সুবোল সখার বিয়ে বৃত্তান্ত অথবা জলপরির জলকথা : কুলদা রায়
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : উৎসব ২০১২ | ০২ নভেম্বর ২০১২ | ১৩১৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ৫
বেলগাছটির অবস্থান ঈশান কোণে। রুয়েছিলেন দীননাথ। সেটা পঞ্চাশ সালের ঘটনা। তখনও আইয়ুব খানের পয়দা হয়নি। চাঁদে আমেরিকা পৌঁছায়নি। চীন আর রাশিয়া নামক দুটি দেশে একই বৃষ্টির ফোঁটা পড়ত। সোহরাওয়ার্দ্দী বড় নেতা। দীননাথ বিয়ে করেছে তার মায়ের অনুরোধে। কৃষ্ণলীলা পালাগান করার ফলে দীননাথের ধারণা ছিল—বিয়ে করার কোনো মানেই হয় না। স্ত্রী হৈমবালাকে বাড়ি আনার পরে একদিন মধ্য রাতে বলেছিল, রাধাকৃষ্ণর প্রেম—নিকষিত হেম। তুমি আমাকে কৃষ্ণজ্ঞানে ধ্যান করিও। তবুও সে বছরই হৈমবালা তাকে বিস্মিত করে গর্ভধারণ করে। একটি পুত্র সন্তানের জননী হয়। তারও বছর দেড়েক পরে আরেকটি পুত্র তার কোলজুড়ে আসে। তাদের নাম রাখে—সুবোল সখা ও সুদামা সখা। এরপরই একদিন দীননাথ গোলারগাতীর বাবুরাম পাগলের আশ্রম থেকে সুফলদায়ী বেলগাছের চারাটি রুয়ে জলদান করল। আর সেদিন ভোররাতেই হৈমবালাকে জাগ্রত করে বলল, তাইলে হৈমবালা আমারে বিদেয় দেও। এ সংসারে থাকার দায় আমার মিটে গেছে।
হৈমবালার দুপাশে দুপুত্র সুবোল সখা আর সুদামা সখা তখনও মাই মুখে দিয়ে ঘুমোচ্ছে। উঠতে গেলে ডুকরে উঠেছে। ওঠা যাবে না। যেমন করে প্রতি ভোর রাতেই বলে, সে রকম করে বলল, তুমি গেলে আমাগো কী উপোয় হইবে গোসাই
হায় সাতক্ষীরা, ধায় সাতক্ষীরা : কুলদা রায় ও এমএমআর জালাল
বুলবুলভাজা | অপর বাংলা | ৩০ আগস্ট ২০১২ | ১৭১৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ২
সাতক্ষীরায় সব কিছু শান্ত হয়ে আসবে। এই ঘটনা সবাই ভুলে যাবে। ভুলিয়ে দেওয়ার সকল আয়োজন চলছে। এরপরে আবারও সাতক্ষীরার বদলে হয়তো ঝিনাইদাহে ঘটবে। কুড়িগ্রামে ঘটবে। অথবা নরসিংদীতে, ভোলায়, হবিগঞ্জে বা যে কোনো স্থানেই ঘটতে পারে। তারও ক্ষেত্র প্রস্তুত আছে। পাকিস্তান আমলে বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। এই দাঙ্গার প্রধান টার্গেটই ছিল সংখ্যালঘুরা। একাত্তরে পাকিবাহিনীর প্রধান লক্ষ্যই ছিল এই সংখ্যালঘুদের নির্মুল করা। স্বাধীন বাংলাদেশেও বিরানব্বইতে, ছিয়ানব্বইতে, দুই হাজার এক সালে নির্বাচনোত্তর সহিংসার শিকার হয় এই সংখ্যালঘুরা। এগুলো করেছে এরশাদের জাতীয় পার্টি, খালেদার বিএনপি, গোলাম আযমের জামাতে ইসলামী এবং হাসিনার আওয়ামী লীগ তেমন সোচ্চার হয় নি-- চুপ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পছন্দ করেছে। প্রকারন্তরে তাদের এই চুপ করে থাকাটাই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে শক্তিশালী করে। চিনাপন্থী রাজনীতিকদের সমর্থন সবসময়ই বিএনপি-জামাতের দিকে। আর প্রগতিশীল বামদের শক্তি ক্রমশ কমছে। তাদের কণ্ঠ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ভরসা কমছে।