তেলের দামের আর্থ-রাজনীতি : দেবর্ষি দাস, দীপঙ্কর বসু, পানাইয়োটিস টাকি ও শিব শেঠী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০২ আগস্ট ২০১০ | ১৮০৫ বার পঠিত
মোটামুটি তিন ধরনের প্রতিক্রিয়া ইংরিজি খবর মাধ্যমগুলোতে দেখা গেল। প্রথমত, বাজার পেট্রল ও ডিজেলের দামের বিনিয়ন্ত্রণকে উল্লাসের সাথে গ্রহণ করল, প্রতিফলন দেখা গেল তেলের শেয়ারের চড়া দামে । দ্বিতীয়ত, জোরালো অভিযোগ উঠতে থাকল যে এই নীতিপরিবর্তন যথেষ্ট নয়। কেরোসিন ও এলপিজির দামের ওপর ন্যূনতম সরকারি নিয়ন্ত্রণ আছে। তেল ও ডিজেলের বিনিয়ন্ত্রণের পরও তাই
OMC
গুলোর লোকসান এই আর্থবছর ২০১১-তে ৫৩০০০ কোটি টাকা হতে চলেছে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন বিরোধী দল নিয়মমাফিক রীতিতে একটি "ভারত বনধ' পালন করে।
ভারতবর্ষের তেলের দামের আর্থ-রাজনীতিকে খুঁটিয়ে দেখার আগে তিনটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে নেওয়া যাক। ......
তৃতীয় প্রশ্নটি ভারতবর্ষের তেলের দাম নিয়ে সযত্নে তৈরি করা রূপকথা সম্পর্কিত। এই রূপকথাটির একটি জরুরি উপাদান হল তেলের (মানে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজি) দামে সরকার বাহাদুর আমাদের বিপুল পরিমানে ভর্তুকি দিয়ে থাকেন। সরকারি ঘোষণা, সরকারি নীতি চর্চা বা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে এই ভর্তুকি সরকারি
OMC
গুলোর '
under recovery
' হিসেবে দেখা দেয় ও সরকারি বাজেট ঘাটতিকে (আয় ও ব্যয়ের পার্থক্যকে) বাড়িয়ে তোলে। এই তর্কের পরের ধাপ হল, তেল ভর্তুকি দেশের মূল্যবান সম্পদের অপচয়। সরকারি আয় ব্যয়ের দিক থেকে দেখতে গেলে দীর্ঘকালীন পরিপ্রেক্ষিতে একে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ভর্তুকির কাট ছাঁট তাই দরকার। কীভাবে করা হবে? পেট্রোÌপণ্যের দামের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে দিয়ে, যাতে মূল্য বাজারের চাহিদা-যোগান দিয়ে নির্ধারিত হয়।
তেলের দাম নিয়ে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার খবরের ওপর শুধু চোখ বোলালেই এই রূপকথাটি কত জনপ্রিয় মালুম হয়।