এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা  সমাজ

  • হিন্দুত্ববাদী (!!!) বিবেকানন্দ 

    দীপ
    আলোচনা | সমাজ | ১০ অক্টোবর ২০২৪ | ৮৪০ বার পঠিত
  • গুরুচণ্ডালির বেশ কিছু মহাপণ্ডিত(!!!) নানারকম অসামান্য তত্ত্ব উপস্থাপনা করেন! এঁরা আমাদের জানিয়েছেন হিন্দু শব্দটি নাকি আগে ছিলোনা, বঙ্কিম-বিবেকানন্দ‌ই নাকি উনিশ শতকে এই শব্দটি  নিয়ে আসে! এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয়, তার আগে কিছুই ছিলোনা! পরিণামে দেশবিভাগ হয়!
    এখানেই শেষ নয়, পণ্ডিতেরা আরো অসামান্য তত্ত্ব জানিয়েছেন! বঙ্কিম-বিবেকানন্দ যে প্রচণ্ড নারী-শূদ্রবিদ্বেষী ছিলো, এই তথ্য‌ও আমরা এই পণ্ডিতদের লেখা থেকে জানতে পেরেছি!
    এই অসামান্য পণ্ডিতদের উদ্দেশ্যে বিবেকানন্দের একটি চিঠির অংশবিশেষ নিবেদিত হলো!
    -----------------------------------------------------------------

    "...আমাদের জাতের কোন ভরসা নাই। কোনও একটা স্বাধীন চিন্তা কাহারও মাথায় আসে না - সেই ছেঁড়া কাঁথা, সকলে পড়ে টানাটানি - রামকৃষ্ণ পরমহংস এমন ছিলেন, তেমন ছিলেন; ...গপ্পির আর সীমা-সীমান্ত নাই। হরে হরে, বলি একটা কিছু করে দেখাও যে তোমরা কিছু অসাধারণ - খালি পাগলামি! আজ ঘন্টা হলো, কাল তার উপর ভেঁপু হলো, পরশু তার ওপর চামর হলো, আজ খাট হলো, কাল খাটের ঠ্যাঙে রূপো বাঁধানো হলো - আর লোকে খিচুড়ি খেলে আর লোকের কাছে আষাঢ়ে গল্প ২০০০ মারা হলো- চক্রগদাপদ্মশঙ্খ আর শঙ্খগদাপদ্মচক্র, ইত্যাদি। একেই ইংরেজিতে বলে imbecility- যাদের মাথায় ঐ রকম বেলকোমো ছাড়া আর কিছু আসে না, তাদের নাম imbecile - ঘন্টা ডাইনে বাজবে না বাঁয়ে, চন্দনের টিপ মাথায় কি কোথায় পরা যায় - পিদিম দুবার ঘুরবে বা চার বার- ঐ নিয়ে যাদের মাথা দিনরাত ঘামতে চায়, তাহাদেরই নাম হতভাগা। আর ঐ বুদ্ধিতেই আমরা লক্ষ্মীছাড়া জুতোখেকো আর এরা ত্রিভুবনবিজয়ী। কুঁড়েমিতে আর বৈরাগ্যে আকাশ-পাতাল তফাত।

    যদি ভাল চাও তো ঘন্টাফন্টাগুলোকে গঙ্গার জলে সঁপে দিয়ে সাক্ষাত ভগবান নর-নারায়ণের - মানবদেহধারী হরেক মানুষের পুজো করগে, বিরাট আর স্বরাট। বিরাট রূপ এই জগৎ, তার পুজো মানে তার সেবা- এর নাম কর্ম। ঘন্টার উপর চামর চড়ানো নয়, আর ভাতের থালা সামনে ধরে দশ মিনিট বসব কি আধঘন্টা বসব- এ বিচারের নাম কর্ম নয়, ওর নাম পাগলাগারদ। ক্রোর টাকা খরচ করে কাশী বৃন্দাবনের ঠাকুরঘরের দরজা খুলছে আর পড়ছে। এই ঠাকুর কাপড় ছাড়ছেন, তো এই ঠাকুর ভাত খাচ্ছেন, তো এই ঠাকুর আঁটকুড়ির বেটাদের গুষ্টির পিণ্ডি করছেন। এদিকে জ্যান্ত ঠাকুর অন্ন বিনা, বিদ্যা বিনা মরে যাচ্ছে। বোম্বায়ের বেণেগুলো ছারপোকার হাসপাতাল বানাচ্ছে - মানুষগুলো মরে যাক। ...আমাদের দেশে মহা ব্যারাম - পাগলাগারদ দেশময়।

    যাক, তোদের মধ্যে যারা একটু মাথাওয়ালা আছে, তাঁদের চরণে আমার দণ্ডবৎ ও তাঁদের কাছে আমার এই প্রার্থনা যে, তাঁরা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ুন - এই বিরাটের উপাসনা প্রচার করুন, যা আমাদের দেশে কখনও হয় নাই। লোকের সঙ্গে ঝগড়া করা নয়, সকলের সঙ্গে মিশতে হবে। Idea ছড়া গাঁয়ে গাঁয়ে, ঘরে ঘরে যা - তবে যথার্থ কর্ম হবে। নইলে চিৎ হয়ে পড়ে থাকা আর মধ্যে মধ্যে ঘন্টা নাড়া- কেবল রোগ বিশেষ। Independent হ, স্বাধীন বুদ্ধি খরচ করতে শেখ! অমুক তন্ত্রের অমুক পটলে ঘন্টার বাঁটের যে দৈর্ঘ্য দিয়েছে, তাতে আমার কি? প্রভুর ইচ্ছায় ক্রোর তন্ত্র, বেদ, পুরাণ তোদের মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাবে। যদি কাজ করে দেখাতে পারিস...তবেই তোদের উপর আমার ভরসা হবে, নইলে ইতি।"

    পত্রাবলী (পত্র: ১৫৫), উদ্বোধন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৪745586
  • “আমি বুদ্ধের দাসানুদাসগণের দাস। তাঁহার মত কেহ কখনও জন্মিয়াছেন কি? স্বয়ং ভগবান্‌ হইয়াও তিনি নিজের জন্য একটি কাজও করেন নাই—আর কি হৃদয়! সমস্ত জগৎটাকে তিনি ক্রোড়ে টানিয়া লইয়াছেন। এত দয়া যে, রাজপুত্র এবং সন্ন্যাসী হইয়াও একটি ছাগশিশুকে বাঁচাইবার জন্য প্রাণ দিতে উদ্যত! এত প্রেম যে, এক ব্যাঘ্রীর ক্ষুধানিবৃত্তির জন্য স্বীয় শরীর পর্যন্ত দান করিয়াছিলেন এবং আশ্রয়দাতা এক চণ্ডালের জন্য আত্মবলি দিয়া তাহাকে আশীর্বাদ করিয়াছিলেন!

    পৃথিবীতে যত লোক জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, তন্মধ্যে তিনিই যে সর্বশ্রেষ্ঠ, এ বিষয়ে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। তিনি নিজের জন্য একটিবারও নিঃশ্বাস লন নাই! সর্বোপরি, তিনি কখনও পূজা আকাঙ্ক্ষা করেন নাই। তিনি বলিয়াছিলেনঃ বুদ্ধ কোন ব্যক্তি নহেন, উহা একটি অবস্থাবিশেষ। আমি দ্বার খুঁজিয়া পাইয়াছি। এস, তোমরা সকলেই প্রবেশ কর!

    তিনি ‘পতিতা’ অম্বাপালীর নিমন্ত্রণে গিয়াছিলেন। প্রাণনাশ হইবে জানিয়াও তিনি অন্ত্যজের গৃহে ভোজন করিয়াছিলেন এবং মৃত্যুকালে অতিথিসৎকারককে এই মহামুক্তি-দানের জন্য ধন্যবাদ দিয়া তাঁহার নিকট লোক পাঠান। সত্যলাভের পূর্বেই একটি ক্ষুদ্র ছাগ-শিশুর জন্য ভালবাসা ও দয়ায় কাতর! তোমাদের স্মরণ আছে, কিরূপে রাজপুত্র এবং সন্ন্যাসী হইয়াও তিনি নিজ মস্তক পর্যন্ত দিতে চাহিয়াছিলেন, যদি রাজা শুধু যে ছাগশিশুটিকে বলি দিতে উদ্যত হইয়াছিলেন, সেটিকে মুক্তি দেন; এবং কিরূপে সেই রাজা তাঁহার অনুকম্পার নিদর্শনে মুগ্ধ হইয়া উক্ত ছাগশিশুটির প্রাণ দান করেন। জ্ঞানবিচার এবং সহৃদয়তার এমন অপূর্ব সংমিশ্রণ আর কোথাও দেখা যায় না! নিশ্চয়ই তাঁহার মত আর কেহ জন্মগ্রহণ করেন নাই, এ বিষয়ে সন্দেহ নাই।”

    – স্বামী বিবেকানন্দ
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৩৯745821
  • রামকৃষ্ণ বলেছিলেন ওর ভেতরটা পুরুষ। বিবেকানন্দ তাঁর স্বল্পজ্ঞাত একটি চিঠিতে বলছেন, I am more of a woman than a man. দুইই সত্যি। সিংহবীর্য ও মাতৃমমতার অর্ধনারীশ্বর তিনি। তিনি আমাদের সাগর-ঘেরা ভুবনবাড়ির আটপহুরে আলো -- প্রচণ্ড সূর্য, স্পৃহণীয় চন্দ্রমা। অথবা তিনি যেন মানুষের চৈতন্যের উদ্বোধনের সেই বোধিবৃক্ষ। উঠছে আকাশপানে অজস্র ঝুরি নামাতে নামাতে। শিকড়টি ধরে আছেন ভুবন-মা। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সুতলে পাতালে রসাতলে অতলে...অবচেতনায়-অচেতনায়!

    লরেনের শিকড়
    গৌরী ধর্মপাল
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:০০746036
  • রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ হঠাৎ কৃষি কলেজ করতে গেল কেন? - প্রাককথনে তিনটি ঘটনার কথা বললেন মহারাজ।
     
    প্রথমটি বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন শিক্ষক স্বপনদার অভিজ্ঞতা। পুরুলিয়ার দরিদ্র মানুষদের জন্য অন্নসেবার এক আয়োজনে ভাত দেওয়ার পর একজন স্বেচ্ছাসেবক ডাল নিয়ে এসেছে। কিন্তু ডাল দিতে গিয়ে দেখে পাতে ভাত নেই।
    - কী ব্যাপার? তোমাদের ভাত দেয়নি?
    - হঁ, দিয়েছিল বাবু।
    - তো, ভাত কী হল?
    - খাঁয়ে লিলি।
    - কী দিয়ে খেলে?
    - খিদা দিয়ে খালি বাবু, খিদা দিয়ে খালি।
     
    দ্বিতীয় ঘটনা আশ্রমের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে বস্ত্র বিতরণের পর্বে। গ্রামের এক বাড়িতে পাঁচজন মহিলার হাতে দেবার জন্য পাঁচটি শাড়ি নিয়ে ব্রহ্মচারী বাইরে দাঁড়িয়ে। একজন বৃদ্ধা জরাজীর্ণ কাপড় জড়িয়ে বেরিয়ে এলেন। জানালেন বাকি চার জনের বেরোনোর মত কাপড় নেই। - তুমি বাবা বিশ্বাস করে আমাকে পাঁচটি শাড়ি দিয়ে যাও।
     
    তৃতীয়টি আশ্রম থেকে দশ বারো কিলোমিটার দূরের এক গ্রামের ঘটনা। একটি বাচ্চা আগেরদিন দুপুরে খেয়েছে, পরের দিন দুপুর গড়িয়ে গেছে, খাবার জোটেনি। বাড়ির কর্তা তার যৎসামান্য রোজগার নেশা করে উড়িয়ে কোথাও পড়ে আছে। বাচ্চাটি খিদেয় কাঁদছে। বাড়িতে ধেনো মদের বোতল ছিল। উপায়ান্তর না দেখে মা সেই বোতল খুলে ঝিনুকে করে বাচ্চাটিকে মদ খাওয়াতে বাধ্য হল। - "ঐ শিশুটির খাবার জোটেনি, কিন্তু আশ্রমে ঘণ্টা পড়লে আমি খাবার পাই, আমার জন্য থালায় ডাল ভাত তরকারি বেড়ে দেওয়া হয়।" - বলছিলেন মহারাজ।
     
    মহারাজের চোখে জল আসছিল, গলা ধরে যাচ্ছিল। একটি নামকরা প্রতিষ্ঠানের ষাটোর্ধ্ব মোহন্তের জনসমক্ষে অশ্রুপাত ঠিক মানানসই নয়, তবে বাঙালি হিসেবে সান্ত্বনা এই যে আমাদের কিছু অতিমানবও এই দোষে দোষী ছিলেন। তাঁদের একজনকে আমরা 'দয়ার সাগর' বলে থাকি, আরেকজন সম্পর্কে গিরিশ ঘোষ এক শিষ্যকে বলেছিলেন - "কেবল বেদজ্ঞ পণ্ডিত বলে মানি না; কিন্তু ঐ যে জীবের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেল, এই মহাপ্রাণতার জন্য মানি।"
     
    তর্কে তর্কে শুষ্ক এই খরার পৃথিবীতে দুর্লভ অশ্রুর উত্তরাধিকার সজলতা আনুক, আবাদে সোনা ফলুক, অন্নদেবতার এই আরাধনা সার্থক হোক। "যে ভগবান এখানে আমাকে অন্ন দিতে পারেন না, তিনি যে আমাকে স্বর্গে অনন্ত সুখে রাখবেন -এ আমি বিশ্বাস করি না।"
  • Prabhas Sen | ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:০২746077
  • "মানুষের অন্তরে যে দেবত্ব পূর্ব হইতেই বর্তমান তাহার পরিপূর্ণ প্রকাশের নামই দেবত্ব "- স্বামীজির উক্তি।
    মন্তব্য আর কি দেব? গঙ্গা জলেই গঙ্গা পূজার চেষ্টা করা গেল।
  • Prabhas Sen | ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৪৫746078
  • সংশোধন: "পরিপূর্ণ বিকাশের নামই ধর্ম "
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:৩৪746239
  • "দিন কয়েক আগে সংশোধনাগারের একজন আবাসিক একটি কবিতা লিখে আমাদের পাঠিয়েছেন। কবিতার শিরোনাম দিয়েছেন 'আশ্রম না আশ্রয়'। রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম তাঁদের কাছে পরম আশ্রয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, বহু আবাসিক সংশোধনাগার থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে আশ্রমে এসে নতুন করে জীবন শুরু করতে চেষ্টা করছেন। সন্ন্যাসীদের সঙ্গে দেখা করে উন্নত জীবনযাপনের জন্য পরামর্শ চাইছেন। এক্ষেত্রে আমরাও তাঁদের যথাসাধ্য সহায়তা করছি। গত ২২ মে ২০০৬ জালালুদ্দিন নামের একজন আবাসিক সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তাঁর ছেলের পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ করতে মালদা আশ্রমে এসেছিলেন। আশ্রমের তরফ থেকে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। জালালুদ্দিন তিন বছর মালদা সংশোধনাগারে আবাসিক হিসাবে রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত সেবাকাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বড় অনুষ্ঠানে শতরঞ্চি পাতা, মিষ্টি বিতরণ করা, সকলকে ডেকে এনে একত্র জড় করা ইত্যাদি সব কাজে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিতেন। এছাড়াও তিনি সেলাইয়ের কাজও ভাল করে শিখেছিলেন। ভাল কাজ শেখার স্বীকৃতি হিসাবে তিনি একটি সেলাই মেশিন পেয়েছেন।"

    (জীবনের আয়নায়)

    -স্বামী দিব্যানন্দ
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:১০746418
  • "তিনি বাস্তবিকই বিদেহ শুদ্ধ-বুদ্ধ-মুক্ত-আত্মাস্বরূপ ছিলেন। শুধু তাহাই নহে, তিনি তাঁহার অদ্ভুত দিব্যদৃষ্টিসহায়ে ইহাও বুঝিয়াছিলেন যে, প্রত্যেক নরনারী,
    সে ইহুদীই হউক বা অন্য জাতিই হউক,
    ধনী-দরিদ্র, সাধু-অসাধু—সকলেই তাঁহার মতো সেই এক অবিনাশী আত্মা ব্যতীত আর কিছুই নহে।"
     
    ঈশদূত যীশুখ্রীষ্ট, স্বামী বিবেকানন্দ |
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:০৫746429
  • রামকৃষ্ণ মিশনের দুর্গাপূজায় খ্রিস্টান পাদ্রী।
    এই উদার চিন্তাই রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের আদর্শ।
     
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৭746489
  • গতকাল কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশনের ইন্সটিটিউট অফ কালচারে ময়মনসিংহ প্রাক্তনীদের বাৎসরিক সভায় গিয়েছিলাম। স্বামী সুপর্ণানন্দজী ও অন্য অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাক্তনীরা বিশেষ সম্মান দিলেন মমতাশঙ্কর ও চন্দ্রোদয় ঘোষকে -- দুজনেরই আদি বাড়ি ময়মনসিংহ।
    আমার দাদা ডঃ দেবদত্ত চৌধুরী কে (ছবিতে আমার পাশে দাঁড়িয়ে) সংস্থা তার আজীবন সেবার জন্যে পুরস্কার দিল। বছরের পর বছর, উনি বিনা পয়সায় অথবা খুবই অল্প টাকায় প্রচুর রোগী দেখেন।
    স্বামী বিবেকানন্দের সহনশীলতা নিয়ে বক্তব্য রাখলেন সুপর্ণানন্দজী এবং শ্রী স্বপন মুখোপাধ্যায়। স্বামীজি যে ধর্মের বিষয়ে কতখানি উদার ও সহনশীল ছিলেন সেই নিয়ে আমি দু চার কথা বললাম। এই প্রসঙ্গে তাঁর বিখ্যাত উক্তির কথা মনে করিয়ে দিলাম "আমি অতীতের সকল ধর্ম গ্রহণ করি, এবং তাদের সাথে উপাসনা করি; আমি প্রত্যেকের সাথে ঈশ্বরের উপাসনা করি, যে কোনও রূপে তারা তাঁকে উপাসনা করুক।"
    স্বামীজি তাঁর ভারতবর্ষের তীর্থের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই বুঝেছিলেন "যত মত তত পথ" এর সারমর্ম ও গুরুত্ব। হিন্দু মুসলমানদের পার্থক্য নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু হিন্দুদের নিজেদের মধ্যেই আঞ্চলিক বিভিন্নতা খুবই চমকপ্রদ। তা সত্ত্বেও আমরা যে ঝগড়া লড়াই না করে পরস্পরের বিভিন্নতা মেনে নিয়েছি এটাই হিন্দু ধর্মের সহনশীলতার পরিচয়। ঔদার্য না থাকলে ভারতে ও হিন্দু ধর্মের "বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য নীতির" জয় হত না। এই মূল সত্য স্বামীজীর মতন মহাপুরুষেরা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
    আমি একটি উদাহরণ দিলাম -- নবরাত্রি উৎসব। অদ্ভুত তার বৈচিত্র্য। এই নবরাত্রির সময় ভারতের উত্তর অঞ্চলে মানুষ নিরামিষ খায়, নানান সংযম পালন করে আবার প্রচুর লোক উপবাস রাখে। কিন্তু বাঙালিরা একদম বিপরীত। কয়েকটি গোঁড়া পরিবার কিছু নিয়ম বা ব্রত পালন করলেও, সাধারণ লোকেরা দুর্গাপুজোর সময় কব্জি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খেতে ব্যস্ত থাকে। অন্য দিকে, নবরাত্রির সময়েই রাজস্থানের রাজপুতরা এবং দেশের অনেক রাজপরিবার আর যোদ্ধা-গোষ্ঠীও কুলদেবীর কাছে মোষ বা ছাগল বলি দেন। হিমালয়ের পাদদেশে এবং পূর্ব ভারতে অনেক জায়গায় মোষ বলি প্রচলিত।
    আবার নবরাত্রি উৎসবের একটা বড় উদ্দেশ্য হল সুফসলের প্রার্থনা। মহারাষ্ট্রে এই উৎসব কে ঘটস্থাপনা বলা হয়। একটি জলপূর্ণ মাটির কলসি স্থাপন করা হয় চার পাশে এক তাল মাটির মধ্যে। সেই মাটিতে হরেক শস্যদানা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে এই ন’দিনে সেগুলি অঙ্কুরিত হয়। গুজরাতিরা এই অনুষ্ঠানকে ‘গরবা’ বা গর্ভ নাম দেন। তাঁদের প্রসিদ্ধ ‘গরবা’ নাচও হয় এই মাটির কলসিকে ঘিরেই। গোয়ায় এই পাত্র সাধারণত তামা দিয়ে তৈরি হয় এবং এই সময়েই নানান গোষ্ঠীর মানুষ শস্য রোপণের উৎসব করেন। বাংলায় সপ্তমীর দিন নবপত্রিকার (কলা বউয়ের) স্নান ও স্থাপন করা হয়, মা দুর্গার পাদদেশে।
    দক্ষিণ ভারতীয়দের মধ্যে এই উৎসবের সময় একটা অদ্ভুত প্রথা চলে। কাঠের পাটাতনের ওপর ছোট্ট ছোট্ট কাঠের পুতুল সাজিয়ে রাখা হয়। এই নয়রাত্রি কে তিন ভাগ করে সরস্বতী, পার্বতী আর লক্ষ্মীর পুজো হয়। অন্ধ্রপ্রদেশে আর মহীশূরে এই উৎসব পালন করা হয় পাণ্ডবদের যুদ্ধজয়ের উদ্‌যাপনের লগ্ন।
    সুতরাং হিন্দু ধর্মের কোনও একটি প্রথাকে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয় না বরং সকলকে মিলিয়ে চলতে শেখায়। শান্তিপূর্ণ সহবাস এবং সহনশীলতা, এ ছাড়া ভারতের ধর্ম যেমন চলত না, বর্তমানে বহু ধর্মীয় ভারত ও সারা বিশ্বে এই একই উদারতার প্রয়োজন।
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫০746490
  • গতকাল ইনস্টিটিউট অব কালচারে জহর সরকারের আলোচনা।
    এই উদার চিন্তাই ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্য।
    রামকৃষ্ণ মিশন এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
     
    চাড্ডা বা ছাগু, কারো পক্ষে এই উদার আদর্শ বোঝা সম্ভব নয়! 
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৩746706
  • "পৌরোহিত্যের অত্যাচার ভারতের সর্বাপেক্ষা যেখানে বেশী, সেই ত্রিব্যাঙ্কুর (বর্তমান নাম তিরুবন্তপুরম, কেরালা), যেখানে ব্রাহ্মনগণ সমুদয় ভূমির স্বামী---তথাকার সিকিভাগ খ্রিস্টান হয়ে গেছে। হিন্দুদের সহানুভূতি না পেয়ে মাদ্রাজ অঞ্চলে হাজার হাজার পারিয়া ক্রিশ্চান হয়ে যাচ্ছে। মনে করিসনি কেবল পেটের দায়ে খ্রিষ্টান হয়, আমাদের সহানুভূতি পায় না বলে।"
     
    "ভারতবর্ষে দরিদ্রগণের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা এত বেশী কেন? একথা বলা মূর্খতা যে, তরবারীর সাহায্যে তাহাদিগকে ধর্মান্তর গ্রহণে বাধ্য করা হইয়াছিল। বস্তুতঃ জমিদার ও পুরোহিত বর্গের হস্ত হইতে নিষ্কৃতি লাভের জন্যই উহারা ধর্মান্তর গ্রহণ করিয়াছিল। আর সেইজন্যই বাংলাদেশে, যেখানে জমিদারের বিশেষ সংখ্যাধিক্য, সেখানে কৃষক-সম্প্রদায়ের মধ্যে হিন্দু অপেক্ষা মুসলমানেরই সংখ্যা বেশী।"
     
    - স্বামী বিবেকানন্দ
     
    হিন্দুত্ববাদী বিবেকানন্দ!
  • dc | 106.*.*.* | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৯746707
  • বিবুদাকে নিয়ে দীপচাড্ডির দেখছি ভয়ানক ফেটিশ আছে! laugh
  • Dip | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৭746708
  • Again the shameless scoundrel has arrived to start personal attacks!
    He is really very much sincere to perform his duty!
     
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৯746959
  • মহাপণ্ডিতদের উদ্দেশ্যে একটি বিনম্র নিবেদন!
     
    যাহার যোগ্যতা যতো কম, তাহার আস্ফালন ততো বেশি!
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন