এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সরস্বতীর রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট: পনেরো বছরের ভোট-রাজনীতি ও একটি শিক্ষিত জাতির সুইসাইড নোট

    হারামির হাতবাক্স লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৬৭ বার পঠিত
  • ভূমিকা: যখন বিদ্যালয় বন্ধ হয়, তখন উৎসব খোলা থাকে
     
    পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসে। "মা-মাটি-মানুষ" থেকে "বাংলার গর্ব" — স্লোগানের অভাব কখনো হয়নি। কিন্তু যে রাজ্যে গত দেড় দশকে হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় চিরতরে তালাবন্দি হয়ে গেছে, যেখানে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, এবং যেখানে ২০২৬ সালের বাজেটে সাধারণ বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদ্রাসা খাতে অনুপাতহীন বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে — সেই রাজ্যে শিক্ষার উৎসব পালন করা অনেকটা জ্বলন্ত ঘরে আলোর উৎসব পালনের মতো। প্রশ্ন হল, এই আগুন কে লাগিয়েছে — এবং কে বাঁচিয়ে রাখছে?
     
    ---
     
    তৃণমূলের ১৫ বছর: স্কুলের দরজা বন্ধ, স্লোগানের দরজা খোলা
     
    ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের। সেই পরিবর্তন এসেছে — তবে যে দিক থেকে কেউ চায়নি।
     
    কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের UDISE+ (Unified District Information System for Education) তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছরে বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী-সংকট ও পরিকাঠামোর অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২১-২২ সালের UDISE রিপোর্টে রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় "শূন্য ছাত্রছাত্রী" বিদ্যালয়ের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছিল — এগুলো শুধু কাগজে টিকে আছে, বাস্তবে নয়। যে স্কুলে পড়ার কেউ নেই, সেই স্কুলে শেখানোর কেউ থাকলেও বা কী লাভ?
     
    শিক্ষক-ঘাটতি প্রসঙ্গে আসা যাক। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণি চালানোর অভিযোগ বহু বছর ধরে। বিধানসভায় বিরোধী দলের প্রশ্নের জবাবে রাজ্য সরকার নিজেই স্বীকার করেছে যে হাজার হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যপদ রয়েছে। নিয়োগ হচ্ছে না কেন? কারণটা রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের রায় থেকেই স্পষ্ট।
     
    SSC (স্কুল সার্ভিস কমিশন) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এখন আর কোনো "অভিযোগ" নয় — এটি আদালত-স্বীকৃত সত্য। কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে অনিয়মের কারণে। এই সংখ্যাটা কোনো বিজেপি নেতার বক্তৃতা থেকে নেওয়া নয় — এটি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের নথি থেকে। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ED-এর তদন্তে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁর ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা — এ তথ্যও আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার নথিতে রয়েছে।
     
    ড্রপআউট নিয়ে আলাদা করে বলার প্রয়োজন আছে। NSO (ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে) এবং ASER রিপোর্টগুলোতে বারবার উঠে এসেছে যে পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে ও মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলায়, উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই ঝরে পড়া আরো বেশি। "কন্যাশ্রী" প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে প্রচার আছে, কিন্তু গ্রামীণ অঞ্চলে স্কুলের দূরত্ব, পরিবহণ-সংকট এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে কোনো সৎ আলোচনা নেই।
     
    ---
     
    ২০২৬ বাজেট এবং মাদ্রাসা অনুদান: ভোটব্যাংকের অঙ্ক কষা হয় কীসে?
     
    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেটে মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিষয়টি সংখ্যালঘু-বিরোধিতার নয় — এই লেখায় সেই পথে যাওয়ার ইচ্ছা নেই এবং মাদ্রাসা-পড়ুয়া শিশুরাও এই দেশের নাগরিক। প্রশ্নটা নীতিগত এবং আনুপাতিক।
     
    পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের। রাজ্যে স্বীকৃত মাদ্রাসার সংখ্যা ৬০০-র বেশি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ সরকারি বিদ্যালয়ের বরাদ্দ আনুপাতিকভাবে বাড়েনি — এটাই মূল অভিযোগ।
     
    অস্বস্তির জায়গা হল স্বচ্ছতার অভাব। মাদ্রাসা অনুদানের বিস্তারিত ব্যয়-বিবরণী, অডিট রিপোর্ট, বা শিক্ষার মান-মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সহজলভ্য নয়। সাধারণ সরকারি বিদ্যালয়ে ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক মেনে পাঠ্যক্রম নির্ধারিত হয়, তা নিয়ে RTI ফাইল করলে তথ্য পাওয়া সম্ভব। কিন্তু মাদ্রাসা খাতে রাজ্য সরকারের সম্পূর্ণ ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ সমানভাবে পাওয়া যায় কি? এই প্রশ্নটা তোলা সাম্প্রদায়িকতা নয়, এটা জবাবদিহিতার দাবি।
     
    আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: মাদ্রাসায় পড়া শিশুরা কি কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা পাচ্ছে? বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি — এই বিষয়গুলোতে তাদের দক্ষতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে? নাকি একটা বিশেষ সম্প্রদায়কে মূলধারার শিক্ষা থেকে আলাদা রেখে, তাদের ভোটব্যাংক হিসেবে ধরে রাখার রাজনৈতিক পরিকল্পনা চলছে? এই প্রশ্নটা তৃণমূলকে যেমন করা যায়, বামফ্রন্টের তিন দশকের শাসনকেও করা যায় — কারণ সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে বামেদের হাত থেকেই তৃণমূলের হাতে এসেছে, শুধু মাত্রাটা বেড়েছে।
     
    ---
     
    যাদবপুর: বাম থেকে তৃণমূল, অভিভাবক বদলায়, ব্যর্থতা থাকে
     
    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছিল পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। NIRF র‌্যাঙ্কিংয়ে এখনো এটি উপরের দিকে থাকে — কিন্তু র‌্যাঙ্কিং আর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি এক জিনিস নয়।
     
    সিপিএম আমলে যাদবপুরে ছাত্র ইউনিয়ন মানেই SFI-এর একচেটিয়া আধিপত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ থেকে কমিটি গঠন — দলীয় প্রভাবের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১১ সালে তৃণমূল আসার পর পরিবর্তন হয়েছে অভিভাবকের — TMCP এসেছে SFI-এর জায়গায়। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির যে দলীয়-নিবেদিত, প্রশাসনিক-চাপসৃষ্টিকারী চরিত্র, সেটা বদলায়নি।
     
    ২০২৩ সালের আগস্টে যাদবপুরে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যু — সন্দেহজনকভাবে র‌্যাগিং-সম্পর্কিত — সারা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে হস্টেলে নিরাপত্তার অভাব, অভিযোগ জানানোর পরেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, এবং র‌্যাগিং-বিরোধী কমিটির কার্যত নিষ্ক্রিয়তা। UGC-র নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানিক নজরদারি কোথায় ছিল? উত্তরটা সহজ — যেখানে রাজনীতি প্রশাসনকে ঢেকে রাখে, সেখানে নজরদারি হয় না।
     
    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ বিতর্কও কম না। রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দীর্ঘ মেয়াদ, এবং একাডেমিক কাউন্সিলে দলীয় মনোনয়নের অভিযোগ — এগুলো গণমাধ্যমে নথিভুক্ত। প্রশ্নটা হল: যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও স্বাধীন চিন্তার কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেটা কি রাজনৈতিক দলের শাখা অফিস হয়ে যাচ্ছে — ধীরে ধীরে, চুপিচুপি?
     
    ---
     
    তথ্যের আয়নায় একটু দাঁড়ানো যাক
     
    কিছু তথ্য পাশাপাশি রাখা দরকার —
     
    ASER ২০২২ রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অঞ্চলে তৃতীয় শ্রেণির শিশুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সহজ পাঠ্যাংশ পড়তে পারে না। এটি জাতীয় গড়ের তুলনায় কোনো গর্বের তথ্য নয়।
     
    কেন্দ্রের Samagra Shiksha অনুদানের ব্যবহার নিয়ে CAG (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অনিয়মের উল্লেখ রয়েছে — অনুদান সময়মতো ব্যবহার না হওয়া, অব্যয়িত তহবিল ফেরত না দেওয়া ইত্যাদি।
     
    শিক্ষক-ছাত্র অনুপাতে পশ্চিমবঙ্গ RTE (Right to Education) আইনের নির্ধারিত মান থেকে অনেক জেলায় পিছিয়ে, বিশেষত উচ্চ প্রাথমিক স্তরে। এই তথ্য রাজ্য সরকারের নিজস্ব বিধানসভা পরিসংখ্যানেও স্বীকৃত।
     
    ---
     
    অস্বস্তিকর প্রশ্নমালা: যাঁরা উত্তর দেবেন না, তাঁদের জন্যই
     
    ১।  পনেরো বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার মান বেড়েছে নাকি শুধু শিক্ষামন্ত্রীর সংখ্যা বেড়েছে? ASER বা PISA-র মতো মূল্যায়নে রাজ্য কোথায় আছে?
     
    ২।  ২৫,৭৫৩টি শিক্ষক নিয়োগ যদি আদালতে অবৈধ প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই দশ বছরে ওই শ্রেণিকক্ষে যে শিশুরা "শিক্ষা" পেয়েছে তাদের ক্ষতির দায় কে নেবে?
     
    ৩।  মাদ্রাসা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু সেই মাদ্রাসাগুলোতে কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার মান কী? প্রকাশিত অডিট রিপোর্ট কোথায়?
     
    ৪।  যে জেলাগুলোতে ভোটব্যাংক-কেন্দ্রিক সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বেশি, সেই জেলাগুলোতে সরকারি বিদ্যালয়ের অবস্থা কি তুলনামূলকভাবে ভালো নাকি খারাপ?
     
    ৫।  যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর পর প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে কী কী প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন হয়েছে, নাকি শুধু সাময়িক তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় শেষ?
     
    ৬।  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে TMCP এবং SFI-এর মধ্যে যে প্রভাব-বিস্তারের লড়াই চলে, সেটা কি একাডেমিক স্বাধীনতার পক্ষে না বিপক্ষে?
     
    ৭।  শূন্য-ছাত্র স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারণ ছাত্রছাত্রী নেই — কিন্তু ছাত্রছাত্রী কোথায় গেল? বেসরকারি স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকলে তারা কি একেবারেই পড়া ছেড়ে দিচ্ছে?
     
    ৮।  শিক্ষা বিভাগের বাজেটে Samagra Shiksha-র কেন্দ্রীয় অনুদানের বাইরে রাজ্যের নিজস্ব বিনিয়োগ কতটা বেড়েছে গত পনেরো বছরে? মূল্যস্ফীতি-সমন্বিত হিসাবে?
     
    ৯।  শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির জন্য যে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক শৃঙ্খল দায়ী, তার শীর্ষ থেকে কে বা কারা এখনো জবাবদিহির বাইরে?
     
    ১০।  মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কি মূলধারার উচ্চশিক্ষায় বা কর্মবাজারে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে আসছে? যদি না আসে — তাহলে এই অনুদান তাদের উন্নতির জন্য, নাকি তাদের একটি নির্দিষ্ট ভোটক্ষেত্রের মধ্যে ধরে রাখার জন্য?
     
    ১১।  CAG রিপোর্টে যে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় কোনো আলোচনা কি হয়েছে? নাকি CAG রিপোর্টও এখন বিরোধীদের "চক্রান্ত" বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়?
     
    ১২।  সিপিএমের তিন দশক এবং তৃণমূলের দেড় দশক — মোট সাড়ে চার দশক পরেও পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষায় জাতীয় শীর্ষে নেই কেন? এটা কি শুধু "কেন্দ্রের বৈষম্য", নাকি রাজনৈতিক কাঠামোর কাঠামোগত ব্যর্থতা?
     
    ---
     
    উপসংহার: বিদ্যালয় যদি ভোটের মাঠ হয়, তাহলে পড়ুয়ারা কোথায় যাবে?
     
    পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা-ব্যবস্থার সংকট কোনো একটি দলের একক পাপ নয় — কিন্তু গত পনেরো বছর যে দল ক্ষমতায় আছে, তার দায় সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে সাম্প্রতিক। স্কুল বন্ধ হওয়া পরিসংখ্যান নয় — এটা প্রতিটি বন্ধ দরজার পিছনে থাকা একটি শিশুর স্বপ্নের মৃত্যু। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি শুধু অর্থের খেলা নয় — এটা সেই মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতারণা যে সৎভাবে পরীক্ষা দিয়েছিল। মাদ্রাসা অনুদানের প্রশ্নটা সংখ্যালঘু-বিরোধিতার নয় — এটা স্বচ্ছতার দাবি, যা প্রতিটি কর দেওয়া নাগরিকের অধিকার। আর যাদবপুরের প্রশ্নটা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন নয় — এটা জ্ঞানচর্চার পরিসরে রাজনীতি কতটা জায়গা নিতে পারে, তার সীমা নির্ধারণের প্রশ্ন। শিক্ষা যদি সত্যিই অগ্রাধিকার হয়, তাহলে বাজেটের সংখ্যায়, নিয়োগের স্বচ্ছতায়, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে সেটা প্রমাণ করতে হবে — নামফলকে নয়, নীতিতে। আর যতদিন শিক্ষার্থী ভোটার হিসেবে গণনা পাবে এবং বিদ্যালয় নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ততদিন এই প্রশ্নগুলো থাকবে — এবং উত্তর না পেলে আরো জোরে উঠবে।
     
    https://www-nationalheraldindia-com.cdn.ampproject.org/v/s/www.nationalheraldindia.com/amp/story/politics/modi-slams-anarchy-at-jadavpur-univ-mamata-hits-back-with-open-letter?amp_gsa=1&_js_v=a9&usqp=mq331AQIUAKwASCAAgM%3D#amp_tf=From%20%251%24s&aoh=17770938455410&referrer=https%3A%2F%2Fwww.google.com&share=https%3A%2F%2Fwww.nationalheraldindia.com%2Fpolitics%2Fmodi-slams-anarchy-at-jadavpur-univ-mamata-hits-back-with-open-letter — মাননীয়া, আপনার বৌদ্ধিক ক্ষুধামান্দ্য ঘোচাতে প্রবন্ধটি নিবেদন করলাম। আশা করি, বিনোদনের ছলে কিঞ্চিৎ জ্ঞানার্জনের এই ধৃষ্টতা আপনি ক্ষমা করবেন।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • albert banerjee | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৪740232
  • সিপিএম আমলে যাদবপুরে ছাত্র ইউনিয়ন মানেই SFI-এর একচেটিয়া আধিপত্য? লোল
  • albert banerjee | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৫740233
  • মানুষ কি পড়তে চায়?
  • হারামির হাতবাক্স | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৬740237
  • @albert banerjee: SFI-এর একমেবাদ্বিতীয়ম ‘ভ্যাটিকান সিটি'।
  • হারামির হাতবাক্স | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৮740238
  • @albert banerjee: মানুষ যা নিজে জানে, ঠিক সেটাই অন্যের মুখ থেকে শুনতে চায়।
  • albert banerjee | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৫740245
  • FETSU Engineering & Technology
    AFSU Arts
    SFSU Science
  • albert banerjee | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৭740246
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৮
    না তা কেন তাহলে আইডিয়া অদল বদল হবে কি করে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন