এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৭ মে ২০২৬ ২০:২৮553808
  • @Pagol,
    লেখাটা অরিজিতের। তবে গুরুতে পোস্ট ও করে নি। আপনার বক্তব্য জানাতে হলে ফেসবুকে যেতে হবে।
     
    যিনি পোস্ট করেছেন তিনি নিজে একটা নিক নিয়ে সেইটে নামের জায়গায় লিখে দেন আর লেখার বডিতে আসল লেখকের নাম প্রথমেই উল্লেখ করে দেন তাহলে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।
  • সিএস | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ২০:০৫553807
  • ভাজপার ইংলিশ মিডিয়াগুলো পুরোন ঘটনা রিপোর্ট করছে। আবাপ কিছু লেখেনি এখনো, খেলছে পেছনে।
  • সিএস | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ২০:০২553806
  • শুভেন্দু কী ফাঁদে পড়ে গেল !!
  • Pagol | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৯:৫৬553805
  • অরিজিৎ বাবু, অসাধারণ প্রাসঙ্গিক লেখা l
  • Arijit Mukherjee Facebook | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৯:০২553804
  • হিন্দুত্ব - বিজেপি স্টাইল, বা বলা ভালো আরএসএস স্টাইল - বাস্তবে কী জিনিস তাই নিয়ে আগে লিখে ফেলেছি। সামারি আর দিলাম না, এই লেখার নীচের হ্যাশট্যাগগুলো দিয়ে পেয়ে যাবেন, চাইলে দেখে নেবেন। তবে এই হিন্দুত্ব কখনওই সম্পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না ইতিহাসকে নতুন করে লেখা হবে। একশো কোটি হিন্দুকে টুপি পরাতে গেলে তো সেইটা লাগবে, হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটিতে যে ইতিহাস পড়ানো হবে, প্রমোট করা হবে...তো সেইটা একটু বলা দরকার। এই সিরিজে এইটাই শেষ লেখা। যা ওয়ার্নিং দেওয়ার ছিল, দিয়ে দিয়েছি।
    আরএসএসের কাছে ইতিহাস প্রমাণ বা যুক্তিনির্ভর বিষয় নয়। কোনোদিনই ছিল না। ইতিহাস ওদের অস্ত্র, আর এটা শুধু আরএসএস বলে নয়, পৃথিবীর যে কোনও স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির ক্ষেত্রেই সত্যি। অরওয়েলের ১৯৮৪ যদি পড়ে থাকেন (না পড়ে থাকলে অবশ্যই পড়বেন) সেখানে দেখবেন একটা কথা রয়েছে - "Who controls the past controls the future. Who controls the present controls the past" - স্বৈরতন্ত্রের কনটেক্সটে এই কথাটার মানে বোঝা অত্যন্ত জরুরী। ইতিহাসকে ওয়েপনাইজ করা গেলে অতীতের সেই ওয়েপনাইজড ন্যারেটিভকে ব্যবহার করে আপনি ভবিষ্যতের ন্যারেটিভ নির্মাণ করতে পারবেন, আপনার চাহিদামাফিক। আর, অতীতকে বদলে লিখতে গেলে, আপনার হাতে বর্তমানে ক্ষমতা থাকা চাই। আর ঠিক এইটাই এখন অফিশিয়ালি হচ্ছে। প্রায় একশো বছর ধরে যার পরিকল্পনা ছকা হয়েছে আরএসএসের দপ্তরে। আমরা যখন ফুটনোট আর ইতিহাসের বিভিন্ন পিরিয়ড ভাগ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, সেই সময়ে সঙ্ঘ ইতিহাস তৈরী করার একটা প্যারালাল কাঠামো বানিয়ে ফেলেছিল - সরস্বতী শিশু মন্দির, বিদ্যাভারতী, আরএসএসের শাখা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মন্দিরের চৌহদ্দি পেরিয়ে এসে সেই কাঠামো এখন গিলে ফেলেছে আমার আপনার স্মার্টফোনকেও। উদ্দেশ্য - অতীতকে বোঝা নয়, বরং একটা "হিন্দু কমন সেন্স" তৈরী করা যেটা একশো কোটি হিন্দুর মাথায় এমনভাবে গেঁথে যাবে যাতে কোনও যুক্তি, দলিল, নথি বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণও তাকে নড়াতে পারবে না। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল, এই টেকনিকটা দিব্যি কাজ করছে। প্রমাণ পাওয়া যায় সমাজমাধ্যম আর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে থাকা জঞ্জালের মধ্যে...যেগুলোকে ইতিমধ্যেই "ইতিহাস" বলে নর্মালাইজ করা হয়ে গেছে।
    বছরকয়েক আগে, এরকমই একটা অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলাম – পরিচিত একজন, বাস্তবে উচ্চশিক্ষিত, যথেষ্ট সিন্সিয়ার গবেষক - অথচ সাই দীপকের ইউটিউব ভিডিও "হিস্টরি, আইডেন্টিটি, ইন্ডিয়া" আর সঞ্জীব সান্যালের ইউটিউব ভিডিও "হাউ মাচ অফ ইন্ডিয়ান হিস্টরি ইজ রিয়েলি ট্রু" দেখেই সে মেনে নিয়েছে ভারতের ইতিহাস আমরা যা জানি, যা বলি, সব মিথ্যে, এই দুজনই নাকি আসল "ঐতিহাসিক"। সাই দীপক পরিচিত আরএসএস অ্যাক্টিভিস্ট, সুপ্রীম কোর্টের উকিল, যিনি শবরীমালায় মেয়েদের ঢুকতে দেওয়ার বিরুদ্ধে মামলা লড়েন। সঞ্জীব সান্যাল অর্থনীতিবিদ, ভারত সরকারের কী একটা উপদেষ্টা, তাঁর একমাত্র ক্রেডিবিলিটি এইটুকুই যে তিনি শচীন্দ্রনাথ সান্যালের বংশধর, আর শচীন্দ্রনাথ সান্যাল বিপ্লবী ছিলেন, আন্দামানে বন্দীও ছিলেন। একজন গবেষকের যে মানসিকতায় সে স্টেট অফ দি আর্টের পেপার খুঁজে পড়ে, ইতিহাসে ক্ষেত্রে কিন্তু সে সেই প্রশ্ন করার মানসিকতা ব্যবহার করেনি। রিসার্চের ভাষায় বলতে গেলে, ডীপ লার্নিং নিয়ে গুগলের ডীপ মাইন্ড বা স্ট্যানফোর্ড থেকে NeurIPS বা IJCAI-এ বের হওয়া পেপার ছেড়ে অ্যামিটি আর লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির সন্দেহজনক প্রিডেটরি জার্নালে পাব্লিশ করা পেপারের ওপর ভরসা করেছে। কারণ এদের দাবীগুলোর সাথে নিজের সাবকনশাসে থাকা ধ্যানধারণা মিলে গেছে। নিজের অপূর্ণ কিছু ইচ্ছে বা না পাওয়ার হতাশার জন্যে কাউকে দায়ী করার জন্যে লোক খুঁজে পেয়ে গেছে। নিজেকে ভিক্টিম হিসেবে ভাবছে আর সেইটাই দেখানোর চেষ্টা করছে। এইটাই সঙ্ঘের ইতিহাস নিয়ে পরিকল্পনার সাফল্য।
    এই ইতিহাস তৈরীর কিছু নমুনা দিলেই বুঝতে পারবেন কী বলতে চাইছি; সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঠিক কী কী ঘোরে ইতিহাসের নামে...স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের, এবং তাঁদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীদের ঠিক কী শেখানো হয়, তারও...
    সরকারের পয়সায়, দিল্লী ইউনিভার্সিটিতে কলেজ শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন কোর্সে, আরএসএসের "মার্গদর্শক" লজ্জা রাম তোমর গম্ভীরভাবে আউড়ে গেলেন [১] - আলোর গতিবেগ নির্ণয় করা হয়েছিল ঋগ্বেদেই; ব্রিটিশরা নাগপুর দখল করার পর টানা ছ'মাস ধরে সেখানে নদীগুলোতে জলের সঙ্গে বয়ে গেছিল গলা সোনা; প্যারিসে তৈরী হয়েছে মনু-র মূর্তি এবং তার নীচে ফলকে লেখা রয়েছে "বিশ্বের প্রথম আইনপ্রণেতা"; শুধুমাত্র পবিত্র অশ্বত্থ গাছ আর তুলসীগাছই অক্সিজেন উৎপন্ন করে; নাসার বিজ্ঞানীরা সূর্যের মুখ থেকে "ওম" শব্দ শুনতে পেয়েছেন।
    সার্কাস নয়, স্ট্যান্ড আপ কমেডিও নয়। একদম সরকারি পয়সায় আয়োজিত রাষ্ট্রপোষিত অ্যাকাডেমিক ইভেন্ট। এক্সপেকটেশন হল হবু কলেজ শিক্ষকরা এইগুলোকেই ইতিহাসের শিক্ষা বলে আত্মস্থ করে নেবেন। বিশ্ব বিজ্ঞান সম্মেলনে গণেশের মাথাকে আধুনিক প্লাস্টিক সার্জারির নমুনা হিসেবে দেখানো এই কর্মকান্ডেরই ফসল।
    ১৯৭৩ সালে আরএসএস-এর তৈরী অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংকলন যোজনা (ABISY) নামের এক বিশেষ ঐতিহাসিক গবেষণা শাখার পত্রিকা "ইতিহাস দর্পণ" নিজেকে ফুটনোট, রেফারেন্স আর চকচকে ম্যাপওয়ালা সিরিয়াস স্কলারলি জার্নাল হিসেবে দেখায়। কিন্তু এর যে কোনও একটা সংখ্যা খুললেই আপনি ঢুকে যাবেন পুরাণ ও কল্পনার জগতে। প্রথম পাতায় হেডগেওয়ার আর গোলওয়ালকরের ছবি। পাশে গণেশের লোগো। প্রবন্ধগুলো প্রায় সবই এমন লোকজনের লেখা যাদের সঙ্গে কোনও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও যোগাযোগ নেই। এবং সম্পূর্ণ র‍্যান্ডম দাবিদাওয়া ভর্তি সব লেখা। ইংরিজীতে লেখা প্রবন্ধে নানান অ্যাকাডেমিক প্রচেষ্টা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সবই ফাঁকা বুলি। যেমন, ২০১৬ সালের এপ্রিলে, কোনও এক মহাবীর প্রসাদ জৈনের প্রবন্ধ, A Brief Survey of the Politics of Indian Historiography-তে রেফারেন্স হিসেবে লেখা রয়েছে - "a large number of articles available on various websites" - সমস্যা হল, এই সাইটেশনের কোনও মূল্যই নেই ইতিহাসের চর্চায় [২]। আরও অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে ইতিহাস দর্পণের প্রতিটি সংখ্যায়। যেমন, জনৈক অরুণ কুমার লেখেন যে আধুনিক বিজ্ঞানের উৎস বেদ। রেফারেন্স? নেই [৩]। যেমন, জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে মনুস্মৃতি প্রতিনিয়ত বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উপকারী "সামাজিক বিধান"; কিন্তু সজ্ঞানে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে যে সেই মনুস্মৃতিই বেদপাঠ শুনে ফেলা শূদ্রের মৃত্যুদণ্ডের বিধান দেয়, বা মেয়েদের চিরদাসীত্বের বিধান দেয় [৪]।
