হিংস্র ঘৃণার ইতিহাস পুনরাবৃত্তির প্রেক্ষাপট - শিক্ষাতর ক্ষমতা ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি : হিমাদ্রী মন্ডল
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ৩১ জুলাই ২০১৯ | ১৬০৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ২
বর্তমানে ‘দেশপ্রেম’ নামের আড়লে একযোগে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও মৌলবাদী হিংসাত্মক কার্যকলাপের যে মারাত্মক প্রকোপ তা মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলেও সাধারণ জনতার একটি বড় অংশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং হিংসাত্মক কার্যকলাপে উৎসাহ প্রদান সাতচল্লিশের দেশভাগের পটভূমিকায় গণঅসুস্থতা ও বিকৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। বিগত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিতকে অধিক ধারণ করে উৎকৃষ্ট শ্রমিক উৎপাদনে এতটাই সচেষ্ট ও সক্রিয় ছিলো যে প্রচলিতকে অতিক্রম করে নতুন কে ধারণ করার কথা তো দূর, নিদেনপক্ষে শোনা বা বোঝার ন্যূনতম প্রয়াসের প্রবণতাটুকুও জনমানসে সঞ্চারিত করা সম্ভব হয়নি। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে প্রাথমিক বা উচ্চপ্রাথমিকে ভারতবর্ষকে ‘মাদারল্যান্ড’ বা ‘মাতৃভূমি’ হিসাবে মানচিত্র ও তেরঙা শাড়ি পরিহিতা এক কাল্পনিক মাতৃমূর্তির সাথে জোরপূর্বক জুড়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় তাতে দেশ বলতে মানুষ ও জনজীবনের বৈচিত্র বর্জিত আদি মাতৃরূপ (মাদার আর্কিটাইপ) এবং ভূমি, তেরঙা, বর্ডারলাইন ও ভক্তিরস মিশ্রিত হাঁসজারু ন্যায় যে দেবোপম চিত্রকল্প শিশুমন অধিগ্রহণ করে, তা ভারতীয় সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলি শতবার ঝরঝরে মুখস্থ লিখে ফেলা সত্ত্বেও অপসারিত হয়না।