওনাদের বাড়িতে কদিন আগেও গোভিন্দা রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আসত দুবেলা। এখনও আসে হয়ত। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যেমন বলেছেন, সে খাবারের স্বাদগন্ধ মন্দ নয়। কিন্তু মুখে তোলার আগে হাত তুলে নাত্সী কায়দায় 'হাইল-কৃষ্ণা' না কি যেন বলা আবশ্যিক। এটাতে আপত্তি থাকতে পারে ভেবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সেটা মকুব করে দিয়েছেন। অবশ্য গোভিন্দা রেস্টুরেন্টার ফাইভ স্টার এগলেস কেক স্কুলের বাচ্চাদের জুটবে না নিশ্চয়ই, কিম্বা জুটলেও জন্মাষ্টমীর দিন একটা ছোট পিস জুটতেও পারে। মাননীয় দে মহাশয়রা সোনার দোকান থেকে কোনদিনই এরকম রমরমা প্রতিপত্তি করে উঠতে পারতেন না।ধর্ম অতি উত্তম ব্যবসা। হিমালয়ে গিয়ে অর্ধেক কাজ তো এগিয়েই রাখছেন, বাকিটাও বাদ দেবেন না।
    আমার হয়েছে মুস্কিল, আন্ডা ও আন্ডামান দুইই আমি ছাড়তে পারব না। ধর্মের সঙ্গেও এগুলোর বিশেষ যোগ নেইকো।
  • b | ২৪ জুন ২০২৬ ১৩:০৯747817
  • কেন ?আপনি কি ব্রহ্মান্ডের বাইরে?
  • সিংগল k | ২৯ জুন ২০২৬ ০১:০০747842
  • স্ক্রোলের মত মঙ্গাবে ও নিকোবর প্রজেক্টের ইকোলজিক্যাল বিষয়গুলো (কিছু আইনি বিষয়ও) খুব ভাল কভার করছে। তাই মঙ্গাবে থেকে কয়েকটি দরকারী লিঙ্ক এখানে দিয়ে রাখি, পড়তে চাইলে পড়তে পারেন, পড়ে ভাল (বা খারাপ) লাগবে-

    এর মধ্যে প্রথম লিঙ্কটা অবশ্য গ্রেট নিকোবর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। কিন্ত এখানে বলা পদ্ধতিগুলো অনুসরন করেই কোরাল রেস্টোরেশন কিম্বা ট্রান্সলোকেশন করা হয়। তাই এটা পড়লে ঐ নিকোবরের ফিউচার ট্রান্সলোকেশনের ব্যাপারটা বুঝতে আর অসুবিধা হবে না। প্রচুর চিত্রও আছে যা দেখলে কোরাল রেস্টোরেশন/ট্রান্সলোকেশনের চিত্রটাও পরিস্কার হয়ে যাবে-
    https://india.mongabay.com/2026/05/how-are-degraded-coral-reefs-restored-in-india-explainer/

    ২০২২ এর এই আর্টিকেলটায় গ্রেট নিকোবর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের খুব বিস্তারিত বিবরন ছিল ম্যাপসহ। তার পর আবশ্য বহু পরিবর্তন এবং গোলপোস্ট স্থানান্তর হয়েছে। তাও এই আর্টিকেলের এখনো একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।
    https://india.mongabay.com/2022/10/maps-environmental-path-cleared-for-great-nicobar-mega-project/

    ২০২৪ এর আর্টিকেল দেখলে বুঝতে পারবেন কিভাবে গোলপোস্ট সরানোর খেলা শুরু হয়েছিল-
    https://india.mongabay.com/2024/08/national-coastal-body-says-great-nicobar-project-no-longer-in-prohibited-zone-making-way-for-a-port/

    ২০২৫ এর গোড়ার দিকের এই আর্টিকেলটা নানারকম দরকারী তথ্যে ভর্তি। বিশেষ করে বহু রেফারেন্স আছে যাতে অ্যানিডকো র নানা ইন্টারেস্টিং ডকুমেন্টের লিঙ্ক রয়েছে। বেশ কিছু লিঙ্ক কাজ করবে না, কারন অ্যনিডকো সেগুলো পাব্লিক ভিউ থেকে হটিয়ে দিয়েছে পরবর্তীকালে। তাই কোনো ডকুমেন্ট মনে ধরলে বা পরে কাজে লাগবে মনে হলে টুক করে নামিয়ে রাখতে ভুলবেন না-
    https://india.mongabay.com/2025/02/with-rs-80-crore-sanctioned-committees-begin-monitoring-great-nicobar-development-project/

