করোনার দিনগুলি - প্রথম কিস্তি : ডা. ঐন্দ্রিল ভৌমিক
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২২ মার্চ ২০২০ | ৫৭৩৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ৮
স্থানীয় শপিং মলের সামনে ফুচকা বিক্রি করে এক যুবক। তিনি বলছিলেন, 'ডাক্তার বাবু, মল বন্ধ থাকায় গত সাতদিন বেচা- কেনা একদম তলানিতে। শেষ তিনদিন ধরে বিচ্ছিরি কাশি হওয়ার পর দোকানও খুলতে পারছি না। মা আর বোনকে নিয়ে কি করে সংসার চালাবো জানিনা'।
আরেকজন বললেন, 'ডাক্তার বাবু, টোটো চালাই। দিন আনি দিন খাই। প্যাসেঞ্জার প্রায় নেই। এদিকে লোকজন চাল-ডাল কিনে বাড়িতে মজুত করতে শুরু করেছে। আজ চালের দাম দু টাকা বেড়ে গেছে। একবেলা ভাত খাচ্ছি। জানি না কতদিন খেতে পারব'।
কথায় আছে 'আপনি বাঁচলে বাপের নাম'। অনেকেই লক ডাউনের ভয়ে খাদ্য দ্রব্য বাড়িতে মজুত করতে শুরু করেছেন। ফেসবুকেও দেখলাম অনেকেই পোস্ট করেছেন বেশি পরিমাণে জিনিসপত্র মজুত করে রাখার জন্য। কিন্তু তাই করতে গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এক শ্রেণীর মানুষের নাগালের বাইরে না চলে যায়।
করোনার দিনগুলি - দ্বিতীয় কিস্তি : ডা. ঐন্দ্রিল ভৌমিক
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৫ মার্চ ২০২০ | ৫২৯৬ বার পঠিত | মন্তব্য : ৫
ওদিকে রাত্রি নটার চেম্বার খোলা রাখতে বাধ্য হয়েছি। যদিও কাকুকে বলে রেখেছি জ্বর আর এমারজেন্সি ছাড়া কোনো ক্রনিক রোগী না রাখতে। কাকু ফোনে তাড়া দিচ্ছে, তাড়াতাড়ি আয়। না হলে ভিড় জমে যাবে। পেটের মধ্যে ততক্ষণে মোচড় শুরু হয়েছে। চার চামচ ল্যাক্সিট প্লাসের আফটার এফেক্ট। যা থাক কপালে, জয় মা কালী বলে বেরিয়ে পড়লাম।
কপালে ভালো কিছু ছিল না। খুপরিতে প্রথম রোগী দেখার সময়ই বুঝতে পারলাম জীবনের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি। যে করেই হোক এই পরীক্ষায় সফল হতেই হবে। নইলে আমার মান সম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে। দাঁত মুখ খিঁচিয়ে প্রথম আসা নিম্নচাপ সামলে নিলাম। রোগীর বাড়ির লোক জ্বরের ধারা বিবরণী দিচ্ছিলো। আমার মুখের অবস্থা দেখে নির্বাক হয়ে গেল। ওষুধ পত্র লিখে তার হাতে প্রেস্ক্রিপশান ধরিয়ে বললাম, আগে ওষুধ খাও। না কমলে বাকি গল্প শুনব। ততক্ষণে আবার নিম্নচাপ আসছে।
করোনার দিনগুলি - তৃতীয় কিস্তি : ডা. ঐন্দ্রিল ভৌমিক
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০৩ এপ্রিল ২০২০ | ৪৬১৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ৫
মহামারীর মধ্যেও অন্যান্য এমারজেন্সি কিন্তু থেমে নেই। এনারাই পড়েছেন সবচেয়ে সমস্যায়। আজকে একজন বয়স্ক মহিলা এসেছিলেন তার স্বামীর কোলোনোস্কোপি রিপোর্ট নিয়ে। রিপোর্টে ক্যন্সারাস গ্রোথ ধরা পড়েছে। বায়োপ্সি রিপোর্ট এখনো পেন্ডিং। রেক্টাম থেকে ব্লিডিং হয়েই যাচ্ছে। যাকে দেখাচ্ছিলেন তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। নার্সিংহোমে ফোন করেছিলেন, তারা লকডাউনের পরে যোগাযোগ করতে বলেছেন। ওই মহিলা আব্দালপুর থেকে চার কিলোমিটার হেঁটে আমার বাড়িতে এসেছেন। কোনো ভ্যান, রিকশা পাননি। ওনার একমাত্র ছেলে পুনেতে আটকে আছেন, আসতে পারছেন না। কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, 'ডাক্তারবাবু, আপনি শুধু ওষুধ দিয়ে এই লকডাউন শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্লিডিংটা বন্ধ করে দিন।'