সোনার কৌটো রূপোর খিল : গুলে বকা চৌধুরানী
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : উৎসব ২০১৪ | ১৯ অক্টোবর ২০১৪ | ১২৫২ বার পঠিত | মন্তব্য : ১
তাঁদের এ ধরণের কথা বলার পেছনে অবশ্য যুক্তি আছে প্রচুর। দেশে মানুষের হাতে সে সময় ক্যাশ টাকা থাকত খুব কম। আশির দশকের আগ পর্যন্ত বড়ো ভাইয়ের বিদেশি দূতাবাসের চাকরির কারণে আমাদের বাড়ীতে ক্যাশ ইনফ্লো ছিল সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি। ক্যাশ ইনফ্লো জীবনে এক ধরণের স্বাচ্ছন্দ্য ও সাচ্ছল্য এনে দেয়। অবশ্য, সেই সঙ্গে খরচ করার মানসিকতাটাও থাকতে হয়! সেই মানসিকতার কারণেই,হাই ডায়েবেটিস-হাই ব্লাডপ্রেশার নিয়েও কী মহা উৎসাহে আম্মা সারাদিন রান্নাঘরে বসে নানা পদের খাবার তৈরি করতেন! আমার বন্ধুরা ঠাট্টা করে প্রায়ই একটা কথা বলত, আমাদের বাড়ির পুডিং ছুঁড়ে মেরে নাকি মানুষ পর্যন্ত ঘায়েল করা যাবে! আম্মা দেখতে ছিলেন, রূপকথার রাজকন্যার মতো সুন্দর। চুলার আঁচে,তাঁর নাক-গাল-চিবুক টম্যাটোর মতো লাল হয়ে যেত তবু তাঁকে কখনো ক্লান্ত-বিরক্ত হতে দেখিনি! মুখের হাসিটি ছিল, সদা অমলিন। রাজধানীতে তখনো প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ শুরু হয়নি। কেরোসিন তেলের চুলো বা পাম্প দেওয়া স্টোভেই রান্না সারতে হত। কী যে দুর্বিষহ ছিল সেই প্রক্রিয়া! প্রায়ই রান্নার মাঝপথে কেরোসিন যেত ফুরিয়ে কিংবা চুলোর ফিতে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যেত। আর,সে রকম মুহূর্তে আমার কদর যেত বেড়ে। আমার খোঁজে দিগ্বিদিকে দূত বেরিয়ে পড়ত! তারের মধ্যে সুতো গেঁথে, সেই সুতো দ্রুততম সময়ে চুলোয় ঢোকানোতে আমি ছিলাম একজন এক্সপার্ট। স্কুলে,সুঁইতে সুতো ঢোকানোর খেলায় আমি বরাবর প্রথম হতাম!