    আর এই শেষ তিনটে লিঙ্ক হল গিয়ে ক্রনোলজিক্যালি কোর্ট কেস সম্পর্কিত রিপোর্টিং -

    ১) ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইবুন্যালে ঐ প্রজেক্টের কনফিডেনশিয়ালিটি চ্যালেঞ্জ -
    https://india.mongabay.com/2025/08/a-new-submission-challenges-confidential-report-on-the-great-nicobar-island-plan/

    ২) ট্রাইবাল লিডারদের পিছু হটা -
    https://india.mongabay.com/2026/01/asked-to-surrender-land-for-the-great-nicobar-project-tribal-leaders-say-no/

    ৩) আমাদের কলকাতা হাইকোর্টে মীনা গুপ্তার পাব্লিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের ওপর এটি লেখা ২০২৬ এর মে মাসে-
    https://india.mongabay.com/short-article/2026/05/high-court-bench-to-hear-pils-challenging-great-nicobar-clearance/

    এবার আমাদের কাজ সাতই জুলাই ঐ মামলার পরবর্তী ডেভালাপমেন্টের ওপর নজর রাখা।
  • | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩০747909
  • সিংগল k | ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩১747917
  • এটা কি গণশক্তির রিপোর্টি? কবে কত তারিখ হয়েছিল ইভেন্টটা, ইভেন্টটার নাম কি ছিল, সে সব নিয়ে টুঁ শব্দটি নেই। কোথাও লেখা বৃহষ্পতিবার, কোথাও লেখা শুক্রবার। একবার 'অমুক' শীর্ষক আলোচনাসভা লিখতে কি কলম ভেঙ্গে যেত ?
    তবুও বামেরা ভাবছেন, আলোচনা করছেন এবং তাঁদের কাগজে কিছু হলেও বের করছেন বলে তাঁদের লাখো লাখো লাল সেলাম। সিরিয়াসলি!
    সবাই জানে এত বর্গ কিলোমিটার বা হেক্টর বা একরের এত শতাংশ গাছ কেটে ফেলা খারাপ। ঐ পরিসংখ্যান সাধারন মানুষের মনে কোন দাগ কাটবে না। কারন তারা সরকারের পক্ষ থেকে এও শুনতে পাচ্ছেন যে ঐ প্রজেক্ট হল 'গেম চেঞ্জার', একবার হয়ে গেলে ভারতের হাল ফিরে যাবে। সাধারন লোকে দু পক্ষের মাঝখানে পড়ে কাউকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে সমর্থন করবে না। তারা অপেক্ষা করে দেখতে চাইবে কি হয়। সেটাই সরকার পক্ষকে জিতিয়ে দেবে এই খেলায়।
    সরকারের একই রকম প্রতিশ্রুতি ছিল - ডিমনিটাইজেশনের বেলায়, কোভিড সামলানোর বেলায়, SIR এর বেলায়। এগুলোয় কারা লাভবান হয়েছেন জানিনা, দেশও কত এগিয়েছে তার কোন সুস্পষ্ট তথ্য জানি না, কিন্তু আমি নিজে একজন সাধারন মানুষ হিসেবে বেজায় ভুগেছি এটুকু বলতে পারি। এগুলো করার সময় তালগোল পাকিয়ে গেলে সরকার নানারকম প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছিল, ( যাকে ইদানীং জুমলা বলে) পরে থিতিয়ে গেলে, আমরা আবার ডিম এনে ডিম খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, সরকারেরও আর কাউকে কৈফিয়ত্ দেবার দরকার থাকে না।
    মহামান্য SIR Tribunal যে গতিতে আবেদনের নিষ্পত্তি করছেন, ঐকিক নিয়মে তাতে ২৫ বছর সময় লাগবে সব আবেদনের নিষ্পত্তি করতে। কাউকে প্রবল হৈচৈ করতে দেখছেন সে নিয়ে? আগে কেম-ছো-ট্রাম্প, পরে জনগনের ওপর 'কড়াই' প্রয়োগ, সরকারের কোভিড নীতির অঙ্গ কেন ছিল তা কেউ প্রশ্ন করল? কিংবা ডিমনিটাইজেশনের ফাইন্যাল আউটকাম কি হল তা আপনারা কেউ জানেন?
    নতুন গাজর জনগনের সামনে ঝোলালে, সেটারও হাল আগের সরকারী পদক্ষেপগুলোর মত হবে কিনা, সেটা কে জিজ্ঞেস করবে? সাংবাদিকতাও তো ভারতে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। ভরসা একমাত্র বিরোধীদের মুখপত্রগুলো তারাও যদি উল্টোপাল্টা বকে, তবে আমরা যাই কোথায়।
     
    মজার গল্প বলি শুনুন এই ট্রান্সশিপমেন্ট ধামাকা নিয়ে--
    ভারতের প্রথম ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হল কেরালার ভিজিনঝাম ইন্টারন্যাশন্যাল ট্রান্সশিপমেন্ট হাব, যা আর বহু পোর্টের বা এয়ার পোর্টের মত আদানী গোষ্ঠীর পরিচালনাধীন। মাননীয় মোদীজী ক্ষমতা দখল করার দু বছরের মধ্যে ঐ পোর্টের ক্লীয়ারেন্স দিয়ে দিলেও মাত্র বছরখানেক হল সেটা তৈরি হয়ে চালু হয়েছে।
    এই কিছুদিন আগে, চালু হওয়ার এক বছরের মাথায় মনে হল সেটা কেমন চলছে একবার খোঁজখবর করি। পরিচিত সার্কলে, মানে সামুদ্রিক EIA করনেওয়ালাদের কাছে যা শুনলাম, AI দের জিজ্ঞেস করে তার সম্পূর্ন বিপরীত চিত্র পেলাম।
    এ আই রা সমস্বরে বলতে লাগল " Since starting trial operations, it has broken multiple national records". বুঝুন ঠ্যালা, ভারতের এটাই প্রথম এবং একমাত্র ট্রান্সশিপমেন্ট হাব। সে অন্য কার রেকর্ড ভাঙ্গবে? এই নেশনে আর কোন ট্রান্সশিপমন্ট হাব আছে, রেকর্ড ভাঙ্গার মত? এ আই দের ইনফর্মেশনের সোর্স খতিয়ে দেখতে কিছুটা ক্লীয়ার হল ব্যপারটা, দশটার মধ্যে নটাই হল আদানীদের সোর্স। হয় ঐ পোর্টের ওয়েবপেজ (আদানী পরিচালিত, এবং লোগোসহ), নয় আদানীদের পোর্ট এয়ারপোর্ট ম্যানেজ করার পার্ফম্যান্সের ডাটা, যাস্ট একই গোষ্ঠীর অন্য প্রতিষ্ঠানের, বা ঐ একই গোষ্ঠীর কোন ফেসবুক, ইন্স্টাগ্রাম বা অন্য স্যোস্যাল মিডিয়া পেজ। নয়ত আদানী গোষ্ঠীর কেনা কোন নিউজ মিডিয়ার প্রতিবেদন। বুঝতেই পারছেন...
    আরও মজার ব্যাপার হল, এক বছরের মধ্যে এরকম রেকর্ড ভাঙ্গা কর্মকুশলতার রেকর্ডের অধিকারী যে বন্দর তার গড় ভেসেল ওয়েটিং টাইম হল 0.13 দিন। শিপিং লাইনে মিডিয়ান ওয়েটিং টাইম মানে হল, আবেদন করার পর থেকে কোনো বন্দরের বার্থ পাওয়া পর্যন্ত সময়কাল। এটা যে বন্দরের যত কম, সে বন্দর হয় তত খালি, বা তত কর্মকুশল।
    এর থেকে কি করে বুঝবেন যে ঐ ভিজিনঝাম বন্দর খালি গড়ের মাঠ? নাকি অস্বাভাবিক কর্মদক্ষ?
    বুঝতে গেলে ডাটা খুঁজতে হবে যে ঐ পোর্ট তার টোটাল ক্যাপাসিটির কততে রান করছে। খুঁজতে গিয়ে তো চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল-
    শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের মিনিস্ট্রি অফ শিপিং এর - শিপিং এণ্ড ওয়াটারওয়েজ বলছে ঐ ভিজিনঝাম আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট তার চূড়ান্ত ক্ষমতার 130% ব্যবহার করেছে এই সময়ের মধ্যে। কাজেই ঐ 'গড় ভেসেল ওয়েটিং টাইম 0.13 দিন' শুধু যাস্টিফায়েডই নয়, বরং আণ্ডারস্টেটমেন্ট। ১৩০ শতাংশে রান করলে ওয়েটিং টাইম আরও কম হওয়ার কথা।
    দেখুন মাননীয় মোদীজী হ্যায় তো সবকিছুই মুমকিন হ্যয়। হয়ত সদ্য এক বছরে পা দেওয়া, এখনও ন্যশানাল হাইওয়ে বা রেলের সঙ্গে সেভাবে সংযুক্ত না হওয়া, ভিজিনঝাম পোর্ট বিশ্বের সবচে এফিশিয়েন্ট পোর্ট। মাননীয় মোদীজী স্রেফ আত্মপ্রচার বিমুখ বলে এসব পাঁচকান করতে চান না।
    তবে জাহাজীদের মধ্যে কোনো বন্দরের সুবিধা অসুবিধার কথা বেশীদিন গোপন থাকে না। কোন বন্দরে সুরা সস্তা কোন বন্দরে নারী, সেটা ছড়াতে যেটুকু সময় লাগে। তেমন রাজযোটক হলে ভিজিনঝাম হবে বিশ্বের সেরা বন্দর। মাত্র এক বছর এ খবর ছড়ানোর পকক্ষে যথেষ্ট নয়, পাঁচটা বছর যেতে দিন।
    এর পরেও আপনারা সরকার থুড়ি মাননীয় মোদীজীর বিরোধীতা করবেন গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট নিয়ে??
     