    ইতিহাস নয়। কালাজ্বরের মত "গেরুয়াজ্বর"-এর ঘোরে দেখা স্বপ্ন।
    সবচেয়ে বীভৎস বিকৃতিগুলো বরাদ্দ রাখা হয়েছে মুসলমানদের জন্যই। সাভারকার - সঙ্ঘের আদর্শের উৎস - লিখেছিলেন যে, মুসলমান আক্রমণকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে উগ্র এবং পৈশাচিক ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষাই বেশি ছিলঃ "a fierce religious ambition many times more diabolic than their political one" - যদিও, ইতিহাসে এমন কোনও প্রমাণ নেই যা দিয়ে বলা যায় যে মধ্যযুগে আক্রমণকারী মুসলমানদের মধ্যে শুধুই ধর্মীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষাই উপস্থিত ছিল, রাজ্য বা এলাকা দখল এবং তার ফলে রাজস্ব বাড়ানোর কোনও আকাঙ্ক্ষা ছিল না। "সিক্স গ্লোরিয়াস ইপক্‌স" বইয়ে সাভারকর খোলাখুলিভাবে মুসলমানদের মোকাবিলায় তাদের মেয়েদের অপহরণ ও ধর্ষণের নিদানও দিয়ে রেখেছেন; সাভারকরের কথা অনুযায়ী শিবাজির উচিত ছিল শিভালরি না দেখিয়ে ঠিক এই কাজটিই করা। না, এগুলো কোনও অখ্যাত বইয়ের ফুটনোট নয়; সাভারকর - যাঁকে আরএসএস "বীর সাভারকর" বলে অভিহিত করে, যাঁর মূর্তি বিভিন্ন স্কুলে শোভা পায়, যাঁর নামে সেলুলার জেলের নতুন নামকরণ করা হয় (সে তিনি খান পাঁচেকবার ব্রিটিশদের উদ্দেশ্যে মুচলেকা লিখে থাকলেও), যাঁর আদর্শ আরএসএসের শাখায় শেখানো হয় - এই কথাগুলো সেই সাভারকরের নিজের লেখা। আরএসএস আজ অবধি এই কথাগুলোর একটাকেও রিফিউট করেনি।
    আরএসএসের এই ইতিহাসকে নতুন করে লেখার প্রসেসটা খুবই সরল। আগে সমস্ত জটিলতা মুছে ফেলো, সূক্ষ্ম ফারাকগুলোকে এড়িয়ে যাও, আর সমস্ত অ্যানালিসিসকে বদলে দাও বিদ্বেষের মুখস্থ বুলি দিয়ে। বিদ্যাভারতীর স্কুলে বাচ্চারা ইতিহাস শেখে না; বরং ক্যুইজের ধাঁচের কিছু উত্তর মুখস্থ করে, যাকে ভারতীয় ঐতিহ্য হিসেবে চালানো হয়। যেমন, "কোন স্বৈরাচারী শাসক গুরু গোবিন্দ সিংহের দুই ছেলেকে জীবন্ত কবর দিয়েছিলেন"? উত্তর হল, "ঔরঙ্গজেব"। এখানে মুঘল রাজনীতির প্রেক্ষাপট নেই, শিখ আর মুঘলদের সংঘাতের আলোচনা নেই, এবং বইয়ে এও লেখা নেই যে সেই নরপিশাচ ঔরঙ্গজেবই তাঁর আগের যে কোনও শাসকের তুলনায় অনেক বেশি হিন্দুকে নিজের প্রশাসনের উঁচু পর্যায়ে নিয়োগ করেছিলেন। ইতিহাস যে শুধুমাত্র সাদায় কালোয় কিছু ঘটনা নয়, বাইনারি সিস্টেম নয়, তার মধ্যে অনেক জটিলতা, অনেক নুয়ান্স লুকিয়ে থাকে, সেসব ভুলে গিয়ে আর ভুলিয়ে দিয়ে স্কুলের বাচ্চাদের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয় যে ঔরঙ্গজেব আসলে এক ভিলেন, প্রায় দানব, যাতে সেই নামটা শুনলেই বাচ্চাদের মনে কিছু জানার ইচ্ছের বদলে শুধুমাত্র একটা তীব্র ঘৃণা তৈরী হয়। বিদ্বেষের চাষ হয় এইভাবেই - একটার পর একটা বিচ্ছিন্ন কনটেক্সটবিহীন উড়ো তথ্যের মাধ্যমে।
    ভারতকে সেই প্রাচীন স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আরএসএস ঐতিহাসিক টাইমলাইনকে পিছিয়ে দেয়। আসলে যাঁরা আর্কিওলজিস্ট, তাঁদের পরিচিত কোনও পদ্ধতি ছাড়াই আরএসএস "প্রমাণ" করে দেয় যে হারিয়ে যাওয়া সরস্বতী নদী বাস্তবে সত্যিই ছিল, আর তাই বেদও ঐতিহাসিকভাবে একবারে সঠিক। বাস্তবে, বিভিন্ন আধুনিক উপায়ে (স্যাটেলাইট ইমেজিং ইত্যাদি) ঘগ্‌গর-হাকরা নামের এক বহুপ্রাচীন নদীখাতের সন্ধান পাওয়া গেছে - কিন্তু ঐতিহাসিক এবং আর্কিওলজিস্টদের মধ্যে এখনও বিতর্ক রয়েছে যে সেই নদীখাতই বেদবর্ণিত সরস্বতী কিনা। ব্রিটিশ ওরিয়েন্টালিস্টদের আনা Aryan Invasion Theory ষাটের দশক থেকেই বদলে গেছে Aryan Migration Theory-তে, এবং এটা হয়েছে নতুন করে খুঁজে পাওয়া ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতেই। এবং খুব রিসেন্টলিই, আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাচীন মানুষের শরীরের ডিএনএ অ্যানালিসিস প্রমাণ করেছে যে এই ডিএনএ নির্ভর অ্যানালিসিসের দেওয়া মাইগ্রেশনের সময়কাল আর আগেকার ভাষাভিত্তিক অ্যানালিসিসের ভিত্তিতে দেওয়া মাইগ্রেশনের সময়কাল প্রায় মিলে যায়, এবং সেদিক থেকে দেখলে মাইগ্রেশন (স্পেসিফিকালি, একাধিক মাইগ্রেশনের ওয়েভ) থিওরিই সঠিক [৫,৬,৭]। আরএসএস পোষিত ঐতিহাসিক এবং আর্কিওলজিস্টরা ঠিক এর উল্টোটাই প্রমাণ করতে চান - যে আর্য্যদের উৎপত্তি ভারতে, এবং ভারত থেকেই এই জনগোষ্ঠী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়েছিল, এবং এর জন্যে বৈজ্ঞানিক দলিলের ভুল ইন্টারপ্রিটেশন দিতেও এঁদের আটকায় না।
    আরএসএস মহাভারত, শঙ্করাচার্য্য, এমনকী বুদ্ধের সময়কালকেও এমন একটা অসম্ভব অতীতে ঠেলে দিয়েছে যেটা যে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের সময়েরও অনেক আগের। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের বদলে এরা আনতে চায় "কলিযুগাব্দ" বা কলিযুগ-ভিত্তিক ক্যালেন্ডার - পুরাণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক কাল্পনিক ক্যালেন্ডার। ভারতের ইতিহাস নিয়ে আরএসএসের যে বহুখন্ডের বইয়ের কাজ চলছে, সেখানে পুরাণে বর্ণিত বংশতালিকাকেই প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ধরে নিয়েছে। মুছে দিয়েছে পৌরাণিক উপকথা আর আসল ইতিহাসের মধ্যের সীমারেখা। এমনভাবে, সজ্ঞানে, যাতে এই ইতিহাস যারা পড়বে তাদের কাছে উপকথা আর ইতিহাসের তফাত থাকবে না, মধ্যযুগের যে কোনও অহিন্দু তার কাছে হয়ে উঠবে পৌরাণিক কাহিনীর দানব, রাম-রাবণের যুদ্ধকে সে দেখবে মধ্যযুগের কোনও সুলতানের আক্রমণ হিসেবে।
    বৌদ্ধধর্মও ছাড় পায়নি সঙ্ঘের সর্বগ্রাসী ঘৃণার হাত থেকে। সাভারকরের বয়ানে, বৌদ্ধরা কোনও মহৎ ঐতিহ্যের ধারক নয়, বরং তারা ছিল হিন্দু ধর্মের মধ্যে এক "পঞ্চম বাহিনী" - হিন্দু জাতিকে দুর্বল এবং নপুংসক করে দেওয়ার দায় তাদেরই। সম্রাট অশোকের ধর্মান্তর সাভারকরের ভাষায় হিন্দুদের জন্যে মহাবিপর্যয়; বরং বৌদ্ধদের ওপর চরম অত্যাচার চালানো পুষ্যমিত্র শুঙ্গ সাভারকরের প্রশংসার পাত্র, কারণ সেই অত্যাচার সাভারকরের মতে ছিল "গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহের উপযুক্ত শাস্তি"। আর এই চলমান ঘৃণার নিদর্শন পাওয়া যায় আধুনিক যুগেও, ২০১৭ সালে বিজেপির তৎকালীন মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ের টুইটেঃ "If not for Buddhism, we would have had an Akhand Bharat" [৮]। সঙ্ঘের ডিকশনারিতে শান্তি মানে দুর্বলতা, করুণা মানে রাষ্ট্রদ্রোহ। একমাত্র মনে রাখার মত ইতিহাস হল যুদ্ধের ইতিহাস, যেখানে হিন্দুরাজার যুদ্ধে জেতার কথা রয়েছে।
    সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আরএসএস শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকেই থেমে নেই। ক্রমশঃ ইতিহাসের গবেষণার একদম সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানেও ঢুকে গেছে এই ভয়ানক ভাইরাস। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চকে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে আরএসএসের কর্মকর্তাদের দিয়ে। ২০১৪ সালেই চেয়ারপার্সন করা হয় ABISY প্রধান সুদর্শন রাওকে, তারপর থেকে আরএসএস ঘনিষ্ঠদেরই বসানো হয়েছে এই পদে। এখন সরকারি এজেন্ডা হল ইতিহাসের "ভারতীয়করণ" - ইতিহাসে শুধু থাকবে হিন্দু অতীতকে মহিমান্বিত করা ঘটনাসমূহ, বাকি সব মুছে ফেলা হবে। দরকারে, আবিষ্কৃত হবে নতুন নতুন "হিন্দু শেকড়"। দিল্লী থেকে দূরে, হিমাচল বা উত্তরাখণ্ডের আদিবাসী এলাকার গ্রামে, ABISY-এর লোকজন স্থানীয় লোককথা খুঁজে বের করে সেগুলোকে কো-অপ্ট করে হিন্দুত্বের মধ্যে। হিমাচল প্রদেশের কুলু-তে, আরএসএস সমর্থক এবং এককালের রাজাসাহেব দেবেন্দ্র সিং আদিবাসীদের উপকথা লিপিবদ্ধ করেন। ABISY সেই সমস্ত "ঐশ্বরিক গল্পগুলোকে" ব্রাহ্মণ্যবাদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ হিসেবে হাজির করে, যেমন গণেশ পুরাণের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয় আঠারোটা সাপ নিয়ে এক আদিবাসী কাহিনীকে। যেমন, উত্তরাখণ্ডের আঞ্চলিক দেবী নন্দাকে কো-অপ্ট করে দেখানো হয়েছে দুর্গার রূপ হিসেবে। হিন্দুত্বের নামে ক্রমশঃ একের পর এক লৌকিক দেবদেবীকে কো-অপ্ট করে তাদের ভক্তদের হিন্দুত্বের ছাতার তলায় আনার জন্যে। উদ্দেশ্য সেই একই - হিন্দুধর্মের বিভিন্ন ডাইভার্স সুতোকে মুছে দিয়ে সবাইকে এক মনোলিথিক ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্মের নীচে এনে ফেলা...
