উনপাঁজুরে : মো. রেজাউল করিম
বুলবুলভাজা | গপ্পো | ২৫ মে ২০২০ | ২৩১৭ বার পঠিত
রহিমা খালা এক বাসাতে থেকে কাজ করার কথা বলল। ফুলবানু অনেক ভেবেচিন্তে রাজি হলো। খুব বড়োলোকের বাসা। থাকা-খাওয়া ওখানেই। মাসে বেতন পাঁচ হাজার টাকা। একসাথে এত টাকা ফুলবানু কল্পনাও করতে পারে না। তবে প্রথম মাসের বেতন থেকে দু’হাজার টাকা খালাকে দিতে হবে। সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করতে হয়। সমস্যা বাধল রান্না করা নিয়ে। তার হাতের রান্না ও-বাড়ির কেউ মুখে তুলতে পারে না। পারবেই বা কেমন করে? সে কি বড়োলোকের খাওয়ার মতো রান্না করেছে কোনোদিন? নাকি খেয়েছে কোনোদিন? সমস্যা আরও আছে। এ বাড়িতে রান্না, তরকারি গরম করা, ঘর মোছা, কাপড় কাচা সবই হয় মেশিনে। ওগুলোতে হাত দিতে বড়ো ভয় করে ফুলবানুর। সে রান্না করেছে ক্বচিৎ-কদাচিৎ। ইটের চুলা বানিয়ে ভাত আর সবজি রান্না করেছে বটে; তবে সেই রান্না কি এ বাড়ির মানুষ মুখে তুলতে পারে? খালাম্মা জানিয়ে দিলেন, এ মাস গেলে বেতন দিয়েই বিদায় করে দিবেন। ও-বাড়িতে একটাই ছেলে। ভার্সিটিতে পড়ে। বড়ো ছেলে বিয়ের পরে বউ নিয়ে এই ঢাকা শহরেই থাকে। বউ এর সাথে মায়ের বনিবনা না হওয়ায় বড়ো ছেলে পৃথক বাসা নিয়েছে।