  • k | ০৫ জুলাই ২০২৬ ২২:৩১747921
  • ঐ কোনো এক বৃহষ্পতিবারের বা মতান্তরে শুক্রবারের আলোচনাসভা এবং ২ জুলাই তার রিপোর্টিং এর মধ্যবর্তী সময়ে, ৩০ শে জুন ২০২৬ এ একটা বড় ঘটনা ঘটছিল। সেটার জন্যই হাজারটা আজেবাজে গল্প বাদ দিয়ে আপনাদের ভিজিনঝামের গল্প শোনালাম।
    ভিজিনঝামে শুরুর দিকে মত্সজীবীদের পুনর্বাসন নিয়ে কিছু ঝাম হলেও এখন আর পরিবেশ বা মনুষ্য নিয়ে তেমন কোন ঝাম নেই। ঘাবড়াবেন না।
    ঐ তিরিশে জুন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিপিং কোম্পানি MSC (Mediterranean Shipping Company) তার টার্মিনাল বিনিয়োগ শাখা TiL-এর মাধ্যমে ভিজিঞ্জাম বন্দরের ৪৯% শেয়ার কিনছে।
    আপনারা বলতে পারেন -- এই তো, আপনি সরকারী ১৩০ শতাংশ পার্ফম্যান্সের ডাটায় জল খুঁজছিলেন, এখন দেখুন, MSC কি না জেনেশুনে এত বড় বিনিয়োগ করত?
    কে যে কি দেখে কি করে বা না করে সেটা বলা খুব মুস্কিল। কিন্তু এটাকে আমরা অন্যভাবেও দেখতে পারি।
    বলতে পারি - এর পরেও কি তাড়াহুড়ো করে গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট শুরু করার দরকার রইল?

    ক্লড সায়েবকে দিয়ে একটা লেখা লিখিয়েছি। সেটা এই থ্রেড শুরুর প্রবন্ধের দ্বিতীয় অংশও বলতে পারেন। যদিও প্রথম অংশ লেখার সময় এসব কিছুই ঘটে নি, ঘটবে যে, সে ধারনাও অন্তত আমাদের কারোর ছিল না।
    পরের পোস্টে ক্লড সায়েবের লেখাটা আমি যেমনকার তেমন তুলে দিচ্ছি। সময় পেলে পড়ে দেখবেন।
  • ক্লড সায়েবের অনুমতিক্রমে, সিংগল k | ০৫ জুলাই ২০২৬ ২২:৪৮747922
  • বাজার বলে দিল উত্তর: গ্রেট নিকোবরের বন্দর কি আদৌ দরকার?
    প্রথম পর্বের পর...
    গত মাসে এই ফোরামে গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ পোস্ট করেছিলাম। তারপর থেকে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যেগুলো সেই আলোচনাকে আরও জরুরি করে তুলেছে। তার মধ্যে একটি ঘটনা এতটাই নাটকীয় যে সেটা না বললে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
    গত ৩০ জুন ২০২৬ — মাত্র কদিন আগে — পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিপিং কোম্পানি তার পছন্দের কথা জানিয়ে দিল।

    ভিজিঞ্জাম: যে বন্দর আগেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে
    কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কাছে ভিজিঞ্জাম আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন।
    এরপর যা ঘটেছে সেটা ভারতীয় বন্দর ইতিহাসে নজিরবিহীন।
    মাত্র নয় মাসে ১০ লক্ষ TEU (কন্টেইনার পরিমাপের একক) — এটা ভারতের যেকোনো বন্দরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত। মাত্র ১৮ মাসে ২০ লক্ষ TEU পেরিয়ে গেছে। জুন ২০২৬-এ এক হাজারতম জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। এর মধ্যে ৭০টির বেশি Ultra Large Container Vessel — পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কন্টেইনার জাহাজ। ভারতের যেকোনো বন্দরে এত বড় জাহাজ এত বেশিবার আসেনি।
    ক্রেনের দক্ষতা — প্রতি ঘণ্টায় ৩০টির বেশি কন্টেইনার সরানো — যেটাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে "globally competitive" বলা হয়। তুলনায় কলম্বোর সেরা বেসরকারি টার্মিনাল CICT পায় ৩৫, আর SAGT পায় ৩০। মাত্র এক বছর চলার পরে ভিজিঞ্জাম কলম্বোর দীর্ঘদিনের বেসরকারি টার্মিনালের সমতুল্য দক্ষতায় পৌঁছে গেছে।
    বিশ্বব্যাংকের Container Port Performance Index-এ ভিজিঞ্জাম ইতিমধ্যে ৮৩তম স্থানে উঠে এসেছে।

    ৩০ জুনের চুক্তি: বাজার যখন সরাসরি বলে দেয়
    এখানেই আসল গল্পটা।
    ৩০ জুন ২০২৬-এ ঘোষণা হলো — পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিপিং কোম্পানি MSC (Mediterranean Shipping Company) তার টার্মিনাল বিনিয়োগ শাখা TiL-এর মাধ্যমে ভিজিঞ্জাম বন্দরের ৪৯% শেয়ার কিনছে। বিনিয়োগের পরিমাণ: ১৩,৯৭ কোটি ডলার — অর্থাৎ প্রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা।
    এটা ভারতের বন্দর খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ। এর আগের রেকর্ড ছিল জওহরলাল নেহরু বন্দরে PSA International-এর ১৩,০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ — সেটাও পেছনে পড়ে গেল।
    ভিজিঞ্জাম বন্দরের মোট মূল্যায়ন হয়েছে ২৮৫ কোটি ডলার — প্রায় ২ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। আর APSEZ (অর্থাৎ আদানি পোর্টস) ৫১% শেয়ার রেখে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছে।
    MSC এর আগেই ভিজিঞ্জামকে তার Jade Service-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে — যে রুট এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত যায়। এবং African Express Service-এও — যা ভারতকে সরাসরি পশ্চিম আফ্রিকার বন্দরগুলির সাথে যুক্ত করে।

    এই একটা চুক্তি গ্রেট নিকোবর নিয়ে কী বলে দিচ্ছে?
    গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের মূল বাণিজ্যিক যুক্তি ছিল: ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গোর ৭৫% বিদেশি বন্দরে যাচ্ছে — সিঙ্গাপুর, কলম্বো, কুয়ালালামপুর — এতে ভারতের বছরে ২০ থেকে ২২ কোটি ডলার বিদেশি মুদ্রা খরচ হচ্ছে। সেই ক্ষতি পোষাতে একটি বিশ্বমানের ট্রান্সশিপমেন্ট হাব দরকার।
    যুক্তিটা ঠিকই ছিল।
    কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান এখন হয়ে যাচ্ছে — গ্রেট নিকোবর ছাড়াই।
    MSC যে বিনিয়োগ করল, সেটা কোনো সরকারি ভর্তুকির ফল নয়, কোনো PIL না থাকার ফল নয়, কোনো বন সাফাইয়ের ফল নয়। এটা বাজারের স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিপিং কোম্পানি হিসাব কষে দেখেছে যে ভিজিঞ্জামই ভারত মহাসাগর অঞ্চলে তাদের পছন্দের ট্রান্সশিপমেন্ট ঘাঁটি।
    এই সিদ্ধান্তে কোনো রাজনীতি নেই, কোনো দেশপ্রেম নেই, কোনো ভূ-কৌশলের গল্প নেই। শুধু ব্যবসার হিসাব।

    ভিজিঞ্জাম বনাম গ্রেট নিকোবর: পাশাপাশি দেখুন
    এখানে একটি সহজ তুলনা, যা কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়া ছাড়াই বোঝা যায়।
    স্বাভাবিক গভীরতা: ভিজিঞ্জামে ১৮-২০ মিটার প্রাকৃতিক গভীরতা — কোনো ড্রেজিং ছাড়াই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ ভেড়ানো যায়। গ্রেট নিকোবরের গালাথিয়া উপসাগরে বিস্তর ড্রেজিং দরকার — সেই ড্রেজিং করতে গিয়েই ১৬,০০০-এর বেশি প্রবাল কলোনি সরাতে হবে।
    সংযোগ: ভিজিঞ্জাম থেকে রাস্তা ও রেলপথে মূল ভারতের সাথে সংযোগ আছে বা হচ্ছে। গ্রেট নিকোবর মূল ভূখণ্ড থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে — সমুদ্রপথ ছাড়া যোগাযোগের উপায় নেই।
    বিদ্যুৎ: ভিজিঞ্জাম কেরালার মূল বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে যুক্ত। গ্রেট নিকোবরে সৌর ও বায়ু শক্তির পরিকল্পনা — ২৪ ঘণ্টা চলা বন্দরের জন্য যা অপর্যাপ্ত।
    বাস্তুতন্ত্র: ভিজিঞ্জামের নির্মাণে বিতর্ক ছিল — মৎস্যজীবীদের উচ্ছেদ সমস্যা সহ — কিন্তু UNESCO Biosphere Reserve ধ্বংসের প্রশ্ন ওঠেনি। গ্রেট নিকোবরে ৭ লক্ষের বেশি গাছ কাটা, প্রবাল ধ্বংস, লেদারব্যাক কচ্ছপের বাসস্থান বিনাশ, এবং শম্পেন উপজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন।
    সময়: ভিজিঞ্জাম এখনই চলছে — MSC ইতিমধ্যে তার জাহাজ পাঠাচ্ছে। গ্রেট নিকোবর বন্দর চালু হতে — যদি হয় — আরও ১৫-২০ বছর লাগবে।
    খরচ: ভিজিঞ্জামের Phase 2 বিস্তারে ₹১৬,০০০ কোটি বিনিয়োগ হচ্ছে। গ্রেট নিকোবরে শুধু বন্দর অংশেই প্রাক্কলিত খরচ ₹৪১,০০০ কোটির বেশি।

    তাহলে গ্রেট নিকোবরে কী বানাতে চাওয়া হচ্ছে?
    এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
    ২০২১ সালে যখন প্রকল্পটি ঘোষণা হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল মূল উদ্দেশ্য ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। সেই উদ্দেশ্য এখন ভিজিঞ্জাম পূরণ করছে।
    ২০২৪ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের Public Investment Board নিজেই বলেছে প্রকল্পটির কোনো স্পষ্ট কৌশলগত উদ্দেশ্য নেই।
    তারপর ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একই প্রকল্পকে "কৌশলগত" ঘোষণা করল।
    তারপর আন্দামান সাগরে তেল-গ্যাস আবিষ্কারের ঘোষণা এলো — PIL শুনানির ঠিক আগে আগে।
    প্রতিবার একটা যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে নতুন যুক্তি হাজির হচ্ছে। কিন্তু একটা জিনিস স্থির থাকছে — ৮১,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প, ৭ লক্ষের বেশি গাছ কাটার পরিকল্পনা, এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র।
    সমালোচকরা বলছেন: প্রকল্পের বাণিজ্যিক লাভ যাই হোক, সত্যিকারের লাভবান হবে গাছ কাটার ঠিকাদার, নির্মাণ সংস্থা, বন্দর পরিচালক, জমি ফটকাবাজ — এবং ভবিষ্যতে হয়তো তেল কোম্পানিগুলো। বন একবার কাটা গেলে বন্দর সফল না হলেও তাদের ক্ষতি নেই।

    আদালতে কী হচ্ছে?
    প্রথম পর্বে জুন ২৩-এর শুনানির কথা বলেছিলাম। সেই তারিখটি আসলে আগেই পিছিয়ে গেছে। প্রাথমিক আদালতের নথি অনুযায়ী:
    মীনা গুপ্তার দায়ের করা তিনটি PIL — WPA(P) 12/2024, 16/2025, 17/2025 — কলকাতা হাইকোর্টের পোর্ট ব্লেয়ার সার্কিট বেঞ্চে বিচারাধীন। ১৩ মে ২০২৬-এর শুনানিতে সরকারের Additional Solicitor General জানিয়েছেন Attorney General of India নিজে এই মামলায় সরকারের হয়ে সওয়াল করবেন — তিনি বিদেশে থাকায় তারিখ পেছানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ: ৭ জুলাই ২০২৬, বিকেল ২টা।
    এই একটাই তথ্য বলে দেয় সরকার এই মামলাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের Attorney General ব্যক্তিগতভাবে একটি PIL-এ সওয়াল করতে আসছেন — এটা স্বাভাবিক নয়।
    একই শুনানিতে সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে: "প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি।"
    এই বিবৃতিটি আদালতের রেকর্ডে আছে। ৭ জুলাইয়ের শুনানির পর কী হয় সেটা দেখার বিষয়।

    বাংলার পাঠকের কাছে সরাসরি কথা
    আন্দামান-নিকোবরের বিচার এখনো কলকাতা হাইকোর্টের হাতে। সেই বিচার ৭ জুলাই হবে।
    মীনা গুপ্তা — যিনি বন অধিকার আইনের রচয়িতা, যিনি নিয়ামগিরি পাহাড়ে বেদান্তকে থামিয়েছিলেন — তিনি এখন আদালতে দাঁড়িয়ে আছেন শম্পেন উপজাতির হয়ে। তাঁর বাবা ছিলেন আন্দামানের PWD-র প্রধান প্রকৌশলী — সেই দ্বীপে তাঁর শৈশব কেটেছে।
    আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিপিং কোম্পানি মাত্র কদিন আগে ভিজিঞ্জামে ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা ঢেলেছে — যা বলে দিচ্ছে ভারতের ট্রান্সশিপমেন্টের ভবিষ্যৎ কোথায়।
    এই দুটো তথ্য পাশাপাশি রাখুন।
    তারপর ভাবুন: ৮১,০০০ কোটি টাকা, ৭ লক্ষের বেশি গাছ, একটি বিরল বাস্তুতন্ত্র, একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী — এবং প্রশ্নটা হলো, এই মূল্য দেওয়ার কারণটা আসলে কী?
    বাজার তার উত্তর দিয়ে দিয়েছে।
    আদালত ৭ জুলাই তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে।
    বাকি রইল আমাদের — সাধারণ মানুষের — উত্তর।

    তথ্যসূত্র: BSE India (Adani Ports official disclosure, 30 June 2026), Maritime Gateway, The Hans India, Economy Next, Explorate Freight Market Update (May 2026), Cubic Import Intelligence (May 2026), Seatrade Maritime News, কলকাতা হাইকোর্ট e-Courts পোর্টাল (WPA(P) 12/2024 case record)
  • | ০৫ জুলাই ২০২৬ ২৩:০৪747923
  • হ্যাঁ ওটা সম্ভবত গণশক্তিই। কোন বাংলা কাগজ লিখেছে এই দেখেই আহ্লাদিত হয়ে তুলে রাখলাম।
    ক্লড সায়েবের লেখাটা কাল পড়বো। আজ Sutlez দেখে ফেলে মন মাথা ভার হয়ে আছে। তারপরে আবার বারুইপুর।
  • সিংগল k | ০৬ জুলাই ২০২৬ ০০:১১747925
  • আন্দাজেই বলেছিলাম গণশক্তি।
    বিশ্বজুড়ে বামেদের এমন দিশা হারা দেখব কোনদিন ভাবি নি।
    কলম্বো ছিল এই এলাকার সেরা বন্দর। সে হিন্টারল্যাণ্ড হিসেবে পেত, শ্রীলঙ্কা, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান। একদিকে ছিল আফ্রিকার ইস্ট কোস্টের যোগসূত্র, ওদিকে তিনটি প্রণালীর জাহাজ তাকে ছুঁয়ে যেত - সুয়েজ, হরমুজ ও মলাক্কা।
    সেই কলম্বো বন্দরের পতনের পেছনে বামেদের অবদান প্রচুর।
    এই রইল আমার এআই কৃত গবেষণার অংশবিশেষ---
    The complete picture of Colombo's labor-driven decline
    Putting it all together, labor issues affect Colombo's competitiveness through at least five distinct channels:
    First, direct operational disruption — strikes, work-to-rule campaigns, and go-slows halt container handling at unpredictable moments, six ships sitting idle over a holiday overtime dispute being the most recent example.
    Second, automation blockage — union resistance has prevented the productivity improvements that all private terminals have achieved, leaving JCT at 21 moves per hour versus CICT's 35 — a 67% productivity gap that no amount of infrastructure investment can overcome without addressing labor relations.
    Third, infrastructure upgrade blockage — the ECT debacle, where union politics directly caused the collapse of a $500 million Japan-India infrastructure deal, leaving Colombo short of capacity precisely when it needed it most.
    Fourth, reputational damage to shipping lines — every strike and work-to-rule campaign is noticed by container shipping lines planning their route networks months in advance. MSC rerouting away from Colombo in August 2025 was the market's cumulative verdict on reliability.
    Fifth, political entanglement — port workers being pulled into national political strikes over issues entirely unrelated to port operations means Colombo's reliability is hostage to Sri Lanka's broader political stability in a way that Singapore or Rotterdam is not.

    ভিজিনঝামের কৃতিত্বে জল মেশানো হোক বা না হোক, এটা সত্য যে ভিজিনঝামের আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল সম্পূর্ণ অটোমেটেড এবং ডক লেবার ট্রেড ইউনিয়নের সমস্যামুক্ত। ভিজিনঝামের সাফল্যে উদ্ধুদ্ধ হয়ে আরও অন্যান্য বন্দর ঐ পথই নেবে।
    মানুষের হাতে আর কায়িক এবং মানসিক দু ধরনেের কাজই থাকবে না। এটা তো মার্কসবাদের প্রফিসিতেও আছে। কাজেই বাস্তব সত্য মেনে নিয়ে বামেদের উচিত মার্কসীয় পদ্ধতিতে হোক বা অন্য কোন পদ্ধতিতে কর্মসংস্থান ব্যতীত মানুষের অন্নসংস্থানের বিকল্প উপায় বের করা।
    আদানীরা তো আর এ নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।
  • satluz | ০৬ জুলাই ২০২৬ ০০:৫৪747926
  • সাইট থেকে নামিয়ে দিয়েছে সরকার
  • খগম | ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৩:০২747930
  • বাংলার সর্বনাশ করার পর এবার শকুনের চোখ পাঞ্জাবের দিকে পড়েছে:
     
     
    বাংলার জসওয়ন্ত সিংহ খালড়ারা কোথায়?
  • | ০৬ জুলাই ২০২৬ ১২:১৬747933
  • @00.54
    Dailymotion এ পাবেন বা টেলেগ্রামে। zee5 থেকে নামিয়েছে। punjub 1995 এর আনকাট ভার্সান ছিল ওটা।
  • খগম | ০৬ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৮747937
  • YouTube এ দেখুন
  • সিংগল k | ০৬ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৭747938
  • https://files.kmitra.in/share/gP-8w18K
    যাচ্চলে!!
    কাল তো আন্দামানের সার্কিট বেঞ্চে মীনা গুপ্তার মামলাটা লিস্টেড‌ই নয়।
    ওপরে কলকাতা হাইকোর্টের আন্দামান সার্কিট বেঞ্চের কালকের কজলিস্টের পিডি এফ টা দিলাম। ওতে ও মামলা নেই অবশ্য।
    একটাই জিনিস পরিষ্কার, সম্পূর্ণ নতুন ডিভিশন বেঞ্চ কাল বসছে, আগের বিচারপতিরা কেউই তাতে নেই। কালকের বেঞ্চে আছেন জাস্টিস সুগত মজুমদার এবং জাস্টিস ওম নারায়ন রাই।
    আবার কোথায় কি হল খুঁজিগে।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন