এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিজেপি কি কোনো রাজনৈতিক দল, নাকি একটি কর্পোরেট থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক? ডিলিমিটেশন গেমের ইনসাইড স্টোরি।

    হারামির হাতবাক্স লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৭২ বার পঠিত
  • রাজনীতি জিনিসটা পাড়ার রকে বসে চা খাওয়া নয়, বরং দাবার বোর্ডে এমন এক চাল দেওয়া যেখানে বিপক্ষ কিস্তিমাত হওয়ার আগেই নিজের পরাজয়টাকে ‘ঐতিহাসিক বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করে দেয়। সম্প্রতি লোকসভায় ‘৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ২০২৬’ নিয়ে যে কাণ্ডটি ঘটল, তাকে খবরের কাগজে ‘পরাজয়’ বলা হলেও বুদ্ধির বাজারে একে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলতেই হবে। কেন? কারণ বিজেপি কেবল একটা রাজনৈতিক দল নয়, ওটা একটা সুশৃঙ্খল ‘কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান’, যেখানে স্ট্র্যাটেজি তৈরি হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে, আর তার ইমপ্যাক্ট পড়ে একদম তৃণমূল স্তরের ইমোশনে।
     
    বিজেপি জানে যে বিরোধীরা ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের গেরোয় পা দেবেই। দক্ষিণ ভারতের জনমিতি আর উত্তর ভারতের সংখ্যামাতাল রাজনীতির দ্বন্দ্বে বিলটি আটকে যাবে, এটা জানাই ছিল। ফলাফল? বিলটি পাস হলো না, কিন্তু বিজেপি জিতে গেল অন্য এক ময়দানে—ন্যারেটিভের ময়দানে। এখন চায়ের দোকানে বসে সাধারণ মানুষ ভাবছে, “আহা, বিজেপি তো মা-বোনেদের জন্য আসন চেয়েছিল, বিরোধীরাই তো দিল না!” এই যে ‘পারসেপশন গেম’, এখানেই বিজেপি দশে দশ। 
     
    ডাটা যখন রাজনীতির ব্যাকরণ
     
    পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে যখন আমরা এই জাতীয়তাবাদ বনাম আঞ্চলিকতাবাদের লড়াই দেখি, তখন তথ্যের দিকে তাকালে মাথা ঝিমঝিম করে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ৪৮.০২% ভোট, আর বিজেপি ৩৮.১৫%। একটা দল শূন্য থেকে শুরু করে ৩ থেকে ৩৮-এ পৌঁছে যাচ্ছে, এটা কোনো ম্যাজিক নয়, এটা একটা অল্টারনেটিভ ন্যারেটিভের জয়। অথচ আমাদের রাজ্যে রাজনীতি মানেই হলো ‘উৎসব’, ‘দান খয়রাতি’ আর ‘উন্নয়ন’ নামক এক বিমূর্ত ধারণা যা কেবল নীল-সাদা রঙে সীমাবদ্ধ।
     
    পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ঋণের বোঝা যদি দেখেন, তবে বুঝবেন আমরা কোন তিমিরে। রাজ্যের বর্তমান ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বেকারত্বের হার নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিলেও, পরিযায়ী শ্রমিকের দীর্ঘ লাইনই বলে দেয় আমাদের শিল্পহীনতা কোন পর্যায়ে। যেখানে বিজেপি ‘এক দেশ, এক বিধান’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র কথা বলে একটা প্রফেশনাল ভাইব দেওয়ার চেষ্টা করে, সেখানে আমাদের আঞ্চলিক শাসক দল ব্যস্ত থাকে ‘তৃণমূল স্তরে’ ক্যাডার কন্ট্রোল আর তোলাবাজির ইকোসিস্টেম নিয়ে।
     
    ---
     
    শিল্পের শ্মশানে সংস্কৃতির ন্যাকামি
     
    আমাদের রাজ্যে এখন শিল্প বলতে কেবল চপ শিল্প আর ঘুগনি শিল্প। যে রাজ্যে একসময় টাটারা এসেছিল নতুন দিগন্তের স্বপ্ন নিয়ে, সেই সিঙ্গুর এখন শ্মশান। অথচ এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা বলছি ‘উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে’। রাজনীতি যখন কেবল ভোটের মৌসুমে টাকা বিলানোয় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তখন প্রশাসনিক দূরদর্শিতা বিসর্জন দিতে হয়। 
     
    বিজেপি যখন নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের কথা বলে, তখন তারা একটা আইনি কাঠামো পেশ করে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে নারী সুরক্ষা মানে হলো কিছু উৎসব আর সস্তা শ্লোগান। অথচ রাজনৈতিক হিংসার পরিসংখ্যান দেখলে শিউরে উঠতে হয়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) পুরনো রিপোর্টগুলো ঘাঁটলে দেখা যাবে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ প্রায়ই শীর্ষে থাকে। এই ‘হিংসার কালচার’ আসলে প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকার একটা হাতিয়ার।
     
    "রাজনীতিতে যখন যুক্তি ফুরিয়ে যায়, তখন পেশি শক্তি আর চিল্লানো শুরু হয়। আমাদের রাজ্যের শাসক দল ঠিক এই থিওরিটাকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।"
     
    ---
     
    মাস্টারস্ট্রোকের মাহাত্ম্য ও বিরোধীদের ‘সেলফ গোল’
     
    ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইনে যে ‘৩৩৪-এ’ অনুচ্ছেদটি ছিল, সেটি ছিল এক মাস্টারপিস। জনগণনা হবে, তারপর আসন বিন্যাস হবে, তারপর সংরক্ষণ। বিরোধীরা তখন সমর্থন করেছিল হুজুগে পড়ে, কিন্তু এখন যখন ডিলিমিটেশনের বাস্তবতা সামনে এল, তখন তারা বেঁকে বসল। বিজেপি খুব ভালো করে জানে যে আঞ্চলিক দলগুলোর মূল সীমাবদ্ধতা কোথায়। তারা জনগণের আবেগকে পুঁজি করে ঠিকই, কিন্তু জাতীয় স্তরের গ্র্যান্ড ডিজাইন বুঝতে ভুল করে। 
     
    বিজেপিকে হারানোর জন্য কেবল গলার জোর নয়, বিজেপির মতো ‘থিংক ট্যাংক’ দরকার। বিজেপি একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলে—তাদের আছে ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ, তাদের আছে আইটি সেল, তাদের আছে গ্লোবাল ইমেজ তৈরির কারখানা। আর অন্যদিকে বিরোধী রাজনীতি এখন মূলত ‘রিয়েক্টিভ’। বিজেপি একটা ঢিল ছোড়ে, আর বিরোধীরা সেই ঢিল কুড়াতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করে।
     
    এক বিকল্প বয়ানের সন্ধানে
     
    পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মধ্যবিত্ত আজ তিতিবিরক্ত। চাকরি নেই, কারণ শিল্প নেই। শিল্প নেই, কারণ ‘তোলাবাজি’ আর ‘সিন্ডিকেট’ ছাড়া কোনো চাকা ঘোরে না। শিক্ষা ব্যবস্থার কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। শিক্ষক নিয়োগের কেলেঙ্কারি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তার ধারে অনশন করেন আর অযোগ্যরা সরকারি বেতনে ফুর্তি করে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হালও তথৈবচ। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ আছে, কিন্তু বড় অপারেশন করতে গেলে বেসরকারি হাসপাতালগুলো ফিরিয়ে দেয়।
     
    এই যে প্রশাসনিক অবক্ষয়, এর বিপরীতে বিজেপি যখন ‘সুশাসন’ বা ‘গুড গভর্ন্যান্স’-এর কথা বলে, তখন মানুষ তাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। কেন করে? কারণ একটা প্রতিষ্ঠান যখন নিয়ম মেনে চলে, তখন সেখানে স্বচ্ছতার একটা সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে যখন দল আর সরকার মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, যখন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা হয় কেবল দলের দালালি করা, তখন তাকে গণতন্ত্র বলা যায় না, ওটা হলো ‘মবোক্রেসি’।
     
    ---
     
    উপসংহার: ডার্ক হিউমার নাকি কঠিন বাস্তব?
     
    পরিশেষে একটা কথাই বলা যায়, ডিলিমিটেশন বিল হেরে যাওয়াটা আসলে একটা বড় ডামি গেমের অংশ। বিজেপি এখন সারা দেশে ঘুরে ঘুরে বলবে— “দেখুন, আমরা চেয়েছিলাম মা-বোনেদের ক্ষমতা দিতে, কিন্তু কংগ্রেস-তৃণমূল-বামপন্থীরা সেটা হতে দিল না।” এই ন্যারেটিভটা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হবে, তখন বিরোধীদের যুক্তিগুলো (যেগুলো হয়তো টেকনিক্যালি ঠিক) সব ভেসে যাবে।
     
    রাজনীতিতে শুধু সৎ হওয়াটা যথেষ্ট নয়, চালাক হওয়াটাও জরুরি। বিজেপি সেটা প্রতি পদে প্রমাণ করছে। আর আমাদের রাজ্যের শাসক দল? তারা এখনো ব্যস্ত ‘খেলা হবে’ শ্লোগান দিয়ে জনগণের করের টাকা উৎসবে ওড়াতে। যে রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ ভিন রাজ্যে শ্রম দিতে বাধ্য হয়, সেই রাজ্যে ‘সোনার বাংলা’ বা ‘বিশ্ব বাংলা’র স্বপ্ন দেখানোটা আসলে এক নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
     
    তাই দিনশেষে বিজেপি কেবল একটি দল নয়, একটি প্রতিষ্ঠান। আর এই প্রতিষ্ঠানকে হারাতে হলে শুধু কবিতা পড়লে বা চটি চাটলে হবে না, প্রয়োজন বিজেপির মতোই প্রফেশনালিজম এবং তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। অন্যথায়, আমরা কেবল শিল্পের শ্মশানে দাঁড়িয়ে সংস্কৃতির তিলক কেটে যাব, আর ইতিহাস আমাদের দেখে হাসবে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • subhashis halder | 148.113.***.*** | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:০৫740068
  • সঠিক বিশ্লেষণ করেছেন। শকুনরাণী নিপাত যাক।
  • বিজেপিকে লাত্থি মারও | 2001:67c:e60:c0c:192:42:116:***:*** | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৬740071
  • বিজেপিকে লাত্থি মার
    উমিচাঁদেরা বাংলা ছাড়
    বিজেপিকে লাত্থি মার
    মিরজাফর বাংলা ছাড়
    বিজেপিকে লাত্থি মার
    জগতশেট বানলা ছাড়
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b96d:6b15:bc56:***:*** | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০০740075
  • "রাজনীতি জিনিসটা পাড়ার রকে বসে চা খাওয়া নয়, বরং দাবার বোর্ডে এমন এক চাল দেওয়া " - এই প্রথম লাইনের সাথে একমত হলাম, বাকি পুরো লেখাটাই ভুলভাল মনে হলো। বিজেপি মা-বোনেদের জন্য আসন চেয়েছে আর বিরোধীরা হতে দিলনা, এই ন্যারেটিভ বিশ্বগরু নামাতে পারছে না। বিশেষ করে তামিল নাড়ু আর পবতে স্ট্রং অপোজিশান, তারা নিজেরাও ন্যারেটিভ বানাতে বা কাউন্টার করতে ওস্তাদ। পবতে ঠিক কি হচ্ছে জানিনা, তবে তামিল নাড়ুতে বিজেপির নিজেদের লোকেরাই মা-বোন ন্যারেটিভ নিয়ে কিস্যু বলতে পারছে না, কারন ডিমকে ডিলিমিটেশান নিয়ে বিরাট কাউন্টার ন্যারেটিভ নামিয়ে দিয়েছে। রাজনীতি অবশ্যই দাবাখেলা, তবে বিশ্বগরু একাই সেটা খেলে, এরকম ভাবার কোন কারন নেই।
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৫740076
  • কী ভুলভাল লেখা!
    তবে একটা ব্যপার এই হাহার পরপর দুটো লেখায় ঘটেছে - সগৌরবে ল্যঞ্জা বেরিয়ে এসেছে।
  • হয়নি হয়নি ফেল | 14.139.***.*** | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৭740080
  • বিজেপির ন্যারেটিভ গেম ফেল, অতোও সস্তা নয়, সত্যি কথা বলতে বাঙালি মহিলা রাজনীতিকদের নিয়ে অলরেডি এত তিতিবিরক্ত, তাদের নিয়ে কোনো কথাই শুনতে রাজি না, তারপর শহুরে মধ্যবিত্ত সোসাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তরুণ ও মধ্যবয়সীরা বেশ নারীবিরোধী রেডপিলড এখন, তারা লিঙ্গভিত্তিক সংরক্ষণ বা নারীদের কোনো পরিষেবা অধিকার পেতে দেখলেই হাঁই হাঁই করে ওঠে-সুতরাং তাদের অতো দরদ নেই। বিজেপি কাঁচা কাজ করেছে বরং, বাঙালিদের মধ্যে কথাই আছে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা, তো সেই নারীদের সিট সংরক্ষণের শাকের আড়ালে ডিলিমিটেশনের মেছো বেড়ালের গোঁফ চিনে গেছে সবাই।
  • হারামির হাতবাক্স | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪২740081
  • @অমিতাভ চক্রবর্তী: ল্যাঞ্জা তো বেরোবেই! তবে সেটা 'লেজ' নয়, আপনার বুদ্ধির দৌড় মাপার ফিতে। সগৌরবে মাপুন, ছোট পড়বে না।
  • হারামির হাতবাক্স | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৫740083
  • হয়নি হয়নি ফেল: বাঙালির গোঁফ চেনার চেয়েও বড় বাতিক হলো—সব তিতা জিনিসের মধ্যেই সর্ষে বাটা দিয়ে ঝাল খোঁজা; বেড়ালে মাছ চেনা তো পুরনো, মাছ কি কখনও রাজনৈতিক টোপ চিনতে পেরেছে?
  • হারামির হাতবাক্স | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৮740084
  • @dc: চাণক্য ভাবলেই কি আর চাণক্য হওয়া যায়? বিশ্বগুরু একাই কিস্তিমাত করবেন, আর বাকিরা কি কেবল বোড়ে? তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় চালে দাবার বোর্ড এখন উল্টে যাওয়ার জোগাড়। রকের আড্ডা আর রাইসিনা হিলস এক নয় ঠিকই, কিন্তু জনতা জনাদনের কাউন্টার ন্যারেটিভের সামনে অনেক সময় গ্র্যান্ডমাস্টারদেরও ঘাম ছুটে যায়। দাবার ঘোড়া আড়াই চাল চললে, বিরোধীরাও কিন্তু গজ দিয়ে কিস্তি দিতে জানে!
  • হাহা | 14.139.***.*** | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৯740085
  • ছোট পড়বে না? এতো বড়ো ফিতে কি ৫৬ ইঞ্চি বুকের ছাতি মাপতে কাজে লাগতো নাকি? ফিতেটা তাহলে একটু উপরে নিয়ে গিয়ে পেছন দিকে টেনে দিলেই তো হয়ে যেত- এতো ভরভর করে মন কি বাত(কর্ম) বেরোত না।
  • হারামির হাতবাক্স | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৫২740086
  • @হাহা: ফিতে ছোট নয়, আসলে সত্যটা আপনার যুক্তির মতোই পাতলা; ৫৬ ইঞ্চি মাপতে ফিতে নয়, একটু মেরুদণ্ড লাগে।
  • প্যালারাম | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৫৮740087
  • আপনার লেখা বা চিন্তা থেকে যে বায়াস সরাতে খুব একটা পারেননি, তার একটা উদাহরণ দিই।
    “রাজনীতিতে শুধু সৎ হওয়াটা যথেষ্ট নয়, চালাক হওয়াটাও জরুরি। বিজেপি সেটা প্রতি পদে প্রমাণ করছে।”
    প্রথম লাইনটি ঠিক, দ্বিতীয়টি ভুল। কেন? কারণ, 'শুধু সৎ'। তার মানে, রাজনীতিতে সৎ হওয়ার পরে চালাকও হতে হবে। কথা ঘোরাতে হবে, সময় বুঝে প্রচার করতে হবে, সময় বুঝে চেপে যেতে হবে। বিরোধীর দুর্বলতার সময় তেড়ে উঠতে হবে, জনমত ঘুরছে বুঝলে সুর বদলাতে হবে।
     
    মিথ্যাচার না করে। চালাক ≠ মিথ্যেবাদী
     
    বিজেপি দিনেদুপুরে 'রাত হয়ে গেছে' দাবি করে। বিজেপি মিথ্যাচারী। মমতার পোষ্যরাও। কিন্তু
    “রাজ্যে ‘সোনার বাংলা’ বা ‘বিশ্ব বাংলা’র স্বপ্ন দেখানোটা আসলে এক নিষ্ঠুর রসিকতা”, আর মণিপুর, হাথরস, মহিলা অ্যাথলিটদের অপমানে চুপ করে থাকা, বিল্কিস বানোর রেপিস্ট-খুনেদের পুজো করার পর ভোটে হারার পরের দিন নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে 'র‍্যাডিকাল ফেমিনিস্ট' ঘোষণা করা কানকাটা দাঙ্গাবাজের বিজেপি মিথ্যে বলে না, তারা সব চালাকসোনা – এটা বায়াস জাস্টিফাই করার ছেঁদো বাইনারি চেষ্টা।
    লাইন ধরে ধরে দেখানো যায়, কিন্তু ইয়ে, এ লেখার পেছনে দেওয়ার মতো সময় নেই।
  • হারামির হাতবাক্স | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৪740088
  • @প্যালারাম: সততা আর চাতুর্যের এমন ‘ফেয়ারনেস ক্রিম’ মাখা রসায়ন শুনে পুলকিত হলাম। আসলে রাজনীতিতে নীতি খোজেন তাঁরাই, যাঁরা পুজো প্যান্ডেলে গিয়ে ‘পবিত্রতা’ আর ফুটপাথে গিয়ে ‘বিপ্লব’ মেশান। চাতুর্য মানেই যদি মিথ্যে না হয়, তবে আপনার এই নির্লিপ্ত পক্ষপাতও নির্ঘাত এক ‘কাব্যিক সত্য’! সত্য সেলুকাস!
  • ডেটা কী বলে? | 2601:5c0:c280:d900:151:293c:2bec:***:*** | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১২740090
  • "বেকারত্বের হার নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিলেও, পরিযায়ী শ্রমিকের দীর্ঘ লাইনই বলে দেয় আমাদের শিল্পহীনতা কোন পর্যায়ে"
     
    আনএমপ্লয়মেন্ট রেট। পিএলএফএস। সুনির্দিষ্ট তথ্য।


    ইন-ভার্সেস-আউট মাইগ্রেশন।
     
    "বিজেপি যখন নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের কথা বলে, তখন তারা একটা আইনি কাঠামো পেশ করে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে নারী সুরক্ষা মানে হলো কিছু উৎসব আর সস্তা শ্লোগান।"

    ক্রাইম রেট এগেইন্সট উইমেন (পার লাখ) টপ টেন স্টেটস। আসাম শীর্ষে, ২০১৬ থেকে যেখানে বিজেপি সরকার। দেশের ট্রেণ্ড উর্ধ্বগামী। বিজেপি কিসের কথা বলে যেন?


    "ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) পুরনো রিপোর্টগুলো ঘাঁটলে দেখা যাবে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ প্রায়ই শীর্ষে থাকে।"

    শীর্ষে আছে উত্তরপ্রদেশ।


    ---

    (এই টইতে আর সময় দেওয়ার প্রশ্ন নেই। চাড্ডিদের সাথে তর্ক করলে নিজের আয়ুক্ষয় ও বুদ্ধিক্ষয় হয়, কিন্তু চাড্ডিদের বুদ্ধি বাড়ে না।)
  • প্যালারাম | ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২৮740091
  • @ডেটা কী বলে,
    ঠিক, কিন্তু কথাটা জিভের ডগায় এসে গেছে। বলেই কেটে পড়বো।
     
    @হা-হা,
    ওহে ফুটোস্কোপের আদি টেস্ট সাবজেক্ট, আমি বলিনি, উহা আপনিই বলিয়াছেন। 'শুধু সৎ নয়, চালাক'।
    মানে হল গিয়ে 'চালাক এবং সৎ'। আপনের থিসিস। আমাগো না। চালাকি = মিথ্যাচার হলে আপনার বাক্যটি কূট হয়। তদ্দূর না পোষালে, অন্তত হেত্বাভাসটুকু হয়।
    আমি বলিনি বাপধন, আপনেই কইসেন, আপন খেয়ালে।
    বলি, থাউক, নাকি? চেপে যাওয়াই ভালো।
  • fizz | 158.69.***.*** | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৩২740094
  • হেহে, এইত্তো প্যালারাম আর তস্য গুরু টেনিদা থুড়ি যদুমাস্টার গ্রাফট্র্যাফ দিয়ে বিজেপির খাল খিঁচে নিয়েছে। তবু লরেন মোদীকেই লোকে চাইছে। এইবার বাংলা হয়ে যাবে প্যাংলা (সব ঘুসপেটিয়াকে ওপারে পাঠানো হবে যে)। সাধু সাবধান!
  • হারামির হাতবাক্স | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৩740107
  • @fizz: চাণক্যনীতি নয়, বরং ‘ছাল-ছাড়ানো’ লবণে আজ উন্নয়নের স্বাদ; ঘায়ের ওপর মলম নয়, মশলাই যখন শ্রেষ্ঠ জনসেবা, দেখতে থাকুন।
  • হারামির হাতবাক্স | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০২740109
  • তথ্য-প্রযুক্তির 'টেনিদা'রা (থুড়ি @ডেটা কি বলে) আজ অ্যালগরিদমের প‍্যাঁচে @প‍্যালারাম। উন্নয়নের ডিজিটাল 'গুল' যখন ডেটার চাদরে ঢাকা, তখন প্রশ্নাতীত আনুগত্যই শ্রেষ্ঠ দাওয়াই।
     
    "উন্নয়নের বাংলা": একটি প্রেমপত্রের পোস্টমর্টেম
     
    — কারণ ডেটা মিথ্যে বলে না, শুধু কিছু মানুষ ডেটা লুকোতে পারে।
     
    ---
     
    ভূমিকা: গল্পটা শুরু হয় যেখানে
     
    তৃণমূল সমর্থকদের একটি বিশেষ প্রতিভা আছে—তাঁরা রাজ্যের উন্নয়নের এমন একটি ছবি আঁকেন, যেখানে আলো এত উজ্জ্বল যে ছায়াগুলো আর দেখাই যায় না। Kanyashree আছে, Lakshmir Bhandar আছে, Duare Sarkar আছে—সব আছে। শুধু নেই পরিসংখ্যান, প্রেক্ষাপট, এবং সততার সামান্য একটু আলো।
     
    তো চলুন, সেই আলোটা একটু জ্বালাই।
     
    ---
     
    ১. অর্থনীতি: "বাংলা এগিয়ে চলেছে"—কোথায়?
     
    TMC-র আখ্যান: GSDP বাড়ছে, বাংলা উন্নতির পথে।
     
    বাস্তবতা:
     
    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে নিচে। RBI-র রাজ্য অর্থনীতির তথ্য অনুযায়ী, বাংলার মাথাপিছু NSDP দেশের রাজ্যগুলির মধ্যে মাঝামাঝি থেকেও নিচে—মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা তো দূরের কথা, বেশ কিছু "পিছিয়ে পড়া" বলে পরিচিত রাজ্যও এগিয়ে।
     
    আরও অস্বস্তিকর তথ্য: বাংলা ভারতের সর্বাধিক ঋণগ্রস্ত রাজ্যগুলির একটি। ২০২৪-২৫ সালের বাজেট অনুযায়ী রাজ্যের মোট ঋণ ৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে—যা রাজ্যের GSDP-র প্রায় ৩৮-৪০%। RBI-র Fiscal Health Index-এ বাংলা বারবার দুর্বল শ্রেণিতে।
     
    প্রশ্ন যেটার উত্তর নেই: যে রাজ্যের সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নামে ঋণ নিয়ে আজকের ভর্তুকি দেয়—সেটাকে কি "উন্নয়ন" বলে, না "নির্বাচনী বিনিয়োগ" বলে?
     
    ---
     
    ২. কর্মসংস্থান: "চাকরি হচ্ছে"—কোথায় যাচ্ছে সেই চাকরি?
     
    TMC-র আখ্যান: শিল্প আসছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে।
     
    বাস্তবতা:
     
    CMIE (Centre for Monitoring Indian Economy)-র তথ্য বলছে, বাংলার বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের কাছাকাছি বা বেশি থাকে বেশিরভাগ সময়।
     
    কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় কথা বলে মানুষের পায়ের গতিপথ। বাংলা থেকে কেরালা, দিল্লি, মহারাষ্ট্রে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ২০১১ সালের আদমশুমারির পরের তথ্যেও পরিযান বৃদ্ধির ইঙ্গিত স্পষ্ট।
     
    সবচেয়ে তীব্র তথ্য: SSC (School Service Commission) কেলেঙ্কারি। ২৫,৭৫৩টি সরকারি শিক্ষকের পদে নিয়োগ দুর্নীতি—যেখানে মেধার বদলে টাকা চলেছে। লক্ষাধিক যোগ্য প্রার্থী বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার, তাঁর ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে উদ্ধার প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ।
     
    প্রশ্ন: "চাকরির বাজার তৈরি করছি"—এই দাবি কি তাঁরাই করছেন, যাঁদের আমলে চাকরি কেনাবেচার বাজার তৈরি হয়েছিল?
     
    ---
     
    ৩. নারী সুরক্ষা: Kanyashree-র দেশে
     
    TMC-র আখ্যান: Kanyashree, Rupashree—নারী ক্ষমতায়নে বাংলা দেশের মডেল।
     
    বাস্তবতা:
     
    NCRB (National Crime Records Bureau)-র বার্ষিক তথ্য ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষ রাজ্যগুলির মধ্যে থাকে। NCRB 2022 অনুযায়ী মহিলাদের বিরুদ্ধে মোট নথিভুক্ত অপরাধে বাংলা তৃতীয় স্থানে।
     
    এবং তারপর এলো RG Kar.
     
    ২০২৪ সালের আগস্টে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে একজন ট্রেনি চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের শিকার হলেন। সারা দেশ থমকে গেল। কিন্তু যা আরও স্তম্ভিত করল, তা হলো হাসপাতালের প্রমাণ বিনষ্টের অভিযোগ, তদন্তে গড়িমসি, এবং রাজ্য প্রশাসনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া।
     
    Sandeshkhali ভুললে চলবে না—যেখানে মহিলাদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল শাসকদলের স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে।
     
    প্রশ্ন: Kanyashree পুরস্কার দেয় UN—আর NCRB পুরস্কার দেয় অন্যভাবে। দুটো একসাথে কীভাবে সত্যি হয়?
     
    ---
     
    ৪. দুর্নীতি: "সোনার বাংলা"—সোনা কার কাছে?
     
    TMC-র আখ্যান: উন্নয়নের জন্য কিছু "ছোটখাটো" সমস্যা থাকে।
     
    বাস্তবতা:
     
    এটি কোনো isolated ঘটনার তালিকা নয়, এটি একটি প্যাটার্ন:
     
    - Narada Sting (2016): গোপন ক্যামেরায় TMC-র একাধিক সাংসদ ও মন্ত্রীকে ঘুষ নিতে দেখা গেল
    - Saradha Chit Fund: লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের সর্বনাশ, রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ
    - Coal Scam: CBI তদন্ত, "কয়লা কাণ্ড"-এ দলের শীর্ষ নেতার নাম
    - Cattle Smuggling: TMC-র জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল CBI-র হাতে গ্রেফতার
    - SSC Scam: শিক্ষামন্ত্রী গ্রেফতার, ৫০ কোটি নগদ উদ্ধার
    - Ration Scam: COVID-কালীন রেশন চুরির অভিযোগ
    - পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি: একাধিক শহরে তদন্ত চলছে
     
    এটা "বিরোধীদের ষড়যন্ত্র" নয়—এটা CBI, ED, হাইকোর্ট, এবং সুপ্রিম কোর্টের তদন্তের ফলাফল।
     
    প্রশ্ন: দুর্নীতির অভিযোগ যখন দলের মধ্যে এতটাই ব্যাপক যে আদালতকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে—তখন সেটাকে কি "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" বলা যায়, নাকি সেটা একটি system?
     
    ---
     
    ৫. শিক্ষা: "শিক্ষিত বাংলা"-র পরীক্ষাপত্র
     
    TMC-র আখ্যান: স্কুলে ছাত্র বাড়ছে, সাক্ষরতা বাড়ছে।
     
    বাস্তবতা:
     
    ASER (Annual Status of Education Report)-এর তথ্য বারবার দেখিয়েছে যে বাংলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণমান উদ্বেগজনক। শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু শিখছে কতটুকু?
     
    কিন্তু আসল ক্ষতটা হলো SSC কেলেঙ্কারি—যা শুধু নিয়োগ দুর্নীতি নয়, এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার ঘটনা। যে শিক্ষক নিজে যোগ্যতার বদলে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তিনি ছাত্রদের কী শেখাবেন? মেধার মূল্য, না বাজারদর?
     
    প্রশ্ন: রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠের বাড়িতে যে টাকা পাওয়া গেছে, সেটা কি "শিক্ষা তহবিল" ছিল?
     
    ---
     
    ৬. স্বাস্থ্য: "স্বাস্থ্যসাথী"-র ছায়ায়
     
    TMC-র আখ্যান: Swasthya Sathi কার্ড লক্ষ লক্ষ পরিবারকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
     
    বাস্তবতা:
     
    প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ভালো—কিন্তু রূপায়ণের বাস্তবতা ভিন্ন। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো, ডাক্তার-রোগী অনুপাত, এবং পরিষেবার মান নিয়ে প্রশ্ন বারবার উঠেছে।
     
    RG Kar আবার এখানেও। এটি শুধু একটি অপরাধের ঘটনা নয়—এটি দেখিয়ে দিয়েছে রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনিক অন্ধকার, হাসপাতালে ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
     
    জুনিয়র ডাক্তাররা রাস্তায় নামলেন। দেশজুড়ে মোমবাতি জ্বলল। রাজ্য সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল—অপেক্ষা এবং নীরবতা।
     
    প্রশ্ন: বীমার কার্ড দেওয়া আর হাসপাতালে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা—এই দুটোর মধ্যে কোনটা কঠিন কাজ?
     
    ---
     
    Logical Fallacy-র সংক্ষিপ্ত ক্যাটালগ
     
    তৃণমূলপন্থী আখ্যানে যে কৌশলগুলো বারবার দেখা যায়:
     
    ১. Cherry-picking: Kanyashree-র পুরস্কার তুলে ধরো, NCRB-র তথ্য চাপা দাও।
     
    ২. False Comparison: "বামেরা ৩৪ বছরে কী করেছিল?"—এই প্রশ্নটি ১৩ বছরের দায় এড়ানোর সবচেয়ে প্রিয় পদ্ধতি। বাম আমলের ব্যর্থতা TMC-র দুর্নীতির লাইসেন্স নয়।
     
    ৩. Input vs Outcome Confusion: "এত টাকা খরচ করা হয়েছে" মানেই "কাজ হয়েছে" নয়। প্রশ্ন হলো, টাকাটা গেল কোথায়?
     
    ৪. Whataboutery: "BJP-ও তো..." এই যুক্তি দিয়ে নিজের দায় কমানো যায় না। অন্যের অন্যায় আপনার অন্যায়কে ন্যায্য করে না।
     
    ---
     
    শেষ কথা
     
    বাংলাকে ভালোবাসা আর বাংলার ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা—এই দুটো একসাথে সম্ভব। আসলে, সত্যিকারের ভালোবাসা মানে চোখ বন্ধ করে প্রশংসা করা নয়।
     
    ডেটা দলীয় সদস্যপদ মানে না।
    পরিসংখ্যান কোনো দলের হয় না।
    এবং প্রশ্ন করার অধিকার—সেটা কোনো "বিরোধী ষড়যন্ত্র" নয়, সেটাই গণতন্ত্র।
     
    "উন্নয়ন" শব্দটা এত সস্তা হয়ে গেছে যে এখন তার মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে—বেশি ছাপালে দাম কমে।
     
    আমি মুখ্য সুখ্য মানুষ বাবু কিছুই বুঝিনা, উত্তরগুলো পেলে বাধিত হবো।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:652e:a167:7bf8:***:*** | ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৮740131
  • দুয়েকদিন আগে বলেছিলাম তামিল নাড়ুতে বিশ্বগরুর foeticide নিয়ে কুমিরের কান্না খুব একটা কাজে দিচ্ছে না, কারন ডিএমকে ডিলিমিটেশান নিয়ে বিরাট কাউন্টার ন্যারেটিভ নামিয়ে দিয়েছে। তার কারন এখানের লোকাল চ্যানেলগুলোতে, বা আমার দুয়েকজন বন্ধুদের মধ্যেও, যা আলোচনা হচ্ছে তার বেশীর ভাগটাই পার্লামেন্ট সিট নিয়ে হচ্ছে, উইমেন্স বিল নিয়ে কোন আলোচনা শুনতে পাচ্ছিনা। এই খবরটা দেখতে পারেনঃ
     
     
    Tamil Nadu polls: How delimitation storm added a new edge to high-stakes electoral battle
     
    NEW DELHI: Just days before Tamil Nadu votes for the high-stakes assembly polls, campaigning witnessed a sudden pivot following the Centre’s decision to propose expanding the Lok Sabha from 543 to 850 seats by redrawing constituencies to implement 33 per cent reservation for women. Although the proposal was defeated in Parliament, the issue did not die down and became a focus point in Tamil Nadu, where the fight was already revolving around a debate between chief minister Stalin-led DMK and the AIADMK-led NDA.
     
    After the proposal in Parliament, the DMK-Congress combine has trained its guns on Prime Minister Narendra Modi, seeking to sow seeds of suspicion and anger in the state and shore up support. The BJP has rushed to issue clarifications, assuring that "no injustice will be done to any state, particularly to the states of the South."
     
    'Let the flame of resistance spread across Tamil Nadu'
     
    As the Centre tabled the bill in Parliament, Tamil Nadu chief minister MK Stalin spearheaded a black flag protest across the state. Claiming it to be a "historical injustice", Stalin lit the copy of the bill, raised slogans demanding that the Union government should not cripple the rights of states. “Let the flame of resistance spread across Tamil Nadu. Let the arrogance of BJP be brought down,” Stalin said in an X post.Drawing parallels with the anti-Hindi agitations of the 1950s and 1960s, Stalin said Tamil Nadu’s 'fire against Hindi imposition scorched Delhi' and forced it to yield back then. “I have reignited that fire by burning this black law that seeks to turn Tamils into refugees in our own land,” he said, adding that the agitation would spread across the state.
     
    দাবা খেলা :-)
  • Anindya Rakshit | ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৮740151
  • আপনার দুটো লেখায় ফাইভ স্টার দিয়েছি বলে ভাববেন না আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করছি। ওটা দিয়েছি, লড়াইয়ের ময়দানে আপনার অক্লান্ত অবদানের জন্য। এটাকে ব্যজস্তুতি বলতে পারেন।
     
    পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের দুর্নীতি, অপদার্থতা নিয়ে আপনি প্রভূত পণ্ডিতি করেছেন, কিন্তু সারা ভারতে, বিশেষতঃ, তথাকথিত ডবল ইঞ্জিন সরকার পরিচালিত রাজ্যগুলোর দুর্নীতি আর অপদার্থতার বিষয়ে আপনি সযত্নে নীরব। একটা ব্যাপার কী, জানেন ? একজন খোজা গ্ল্যাডিয়েটর যতই দক্ষতার সঙ্গে লড়াই করুক না কেন, দিনশেষে তাকে প্রভুর বিছানাতেই যেতে হয়।
     
    এই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা আপনাকে ভাবায়, কিন্তু করোনাকালে পায়ে হেঁটে ঘরে ফেরা বিহার, ইউ পি-র পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা বিষয়ে আপনি উদাসীন।
     
    'সত্যবাদী চালাক' একটা পরস্পরবিরোধী শব্দবন্ধ। ইংরেজিতে যাকে বলে অক্সিমোরন। আর, বিজেপি সত্যবাদী, এই কথা বলতে চেয়ে আপনি প্রমাণ করেছেন, আপনি মোদির কাছে মিথ্যা বলার ক্র্যাশ কোর্স করছেন। তাই, ঐ গাম্বাটের মতোই, 'চালাক' আর 'বুদ্ধিমান' শব্দদুটোর মধ্যে যে ফারাক, তা আপনার বোধগম্যের অতীত থেকে গ্যাছে।
     
    আপনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দায় শতমুখ হয়েছেন, কিন্তু বিকল্প কোনো মুখ্যমন্ত্রীর নাম বলতে সাহস করেন নি কারণ আপনি জানেন যে সেটা করলে মানুষ আপনার মুখে পেদে দেবে।
     
    চটিচাটা শব্দটা একাধিকবার উচ্চারণ করে আপনি প্রমাণ করেছেন, চটির চেয়ে বুট, স্যান্ডেল শু, বা নাগরাই বেশি টেস্টি।
     
    যাই হোক, দেশজুড়ে মাদারচোদি চালিয়ে যাওয়া একটা নিঘিন্নে দল, ধর্ম যাদের দুবেলা পোঁদ মারে, আপনি নিরুচ্চারে তাদের সমর্থন করছেন, যা কেবলমাত্র একটা বনেদী মাদারচোদের পক্ষেই সম্ভব।
     
    পরিশেষে, জানি, এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আপনি যার পর নাই বিষোদ্গার করবেন, আরো অনেক পণ্ডিতি চোদাবেন, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না কারণ একটা স্টুপিড হারামীর হাতবাক্স থেকে কী বেরোয় তা দেখার কোনো আগ্রহই আমার নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন