ধন্য দেশ, ধন্য চিকিৎসাব্যবস্থা!আর কিছুই বলার নেই!
লিখেছেন প্রত্যক্ষদর্শী রুদ্রনীল সাহা।
--------------------------------------------------------------------
৭০ বছরের একজন বয়স্ক ভদ্রলোক।
বাড়ি ডোমকল, মুর্শিদাবাদ।
আজকে ৬:৩৫ pm এর লালগোলা মেমু ট্রেনে আমার সহযাত্রী। একা চলেছেন;
গন্তব্য NRS Hospital, কলকাতা।
রাতে ট্রেন পৌঁছাবে ১২ টা নাগাদ, তারপর যাবেন হাসপাতাল, থাকবেন কোথায় জিজ্ঞেস করতে বললেন, "হাজার মানুষ যেমন ভাবে হাসপাতাল চত্বরে চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকেন, ওভাবেই রাত কাটিয়ে নেবো, নইলে সকালে টিকিট পাবো না যে।"
এবার প্রধান বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।
উনার হাঁপানীর সমস্যা, দম পাচ্ছেন না, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট।
গত প্রায় এক বছর ধরে NRS এ দেখাচ্ছেন। কোনো অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না ওষুধ খেয়ে।
"ডাক্তারবাবু বসে থাকেন, গেটে ঢোকার আগেই একজন প্রেসক্রিপশন হাত থেকে নিয়ে ওই জুনিয়ার ডাক্তারকে দিয়ে দেয়, আমি কিছু বলার আগেই ওদের অর্ধেক ওষুধ লেখা হয়ে যায়।"
এসব শুনে আমি বললাম,"আপনার প্রেসক্রিপশনটা একবার দেখাবেন।"
প্রেসক্রিপশন হাতে নিতেই চোখে পড়লো, বামদিকে কোনায় উনাকে Echo prescribe করা হয়েছে এবং ডেট দেওয়া হয়েছে ২০ জুলাই ২০২৬। ২১ জুলাই ২০২৫ প্রথম treatment শুরু হয়। তারপর ৪ আগস্ট ২০২৫ ও ১৮ আগস্ট ২০২৫ উনি পুনরায় চেকআপ করান।
এতদিনেও ধরা গেলনা যে উনার Echo করার প্রয়োজন আছে, যাইহোক যখন প্রয়োজন বোধ করলেন তখন echo prescribe করলেন, যা করা হবে আরও কয়েকমাস পর।
মানে কতটা গাফিলতি একবার চিন্তা করুন, এক বছরের মাথায় একজন কার্ডিওলজি বিভাগে আশা হৃদরোগীর echo হবে আর তাও আবার ডাক্তার প্রেসক্রিপশন করার সাথে সাথে না, ৬ মাসের দীর্ঘ অপেক্ষার পরে।
আচ্ছা তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে এই ৬ মাস কি চলবে?
"এই ৬ মাস চলবে ওই একই ওষুধ, নতুন প্রেসক্রিপশনে ওষুধ না লিখে পুরোনোটিতেই ডাক্তারবাবুরা দাগ দিয়ে চলে যেতে বললেন, আর বললেন ওষুধগুলো এইখানেই কিনবেন আর দেখিয়ে নিয়ে যাবেন কেনার পরে।"
বেশ ভালো কথা। এই কথা উনার মুখে শুনে খুব একটা অবাক হলাম না। এই কথা কেনো বলে থাকেন ঈশ্বরতুল্য ডাক্তারবাবুরা তা আমার একেবারেই অজানা নয়।
এবার ওষুধগুলো কি লেখা আছে উদ্ধার করতে লাগলাম। একবার চোখ বোলাতে বুঝলাম যে সব ওষুধই এমন এমন কোম্পানীর লেখা যেগুলো NRS থেকে দু'পা এগোলেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাবে। অথচ খুবই কমন প্রিপারেশনের সব ওষুধ লিখেছেন ডাক্তারবাবু।
উনাকে এত কিছু না ভেঙে জিজ্ঞেস করলাম, "এই ওষুধগুলো আপনার ওখানে পান তো?"
"না বাবা সে আর বলতে, আমাদের গ্রামে তো দূরের কথা আমি বহরমপুরে অর্ডার দিয়েও এগুলো পাইনা। এগুলো নিতে আমাকে আবার কোলকাতা আসতে হয়। এই ওষুধ ওরা এনে দিতে পারেনা। কোলকাতায় ওরা সব ওষুধ দিয়ে দেয়, সঙ্গে সঙ্গে আবার এই দেখো ১৫% ডিসকাউন্টও দেয়, বলেই আমাকে বিল দেখালেন।"
আমি আর কথা না বাড়িয়ে উনাকে বললাম,
"কালকে যখন ডাক্তারবাবুর কাছে যাবেন, একটু সাহস করে দুটো কথা বলতে পারবেন?
১. ডাক্তারবাবু আমি প্রায় ১ বছর ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা করছি। ওষুধ খেয়ে আমার শরীরে কোনো উন্নতি হচ্ছে না কেনো?
২. ডাক্তারবাবু দয়া করে এমন ওষুধ লিখবেন যাতে আমি সব জায়গায় পাই। আমি পয়সা বেশি আনিনি সঙ্গে। এখানে ওষুধ নিতে পারবো না, আমার বাড়ি মুর্শিদাবাদ ওখানে আপনার ওষুধ পাওয়া যায় না।"
ট্রেন থেকে দমদম নামার আগেও ওনাকে ভালো করে মুখস্ত করিয়ে দিয়ে আসলাম এই দুটো কথা।
ডাক্তারবাবুদের প্রতি আমার বিনীত নিবেদন,
অন্তত শিশু আর বৃদ্ধদের আপনাদের অসীম ক্ষুধা থেকে মুক্তি দিন।
Please leave atleast children and senior citizens from your hunger.
#জনস্বার্থে #সচেতনতা #স্বাস্থ্য #corruptgovernment #Corruption #corruptmedicalsystem #wbhealth
NRS Medical College &Hospital Association of Health Service Doctors West Bengal Official Medical College Kolkata Resident Doctors' Association Doctors Without Borders / Médecins Sans Frontières All INDIA DOCTORS GROUP Indian Medical Association অভয়া মঞ্চ WB Health & Family Welfare Dept #rgkarmedicalcollege #medical
@highlight @followers