এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিজেপি কি কোনো রাজনৈতিক দল, নাকি একটি কর্পোরেট থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক? ডিলিমিটেশন গেমের ইনসাইড স্টোরি।

    হারামির হাতবাক্স লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৪৩ বার পঠিত
  • রাজনীতি জিনিসটা পাড়ার রকে বসে চা খাওয়া নয়, বরং দাবার বোর্ডে এমন এক চাল দেওয়া যেখানে বিপক্ষ কিস্তিমাত হওয়ার আগেই নিজের পরাজয়টাকে ‘ঐতিহাসিক বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করে দেয়। সম্প্রতি লোকসভায় ‘৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ২০২৬’ নিয়ে যে কাণ্ডটি ঘটল, তাকে খবরের কাগজে ‘পরাজয়’ বলা হলেও বুদ্ধির বাজারে একে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলতেই হবে। কেন? কারণ বিজেপি কেবল একটা রাজনৈতিক দল নয়, ওটা একটা সুশৃঙ্খল ‘কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান’, যেখানে স্ট্র্যাটেজি তৈরি হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে, আর তার ইমপ্যাক্ট পড়ে একদম তৃণমূল স্তরের ইমোশনে।
     
    বিজেপি জানে যে বিরোধীরা ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের গেরোয় পা দেবেই। দক্ষিণ ভারতের জনমিতি আর উত্তর ভারতের সংখ্যামাতাল রাজনীতির দ্বন্দ্বে বিলটি আটকে যাবে, এটা জানাই ছিল। ফলাফল? বিলটি পাস হলো না, কিন্তু বিজেপি জিতে গেল অন্য এক ময়দানে—ন্যারেটিভের ময়দানে। এখন চায়ের দোকানে বসে সাধারণ মানুষ ভাবছে, “আহা, বিজেপি তো মা-বোনেদের জন্য আসন চেয়েছিল, বিরোধীরাই তো দিল না!” এই যে ‘পারসেপশন গেম’, এখানেই বিজেপি দশে দশ।
     
    ডাটা যখন রাজনীতির ব্যাকরণ
     
    পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে যখন আমরা এই জাতীয়তাবাদ বনাম আঞ্চলিকতাবাদের লড়াই দেখি, তখন তথ্যের দিকে তাকালে মাথা ঝিমঝিম করে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ৪৮.০২% ভোট, আর বিজেপি ৩৮.১৫%। একটা দল শূন্য থেকে শুরু করে ৩ থেকে ৩৮-এ পৌঁছে যাচ্ছে, এটা কোনো ম্যাজিক নয়, এটা একটা অল্টারনেটিভ ন্যারেটিভের জয়। অথচ আমাদের রাজ্যে রাজনীতি মানেই হলো ‘উৎসব’, ‘দান খয়রাতি’ আর ‘উন্নয়ন’ নামক এক বিমূর্ত ধারণা যা কেবল নীল-সাদা রঙে সীমাবদ্ধ।
     
    পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ঋণের বোঝা যদি দেখেন, তবে বুঝবেন আমরা কোন তিমিরে। রাজ্যের বর্তমান ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বেকারত্বের হার নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিলেও, পরিযায়ী শ্রমিকের দীর্ঘ লাইনই বলে দেয় আমাদের শিল্পহীনতা কোন পর্যায়ে। যেখানে বিজেপি ‘এক দেশ, এক বিধান’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র কথা বলে একটা প্রফেশনাল ভাইব দেওয়ার চেষ্টা করে, সেখানে আমাদের আঞ্চলিক শাসক দল ব্যস্ত থাকে ‘তৃণমূল স্তরে’ ক্যাডার কন্ট্রোল আর তোলাবাজির ইকোসিস্টেম নিয়ে।
     
    ---
     
    শিল্পের শ্মশানে সংস্কৃতির ন্যাকামি
     
    আমাদের রাজ্যে এখন শিল্প বলতে কেবল চপ শিল্প আর ঘুগনি শিল্প। যে রাজ্যে একসময় টাটারা এসেছিল নতুন দিগন্তের স্বপ্ন নিয়ে, সেই সিঙ্গুর এখন শ্মশান। অথচ এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা বলছি ‘উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে’। রাজনীতি যখন কেবল ভোটের মৌসুমে টাকা বিলানোয় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তখন প্রশাসনিক দূরদর্শিতা বিসর্জন দিতে হয়।
     
    বিজেপি যখন নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের কথা বলে, তখন তারা একটা আইনি কাঠামো পেশ করে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে নারী সুরক্ষা মানে হলো কিছু উৎসব আর সস্তা শ্লোগান। অথচ রাজনৈতিক হিংসার পরিসংখ্যান দেখলে শিউরে উঠতে হয়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) পুরনো রিপোর্টগুলো ঘাঁটলে দেখা যাবে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ প্রায়ই শীর্ষে থাকে। এই ‘হিংসার কালচার’ আসলে প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকার একটা হাতিয়ার।
     
    "রাজনীতিতে যখন যুক্তি ফুরিয়ে যায়, তখন পেশি শক্তি আর চিল্লানো শুরু হয়। আমাদের রাজ্যের শাসক দল ঠিক এই থিওরিটাকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।"
     
    ---
     
    মাস্টারস্ট্রোকের মাহাত্ম্য ও বিরোধীদের ‘সেলফ গোল’
     
    ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইনে যে ‘৩৩৪-এ’ অনুচ্ছেদটি ছিল, সেটি ছিল এক মাস্টারপিস। জনগণনা হবে, তারপর আসন বিন্যাস হবে, তারপর সংরক্ষণ। বিরোধীরা তখন সমর্থন করেছিল হুজুগে পড়ে, কিন্তু এখন যখন ডিলিমিটেশনের বাস্তবতা সামনে এল, তখন তারা বেঁকে বসল। বিজেপি খুব ভালো করে জানে যে আঞ্চলিক দলগুলোর মূল সীমাবদ্ধতা কোথায়। তারা জনগণের আবেগকে পুঁজি করে ঠিকই, কিন্তু জাতীয় স্তরের গ্র্যান্ড ডিজাইন বুঝতে ভুল করে।
     
    বিজেপিকে হারানোর জন্য কেবল গলার জোর নয়, বিজেপির মতো ‘থিংক ট্যাংক’ দরকার। বিজেপি একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলে—তাদের আছে ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ, তাদের আছে আইটি সেল, তাদের আছে গ্লোবাল ইমেজ তৈরির কারখানা। আর অন্যদিকে বিরোধী রাজনীতি এখন মূলত ‘রিয়েক্টিভ’। বিজেপি একটা ঢিল ছোড়ে, আর বিরোধীরা সেই ঢিল কুড়াতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করে।
     
    এক বিকল্প বয়ানের সন্ধানে
     
    পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মধ্যবিত্ত আজ তিতিবিরক্ত। চাকরি নেই, কারণ শিল্প নেই। শিল্প নেই, কারণ ‘তোলাবাজি’ আর ‘সিন্ডিকেট’ ছাড়া কোনো চাকা ঘোরে না। শিক্ষা ব্যবস্থার কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। শিক্ষক নিয়োগের কেলেঙ্কারি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তার ধারে অনশন করেন আর অযোগ্যরা সরকারি বেতনে ফুর্তি করে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হালও তথৈবচ। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ আছে, কিন্তু বড় অপারেশন করতে গেলে বেসরকারি হাসপাতালগুলো ফিরিয়ে দেয়।
     
    এই যে প্রশাসনিক অবক্ষয়, এর বিপরীতে বিজেপি যখন ‘সুশাসন’ বা ‘গুড গভর্ন্যান্স’-এর কথা বলে, তখন মানুষ তাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। কেন করে? কারণ একটা প্রতিষ্ঠান যখন নিয়ম মেনে চলে, তখন সেখানে স্বচ্ছতার একটা সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে যখন দল আর সরকার মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, যখন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা হয় কেবল দলের দালালি করা, তখন তাকে গণতন্ত্র বলা যায় না, ওটা হলো ‘মবোক্রেসি’।
     
    ---
     
    উপসংহার: ডার্ক হিউমার নাকি কঠিন বাস্তব?
     
    পরিশেষে একটা কথাই বলা যায়, ডিলিমিটেশন বিল হেরে যাওয়াটা আসলে একটা বড় ডামি গেমের অংশ। বিজেপি এখন সারা দেশে ঘুরে ঘুরে বলবে— “দেখুন, আমরা চেয়েছিলাম মা-বোনেদের ক্ষমতা দিতে, কিন্তু কংগ্রেস-তৃণমূল-বামপন্থীরা সেটা হতে দিল না।” এই ন্যারেটিভটা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হবে, তখন বিরোধীদের যুক্তিগুলো (যেগুলো হয়তো টেকনিক্যালি ঠিক) সব ভেসে যাবে।
     
    রাজনীতিতে শুধু সৎ হওয়াটা যথেষ্ট নয়, চালাক হওয়াটাও জরুরি। বিজেপি সেটা প্রতি পদে প্রমাণ করছে। আর আমাদের রাজ্যের শাসক দল? তারা এখনো ব্যস্ত ‘খেলা হবে’ শ্লোগান দিয়ে জনগণের করের টাকা উৎসবে ওড়াতে। যে রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ ভিন রাজ্যে শ্রম দিতে বাধ্য হয়, সেই রাজ্যে ‘সোনার বাংলা’ বা ‘বিশ্ব বাংলা’র স্বপ্ন দেখানোটা আসলে এক নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
     
    তাই দিনশেষে বিজেপি কেবল একটি দল নয়, একটি প্রতিষ্ঠান। আর এই প্রতিষ্ঠানকে হারাতে হলে শুধু কবিতা পড়লে বা চটি চাটলে হবে না, প্রয়োজন বিজেপির মতোই প্রফেশনালিজম এবং তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। অন্যথায়, আমরা কেবল শিল্পের শ্মশানে দাঁড়িয়ে সংস্কৃতির তিলক কেটে যাব, আর ইতিহাস আমাদের দেখে হাসবে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন