এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মোঙ্গলরা যেভাবে রাশিয়া জয় করে 

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ মে ২০২৬ | ১৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • ১২৩৬ থেকে ১২৪২ সালের মধ্যে মঙ্গোলরা যখন রাশিয়া (তৎকালীন Kievan Rus) আক্রমণ ও জয় করে, তখন তারা এমন কিছু সামরিক কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল যা সেই সময়ের ইউরোপীয়দের ভাবনারও বাইরে ছিল।
     
    কিয়েভান রাস কোনো একক শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল না, বরং ছোট ছোট স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল।
    সাধারণত সামরিক ইতিহাসে দেখা যায় যে রাশিয়ার তীব্র শীতের কারণে নেপোলিয়ন বা হিটলারের মতো বড় বড় সম্রাটরা পরাস্ত হয়েছেন।
     
    কিন্তু মঙ্গোলরা ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শীতকালকে তাদের আক্রমণের প্রধান সময় হিসেবে বেছে নেয়। রাশিয়ার ঘন জঙ্গল এবং কাদাভর্তি রাস্তা দিয়ে গ্রীষ্মকালে চলাচল করা কঠিন ছিল।
     
    মঙ্গোলরা শীতকালে যখন নদীগুলো বরফে জমে শক্ত হয়ে যেত, তখন সেই নদীগুলোকে "হাইওয়ে" বা চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে তাদের অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে দ্রুত এক শহর থেকে অন্য শহরে আক্রমণ চালায়।
     
    মঙ্গোল রোগাটে কিন্তু প্রচণ্ড সহনশীল ঘোড়াগুলো বরফের নিচে থাকা ঘাস খুঁড়ে খেতে পারত, তাই তাদের রসদের অভাব হতো না। প্রতিটি মঙ্গোল যোদ্ধার সাথে একাধিক ঘোড়া থাকত।
     
    তাদের প্রধান অস্ত্র ছিল কম্পোজিট বো (Composite Bow), যা সাধারণ ধনুকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার ছিল। ঘোড়ার পিঠে চড়ে পূর্ণ গতিতে ছুটে যাওয়ার সময়ও তারা নিখুঁতভাবে তীর ছুঁড়তে পারত।
     
    মঙ্গোলরা যখন আক্রমণ করে, তখন রাশিয়ার রাজপুত্ররা (Princes) একতাবদ্ধ হতে পারেননি। ভ্লাদিমির, রিয়াজান, কিয়েভ বা নভগোরদের শাসকরা একে অপরকে হিংসা করতেন।
     
    মঙ্গোলরা যখন একটি শহর আক্রমণ করত, অন্য শহরের রাজপুত্ররা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতেন না। এই রাজনৈতিক বিভাজনের পূর্ণ সুযোগ নিয়ে মঙ্গোলরা একে একে প্রতিটি শহর ধ্বংস করে।
     
    রাশিয়ার শহরগুলোর চারপাশে শক্তিশালী কাঠের ও পাথরের দেয়াল ছিল, যা ভেদ করা সাধারণ বাহিনীর জন্য অসম্ভব ছিল। কিন্তু মঙ্গোলরা চীন জয়ের সময় সেখান থেকে উন্নত ইঞ্জিনিয়ার এবং যুদ্ধাস্ত্র তৈরি বিশেষজ্ঞ নিয়ে এসেছিল।
     
    তারা বড় বড় পাথর ছোঁড়ার যন্ত্র (Catapults) এবং দেয়াল ভাঙার যন্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার শহরের দেয়াল মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেয়।
     
    মঙ্গোলদের আরেকটি কৌশল ছিল আতঙ্ক ছড়ানো। তারা কোনো শহরকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিত। যদি শহরটি আত্মসমর্পণ না করত, তবে মঙ্গোলরা সেটি জয় করার পর শহরের সমস্ত মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করত এবং শহর পুড়িয়ে দিত।
     
    এই খবর যখন পাশের শহরে পৌঁছাত, তখন তারা ভয়ে আগেই আত্মসমর্পণ করত। ১২৪০ সালে কিয়েভান রাসের রাজধানী এবং সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহর কিয়েভ সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মাধ্যমে মঙ্গোলরা তাদের আধিপত্য নিশ্চিত করে।
     
    এর ফলে পরবর্তী প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় রাশিয়া মঙ্গোলদের (যা ইতিহাসে Golden Horde নামে পরিচিত) অধীনে করদ রাজ্যে পরিণত থাকে, যাকে রুশ ইতিহাসে "মঙ্গোল জোয়াল" (Mongol Yoke) বলা হয়।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন