মোটকথা যা বুঝলাম, তা হচ্ছে বদমেজাজি আবীর একজন স্বার্থপর নিষ্ঠুর সাকসেসফুল ব্যবসায়ী। যার গার্লফ্রেন্ড জয়া আসান পুরো বিপরীত চরিত্রের মেয়ে। দুজনের মধ্যে সর্বক্ষণ ঝামেলা চলছে। আবীর জয়াকে ছাড়তে চায় না, কিন্তু জয়া তার ব্যবহারে দুঃখ পায় অথচ পুরোপুরি ছাড়তেও পারে না। এইভাবেই চলছিল। তারা বেড়াতে গেল পাহাড়ে। পথে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ির সামনে দেখল বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বসে আছে এবং তার সামনে এক ভূমিশায়ী আগত বালক। জয়া ঐ বালককে হাসপাতাল নিয়ে যেতে চায়, আবীর রাজি হয় না, এমনকি ঐ সন্ন্যাসীও মিটমিটিয়ে তাকায় কিন্তু রাজি হয় না, তারপরে ঐ সন্ন্যাসীকে আবীর এক বান্ডিল টাকা দেয় এবং ওখান থেকে ওরা চলে যায় ছুটি উপভোগ করতে। মানে নির্জন পাহাড়ে কাঠকুটো জ্বালিয়ে টেবিল চেয়ার বিছিয়ে মদ খেয়ে মাতলামি করতে দেখা গেল আবীরকে। জয়া যথারীতি বিরক্ত মুখে, সম্ভবত ফ্যাঁচফেঁচিয়ে কান্নার আগের স্টেজ। সে উঠে চলে যায়। আবীর মাতাল অবস্থায় হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়, মাথায় চোট লেগে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপরেই শুরু হয় আসল খেলা। আবীর কোলকাতায় ফিরে এসেছে কিন্তু তাকে কেউ চিনতে পারছে না। নিজের বাড়িতে ঢুকতে পারছে না, দারোয়ান তেড়ে উঠে ভাগিয়ে দিচ্ছে, জয়াও তাকে চিনছে না, এদিকে খবর হয়ে গেছে যে জয় চ্যাটার্জি মিসিং।
এই রকম যখন চলছিল, প্রথমে মনে হয়েছিল যে আইডেন্টিটি থেফ্ট হয়েছে। একটা কন্সপিরেসির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু কাহানিতে যা তা রকমের টুইস্ট ঢোকানো হয়েছিল। সত্যিই তার চেহারা বদলে গেছে সে নিজেই দেখতে পেল আয়নায়।
তারপরে সে আগে যাদের যাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে, তাদের সঙ্গে তার দেখা হলো, নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পারলো। মানুষ জনকে সাহায্য টাহায্য করে বিলকুল ভালো লোক হয়ে গেল। অমনি সে পুরোনো চেহারাটা ফিরে পেলো।
এবার এই যে গল্পের গরুকে গাছে তোলা হয়েছিল হিতোপদেশ দেবার জন্য, সেই গরুকে নামানোর জন্যে গোঁজামিল চাই। অতএব লাস্ট সীনে দেখা গেল, পুরোটাই ড্রিম সিকোয়েন্স ছিল, অথবা কোমা সিকোয়েন্স বললেও অত্যুক্তি হবে না।
মাতাল হয়ে পড়ে যাবার পর থেকে সে কোমায় ছিলো পাঁচমাস, তখনই ঐ হিতোপদেশ স্বপ্নটা সে দেখেছে, জ্ঞান ভাঙতেই গুডবয় বনে গেছে।
কিন্তু শেষটা মারাত্মক। পাশ করা ডাক্তার যে ছিলো তার চিকিৎসায়, সে পর্যন্ত বলল, যে কোমার টাইমে আবীরে প্রাণ/আত্মা তার বডি থেকে বেরিয়ে ঐসব কান্ডকারখান্ করে, ফের সুড়ুৎ করে তার বডিতে ফিরে এসেছে।
এই সিনেমা দেখে আমার নিজেরও একটা উপলব্ধি হলো, যে বাংলা সিনেমা নিয়ে সত্যিই হাহুতাশ করার কোনও মানে নেই। কোমায় চলে গেছে।