    ইন্টেলেকচুয়াল কলোনিয়ালিজম বলতে পারি একে? আদিবাসী কনশাসনেস মুছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে?
    এবারে একটু গালি দেবো আমাদের শিক্ষিত সেকুলার ঐতিহাসিকদেরও। তাঁরা কী করেছেন? অ্যাকাডেমিক ইংরিজীতে লেখা উজ্জ্বল, সূক্ষ্ম এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণাকর্ম উপহার দিয়েছেন। জার্নালে ছাপা হয়েছে, বই হিসেবে বেরিয়েছে। কিন্তু পড়েছে বা বুঝেছে খুব ছোট একটা এলিট গোষ্ঠী। উল্টোদিকে, আরএসএস তার বই থেকে শুরু করে গানের ক্যাসেট - যা কিছু বের করেছে, সবই হিন্দিতে বা স্থানীয় ভাষায়। সেই বই, প্যামফ্লেট, ক্যাসেট ছড়িয়ে গেছে শাখায়, মন্দিরে, স্কুলে। আর, প্রায় হাজার পঞ্চাশেক স্কুলে পড়তে থাকা চল্লিশ লক্ষের কাছাকাছি বাচ্চার বাড়িতে। সেকুলার অ্যাকাডেমিকরা যখন ইতিহাসের পিরিয়ডাইজেশন নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন, আরএসএস এমন একটা ন্যারেটিভ বানিয়েছে যেটা পাঁচ বছরের বাচ্চাও বুঝতে পারে, বা একজন আশি বছরের বুড়ী ঠাকুমাও অবলীলায় মন থেকে বলে যেতে পারেন। সেই পলিটিকাল রাইট-লেফট আর সোশ্যাল রাইটের গল্প, যেটা দিন কয়েক আগে লিখেছিলাম...আমাদেরই অবহেলার ফসল আমরা ঘরে তুলেছি।
    তবে এটাও ঠিক, যে সঙ্ঘের এই সমস্ত গালগল্পকে যুক্তি আর তথ্য দিয়ে কাউন্টার করতে গেলেই সঙ্ঘের ইতিহাসবিদরা এক বাক্যে কলোনিয়াল চক্রান্ত, ডীপস্টেট, জর্জ সোরোস ইত্যাদি আউড়ে সব গুলিয়ে একটা ভজকট ব্যাপার সৃষ্টি করে কেটে পড়েন। সেই যার কথা শুরুতে বলছিলাম, সে র‍্যাপিড ফায়ারের মত আমাকে একগুচ্ছ প্রশ্ন করেছিল:
    "আমাদের ইতিহাস কেন শুধু হেরে যাওয়ার ইতিহাস? রেজিস্টেন্সের ইতিহাস কই? গজনীর মামুদের শেষ আক্রমণের পর ফের আক্রমণ করতে কেন ১২০ বছর লাগলো? সুহেলদেবের কথা ইতিহাসে লেখে না কেন? উত্তরপূর্ব ভারতের রাজাদের কথা কেন লেখে না? ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের কেন বিশ্বাস করবো যখন তারা আসার আগেও ভারত বলে একটা বিরাট ব্যাপার ছিলো? স্ক্রিপচার আর শিলালিপিকে কেন প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে না? ভারতের সবচেয়ে বড় ইতিহাসের দলিল - নালন্দাকে যদি ইচ্ছে করে ধ্বংস করা হয়ে থাকে, তাহলে অন্য দলিল কেন মেনে নেবো? অন্য দেশ, যেমন চীন বা আমেরিকা তাদের অতীতকে গ্লোরিফাই করে। আমরা কেন করবো না? বিদেশীদের বলা ইতিহাস কেন মানবো?"
    এসবের এক কথায় উত্তর হয় না, আর সিউডো-ইতিহাসের লক্ষ্যই এইগুলো ছড়ানো। যেমন ধরুন, সুহেলদেব - একটা লেজেন্ড ছাড়া যার সম্পর্কে কোনো ঐতিহাসিক দলিল নেই [৯]। পৃথ্বীরাজ চৌহান সিনেমাটা নিয়েও যে বিতর্কটা হয়েছে তাও মোটামুটি এই লাইনেই - যে পৃথ্বীরাজ রসো কোনো প্রামাণ্য ঐতিহাসিক দলিল নয়। আর এই তথাকথিত ঐতিহাসিকরা, মানে সাই দীপক, বিক্রম সম্পত বা সঞ্জীব সান্যাল - এদের স্টাইলটাই হল বিনা রেফারেন্সে কিছু দাবীদাওয়া বাজারে ছেড়ে অ্যাকাডেমিক হিস্টোরিয়ানদের কোনোভাবে ডিসক্রেডিট করা - যে আদতে ভারতের গৌরবময় ইতিহাসকে বামপন্থী, কমিউনিস্ট আর নেহরুভিয়ান ঐতিহাসিকরা চেপে দিয়েছে। হিট অ্যান্ড হাইড স্টাইল বলে একে, অ্যালিগেশন ছুঁড়ে পালিয়ে যাওয়া [১০]।
    পরের বার, সঙ্ঘের কেউ যখন "আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত" নিয়ে ভাষণ দেবেন, পারলে একবার জিজ্ঞেস করবেন তো - কার অতীত? সঙ্ঘের ইতিহাসে প্রত্যেকটা মুসলমান তো আক্রমণকারী শয়তান। মুসলমান জোলা বা তাঁতির কথা আছে তাদের ইতিহাসে? যে তাঁতিরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতের বস্ত্রশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন? তাদের ইতিহাসে কি সেই দলিত কবির ঠাঁই হয়েছে, যিনি পেতের খিদে আর জাতের নামে বজ্জাতির কথা লিখে গেছেন তাঁর কবিতায়? মেয়েদের শিক্ষার লড়াই, অধিকারের লড়াইয়ের কথা আছে তাদের ইতিহাসে? সাবিত্রীবাঈ ফুলে বা রোকেয়া বেগম জায়গা পান সঙ্ঘের ইতিহাসে? না, বরং সঙ্ঘের ইতিহাস একটা ফ্ল্যাট বোরিং গেরুয়া মরুভূমি, যার ওপারে রয়েছে একটা কাল্পনিক সোনালী যুগ। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের মাথা ভরিয়ে দিচ্ছি সেই ইউজলেস বালি দিয়ে, একটার পর একটা ভিত্তিহীন আজগুবি দাবীর খপ্পরে পড়ে। এর বিকল্প বহুত্ববাদী তথ্যনির্ভর এবং সহজবোধ্য ইতিহাস না লেখা হলে, এখনই না লেখা হলে, অন্তত শুরুটুকুও না হলে, শেষ অবধি ওই ফ্ল্যাট বোরিং মরুভূমিই পড়ে থাকবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে...
    শুরু করেছিলাম অরওয়েলের একটা কথা দিয়ে। শেষও করব অরওয়েলেরই আরেকটা কথা দিয়ে, ১৯৮৪ থেকেই -
    "The past was erased, the erasure was forgotten, the lie became truth."
    সূত্রঃ
    [১] India: RSS Schools and the Hindu Nationalist Education Project by Akshay Bakaya, 21 April 2009, https://www.sacw.net/article852.html
    [২] Hindu Nationalism in India, Tanika Sarkar, Hurst & Company, London
    [৩] Param Shiv ka Shrishti: Vigyan Aur Ved, Itihas Darpan, October 2013
    [৪] Itihas Darpan, October 2016
    [৫] Who We Are and How We Got Here: Ancient DNA and the New Science of Human Past, David Reich, Pantheon, USA
    [৬] EARLY INDIANS : The Story of Our Ancestors and Where We Came From, Tony Joseph, Juggernaut, India
    [৭] The Horse, the Wheel, and Language: How Bronze-Age Riders from the Eurasian Steppes Shaped the Modern World, David W. Anthony, Princeton University Press, USA
    [৮] Newly sworn Minister Anantkumar Hegde’s Twitter account gives a peek into his mindset, Pratik Sinha, https://www.altnews.in/newly-sworn-minister-anantkumar.../
    [৯] How Amit Shah and the BJP have twisted the story of Salar Masud and Raja Suheldev, Ajaz Ashraf, 2017, https://scroll.in/.../how-amit-shah-and-the-bjp-have...
    [১০] The Risks of Looking at India’s History Through the Eyes of Pseudo-Historians, Rohan D'Souza, 2021, https://m.thewire.in/.../india-history-pseudo-historians...
    #হিন্দু_খতরে_মে_হ্যায় #হিন্দুত্ববাদ #ন্যারেটিভ_বিল্ডিং
    See less
  • Pagol | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৮:২০553803
  • @ ব্রতীন, আপনার সাথে একমত হতে পারলামনা l আমার মনে হয় ভারতে এখন মেজরিটি অর্থনীতি চাকরি বাকরি এসব নিয়ে অতটা মাথা ঘামায়না যেহেতু সবাই জানে যে সেরকম উন্নতির সম্ভাবনা নেই l কিন্তু বিজেপি জেতায় সবাই খুশি মুসলিমদের তো টাইট করা গেছে l বলিউডের ধুরন্ধরের দৌলতে তো ব্রেনওয়াশিং সম্ভব হয়েছে ভালোভাবেই l মানুষ এখন ইসলামোফোবিয়াকে normalize করেই ফেলেছে l পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও এটাই হয়েছে বোলেই মনে করি l এখন হিন্দু মানেই ইসলামোফোবিক ও বিজেপির ভোটার l ব্যতিক্রম নেই তা নয় কিন্তু এখন সেটা একেবারেই নগন্য l
  • Bratin Das | ০৭ মে ২০২৬ ১৮:০০553802
  • আপেল, দেখুন আমার যা মনে হয় সাধারণ মানুষ হিন্দু মুসলমান নিয়ে কনসার্ন্ড নয়
     
    আমার বিএসসি এমএসসির বন্ধু ইকবাল . কলেজ din থেকে ওর বাড়ি তে ঈদ এ যাই . আমাদের জন্যে মাটন থাকতো . ও বহুবার আমার
    বাড়িতে এসেছে থেকেছে খেয়েছে . ও র সাথে অন্যরকম ব্যবহারের প্রশ্ন ওঠে না .
    2006 থেকে 2007 আমরা দুজনেই টেক্সাসে ছিলাম
    আমি Irving o Plano. আমার থেকে 40 মাইল দূরে।
    আমি গাড়ি চালাতে পারি
    না। ইকবাল প্রতি শুক্রবার আমাকে তুলে নিয়ে যেতো আবার রবিবার আবার ছেড়ে দিয়ে যেতো।
    ও ই দুদিন এক সাথে রান্না খাওয়া আড্ডা পান সাইকেল নিয়ে ট্রেল বরাবর বেড়ানো কী নয়
  • X | 43.*.*.* | ০৭ মে ২০২৬ ১৬:৩৯553801
  • আচ্ছা মোরারজি দেশাই নাকি সি আই এর পে রোলে ছিলেন- সেইমুর হার্শ এর বইও আছে- তা নিয়ে দেশাই সু করেছিলেন- কিন্তু রণে ভঙ্গ দিয়েছিলেন জানি - বেশ ইন্টারেস্টিং গল্প। হয়তো কুড়ি বছর পরে জানা যাবে গত দশ বারো বছরে কারা এরকম পেমেন্ট পেতেন
  • X | 43.*.*.* | ০৭ মে ২০২৬ ১৬:৩৫553800
  • ৯৫ এর বদলে ১০০ ধরলে সোজা হিসেব -
    ১০০ x ১০০ কোটি টাকা ~ ১০০ বি রুপিজ ~ ১ বি ডলার সোজা কলকেতা থেকে তিব্বত
  • তরমুজ | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৫:১৮553799
  • ধারাভীতে আদানির রিয়েল এস্টেট প্রোজেক্টে, ধারাভী বাসীদেরই অ্যাপার্টমেন্ট দিচ্ছে না।
     
  • মার্জিন | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৪:৫৩553798
  • তাজপুর আর দেউচা পাচামি নিয়ে আদানি আগ্রহী ছিল।
  • Pagol | 115.*.*.* | ০৭ মে ২০২৬ ১৪:৫১553797
  • "পাঞ্জাব ইলেকশন এর জন্য ভাজপা দশ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরেছে।" আচ্ছা ডলারে এই টাকাটা কনভার্ট করলে কত হতে পারে ? এক ডলারে ৯৫ টাকা ধরে নিয়ে হিসাব করি যদি
  • তরমুজ | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৪:৪৭553796
  • দেখুন শমীক কি বলছে? ভাল মানুষেরা কেন যে মন্ত্রীত্ব পান না!!
     
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৪:২৮553795
  • পুজোয় চাই নতুন জুতোর মতো একটা স্লোগান এখন থেকেই দিতে শুরু করুন - বাঙালির চাই নতুন নেতা। আগামী পনেরো বছর এই স্লোগানটা দিতে থাকলে নতুন কেউ উঠে আসতেও পারে।
  • তরমুজ | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৪:২৬553794
  • সোসাল মিডিয়ায় দেখছি এক ধরনের দাঙ্গাবাজ উস্কানি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক পোস্ট আসছে দেখছি যেমন, 'মুসলমানরা হেলমেট কিনছে।' 'পশ্চিম বঙ্গের হাল ঠিক করতে গেলে শমীক সুকান্তদের নরম নীতি হলে চলবে না, শুভেন্দুর বুলডোজার অ্যাকশন দরকার', এই ধরনের। কেউ কোনরূপ দাঙ্গামূলক উস্কানিতে পা দেবেন না। একবার যদি কোন দাঙ্গা বেধে যায়। তাহলে তার পরেই কিন্তু বাংলা ভাগের প্রস্তাব আনবে। খুব সাবধান।
  • Pagol | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৪:১৯553793
  • @ একক, ঠিকই l আর্থিক অবস্থা যা বুঝছি কোনো উন্নতিই হবেনা l কিন্তু আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কিছু উপায় কি থাকবে মানুষের কাছে ? বাংলায় মানুষ স্বাধীনতার পর থেকে তো সবকিছুই ট্রাই করলো, বাংলায় যে দল একবার সরকার থেকে যায় তারা আর ফিরে আসেনা কখনো l এখন কংগ্রেস, বামেরা, তৃণমূল, বিজেপি -আরএসএস সবাইকেই তো ট্রাই করা হলো l বাঙালীর আর তো কোনো অপশন্স নেই সামনে ! দশ পনেরো বছর পরে তাহলে মানুষের সামনে এই প্রশ্নটাই ফিরে আসবে ?
  • X | 43.*.*.* | ০৭ মে ২০২৬ ১৪:১১553792
  • কালকে আমার নয়ডা বাসী কলিগ বললো পাঞ্জাব ইলেকশন এর জন্য ভাজপা দশ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরেছে। অবাঙালি- আমি তো বেশ অবাক ই হলাম- বেশিরভাগ ই ভাজপা কে পছন্দ করে- বাঙালি রা তো কলকাতায় বুলডোজার চলে না এই দুঃখে থাকে
  • তরমুজ | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৩:৪৪553791
  • পানিহাটিতে বিজেপি কর্মীদের উপর বোমাবাজি, কি হচ্ছে কি এসব!!!!
     
  • তরমুজ | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৩:৪২553790
  • অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, গুলি করেছে ভোলা ও বুদ্ধ
  • তরমুজ | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১৩:৩৮553789
  • বসিরহাটে বিজেপি কর্মীকে গুলি করা হয়েছে, কি করছে রাজ্য প্রশাসন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সংস্থাগুলো
     
     
  • একক | ০৭ মে ২০২৬ ১৩:১৭553788
  • এদেশে বিরোধীদের সামনে একটাই উপায় রাস্তায় নেবে প্রতিবাদ করা। কিন্তু রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে এসে ঠেকেছে বেশি বাওয়াল দিলে পাবলিক ধরে পিটিয়ে দেবে। কাজেই ট্যাঁ ফো ​​​​​​​করা ​​​​​​​মুশকিল।
     
    এর উপর বিজেপির চিরকালীন ট্রিক হলো বিশেষ নানারকম রিগ্রেসিভ বালছাল বকে বা কাজ করে সমাজের শিক্ষিত লিবারাল শ্রেণীকে টোটালি এনগেজড করে রাখা এবং সেই সুযোগে খনি, জমি, ডক সব বেচে দেওয়া। তো সেসব ড্যাং ড্যাং করে বাস্তবায়িত হবে।
     
    হলদিয়া -খিদিরপুর ডক, গঙ্গা নদীর উপর প্রাইভেট পরিবহনের ইজারা, উত্তরবঙ্গের জঙ্গল, সুন্দরবনের এক্সক্যাভেশন পার্মিট এসব দিকে নজর থাকবেনা। কদিনের মধ্যেই শ্লীল -অশ্লীল - প্রগতি অপ্রগতি -হিন্দু অহিন্দু এইসব রচনা লেখায় ভোরে যাবে চারদিক। সেটা সেফ। সেদিকেই সব "বিরোধিতা" চ্যানেলাইজড হয়ে যাবে।
  • আপেল | 202.*.*.* | ০৭ মে ২০২৬ ১২:৩৮553787
  • "আমি মীর রাকেশ রৌশান। পিতার নামের শেষে ইসলাম আর মায়ের নামের শেষে বেগম আছে। ফলে মুসলমান। এদেশে, এরাজ্যে তৃণমূল থাকা বা বিজেপি আসা নিয়ে আমার তেমন কিছুই যায় আসে না। পরিবর্তন বা প্রত্যাবর্তনে অবাক হই না। কিছু কিছু জিনিস যখন ভাবায় তখন হয়ত পক্ষ নিই। চেষ্টা করি পক্ষ অবলম্বন করে মানুষের যাতে ভালো হয়। সমাজ যাতে ভালো থাকে। কাল সারাদিনই প্রায় ঘুমোচ্ছি। বিজেপি আসাতে বেশ কিছু বন্ধু বারবার ফোন করছে। আমাকে ঘুমের ঘোরে দেখে তারা অবাক। তাদের প্রথম প্রশ্ন ঘুম কি করে আসছে। আমি হতাশ নই কেন? সব্বাইকে এতো কিছুর উত্তর দেওয়া মুস্কিল ফলে ওপেন লিখে দিলাম সবার বুঝতে সুবিধা হবে।

    স্কুল জীবনে যে বন্ধুকে মাঝে মধ্যে খেলার জন্য ডাকতে যেতাম, সে কোনোদিন আমাকে বাড়ির ভেতরে ডাকে নি। আমি ডাকলে সেও আমাদের বাড়ি আসতো না। কোনক্রমে আসলেও কিছু খেত না। সেই সময় ওই বিষয়গুলো বুঝতাম না। পরে বুঝতে পেরেছি আমি মুসলিম।

    যে বন্ধুটি মাধ্যমিক ফেল করেছিলো তার পরীক্ষার আগে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার থেকে নোটস ম্যানেজ করে পরীক্ষার কয়েক মাস আগে যখন ওর বাড়ি নোটসগুলো দিতে যাই বন্ধুর মা আমার হাত থেকে নোটসটা না নিয়ে মেঝেতে রাখতে বলেছিলেন। পরে সেটাও বুঝেছিলাম আমি মুসলিম।

    স্কুল শেষ করে কলেজ জীবনে বাম ছাত্র-রাজনীতি করতাম, ভেবেছিলাম বামপন্থী হবো। সমাজ বদল করবো। ভোটে জেতার পর ইউনিয়ন রুমে কিছু বন্ধু অজান্তে নাকি জেনে জানি না, কথায় কথায় ইয়ার্কি মেরে বলতো 'কাটা'কে সঙ্গে নে। পরে 'কাটা' মানে বুঝেছি। 'কাটা' মানে আমার পেনিসের ডগার চামড়াটা প্রতিটি মুসলমানের মতই কাটা।

    বন্ধুদের বাড়িঘর যেতে আমি খুবই ভালোবাসি। কোন এক বন্ধুর বাড়িতে বুঝেছিলাম আমি বাংলায় কথা বললেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা বিশ্বাস করে আমি বাঙালি নই। এমন অনেক জায়গায় বলতে শুনেছি, 'বিশ্বাস করো তুমি একদমই মুসলমানদের মত নও'। বলতে শুনেছি, 'তুমি মুসলমান? আমি তো ভাবছিলাম বাঙালি'।

    জীবনের প্রথম চাকরি জয়েনের সময় আমি যেহেতু মুর্শিদাবাদবাসি তাই ভোটার, প্যান, আধার থাকার সঙ্গে ফার্স্টক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট এর থেকে একটা এফিডেফিট করে অফিসে জমা দিতে হয়েছিলো। বিশ্বাস করাতে হয়েছিল আমি বাংলাদেশি নই। পরে মান্থলি মিটিং এও আমাকে আমার রিজিওনাল ম্যানেজার অপমান করত। একবার তো সবার সামনে বলেছিলো, 'তুই মুর্শিদাবাদী, তারপরে মুসলমান, তোদের জাতটাই এমন তোদের কে কি বিশ্বাস করা যায়?'

    আমার প্রেমিকা খুব উদার, ধর্মনিরপেক্ষ, মার্ক্সবাদী ছিল। অসাধারণ মানুষ। মাঝে মাঝে বুকে জড়িয়ে ধরে বলত, 'মীর আমি তোমাকেই ভালোবাসি।' সেও একদিন বলেছিল, 'মুসলমান ছেলেকে বাড়ি থেকে মেনে নেবে না বুঝলে, আমার কিচ্ছু করার নেই।'

    NRC আন্দোলনের মিছিলে হাঁটছি। একসাথে বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি করা খুব কাছের বন্ধু হাঁক দিচ্ছে 'মীর... মীর...', কাছে গিয়ে হাতের সিগারেটের কাউন্টারটা দিয়ে ঘাড়ে হাত দিয়ে বন্ধু বলেছিল, 'NRC নিয়ে তোদের লড়াই খুব শক্ত হয়ে গেলো, দেখ কতটা পারিস।'

    প্রতি মাসে এক সম্পাদকের দশ কপি করে পত্রিকা বিক্রি করে দিতাম। প্রতি মাসের পত্রিকা নেওয়ার সময় আমার কবিতাটি বেরিয়েছি কি না পাতা উলটে দেখতাম। পরে বুঝতে পারি মীর রাকেশ রৌশান নামে হকার হতে পারে, কবি নয়।

    বামপন্থী রাজনীতি করার সময় শহরের অন্যান্য কমরেডরা জায়গা কিনলেও শহরের নির্দিষ্ট জায়গায় আমাকে জায়গা বিক্রি করতে চায় নি। কারণ আমার বাবার নামের শেষে ইসলাম আছে।

    এই তো, এই SIR এর সময়য়ে আমি বুঝেছি বর্ণবাদী বাবু ভদ্র সমাজকে। যাদের সামনে বলা যাবে না নিদিষ্ট কমিউনিটি টার্গেট হয়েছে।

    এমন অনেক ঘটনা অন্য মানুষের জীবনে উল্টো প্রান্তেও ঘটছে। যদিও এইসব বিষয় নিয়ে লিখতে আর ভাল্লাগে না। অনেকে ভাবে কালচারাল পলিটিক্স করি। আমার মনে হয়েছে স্কুল, কলেজের ডিগ্রির থেকে এই জাতির তাঁদের ইতিহাস, সংস্কৃতি জানাটা জরুরি। আর সবচেয়ে জরুরি বাড়ির প্র‍্যাকটিস। সমাজ পরিবর্তন হয় বাড়ি থেকেই।

    ফলে গ্রামে বসে একটা ওয়েব পোর্টাল চালানোর চেষ্টা করেছি, গবেষণা করার চেষ্টা করি, পত্রিকা চালানোর চেষ্টা করি। বাড়িতে ছবি আঁকার ক্লাস শুরু করেছি। গানের ক্লাস করেছি। নাচের ক্লাস করেছি। আবৃত্তির ক্লাস করেছি। গ্রামের বাচ্চাদের একটা উদার প্র‍্যাকটিসে রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের বাড়িটা শনিবার-রবিবার বাচ্চাদের দখলে থাকে। বিভিন্ন গণ আন্দোলনে থাকার চেষ্টা করি। এই মাঝ বয়সে এসে আমি হিন্দুত্ববাদ, সংখ্যাগরিষ্ঠের দামামা, ব্রাহ্মণ্যবাদ কি কেন কেন কিসের জন্য, আমি জানি। আমি জানি ইসলামফোবিয়া কি। দু বছর ধরে ফ্যাসিবাদ নিয়েই কাজ করছি, ফলে আমি ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতা কি সেটা খুব ভালো ভাবে জানি। আমি জানি একজন গ্রামে থাকা মানুষ আর শহুরে প্রিভিজেলের মধ্যে পার্থক্য। আমি জানি একজন সংখ্যালঘু লেখক আর একজন সংখ্যাগুরু লেখকের পার্থক্য। আমি জানি আমাদের গ্রামের কবর থেকে পাড়ার মসজিদ পর্যন্ত এ সরকার আসার আগেই ডাকাতি হয়েছে। সেই আবেগকে কাজে লাগিয়েও কেউ কেউ ভোটে জিতছে। ভোট ভাগাভাগিতে সাহায্য করছে। সে যাই হোক, আমি জানি সংবিধান আমাকে যে অধিকার দিয়েছে তার জন্য বারবার কোর্টে যেতে হয়। ফলে আমি বাসে, ট্রেনে যা দেখেছি তা আমাকে শিখিয়েছে শুধু। আমি স্কুল কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা দেখেছি তাতে রঙ বদল আমার কাছে কিছুই না। বরং আমরা সমাজ বদলের কথা ভাবতে পারতাম। আমি জানি এদেশে দলিতের মেধা, নারীদের চরিত্র, মুসলমানদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠবে। আমার মনে হয়েছে ঘুণ ধরা একটা সাম্প্রদায়িক সমাজে কেউ কেউ চিনির মোড়ক লাগিয়ে রেখেছে। নির্বাচন তো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত। ফলে সমাজে যে সংখ্যাগরিষ্ঠের ছাপ পড়ে আছে তার সাথে রাজনৈতিক পালাবদল আসলে অবাক হওয়ার মতন কিছুই নেই। যেটা মনের ভেতরে ছিলো সেটা নির্বাচনের ইভিএম এ দেখা গেছে। এটা তো হওয়ারই ছিল। আমি হতাশ নই। বরং এটাও একটা শিক্ষা। এই শিক্ষাটা নিয়েই আমাদের চেষ্টা কর‍তে হবে। যেটা আগে করেছি তা হয়তো আগামীতেও করবো। না পারলে ঘরে ঢুকে যাবো। লেনিনের মূর্তিতে রঙ মাখানো নিয়ে খবর আসছে। লেনিনের মূর্তিতে লেগে থাকা রঙ সৃজন মোছাচ্ছে। মানে লেনিন কে সেটা চেনানো হয় নি। এ দায় তো আমাদেরই। যদি চেনাতে পারতাম তাহলে তো মানুষ রাস্তায় নামতো। যারা রঙ মাখিয়েছে তাদের মুখে মানুষ কালি লেপে আসতো।

    আমি মীর রাকেশ রৌশান। বাবার নামের শেষে ইসলাম আছে মায়ের নামের শেষে বেগম। এই মাঝ বয়স পর্যন্ত যা দেখেছি তাতে মন থেকে মানসিক সবটারই পরিবর্তন হয়েছে। ছিন্নভিন্ন হয়েছে সব। এইটুকু বয়সে প্রেম থেকে বিপ্লব কি না দেখলাম। পড়তে পড়তে শিখেছি। পুড়তে পুড়তে শিখছি। সবটাই ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পর বাকি আছে বলতে একটা বাড়ি। খুব জোর হলে সেটাতে বুলডোজার চলতে পারে। এর বাইরে আর কি হতে পারে? ফলে যাদের হাহুতাশ আছে তারা সুস্থ থাকুন। লড়াইয়ে থাকুন। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে যতটা পারবেন থাকুন। বেঁধে বেঁধে থাকুন। বিশেষ করে সংসদীয় বামপন্থী বা স্বাধীন বামপন্থী, মানবাধিকার কর্মী, ধর্ম নিরপেক্ষ উদার চিন্তার মানুষ, গণ আন্দোলন কর্মী, পরিবেশ এবং জেন্ডার নিয়ে যারা কাজ করেন তাঁদের বেঁধে বেঁধে থাকাটা খুবই জরুরি। আমি এখনও যতটুকু পারবো আপনাদের পাশেই থাকার চেষ্টা করবো। আর কি বলি ... "
  • Pagol | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১২:৩৬553786
  • এই তথাকথিত "নির্বাচন" একটা জিনিস পরিষ্কার করে দিলো l এদেশে কেন্দ্র চাইলে রাজ্যের অধিকার দুরমুশ করে যা খুশী করতে পারে l কাশ্মীরে ২০১৯ সালে যা হয়েছিলো এখন সেটাই হচ্ছে বাংলায় নতুন ভাবে নতুন অঙ্গীকারে l বিরোধীদের সামনে উপায় কি ?
  • গেছো | ০৭ মে ২০২৬ ১২:৩৩553785
  • আচ্ছা
  • Pagol | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১২:২৮553784
  • @ গেছো, ঠিকই l
  • Pagol | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১২:২৭553783
  • আমি ২৭ লাখ logical discrepancy এর বৈধ ভোটার বাদের কথা বলছি l
  • গেছো | ০৭ মে ২০২৬ ১২:২৭553782
  • @pagol : শুধু ২৭ লক্ষ্য নয়। সংখ্যাটা ৯০ + ২৭ লক্ষ্য, ভারতীয় মিডিয়া ইচ্ছাকৃত ভাবে শুধু ২৭ লক্ষ্য "delete" হয়েছে এই কথাটা উল্লেখ করছে; এছাড়া যে ৯০ লক্ষ এই নির্বাচনে দিতে পারে নি সেটা এড়িয়ে যাচ্ছে। আমার মতে, ভোট বয়কট করা উচিত ছিল
  • Bratin Das | ০৭ মে ২০২৬ ১২:২২553781
  • 47 লাখের এর মধ্যে প্রচুর মৃত ভোটার আছে।যারা সেই সিপিএম জমানা থেকে ভোট দিয়ে আসছিলেন।
  • Pagol | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১২:১৪553780
  • আচ্ছা এই ইলেকশন হয়েছে ২৭ লক্ষ বাঙালীর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নিয়ে এটার কি বৈধতা ? আরেকটা ব্যাপার বিজেপির ওয়ার চেস্ট ফর ইলেক্শন হলো প্রায় ৭০০০ কোটি টাকা বিরোধীদের এর দশ ভাগের এক ভাগও নেই ! তার ওপরে এতো টাকা থাকায় এখন বিজেপির হাতে আছে ইলেকশন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, ED, CBI CAPF, গোদি মিডিয়া l এরকম ক্ষেত্রে ইলেক্শন প্রহসন মাত্র ওই যেরকম সাজানো IPL ম্যাচ বা বলিউড সিনেমা হয় সেরম আর কি, বিরোধীরা বারবারই হারবে এ আর নতুন কি কথা ! বিরোধীরা তার চেয়ে একযোগে সবরকম ইলেকশণ বয়কট করুক আর রাস্তায় নামুক, অসহযোগ আন্দোলনের কায়দায় ! আর কোন উপায় নেই
  • মার্জিন | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ১১:৪০553779
  • মদন, শোভনদেবের মত পুরোনোদের আবার কংগ্রেসে ফিরে যাওয়া উচিত। হাঁটুর বয়সী ভাইপোর চাকর হবার থেকে বেটার।
     
    তৃণমূলের কাজ ছিল ২০১১ সালে দক্ষিণবঙ্গে সিপিয়েমকে সরানো। সেই মোমেন্টামে ১৫ বছর টানল। এখন আর কোনো কাজ নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত