যে রূপ আশ্বিনের : জগন্নাথদেব মণ্ডল
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : উৎসব | ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ২১৩৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ১
ভোররাত থেকেই জলহাওয়া মেঘ থমথমে। সকাল থেকেই চারিদিক আঁধার।ভোর শেষ হয়নি তখনো।চারিদিক জনহীন, বাজারের দিকে শুধু ভিড়। সাইকেলে চেপে ঘুরে ঘুরে দেখছি দশদিক।ফলের ঝাঁকা নিয়ে পাতাইহাটের লোক, নতুন গামছা নিয়ে জগদানন্দপুর, মাটির জিনিস ও পদ্মফুল নিয়ে ঘোড়ানাশের মানুষজন বসে আছে।
ঢাক নিয়ে আসে ঢাকিদের ভিড়ের পাশাপাশি সাহেবতলার কাছে দেখলাম একদল হিজড়ে।ঢাকে এখন বক মেরে পালক গাঁথা বন্ধ হয়েছে। হিজড়েদের হাতে ঢোলক একটা, রঙিন জামাকাপড়, দূরের দিকে তাকিয়ে আছে চুপ করে।
বোলান নাচের দল, গাজনের সঙ, রিক্সা চড়ে হাততালি দিয়ে পাড়া কাঁপানো হিজড়ে দেখে বড়ো হয়েছি।ঢোল কাঁধে কোমর বাঁকিয়ে নেচে-কুঁদে বলেছে - 'এই বাবু, টাকা না দিলে তোর উঠোনে দাঁড়িয়ে শাড়ি তুলে ঢোলে জল ঢেলে দিব'।সেই নাচের কী তীব্রতা,সমস্ত না-পাওয়া নাচে ফুটিয়ে তুলে কী প্রচণ্ড বেঁচে থাকা, চড়া গলার খটখটে গান আকাশের ঠোঁট অবধি ছুঁয়ে ফেলছে।
শ্রোতা : জগন্নাথদেব মণ্ডল
বুলবুলভাজা | কাব্য | ০৫ জুলাই ২০২৪ | ৩৪৬১ বার পঠিত | মন্তব্য : ৪৬
"আষাঢ় মাসের বিকেলে ছোট হল্ট স্টেশনে বসে আছি।আকাশ মেঘলা, লোকজন তেমন নেই।চোখে না পড়ার মতো চা দোকান। পাশে কদমগাছে অজস্র ফুল ফুটে আছে।
হঠাৎ দেখি কিছু লোকজন দল বেঁধে প্ল্যাটফর্মে উঠে এল।গ্রাম্যদেশের মানুষ সব।কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। বেশ ঝলমলে জামাকাপড়।বুঝলাম, হাট থেকে ফিরছে।
সামনের লোকটির কাঁধে একটা কাপড় জড়ানো খাঁড়া।অল্প কিছু অংশ বেরিয়ে আছে, আলো লেগে অল্প চমকাচ্ছে। কদিন পরে নিশ্চয়ই কোনো জাগ্রত থানে বলির ব্যাপার আছে।
---- "