হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব) : শৈবাল দাশগুপ্ত
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক | ০২ অক্টোবর ২০১৭ | ২০৬৩ বার পঠিত | মন্তব্য : ২১
দ্যাখো, বাঙালিরা জাতি হিসেবে সত্যিই ভীরু প্রকৃতির। ওদের দলের সভাপতি তপন ঘোষকে আমি খুব ভালো করে চিনি। কয়েক বছর আগে, গঙ্গাসাগরে এক মাড়ওয়ারি সোসাইটির গেস্টহাউসে থাকাকালীন, হিন্দু সংহতির কয়েকজন সদস্যের সাথে স্থানীয় মুসলমানদের খুব ঝগড়াঝাঁটি হয়। মুসলমানরা ওদের আক্রমণ করে। সঙ্ঘের লোকেরা তখন তাদের বাঁচায়। কিন্তু সঙ্ঘেরও কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে, সঙ্ঘ সব কিছুতে জড়াতে পারে না। এমনিতে হিন্দু সংহতির মত দলগুলোর দরকার আছে ঠিকই। ওদেরকে (মুসলমানদের) ধরে পেটানো খুবই দরকার। একবার তপনদা আমাকে অনুরোধ করেছিল কয়েকজন হিন্দু সংহতি সদস্যকে আশ্রয় দেবার জন্য। কিন্তু আমি ওদের তাড়িয়ে দিয়েছিলাম, কারণ আমি শুনতে পেয়েছিলাম ওরা সঙ্ঘের নামে খারাপ খারাপ কথা বলছে।
হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (প্রথম পর্ব) : শৈবাল দাশগুপ্ত
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক | ০১ অক্টোবর ২০১৭ | ৫৪২৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩৮
সবথেকে খারাপ লাগত যেটা, সেটা হচ্ছে এদের বেশির ভাগেরই বাংলা আর বাঙালিদের সম্বন্ধে একটা নিচু দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে চলা। এদের কাছে বাংলায় কথা বলা যে-কোনও লোকই বাংলাদেশি, যারা সঙ্ঘের জয়যাত্রাকে রুখে দেবার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে অবিরাম। আমি একবার শুনেছিলাম আশুতোষ ঝা নামে এক নামী ল কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রকে ভোপালের বাসিন্দা জনৈক ময়াঙ্ক জৈন টাস্ক দিচ্ছে, হয় অন্তত ৫০ জন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে এসো, নয় তো সঙ্ঘ ছেড়ে দাও।
এঁদের অনেকেই খোলাখুলি অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে রাখতে উৎসাহ দিতেন, যাতে কিনা দরকার পড়লে মুসলমানদের আর রাজ্যের পুলিশদের সাথে টক্কর দেওয়া যায়।
আমার ভাগ্য ভালো বলতে হবে, আমি কিছু সিনিয়র সঙ্ঘ সদস্যের সুনজরে পড়ে গেছিলাম। প্রশান্ত ভাট থেকে ডক্টর বিজয় পি ভাটকর, প্রায় যতজন সিনিয়র সঙ্ঘ ইন্টেলেকচুয়ালকে আমি জানতাম, প্রত্যেকেই হিন্দুত্বের ওপর আমার কাজকর্মের খুব প্রশংসা করেছিলেন।