ও খুঁজে পাওয়া গেছে, তাহলে তো এই টই এর দরকার বিশেষ নেই। ডিলিটও করা যেতে পারে। লসাগু তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।
এখনকার একটা অবসার্ভেশন হল, বলা শুরু হয়েছে আসামের ডিটেনশন সেন্টার নাকি বাংলার থেকে উন্নতমানের, বিজেপিওয়ালারা ইন্টারনাল পারফরমান্স রেটিং করছে সম্ভবতঃ। এই বিচিত্র খবরটির কি ভিত্তি একটু খোঁজ করা দরকার।
রীতিকা চোপড়ার খবরের পরে নতুন মূল জিনিস একটিই সেটা হলো এই শয়তানিতে তিনজন একমত ছিলেন না। কিন্তু অন্য ফ্যাক্ট নতুন বিশেষ না। তৃণমূল থেকে এবং রাজ্য সরকার যে বিএলও-দের অ্যাপের শয়তানি নিয়ে মামলা করা হয়েছিল (অতিরিক্ত ভার্সন চেঞ্জ, আর বিএলও-দের অজান্তে নোটিস জারি বা ডিলিশন) ইত্যাদির কথা ছিলো।
আর সরকারের দ্বারা এমনকি এই কম্প্রোমাইজড কোর্টও যে দুটি বা আড়াইটি অর্ডার দিয়েছিলো, মুুস্তারি বানু কেসে এবং পরে মমতা ব্যানার্জি কোর্টে বক্তব্য রাখার পরে, প্রতিটি ব্লকে বা বুথে বা ওয়ার্ডে ডিলিশন লিস্ট টাঙাতে হবে এবং কেনো ডিলিশন হচ্ছে তার চিঠি দিতে হবে এবং ট্রাইবুনাল করতে হবে তার একটি ও পালিত হয় নি, কেন হয় নি রীতিকা চোপড়ার রিপোর্টে সরাসরি পরিষ্কার হয় নি। তবে মোটামুটি বোঝা গেছে ডিজিটাল ডিরেকটর আর জ্ঞানেশ এই সিদ্ধান্তগুলো তে কাউকে ঢুকতে দেন নি। এটিই ওঁর মূল কৃতিত্ব।
আরেকটা বিষয়, একদিন কপিল সিব্বাল সরাসরি আডভোকেট জেনেরালকে প্রশ্ন করেন লজিকাল ডিসক্রিপান্সি নিয়ে নোটিস বের করতে। এবং বিহার, হরিয়ানা, তামিলনাদু আর বাঙলায় আলাদা প্যারামিটার আছে এটা ফলাফলে প্রমাণিত হতে পারে বলেই সম্ভবতঃ এটা বের করা হয় নি।
আর নতুন কিছু এই মুহুর্তে নেই, কয়েকটা বিশেষ বুথের ডেটা আমি যা দেখেছিলাম সেটা ছাড়া। 2026 এর কথা যোগ করলে বলা যায় কলকাতা পৌরসভায় যে এখন সরাসরি জেরিম্যান্ডারিং করে ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে তার ভিত্তি ছিলো মমতার বিধানসভা ক্ষেত্রের সমীক্ষা এবং ডিলিশন। সাবির আহমেদের লেখা পড়লে এবং এখনকার ডেটা দেখলে এটা পরিষ্কার হবে। যোগেন্দ্র যাদব এবং ককরোচরারা যেটা বলছেন এবং লিখছেন এই জিনিস ইডিএমকে-কে হালানোর জন্য করা হয়েছে, আমি অবশ্য তামিলনাদু সম্পর্কে যেটুকু পড়েছি তাতে এখনকার ডিলিমিটেশনের ডেটা দেখার সুযোগ ছিল না।
যতদিন না প্রতিটি বুথের প্রতিটি ধাপের তালিকা ছবি সহ পাবলিক হচ্ছে ততদিন বা অন্তত আরটিআই করলে পাওয়া না যাচ্ছে ততদিন পুরো শয়তানিটা প্রকাশ্যে আসবে না।
প্রচন্ড পরিশ্রম করে কিছু আনালিস্ট রা আগ্রিগেশন বাড়িয়েছে বুথ লেভেলের স্প্রেড বাড়িয়েছে এবং তার সঙ্গে প্রকাশিত ডেটা অ্যানালিসিস করেছে। তার মধ্যে দুজন অল্পবয়সী ছাত্রের কাজ (পরে খুঁজে পেলে রেফারেন্স বলছি) আর সাবির আহমেদ-দের কাজই সবচেয়ে ইমপ্রেসিভ।
বীরভূমের আর মুর্শিদাবাদের গোটা দশ বা আরেকটু বুথের ডেটা আমি দেখেছি। একটি বুথে যেমন মুসলমান মাত্রেই বাদ দেওয়া হয়েছে, আর বেশ কয়েকটি বুথে নিম্নবর্গীয় মহিলাদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ডিলিশন রিকোয়েস্ট ট্রেস করা যায় নি কয়েকটি ক্ষেত্রে। আমার ধারণা এই মুহুর্তে প্রমান করা কঠিন কারণ, তবে পরিচিত কিছু মহিলাদের যাঁরা self help group এ টাকা পেয়েছিলেন এবং লক্ষী ভান্ডার পেতেন তাঁরা বাদ গেছেন। তবে বীরভূমে এরকম গ্রামের ডেটাও দেখলাম, যেখানে কিছু বিহারী বুড়ো জামাইবাবুগণ যাঁরা রিক্সা বা ভ্যান চালানো ছাড়া কোনো অপরাধ করেন নি গত তিরিশ বছরে, তাঁরা ছাড়া আর কেউ বাদ পড়ে নি, মনে হয় স্থানীয় বিএলও রাম্বাম বা বিজেমূল আর বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের সমানুপাতিক প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। এই গ্রামগুলি নতুন বাংলার আদর্শ হবে হয়ত একদিন, নির্ষল। .. একটি মুসলমানও থাকেন না সেখানে।
-=:।