এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  •  সহযোগিতার গেম — লিলির মাছ ধরার গল্প

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩১ জুলাই ২০২৬ | ৩৪ বার পঠিত
  • 00 | 01 | 02

    আগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম সিকোয়েন্সিয়াল গেম — যেখানে খেলোয়াড়রা একে একে চাল দেয়, আর আগের চাল দেখে পরের চাল ঠিক করে। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, কীভাবে পিছন থেকে সামনের দিকে চিন্তা করে সেরা কৌশল বের করতে হয়। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব সহযোগিতার গেম (Cooperative Games) — যেখানে সবাই মিলে ভালো করতে চায়, কিন্তু কেউ চায় না বেশি অবদান রাখতে।

    গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল।



    পরদিন লিলি আর মিমি তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বসল। লিলি বলল, "মা, আমরা সিকোয়েন্সিয়াল গেম শিখেছি। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না — যখন অনেক খেলোয়াড় থাকে, আর সবাই মিলে কোনো কাজ করতে চায়, তখন কী হয়? যেমন — আমাদের ক্লাসের সবাই মিলে যদি একটা প্রকল্প করতে চায়, তাহলে কে কত কাজ করবে?"

    মা বললেন, "এখানেই আসে সহযোগিতার গেম। এখানে খেলোয়াড়রা একসাথে কাজ করে লাভ পেতে পারে, কিন্তু প্রত্যেকের নিজের স্বার্থ থাকে।"

    মিমি বলল, "মানে সবাই লাভ পেতে চায়, কিন্তু কাজ করতে চায় না?"

    মা বললেন, "ঠিক। এটাই সহযোগিতার গেমের মূল সমস্যা।"

    লিলি বলল, "তাহলে শুরু করি?"

    পাবলিক গুডস গেম

    মা তাদের পাবলিক গুডস গেম (Public Goods Game) শেখালেন। তিনি বললেন, "পাবলিক গুডস মানে এমন জিনিস যা সবাই ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তৈরি করতে সবাইকে অবদান রাখতে হয়। যেমন — পার্ক, রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল।"

    লিলি বলল, "কিন্তু কেউ যদি অবদান না রাখে?"

    মা বললেন, "তাহলে সেটা তৈরি হবে না, বা কম হবে। কিন্তু যারা অবদান রাখে না, তারাও সেটা ব্যবহার করতে পারে। এটাই ফ্রিরাইডার সমস্যা (Freerider Problem)।"

    মিমি বলল, "মানে কেউ কাজ না করেও লাভ পেতে পারে?"

    মা বললেন, "ঠিক। আর এজন্যই পাবলিক গুডস তৈরি করা কঠিন।"

    গেমের নিয়ম:
    ৪ জন খেলোয়াড়
    প্রত্যেকের কাছে ১০০ টাকা
    প্রত্যেকে ০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে পারে
    সব টাকা জমা করে ২ গুণ করে সবাইকে ভাগ করে দেওয়া হয়

    লিলি বলল, "তাহলে যদি সবাই ১০০ দেয়, তাহলে ৪০০ টাকা জমা হয়, ৮০০ টাকা হয়, আর প্রত্যেকে ২০০ পায় — লাভ ১০০!"

    মিমি বলল, "কিন্তু যদি কেউ ০ দেয়, সে তো ২০০ পায় কাজ না করেই!"

    মা বললেন, "ঠিক। তাই সবাই ০ দিতে চায়। কিন্তু সবাই ০ দিলে কেউ কিছু পায় না। এটাই পাবলিক গুডসের সমস্যা।"

    ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্স

    মা তাদের ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্স (Tragedy of the Commons) শেখালেন। এটা পাবলিক গুডসের উল্টো — এখানে সবাই মিলে একটা জিনিস ব্যবহার করে, কিন্তু কেউ সেটা রক্ষা করতে চায় না।

    গল্প: একটা গ্রামে সবাই মিলে একটা মাঠে গরু চরায়। মাঠটা সবার জন্য। প্রত্যেকে আরও বেশি গরু আনতে চায়, কারণ বেশি গরু মানে বেশি দুধ। কিন্তু সবাই বেশি গরু আনলে মাঠের ঘাস শেষ হয়ে যায়, আর কেউ গরু চরাতে পারে না।

    লিলি বলল, "মানে প্রত্যেকের জন্য বেশি গরু ভালো, কিন্তু সবার জন্য বেশি গরু খারাপ?"

    মা বললেন, "ঠিক। এটাই ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্স।"

    পেমেন্ট ম্যাট্রিক্স (সরলীকৃত):
    যদি সবাই ১টা গরু আনে → সবাই ১০০ লাভ
    যদি কেউ ২টা আনে, অন্যরা ১টা করে → যে ২টা আনল সে ১৫০ পায়, অন্যরা ৮০ পায়
    যদি সবাই ২টা আনে → সবাই ৫০ পায়

    মিমি বলল, "দেখো, ২টা আনা সবসময় ব্যক্তিগতভাবে ভালো — ১৫০ > ১০০, ৫০ > ৮০? আসলে ২টা আনলে ৫০ পায়, ১টা আনলে ৮০ পায় — যদি অন্যরা ২টা আনে, তাহলে ১টা আনা ভালো?"

    মা বললেন, "ঠিক। প্রত্যেকের জন্য ২টা আনা প্রভাবশালী, কিন্তু সবাই করলে সবাই খারাপ হয়। এটাই ট্রাজেডি।"

    বাস্তব উদাহরণ — মাছ ধরা

    লিলি আর মিমি মাছ ধরার গল্প শুনল। একটা হ্রদে অনেক মাছ আছে। সব জেলে মাছ ধরতে চায়। প্রত্যেকে বেশি মাছ ধরতে চায়, কারণ বেশি মাছ মানে বেশি টাকা। কিন্তু সবাই বেশি মাছ ধরলে মাছের সংখ্যা কমে যায়, আর পরে কেউ মাছ পায় না।

    লিলি বলল, "এটা তো ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্স!"

    মিমি বলল, "কীভাবে সমাধান করা যায়?"

    মা বললেন, "কোটা নির্ধারণ করে — কতটা মাছ ধরা যাবে, সেটা ঠিক করে। অথবা মাছ ধরার লাইসেন্স দিয়ে। অথবা মাছের প্রজনন মৌসুমে ধরা বন্ধ করে।"

    লিলি বলল, "মানে নিয়ম কানুন দরকার?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। সহযোগিতা না হলে নিয়ম দরকার হয়।"

    পুনরাবৃত্ত গেম

    মা তাদের পুনরাবৃত্ত গেম (Repeated Games) শেখালেন। তিনি বললেন, "আমরা যে গেমগুলো দেখেছি, সেগুলো একবারের গেম। কিন্তু বাস্তবে অনেক গেম বারবার হয়। যেমন — বাজারে প্রতিদিন কেনাবেচা হয়, ক্লাসে প্রতিদিন পড়াশোনা হয়।"

    লিলি বলল, "বারবার খেললে কী বদলায়?"

    মা বললেন, "বারবার খেললে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়। কারণ আজ যদি কেউ প্রতারণা করে, কাল অন্যরা তাকে শাস্তি দিতে পারে।"

    মিমি বলল, "মানে ভবিষ্যতের ভয় মানুষকে ভালো করে?"

    মা বললেন, "ঠিক। একবারের গেমে প্রতারণা ভালো, কিন্তু বারবার গেমে সহযোগিতা ভালো।"

    উদাহরণ: কয়েদির দ্বিধা যদি ১০ বার খেলা হয়, তাহলে খেলোয়াড়রা প্রথম কয়েকবার সহযোগিতা করতে পারে, শেষের দিকে প্রতারণা করতে পারে। একে বলে 'টিটফরট্যাট' (Tit for Tat) কৌশল — প্রথমে সহযোগিতা করো, তারপর প্রতিপক্ষ যা করে সেটাই করো।

    টিটফরট্যাট কৌশল

    মা তাদের টিটফরট্যাট কৌশল শেখালেন। এটা পুনরাবৃত্ত গেমের সবচেয়ে বিখ্যাত কৌশল।

    কৌশলটা খুব সহজ:
    ১. প্রথম রাউন্ডে সহযোগিতা করো
    ২. তারপর প্রতিপক্ষ যা করবে, সেটাই করো — যদি সহযোগিতা করে, তুমিও সহযোগিতা করো; যদি প্রতারণা করে, তুমিও প্রতারণা করো

    লিলি বলল, "মানে 'চোখের বদলে চোখ'?"

    মা বললেন, "ঠিক। এটা খুব শক্তিশালী কৌশল, কারণ:
    এটা সহজ — সবাই বুঝতে পারে
    এটা ক্ষমাশীল — যদি প্রতিপক্ষ আবার সহযোগিতা শুরু করে, তুমিও শুরু করো
    এটা প্রতিশোধমূলক — প্রতারণা করলে শাস্তি পাবে
    এটা স্পষ্ট — কেউ বুঝতে ভুল করে না"

    মিমি বলল, "তাহলে টিটফরট্যাট সবচেয়ে ভালো?"

    মা বললেন, "রবার্ট অ্যাক্সেলরড নামের একজন রাজনৈতিক বিজ্ঞানী কম্পিউটার টুর্নামেন্টে দেখিয়েছেন, টিটফরট্যাট সবচেয়ে ভালো কাজ করে।"

    টিটফরট্যাটের উদাহরণ

    লিলি আর মিমি টিটফরট্যাট খেলার চেষ্টা করল।

    রাউন্ড ১: লিলি সহযোগিতা করে, মিমি সহযোগিতা করে → দুজনেই ভালো পায়
    রাউন্ড ২: লিলি সহযোগিতা করে, মিমি প্রতারণা করে → মিমি বেশি পায়, লিলি কম পায়
    রাউন্ড ৩: লিলি প্রতারণা করে (কারণ মিমি গতবার প্রতারণা করেছিল), মিমি সহযোগিতা করে → লিলি বেশি পায়, মিমি কম পায়
    রাউন্ড ৪: লিলি সহযোগিতা করে (কারণ মিমি গতবার সহযোগিতা করেছিল), মিমি সহযোগিতা করে → দুজনেই ভালো পায়

    লিলি বলল, "দেখো, শেষ পর্যন্ত দুজনেই সহযোগিতা করছে!"

    মিমি বলল, "মানে প্রতারণা করে লাভ হয়নি?"

    লিলি বলল, "স্বল্পমেয়াদে হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হয় না।"

    মা বললেন, "ঠিক। এটাই পুনরাবৃত্ত গেমের শিক্ষা।"

    সহযোগিতার শর্ত

    মা তাদের সহযোগিতার শর্তগুলো বললেন:

    ১. পুনরাবৃত্তি — খেলাটা বারবার হতে হবে। একবারের গেমে সহযোগিতা কঠিন।

    ২. ভবিষ্যতের গুরুত্ব — খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে। যদি ভবিষ্যত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সহযোগিতা করা ভালো।

    ৩. প্রতারণা শনাক্ত করা — কে প্রতারণা করছে, তা জানতে হবে। না জানলে শাস্তি দেওয়া যায় না।

    ৪. শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা — প্রতারণা করলে শাস্তি দিতে হবে, যাতে অন্যরা ভয় পায়।

    ৫. ক্ষমা করার ক্ষমতা — একবার শাস্তি দিয়ে আবার সহযোগিতা শুরু করতে হবে। না হলে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।

    লিলি লিখল:
    পুনরাবৃত্তি
    ভবিষ্যত
    শনাক্তকরণ
    শাস্তি
    ক্ষমা

    মিমি বলল, "এগুলো তো বন্ধুত্বের জন্যও দরকার!"

    মা বললেন, "ঠিক। গেম থিওরি শুধু অর্থনীতি না — এটা সম্পর্কের জন্যও।"

    সহযোগিতার বাস্তব উদাহরণ

    মা তাদের সহযোগিতার কিছু বাস্তব উদাহরণ দেখালেন:

    ১. আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তি — সব দেশ মিলে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চায়, কিন্তু কেউ চায় না বেশি খরচ করতে। পুনরাবৃত্ত গেমের মাধ্যমে সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

    ২. মাছ ধরার কোটা — সব দেশ মিলে মাছ ধরার পরিমাণ ঠিক করে, যাতে মাছ শেষ না হয়ে যায়।

    ৩. ওপেক — তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো মিলে তেলের দাম ঠিক করে।

    ৪. কর্মক্ষেত্রে টিমওয়ার্ক — সবাই মিলে কাজ করলে ভালো হয়, কিন্তু কেউ চায় না বেশি কাজ করতে। টিটফরট্যাট কৌশল ব্যবহার করে সহযোগিতা গড়ে তোলা যায়।

    ৫. পরিবারে সম্পর্ক — বাবামা, ভাইবোন — সবাই মিলে সহযোগিতা করে। যদি কেউ প্রতারণা করে, সম্পর্ক নষ্ট হয়।

    লিলি বলল, "গেম থিওরি তো আমাদের জীবনকে ব্যাখ্যা করে!"

    মিমি বলল, "হ্যাঁ। আমরা সবসময় সহযোগিতা আর প্রতিযোগিতার মধ্যে চয়েস করি।"

    ক্লাব গুডস

    মা তাদের ক্লাব গুডস (Club Goods) শেখালেন। তিনি বললেন, "ক্লাব গুডস হলো এমন জিনিস যা শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যবহার করতে পারে। যেমন — সদস্যতা ভিত্তিক ক্লাব, জিম, সুইমিং পুল।"

    লিলি বলল, "পাবলিক গুডস আর ক্লাব গুডসের পার্থক্য কী?"

    মা বললেন, "পাবলিক গুডস সবাই ব্যবহার করতে পারে, আর ক্লাব গুডস শুধু সদস্যরা। ক্লাব গুডসে ফ্রিরাইডার সমস্যা কম, কারণ না দিলে সদস্য হওয়া যায় না।"

    মিমি বলল, "তাই জিমে সদস্য ফি দিতে হয়!"

    মা বললেন, "ঠিক। ক্লাব গুডস সহযোগিতা সহজ করে।"

    লিলির নিজের উদাহরণ — ক্লাসের প্রকল্প

    লিলি তার ক্লাসের প্রকল্প নিয়ে একটা উদাহরণ বানাল। ক্লাসের ৫ জন মিলে একটা প্রকল্প করতে হবে। প্রত্যেকে কাজ করতে পারে (সহযোগিতা) অথবা করতে পারে না (প্রতারণা)।

    পেমেন্ট ম্যাট্রিক্স:
    সবাই কাজ করলে → প্রত্যেকে ১০ নম্বর পায়
    কেউ কাজ না করলে, অন্যরা কাজ করলে → যে কাজ করল না সে ১২ পায় (কম কাজ বেশি নম্বর), অন্যরা ৮ পায়
    কেউ কাজ না করলে আর অন্যরাও কাজ না করলে → সবাই ০ পায়

    লিলি বলল, "এখানে কাজ না করাই ব্যক্তিগতভাবে ভালো — ১২ > ১০, ৮ > ০?"

    মিমি বলল, "কিন্তু সবাই কাজ না করলে ০ পায়। তাই সহযোগিতা দরকার।"

    মা বললেন, "ঠিক। এটাই পাবলিক গুডসের সমস্যা। সমাধান হলো — শিক্ষক প্রকল্পের প্রতিটি অংশ আলাদা আলাদা গ্রেড করবেন, যাতে কে কত কাজ করছে বোঝা যায়।"

    লিলি বলল, "মানে প্রতারণা শনাক্ত করা দরকার?"

    মা বললেন, "ঠিক।"

    লিলির অনুশীলনী

    লিলি নিজে কিছু অনুশীলনী বানাল:

    ১. পাবলিক গুডস গেমে ৪ জন খেলোয়াড়, প্রত্যেকের কাছে ১০০ টাকা। প্রত্যেকে ১০০ দিলে লাভ কত?
    উত্তর: সবাই ২০০ পায় (১০০ লাভ)

    ২. ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্সে কীভাবে সমাধান করা যায়?
    উত্তর: কোটা নির্ধারণ, লাইসেন্স, প্রজনন মৌসুমে ধরা বন্ধ

    ৩. টিটফরট্যাট কৌশলের ৪টি বৈশিষ্ট্য কী?
    উত্তর: সহজ, ক্ষমাশীল, প্রতিশোধমূলক, স্পষ্ট

    মিমি বলল, "সবগুলো সঠিক!"

    সহযোগিতার চ্যালেঞ্জ

    মা তাদের সহযোগিতার কিছু চ্যালেঞ্জ বললেন:

    ১. আত্মস্বার্থ — প্রত্যেকের নিজের লাভ বেশি দরকার। সহযোগিতা করতে গেলে কিছু ছাড় দিতে হয়।

    ২. অনিশ্চয়তা — অন্যরা সহযোগিতা করবে কি না, তা জানা যায় না।

    ৩. যোগাযোগের অভাব — কথা না বললে সহযোগিতা করা কঠিন।

    ৪. বিশ্বাসের অভাব — যদি বিশ্বাস না থাকে, সহযোগিতা হয় না।

    ৫. স্বল্পমেয়াদি চিন্তা — অনেকে ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমান বেশি গুরুত্ব দেয়।

    লিলি বলল, "তাহলে সহযোগিতা কঠিন?"

    মা বললেন, "কঠিন, কিন্তু অসম্ভব না। যোগাযোগ, বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা — এগুলো সহযোগিতা সহজ করে।"
    শোওয়ার আগে

    রাতে শোওয়ার আগে লিলি আর মিমি তাদের আজকের পড়া রিভাইজ করল।

    লিলি লিখল:
    পাবলিক গুডস গেম = সবাই অবদান রাখে, সবাই লাভ পায়
    ফ্রিরাইডার সমস্যা = কেউ না দিয়েও লাভ পায়
    ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্স = সবাই ব্যবহার করে, কেউ রক্ষা করে না
    পুনরাবৃত্ত গেম = বারবার খেলা
    টিটফরট্যাট = প্রথমে সহযোগিতা, তারপর প্রতিপক্ষ যা করে তাই

    মিমি লিখল:
    সহযোগিতার শর্ত: পুনরাবৃত্তি, ভবিষ্যত, শনাক্তকরণ, শাস্তি, ক্ষমা
    ক্লাব গুডস = সদস্যদের জন্য বিশেষ সুবিধা
    সহযোগিতার চ্যালেঞ্জ: আত্মস্বার্থ, অনিশ্চয়তা, যোগাযোগের অভাব, বিশ্বাসের অভাব

    লিলি বলল, "কাল আমরা গেম থিওরির আরও উদাহরণ শিখব — অকশন থিওরি।"

    মিমি বলল, "মানে কীভাবে দাম বাড়িয়ে কেনাবেচা হয়?"

    লিলি বলল, "হ্যাঁ।"

    তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

    টিপস

    তোমরাও লিলি আর মিমির মতো সহযোগিতার গেম শিখে ফেললে। এখন তুমি জানো, কীভাবে সবাই মিলে ভালো করতে চায়, কিন্তু কেউ চায় না বেশি অবদান রাখতে।

    তোমার চারপাশ থেকে সহযোগিতার গেমের উদাহরণ বের করতে পারো। যেমন:

    ক্লাসের প্রকল্প — কে কত কাজ করছে?
    পরিবারের কাজ — কে কতটা সাহায্য করছে?
    স্কুলের পার্ক — সবাই ব্যবহার করে, কে রক্ষা করে?
    বন্ধুদের সাথে খেলা — সবাই মিলে খেলে মজা হয়, কিন্তু কেউ বেশি চায়?
    দোকানে কেনাকাটা — সবাই কম দাম চায়, কিন্তু দোকানদার লাভ চায়

    এভাবে প্রতিদিন ২ টা করে সহযোগিতার গেমের উদাহরণ বের করার অভ্যাস করো।

    মনে রাখার মূল কথা:
    পাবলিক গুডস = সবাই লাভ পায়, সবাই দিতে পারে
    ফ্রিরাইডার = না দিয়ে লাভ পায়
    ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্স = সবাই ব্যবহার করে, কেউ রক্ষা করে না
    টিটফরট্যাট = সহযোগিতা শুরু করো, তারপর যা পাবে তাই দাও

    শেষ কথা

    এই অধ্যায়ে আমরা শিখলাম সহযোগিতার গেম। আমরা জানলাম, কীভাবে পাবলিক গুডস গেমে ফ্রিরাইডার সমস্যা হয়, কীভাবে ট্রাজেডি অফ দ্য কমন্সে সবাই ব্যবহার করলেও কেউ রক্ষা করে না। আমরা পুনরাবৃত্ত গেম দেখলাম, যেখানে বারবার খেলা হলে সহযোগিতা সম্ভব হয়। শিখলাম টিটফরট্যাট কৌশল — সবচেয়ে শক্তিশালী সহযোগিতার কৌশল।

    লিলি আর মিমি তাদের নিজের জীবন থেকে অসংখ্য উদাহরণ দিয়েছে — মাছ ধরা, ক্লাসের প্রকল্প, পরিবারের সম্পর্ক — সবকিছুর জন্য।

    পরের অধ্যায়ে আমরা অকশন থিওরি শিখব — কীভাবে দাম বাড়িয়ে কেনাবেচা হয়, কীভাবে মানুষ নিলামে অংশ নেয়।

    ততক্ষণে, তোমরা নিজেরা নিজেদের জীবন থেকে সহযোগিতার গেমের উদাহরণ বের করতে থাকো।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    00 | 01 | 02
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন