সুর তো ফকির : সুশোভন প্রামাণিক
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১০ অক্টোবর ২০১৭ | ১৪৪৩ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩
আলাউদ্দিনঃ দেখো দিকি আবার মালা ক্যানো!
রবীন্দ্রনাথঃ নন্দলাল খাঁ সাহেব বলছেন; ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে’, ভেবে দেখতে হবে কে কার অলঙ্কার!
মালা খাঁ সাহেবের না খাঁ সাহেবের মালা।
খাঁ সাহেব স্মিত হেসে আসন গ্রহণ করেন।
রবীন্দ্রনাথঃ সাহানা
‘সুরের রসে হারিয়ে যাওয়া সেই তো দেখা সেই তো পাওয়া---
বিরহ মিলন মিলে গেলো আজ সমান সাজে’।।
রবীন্দ্রনাথঃ নির্মল থামলে কেন ? ভয় পেয়ো না, খাঁ সাহেবও একদিন শিখেছেন তুমিও তো শিখছো। তফাৎ হল খাঁ সাহেব ওস্তাদ আহমদ আলীকে গুরু পেয়েছিলেন তুমি স্বয়ং খাঁ সাহেবকেই পাচ্ছ। আসলে ‘অরূপরতন’ নাটক মঞ্চস্থ হবে। তারই প্রস্তুতি চলছে। খাঁ সাহেব সঙ্গীত ভবনে যারা তারের যন্ত্র বাজায় তাদের তার যতটা যত্নে টেনে বাঁধা, সুর ততটা নয়। আপনি যে ক'দিন আছেন, একটু সুর বেঁধে দিন।
আলাউদ্দিনঃ গুরুদেব আমি তো বেসুরা আতাই, জীবনে তো একটা সুর লাগাইতে পারলাম না। আমি হলেম গিয়ে ম্লেচ্ছ, ডাকাতের বংশ।
রবীন্দ্রনাথঃ ডাকাতের বংশ বলেই তো খাঁ সাহেব যখন যাকে গুরু পেয়েছেন প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁর সুরের নির্যাসটুকু এমন করে নিজের করে নিয়েছেন যে, সে বেচারা নিজের ধন আর নিজের কাছে রাখতে পারলো না। এমন ডাকাত তো আমার সঙ্গীত ভবনে আরও কয়েকটা চাই।