অথ গৃহশ্রমিককথা : শ্রীরূপা মান্না
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০৮ মার্চ ২০১৮ | ৭৮৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ৭
শহর বা আধাশহরের পরিবারগুলোতে কাজ করতে আসা গৃহ পরিচারিকাদের একটা বড় অংশই আসে শহরের থেকে দূরে কোন গ্রাম মফঃস্বল থেকে। শহরতলির বস্তি থেকেও আসে কিন্তু তার সংখ্যা গ্রাম থেকে আসা মেয়েদের তুলনায় বেশ কম। যারা দূর থেকে রোজ ট্রেনে করে আসেন শহরে কাজ করতে তাদের দিন শুরু হয় মধ্য রাত্রি থেকেই। বাড়ির কাজ রান্না ইত্যাদি করে রেখে তারা ভোরের ফার্স্ট সেকেন্ড ট্রেনগুলো ধরেন, যেগুলোর নামই হয়ে গেছে ‘ঝি-লোকাল’। তারপর সকালের আলো ফোটার সাথে সাথেই তাদের কাজের জায়গায় পৌঁছে কাজ শুরু। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়েই জোটে না সকালের চা জলখাবারও। এনেকেই বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসেন। সেটাই দস্তুর। খাবার দেওয়া দূর কি বাত, বাড়ির বাথরুম ব্যবহার করতে দেয় না এদের। লুকিয়ে যেতে হয় অথবা স্টেশন চত্ত্বরেই সেরে রাখতে হয় সব শৌচ কর্ম। তাতেও সমস্যা বাড়িতে লুকিয়ে বাথরুম ব্যবহার করলে যদি বুঝতে পারে তাহলে অপমান। এভাবেই নিত্যদিন অভ্যস্ত এরা। এভাবেই একের পর এক বাড়ির কাজ সেরে আবার বিকেলের দিকে ট্রেন ধরে ফেরা নিজেদের বাড়ি। অনেক সময়েই এই মেয়েদের ট্রেনে বাসে আমাদের সহযাত্রী হিসেবে পেতে হয় যারা ট্রেনের সীটে না বসে দরজার কাছে পা মেলে ‘আরাম করে’ (!) মুড়ি খেতে খেতে বা গল্প করতে করতে যান। অনেক অফিসযাত্রী মহিলাদের সাথেই ট্রেনে দাঁড়ানোর জায়গার অভাবের জন্য এই নিয়ে অনেক ক্ষোভও দেখতে পাওয়া যায়। আসলে পরিচারিকাদের সাথে কথা বললেই বোঝা যায় ওই ট্রেনের যাতায়াতের পথটুকু বাদ দিলে প্রায় বসার বা ঝিমোবার সময় তারা না বাড়িতে পান, না কাজের ক্ষেত্রে। এ তো গেল যারা দূর থেকে আসেন তাদের কথা। আর যারা শহরের আশেপাশে বস্তিতে থাকেন? তারা কেমন আছে জানতে চাইলে ঢুঁ মারতে হবে ঢাকুরিয়া বস্তিতে কিংবা, বিধাননগর বস্তিগুলোতে। শহরতলিতে বাস করে বাজারের আগুন দামে পাল্লা দিয়ে জীবনযাত্রা টিকিয়ে রাখতে অবস্থা জেরবার। মাথা ওপর একটুকরো আশ্রয়ের ভরসা নেই অথচ তাকে উদয়াস্ত শ্রম দিয়ে টিকিয়ে রাখতে হয় অন্যের সাজানো সংসার।