এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বদল-কমিশন 

    SHANKAR BHATTACHARYA লেখকের গ্রাহক হোন
    ২১ মার্চ ২০২৬ | ২৪ বার পঠিত
  •  
     এই আর্টিকল #: 34582
    প্রিয় বন্ধুরা লেখাটি দুই রকম ভাবে আপনাদের দরবারে রাখলাম ❤️। শেষে প্রবন্ধ আকারে।

    "The true nakedness of power appears when institutions stop serving citizens and start serving masters.”
    “ক্ষমতার প্রকৃত নগ্নতা প্রকাশ পায় তখনই,
    যখন প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের সেবা করা বন্ধ করে প্রভুদের সেবা করতে শুরু করে।”

    বদল-কমিশন
    *************
    বদল-কমিশন আনল
    খুশি মতো যত্রতত্র ছড়ানো 
    শাটল অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিউ ফ্যাশন।
    জাতপাতকে জায়গা করে দিয়ে
    দেখিয়ে দিচ্ছে আনুগত্যের মোসাহেবি রিলেশন।

    জনসমক্ষে তাতে আরও খুলে যাচ্ছে
    বদল-কমিশনের কাপড়চোপড়—
    কিন্তু প্রভু ভাবছে,
    ভৃত্যরা বুঝি বুদ্ধিসুদ্ধিতে তুখোড়!

    বদল-কমিশন ভাবে—
    দেশে জাতপাতের হেঁসেল খুলতে 
    কাজের কাজ নাকি সেরে ফেলছে;
    কাজের ধাঁচ দেখে
    গো-বৎসল প্রভুরা তোলে আরও আওয়াজ।

    কিন্তু বদল-কমিশনের
    এই বেশরম নগ্নতা
    সাধারণ মানুষের মনে
    গভীর দাগ কেটে গেছে।

    এই যত্রতত্র যথেচ্ছাচার চালিয়ে 
    বদলের
    নিউ ফ্যাশনের ডিজাইনার কারা?

    বদল করে নিলেই যদি
    ক্ষমতার তল্পিতল্পা সুরক্ষিত হতো,
    তাহলে বদল-ভাঙরির ব্যবসায়ীরাই
    সব রাজনৈতিক নেতা হয়ে দেশ কাঁপাতো!

    তাহলে পোষ্য ভৃত্যকূলের লালন পালনের 
    দরকারই হতো না।

    ক্ষমতার মোসাহেবি
    চিরকালই ভৃত্যদের
    বহিরাবরণ খুলে
    নগ্ন করে দেয়।

    বদল-কমিশন রেখে গেল
    নগ্নতার এক দৃষ্টান্ত।

    আগামী দিনে
    সাধারণ মানুষের দায়িত্বই বাড়ল—
    প্রভুর ভৃত্যদের
    শিক্ষা দেবার।
    —----

    ক্ষমতার নগ্নতা: যখন প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের নয়, প্রভুদের সেবা করতে শুরু করে
    ***********************************
    প্রশাসনিক বদলি প্রায়ই নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার ভাষার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর রাজনৈতিক নৃত্য—যেখানে আনুগত্য মাপা হয়, ভৃত্যতা পুনর্বিন্যস্ত হয়, এবং ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় ক্ষমতার নগ্নতা।

    “ক্ষমতার প্রকৃত নগ্নতা প্রকাশ পায় তখনই,
    যখন প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের সেবা করা বন্ধ করে প্রভুদের সেবা করতে শুরু করে।”

    বদল রাজনীতি
    ***************
    শাসনব্যবস্থার যন্ত্রে একটি নতুন ফ্যাশন প্রবেশ করেছে—
    বদলের রাজনীতি।

    প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তাদের এক পদ থেকে অন্য পদে ঘনঘন সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কাগজে-কলমে এই বদলিগুলোকে সাধারণ প্রশাসনিক প্রয়োজন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়—যেন এগুলো দক্ষতা, নিরপেক্ষতা বা প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

    কিন্তু এই প্রক্রিয়ার ভাষার আড়ালে রয়েছে অন্য এক বাস্তবতা।

    ক্রমশই বদলি হয়ে উঠছে ক্ষমতার সূক্ষ্ম হাতিয়ার।
    এর মাধ্যমে পুরস্কৃত হয় আনুগত্য, পরীক্ষা করা হয় ভৃত্যতা, এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নিঃশব্দে পুনর্বিন্যস্ত হয় প্রভাবের মানচিত্র।
    যা বাইরে থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বলে মনে হয়,

    তা অনেক সময়ই ক্ষমতার এক নীরব কোরিওগ্রাফিতে পরিণত হয়।

    জাতপাত, আনুগত্য ও ক্ষমতার স্থাপত্য:

    অনেক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বদলির ধারা রাষ্ট্রযন্ত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক পুরোনো স্থাপত্যকে প্রকাশ করে। জাতপাত, পৃষ্ঠপোষকতা এবং ব্যক্তিগত আনুগত্যের জাল সেই সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, যেগুলো আসলে প্রতিষ্ঠানের নীতির ভিত্তিতে হওয়ার কথা ছিল।

    এই প্রক্রিয়া সাধারণত প্রকাশ্যে নিজেকে ঘোষণা করে না।
    বরং ছড়িয়ে থাকা সিদ্ধান্ত, নিঃশব্দ পোস্টিং এবং কৌশলী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তা কাজ করে।

    কর্মকর্তারা যেন এক শাটলের মতো এ পোস্ট থেকে ও পোস্টে ঘুরতে থাকেন—
    জনপ্রশাসনের স্বার্থে নয়, বরং রাজনৈতিক স্বস্তি বজায় রাখার জন্য।

    যারা এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক, তারা প্রায়ই মনে করেন যে এই প্রক্রিয়া গোপনই রয়ে গেছে—
    যেন আনুগত্যকে দক্ষতার ছদ্মবেশে,
    ভৃত্যতাকে কর্মদক্ষতার আড়ালে লুকিয়ে রাখা সম্ভব।

    কিন্তু এই বিভ্রম দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

    ক্ষমতাকে চেনা:

    সাধারণ মানুষ ক্রমশ এই ধরণগুলো স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করতে শুরু করে।

    প্রতিটি খামখেয়ালি বদলি, প্রতিটি হঠাৎ পুনর্বিন্যাস ধীরে ধীরে প্রকাশ করে দেয় সেই সত্যটিকে, যা প্রতিষ্ঠানগুলো আড়াল করে রাখতে চেয়েছিল—
    ক্ষমতার ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া।

    ক্ষমতার নগ্নতা হঠাৎ কোনো নাটকীয় ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না।
    বরং বারবার পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—
    যখন জনস্বার্থে নির্মিত প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সুবিধার যন্ত্রে পরিণত হয়।

    যদি শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের বদলি করেই ক্ষমতার ভিত নিরাপদ করা যেত,
    তাহলে ইতিহাসের প্রতিটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা অনেক আগেই কেবল প্রশাসনিক কৌশল দিয়েই নিজেদের স্থায়ী করে ফেলত।

    কিন্তু ক্ষমতার জন্য শুধু স্থানবদল যথেষ্ট নয়।

    ক্ষমতার দরকার আনুগত্য।

    আর সেই আনুগত্য যখন পৃষ্ঠপোষকতা ও মোসাহেবির মাধ্যমে তৈরি হয়, তখন তা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা ক্ষয় করে দেয়।

    ক্ষমতার ভৃত্যরা:

    ইতিহাসে এমন ব্যবস্থার ফল প্রায় সবসময়ই এক।

    যারা অতিরিক্ত আগ্রহ নিয়ে ক্ষমতার সেবা করতে যায়,
    তারা শেষ পর্যন্ত নিজের স্বাধীনতাই বিসর্জন দেয়।

    এভাবে তারা নিজেদেরই উন্মোচিত করে—
    প্রতিষ্ঠানের রক্ষক হিসেবে নয়,
    বরং ক্ষমতার সেবক হিসেবে।

    ক্ষমতাকে তাদের মর্যাদা কেড়ে নিতে খুব বেশি কিছু করতে হয় না।

    মোসাহেবিই সেই কাজটি নীরবে করে দেয়।

    প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের বাহ্যিক আবরণগুলো একে একে খুলে যায়,
    আর দেখা যায়—
    প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে আছে ভৃত্য।

    দায়িত্ব:

    এই উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি আছে।

    যখন প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের নয়, প্রভুদের সেবা করতে শুরু করে,
    তখন জনজীবন রক্ষার দায়িত্ব ধীরে ধীরে সমাজের ওপরই এসে পড়ে।

    সাধারণ মানুষ তখন হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার শেষ রক্ষক।
    তারা মনে করিয়ে দেয়—
    শাসনব্যবস্থার উদ্দেশ্য কখনোই ভৃত্য তৈরি করা ছিল না।

    তার উদ্দেশ্য ছিল নাগরিকদের সুরক্ষা করা এবং এমন নীতিকে রক্ষা করা যা ক্ষমতার সুবিধার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।

    সেই স্মরণেই লুকিয়ে থাকে সেই সম্ভাবনা,
    যার মাধ্যমে ক্ষমতা আবার নিজের পথ খুঁজে পেতে পারে।

    যদি প্রতিষ্ঠানগুলো পথ হারায়,
    তবে জনচেতনারই দায়িত্ব সেই পথ ফিরিয়ে দেওয়া।

    কারণ ক্ষমতার প্রকৃত নগ্নতা তখনই প্রকাশ পায়—
    যখন নাগরিকরা আর চোখ ফিরিয়ে নেয় না।
    —-- শংকর ভট্টাচার্য্য ✍️ ১৯/০৩/২৬
    #NakednessOfPower #বদল_কমিশন
    #PoliticsOfTransfer #ক্ষমতার_নগ্নতা
    #InstitutionalDecay #প্রতিষ্ঠানের_সংকট
    #PowerAndObedience #আনুগত্যের_রাজনীতি
    #CastePolitics #জাতপাত_রাজনীতি
    #PoliticalSatire #রাজনৈতিক_ব্যঙ্গ
    #CitizensVsPower #নাগরিক_চেতনা
    #SabitaEunoiaworldviews 
    —----
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন