এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রিয়া চক্রবর্তী | 149.*.*.* | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫৭747334
  • সাইয়িদা শাহীন নূর একজন পাকিস্তানি-কানাডীয় সমাজ-মনোবিজ্ঞানী, নারীবাদী কর্মী এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তিনি নারীমুক্তি, বিশেষ করে শীর্ষমুক্তি (topfreedom) আন্দোলনের একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। নিচে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:

    তিনি নারী অধিকার ও সমতার একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি শীর্ষমুক্তি সংগঠন "গো টপলেস"-এর দলনেতা (Team Leader) হিসেবে কাজ করেছেন। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি উত্তর আমেরিকা জুড়ে #ফ্রিদ্যনিপল (#FreeTheNipple) প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং হয়রানি ও ভীতিপ্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মানবতাবাদী ও আমূল নারীবাদী (Radical Feminist) হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় আগে ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে সরে এসে ধর্মনিরপেক্ষতায় রূপান্তরিত হয়েছেন।

    পেশাদারিত্ব ও শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে তিনি অত্যন্ত গুণী একজন মানুষ। তিনি "উইমেন্স লিবারেশন রেডিও নিউজ (WLRN) কানাডা"-র নির্বাহী প্রযোজক (Executive Producer) হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে কর্মরত আছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University of Singapore) থেকে সামাজিক মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও, তিনি জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় (University of Jordan) ও সৌদি আরবের প্রিন্সেস নূরা বিনতে আব্দুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে (University Princess Noura Abdul Rahman) পড়াশোনা করেছেন। কর্মজীবনে তিনি কেপ ব্রেটন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Cape Breton University) গবেষণা সহকারী (Research Assistant) ও লরেন্সিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের (Laurentian University) ভিজিটিং সহকারী অধ্যাপক (Visiting Assistant Professor) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তাঁর ব্যক্তিগত দর্শন গভীর আত্মানুসন্ধান ও সংগ্রামের ইতিহাস বহন করে। একটি আত্মজীবনীমূলক লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে কীভাবে পেশোয়ার, লাহোর, রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, আম্মান, কেপ ব্রেটন এবং টরন্টোর মতো বিভিন্ন স্থানের অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় ও পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে নারীর দেহ তার নিজের এবং সেই দেহ নিয়ে বাঁচার পদ্ধতি বেছে নেওয়ার অধিকার কেবল নারীরই রয়েছে। বর্তমানে টরন্টোতে বসবাসরত এই মানুষটি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি নিজের সংগ্রাম ও অর্জনের মাধ্যমে এক নতুন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেন।
  • রিয়া চক্রবর্তী | 149.*.*.* | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫৬747335
  • নিজেকে চেনার ভার: সৈয়দা শাহীন নূরের এই প্রবন্ধটি পড়ে যা মনে হলো
     
    প্রথম কথা: একটা প্রবন্ধ যা নিজেই একটা প্রশ্ন
     
    সৈয়দা শাহীন নূরের এই লেখাটা পড়ে প্রথমে যা মনে হয় সেটা হল, এটা আসলে একটা "About Me" পেজ নয়। এটা একটা স্বীকারোক্তি। এবং স্বীকারোক্তির মধ্যে সবচেয়ে সৎ ধরনটা হলো সেটা, যেখানে লেখক নিজেও জানেন না শেষ পর্যন্ত তিনি কী স্বীকার করতে চলেছেন।
     
    শাহীন লিখছেন, "I do not know how to introduce myself without lying." এই বাক্যটা দিয়ে তিনি একটা চুক্তি করছেন পাঠকের সাথে: আমি তোমাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলব না, কিন্তু সম্পূর্ণ সত্যও বলতে পারব না, কারণ সত্যটা আমার নিজের কাছেও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
     
    এটা সৎ। এবং এই সততাটাই এই লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং একই সাথে (এবং এখানে আমি সরাসরি বলব) এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও।
     
    আমি এই লেখাটা নিয়ে কথা বলতে চাই। তারিফ করতে নয়। বিশ্লেষণ করতে। এবং কিছু জায়গায় সরাসরি দ্বিমত পোষণ করতে।
     
    ---
     
    "পরিচয়" এবং মিথ্যার প্রশ্ন
     
    শাহীন বলছেন প্রতিটি পরিচয়দান একটা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত। এটা সত্যি। কিন্তু এটা কি সমস্যা?
     
    এখানে একটা বিষয় ভাবতে হবে। মানুষের কোনো অবিকৃত, খাঁটি, অসম্পাদিত পরিচয় আদৌ কি আছে? না। পরিচয় মানেই বাছাই। পরিচয় মানেই কোনটা সামনে আনব, কোনটা পেছনে রাখব এই সিদ্ধান্ত। এটাকে "মিথ্যা" বলা খুব কঠোর শব্দ। বরং এটা বলা যায় — পরিচয় মানে অনুবাদ। এবং প্রতিটি অনুবাদেই কিছু হারায়, কিছু যোগ হয়।
     
    শাহীন যখন বলছেন "You're not meeting me. You're meeting a carefully arranged series of introductions" — তখন তিনি আসলে এমন একটা দাবি করছেন যা নিজেই বিপজ্জনক। কারণ এই দাবিটার মধ্যে একটা অনুমান আছে যে একটা "আসল শাহীন" আছেন, যাকে কেউ কখনো দেখতে পাচ্ছে না, যিনি ওই সম্পাদনার আড়ালে লুকিয়ে আছেন। কিন্তু সামাজিক মনোবিজ্ঞানী হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই জানেন (Erving Goffman থেকে Judith Butler পর্যন্ত সবাই বলেছেন) কোনো "backstage self" নেই যেটা মঞ্চের বাইরে আমাদের আসল রূপ। আমরা সবাই সবসময় পারফর্ম করছি। এমনকি যখন একা থাকি তখনও।
     
    তাহলে প্রশ্নটা "আসল পরিচয় কী" নয়। প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কোন পারফরম্যান্সগুলো আমার নিজের কাছে অর্থবহ মনে হয়, আর কোনগুলো চাপিয়ে দেওয়া?
     
    এখানেই শাহীনের লেখার আসল গভীরতা। এবং এখানেই তিনি ঠিক প্রশ্নটার কাছাকাছি পৌঁছে হঠাৎ সরে যান।
     
    ---
     
    পেশাওয়ার থেকে টরন্টো: দূরত্ব মাপা হয় খালি করা ঘরে
     
    শাহীনের এই রূপকটা - দূরত্ব মাপা হয় মাইলে নয়, যতটা ঘর তুমি খালি করেছ তার সংখ্যায়, এটা অসাধারণ। এটা একটা এমন সত্য যা কেউ এভাবে বলে না। বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের জন্য, যারা পাকিস্তান বা বাংলাদেশ বা ভারত থেকে পশ্চিমে গেছেন, এই অভিজ্ঞতাটা চেনা।
     
    কিন্তু এই রূপকটার মধ্যে একটা লুকানো সমস্যা আছে।
     
    ঘর খালি করা কি সবসময় ক্ষতি? শাহীন বলছেন এই রূপান্তরকে তিনি আর "পরিত্যাগ" হিসেবে দেখেন না। কিন্তু তারপরেই তিনি একটু মনোকষ্টের সুরে বলছেন, রিয়াদের সত্তাকে তিনি মিস করেন না, কিন্তু মেনে নিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের সত্তাকে নিয়ে মাঝেমধ্যে ভাবেন। পেশাওয়ারের সত্তা এখনো সেখানে আছে।
     
    এই ভাষাটা খেয়াল করুন। "মিস করেন না, কিন্তু মেনে নিয়েছেন।" এটা খুব সূক্ষ্মভাবে বলা একটা দুঃখের কথা। রিয়াদের সত্তাটার প্রতি তার কোনো উষ্ণতা নেই, সম্ভবত সেখানে যে জীবন ছিল তা তার জন্য কষ্টের ছিল। কিন্তু তিনি সেটা বলতে চান না, বা বলতে পারছেন না। "মেনে নেওয়া" শব্দটা এখানে একটা দরজা বন্ধ করে দেওয়ার মতো।
     
    একজন প্রাবন্ধিক হিসেবে এই জায়গাগুলোতে শাহীন সবচেয়ে বেশি পিছু হটেন। যেখানে সত্যটা সবচেয়ে কঠিন, সেখানে তিনি একটা কাব্যিক বাক্য দিয়ে পর্দা টানেন।
     
    এটা সমালোচনা নয়। এটা একটা পর্যবেক্ষণ। এবং এটা মানবিক। আমরা সবাই কমবেশি এটা করি।
     
    Ph.D. এবং অ্যাক্টিভিজমের মধ্যকার উত্তেজনা
     
    শাহীন বলছেন তার পিএইচডি এবং তার অ্যাক্টিভিজম এই দুটো আলাদা জিনিস নয়। "My understanding of the theory doesn't end where slogans begin."
     
    এটা একটা চমকদার দাবি। কিন্তু আমি এখানে একটু দ্বিমত পোষণ করব।
     
    বাস্তবে একাডেমিয়া এবং অ্যাক্টিভিজমের মধ্যে একটা সত্যিকারের উত্তেজনা আছে। এবং এই উত্তেজনাটাকে অস্বীকার করলে দুটো জিনিসের কোনোটারই ক্ষতি হয় না বরং সত্যিকারের বিশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়।
     
    একাডেমিয়া আমাদের শেখায় জটিলতাকে সম্মান করতে, nuance ধরে রাখতে, সহজ উত্তর থেকে সতর্ক থাকতে। অ্যাক্টিভিজমের মাঝে মাঝে দরকার হয় সহজ বার্তা, স্পষ্ট শত্রু, এবং দ্রুত সংহতি তৈরির ক্ষমতা।
     
    এই দুটো সবসময় একসাথে চলে না।
     
    শাহীনের একজন সামাজিক মনোবিজ্ঞানী হিসেবে জানা উচিত যে মানুষের আচরণ পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল, যে "পিতৃতন্ত্র" একটি জটিল কাঠামো যার মধ্যে নারীরাও অংশীদার। কিন্তু একজন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে তাকে হয়তো কখনো কখনো এমন ভাষায় কথা বলতে হয় যা এই সূক্ষ্মতাকে পাশ কাটায়।
     
    এই দ্বন্দ্বটা তিনি কখন‌ওই স্বীকার করেন না। এবং এটাই এই প্রবন্ধের সবচেয়ে বড় ফাঁক।
     
    নিউ ইয়র্কে গায়ে জামা না থাকা: এই দৃশ্যটার কথা
     
    শাহীন লিখছেন - তিনি আগস্টে নিউ ইয়র্কে শার্ট ছাড়া হেঁটেছেন, অপরিচিত মানুষ অশ্লীলতা এবং ধর্মীয় বাক্য চিৎকার করেছে, এবং পুরো অভিজ্ঞতাটা ছিল "somewhere between exhilarating and exhausting।"
     
    এই মুহূর্তটা এই লেখার সবচেয়ে সরাসরি মুহূর্ত। এবং তারপরেই তিনি বলছেন এই কাজটা তাকে ঝামেলায় ফেলে।
     
    এখানে একটা প্রশ্ন আসে — কার সাথে ঝামেলা? পশ্চিমা সমাজের সাথে? না। পাকিস্তানি সমাজের সাথে? হয়তো। কিন্তু আরেকটা সম্ভাবনা আছে — ফেমিনিস্ট আন্দোলনের ভেতরের কোনো গোষ্ঠীর সাথে।
     
    শাহীন বলছেন, "regardless of the state, the religion, the family who loves us, or the movement that seeks to liberate us but writes a new set of rules, we can and should choose how to live them."
     
    এই বাক্যটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলছেন মুক্তির আন্দোলনও নতুন নিয়ম চাপিয়ে দিতে পারে। এটা একটা সাহসী কথা। কারণ এটা স্বীকার করে যে ফেমিনিজমের মধ্যেও কর্তৃত্বের রাজনীতি আছে। কিন্তু তিনি এই চিন্তাটাকে পরিপূর্ণভাবে সামনে নিয়ে আসেন না।
     
    "That last part tends to get me in trouble" — এই বাক্যটা দিয়ে তিনি বিষয়টা শেষ করে দেন।
     
    কিন্তু ঠিক এখানেই আমি চাইতাম তিনি থামুন। এই ঝামেলাটা কী? কার সাথে? কীভাবে? ফেমিনিস্ট কমিউনিটির ভেতরে কি তার বডি অটোনমির ধারণা বিতর্কিত? কেন?
     
    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে শাহীন একটা রহস্যময়তা তৈরি করছেন যা হয়তো কাব্যিকভাবে কার্যকর, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অসম্পূর্ণ।
     
    ---
     
    লজ্জার স্থাপত্য: এই রূপকটা কোথায় ভাঙে
     
    শাহীন লিখছেন তিনি লজ্জাকে স্থাপত্যিকভাবে ভাবেন। একটা লোড-বেয়ারিং দেওয়াল, যেটা ভাঙার আগে বুঝতে হবে এটা কী ধরে আছে।
     
    এটা একটা অত্যন্ত শক্তিশালী রূপক। এবং এটা সত্যি।
     
    কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। লজ্জা কি সবসময় পিতৃতন্ত্রের হাতিয়ার? নাকি লজ্জার কিছু কার্যকরী দিকও আছে?
     
    বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান বলে লজ্জা একটা সামাজিক আবেগ যা গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখে। নৃবিজ্ঞান বলে লজ্জার ধারণাটা সংস্কৃতিভেদে আলাদা, কিন্তু সম্পূর্ণ লজ্জামুক্ত সমাজের কোনো উদাহরণ নেই। এমনকি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতেও, যেখানে যৌনতা নিয়ে অনেক বেশি উদারতা আছে, লজ্জার ধারণাটা শুধু সরে গেছে অন্য বিষয়ে, যেমন পরিবেশ নষ্ট করা বা অতিরিক্ত খাওয়া।
     
    লজ্জা কখনো যায় না। লজ্জা শুধু বিষয় বদলায়।
     
    এই কথাটা শাহীন বলেন না। কারণ হয়তো এটা তার অ্যাক্টিভিস্ট ন্যারেটিভের সাথে খাপ খায় না। কিন্তু একজন সামাজিক মনোবিজ্ঞানী হিসেবে তিনি এটা জানেন।
     
    এবং ঠিক এখানেই লেখক শাহীন এবং অ্যাক্টিভিস্ট শাহীনের মধ্যে দ্বন্দ্বটা সবচেয়ে স্পষ্ট।
     
    ---
     
    "Feminism that ignores rent is tourism" — এই লাইনটার কথা
     
    এই বাক্যটা এই পুরো প্রবন্ধের সবচেয়ে ভালো বাক্য।
     
    শুধু এর জন্যই এই লেখাটা পড়া দরকার।
     
    ক্লাস এবং ফেমিনিজমের সম্পর্কটা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে যে "ফেমিনিস্ট" আলোচনাগুলো হয়, সেগুলোর অনেকটাই মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের সমস্যাকেন্দ্রিক। গার্মেন্টস কর্মীর কথা আসে শুধু পরিসংখ্যানে। গৃহকর্মীর কথা আসে না। দিনমজুর নারীর যৌন নিরাপত্তার কথা আসে না।
     
    শাহীন যখন বলছেন "ভাড়া-উপেক্ষী ফেমিনিজম একটা পর্যটন" এটা একটা তীব্র সমালোচনা। সেই ফেমিনিজমের, যেটা নিউ ইয়র্কে মার্চ করে কিন্তু পাকিস্তানের গেঁয়ো মেয়েটার কথা জানে না। সেই ফেমিনিজমের, যেটা টরন্টোতে বসে পাকিস্তানের নারী অধিকার নিয়ে প্যানেল ডিসকাশন করে কিন্তু সেখানে থাকা নারীদের মাটির কাছের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।
     
    কিন্তু (এবং এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু) শাহীন নিজেও কি এই সমালোচনা থেকে মুক্ত?
     
    টরন্টোতে থেকে পেশাওয়ারের মেয়েদের অধিকার নিয়ে লেখা — এটাও কি একটু পর্যটন নয়? এই প্রশ্নটা আমি রেখে যাচ্ছি। উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব শাহীনের, আমার নয়।
     
    ---
     
    চাওয়ার এবং শেখানো চাওয়ার পার্থক্য: এই প্রশ্নটা কেন অসম্ভব
     
    শাহীন বলছেন — "the impossible task of telling the difference between what you really want and what you were conditioned into wanting।"
     
    এটা প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন। এবং এটা সত্যিই অসম্ভব। কারণ আমাদের চাওয়া এবং আমাদের কন্ডিশনিং এতটাই জড়িয়ে আছে যে আলাদা করার কোনো নিরপেক্ষ জায়গা নেই।
     
    ধরুন, একজন মেয়ে চায় বিয়ে করতে এবং বাড়িতে থেকে সন্তান মানুষ করতে। ফেমিনিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি কী বলবে? দুটো সম্ভাব্য উত্তর —
     
    এক: "এটা তোমার কন্ডিশনিং। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ তোমাকে এটাই চাইতে শিখিয়েছে। তোমার আসল ইচ্ছা এটা নয়।"
     
    দুই: "তুমি যা চাও সেটাই তোমার চাওয়া। তোমার পছন্দকে সম্মান করো।"
     
    এই দুটো উত্তরের মধ্যে যে উত্তরটা বেছে নেওয়া হয় সেটা নির্ভর করে একটা পূর্বধারণার উপর।নারীর "আসল" ইচ্ছা কী হওয়া উচিত তা নিয়ে।
     
    এবং এখানেই ফেমিনিজমের একটা গভীর দার্শনিক সমস্যা আছে। যদি বলি "কন্ডিশনড ইচ্ছা আসল ইচ্ছা নয়" তাহলে কার কাছে সেই "আসল ইচ্ছা"র সংজ্ঞা? যদি বলি "তোমার যেকোনো পছন্দই বৈধ" তাহলে নিপীড়নমূলক কাঠামোর সমালোচনাই বা কীভাবে করব?
     
    শাহীন এই প্রশ্নটা তুলছেন। কিন্তু উত্তর খুঁজছেন না। তিনি বলছেন "কেউ যদি সহজ উত্তর দেয় সে তোমাকে কিছু বেচতে চাইছে।"
     
    এটা সত্যি। কিন্তু এই বলাটাও একটা কৌশল। সহজ উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাতে কঠিন উত্তরের কাজও না করা।
     
    শাহীন, পিএইচডি করা সামাজিক মনোবিজ্ঞানী, এই প্রশ্নটার সাথে আরো বেশি সময় কাটাতে পারতেন। না হলে এই "impossibility" একটা মরালিস্টিক ব্যাজ হয়ে যায়। আমি এত জটিল জিনিস নিয়ে ভাবি, সহজ উত্তর আমার কাছে নেই, ঠিক আছে, কিন্তু এই জটিলতার মধ্যে থেকে কোনো আলো দেখানোর চেষ্টাও নেই।
     
    ---
     
    আম্মু এবং যা বলা হয়নি
     
    "Ammu, that's the name — there. It emerged on its own accord, from the depths of memory, as it were."
     
    এই একটা বাক্য পুরো প্রবন্ধের সবচেয়ে বেশি ভার বহন করছে।
     
    শাহীন তার মাকে নিয়ে কথা বলতে চান। কিন্তু পারছেন না। তিনি বলছেন মায়ের প্রভাব তার ভাষায়, তার রূপকে, তার নীতি আলোচনার আড়ালে থাকা আসল অনুভূতিতে। তিনি বলছেন মায়ের সম্পর্কটা জটিল এবং "That's as far as I can go right now।"
     
    এটা একটা লেখকের সবচেয়ে সৎ মুহূর্ত। এবং সবচেয়ে বেদনাদায়ক।
     
    কারণ মা এবং মেয়ের সম্পর্কে, বিশেষত দক্ষিণ এশীয় প্রেক্ষাপটে, একটা অসম্ভব জটিলতা আছে। মা হলেন একই সাথে শিশুর প্রথম আশ্রয় এবং সমাজের প্রথম প্রতিনিধি। মা ভালোবাসেন এবং নিয়ম শেখান। মা সুরক্ষা দেন এবং সীমাবদ্ধতা তৈরি করেন। পিতৃতন্ত্র যদি একটা কাঠামো হয়, তাহলে মা সেই কাঠামোর মধ্যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মুখ।
     
    এটা নিয়ে কথা বলা কঠিন কারণ মাকে ভালোবাসা এবং মায়ের সীমাবদ্ধতা সমালোচনা করা - এই দুটো একসাথে ধরে রাখা প্রায় অসহনীয়।
     
    শাহীন এই দায়িত্বটা নেননি। তিনি "Ammu" কথাটা ফেলে রেখে সরে গেছেন।
     
    এবং পাঠক হিসেবে আমি এই জায়গাটায় সবচেয়ে বেশি আটকে গেলাম। কারণ এই না-বলা কথাগুলোই হয়তো শাহীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখা।
     
    ---
     
    পাকিস্তানি-কানাডিয়ান: দুই পরিচয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে
     
    "I am Pakistani Canadian. I do not quite belong to either category, in the ways that either wishes."
     
    এই বাক্যটা দেখতে সহজ। কিন্তু এর ভার অসাধারণ।
     
    পাকিস্তান চায় শাহীন একজন "ভালো পাকিস্তানি মেয়ে" হোক। ধর্মীয়, পারিবারিক, শালীন। শাহীন সেটা নন। কানাডা চায় তিনি একজন "সফল অভিবাসী" হোক। একীভূত, উৎপাদনশীল, পশ্চিমা মূল্যবোধে বিশ্বাসী। শাহীন সেটাও পুরোপুরি নন।
     
    এই মাঝখানের জায়গাটা। এটাই ডায়াস্পোরা অভিজ্ঞতার সবচেয়ে সততার জায়গা।
     
    কিন্তু এখানেও একটা প্রশ্ন — এই "মাঝখানে থাকা" কি একটা অবস্থান? নাকি এটাও একটা পরিচয়? কারণ "আমি কোনো বিভাগে পড়ি না" — এই কথাটাও একটা বিভাগ। তৃতীয় সংস্কৃতির মানুষ, ডায়াস্পোরা পরিচয় - এগুলো এখন খুব স্পষ্ট এবং অধ্যয়নযোগ্য পরিচয়।
     
    শাহীন হয়তো এতে স্বস্তি পান না। হয়তো "আমি ব্যাখ্যাতীত" এই অনুভূতিটা বজায় রাখা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এটাও বোধগম্য। কিন্তু এটা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে একটু সুবিধাজনক।
     
    ---
     
    টরন্টোর রান্নাঘরে বসে নীরবতার কথা
     
    প্রবন্ধের সবচেয়ে কোমল মুহূর্ত —
     
    "She is also a person who sometimes sits at her kitchen table at times that are not specified and wonders what to do about the silence."
     
    এই বাক্যটা পড়ে থামতে হয়।
     
    কারণ এখানে শাহীন সত্যিই নিজেকে দেখাচ্ছেন। Ph.D. নয়, অ্যাক্টিভিস্ট নয়, পাকিস্তানি-কানাডিয়ান নয়। শুধু একটা মানুষ, টরন্টোর শীতের রাতে, রান্নাঘরের টেবিলে বসে, নীরবতা নিয়ে কী করবেন বুঝতে পারছেন না।
     
    এই নীরবতাটা কীসের? একাকীত্বের? অর্থহীনতার? নাকি এত বছর এত শহরে এত পরিচয় বহন করার পর একটা অবসাদের?
     
    শাহীন বলেন না। এবং এই না-বলাটা এখানে সঠিক।
     
    কারণ এই নীরবতাটা সম্ভবত ভাষায় আসে না। এবং এটাই এই প্রবন্ধের সবচেয়ে সৎ স্বীকারোক্তি। এমন কিছু জিনিস আছে যা তত্ত্ব দিয়ে বোঝা যায় না, প্রতিবাদ দিয়ে সমাধান হয় না, পরিচয়ের ভাষায় ধরা যায় না।
     
    ---
     
    সততার প্রতিশ্রুতি: এবং এর সীমাবদ্ধতা
     
    শাহীন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সত্যি বলার। "Performance art"-এর মতো ভঙুর সাহস নয়, আসল সত্য।
     
    এটা সুন্দর। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতিটা নিজেই একটু পারফরম্যান্সের মতো।
     
    কারণ দেখুন, এই পুরো প্রবন্ধে শাহীন কতবার একটা কঠিন সত্যের কাছে পৌঁছে থমকে গেছেন।
     
    মায়ের সাথে সম্পর্ক — "That's as far as I can go right now।"
     
    ঝামেলার প্রকৃতি — "That last part tends to get me in trouble।"
     
    রিয়াধের অভিজ্ঞতা — "I don't really miss her, but I accept her।"
     
    প্রতিটি জায়গায় একটা দরজা খোলা হচ্ছে এবং বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা সৎ লেখকের স্বাভাবিক সীমা। সব সত্য একসাথে বলা যায় না, সব সত্য এখনো নিজের কাছেও স্পষ্ট নয়।
     
    কিন্তু যখন কেউ "সত্য বলার প্রতিশ্রুতি" দেন, তখন এই দরজা বন্ধ করার প্যাটার্নটা একটু বেশি চোখে পড়ে।
     
    এটা সমালোচনা না। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। শাহীন যদি সত্যিই এই প্রতিশ্রুতি রাখতে চান, তাহলে পরের লেখাগুলোতে এই বন্ধ দরজাগুলো একটু একটু খুলতে হবে।
     
    ---
     
    ফেমিনিজম কেন একই জায়গা থেকে শুরু করে বারবার
     
    শাহীন একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করছেন। ফেমিনিস্ট আলোচনা কেন পনেরো বছর পরেও একই জায়গা থেকে শুরু হয়?
     
    এর উত্তর আমার কাছে স্পষ্ট মনে হয়।
     
    কারণ প্রতিটি প্রজন্মের মেয়েরা নতুন করে আবিষ্কার করে যে শরীর তাদের নিজের নয়। নতুন করে রাগ করে। নতুন করে লড়াই করে।
     
    এই লড়াইয়ের ইতিহাস হস্তান্তর না হলে প্রতিটি প্রজন্মকে চাকা আবার আবিষ্কার করতে হয়।
     
    কিন্তু আরেকটা কারণ আছে যা শাহীন বলেন না।
     
    ফেমিনিস্ট আন্দোলনের একটা অংশ এই পুনরাবৃত্তিতে বিনিয়োগ করে। প্রতিটি নতুন "জেগে ওঠা" মানুষ মানে নতুন পাঠক, নতুন অনুসরণকারী, নতুন ক্লায়েন্ট। পুরানো লড়াইয়ের ইতিহাস শেখানোর চেয়ে নতুন করে রাগিয়ে তোলাটা বেশি লাভজনক, ইদানীং কালের মনোযোগের অর্থনীতিতে।
     
    এটা একটা অস্বস্তিকর সত্য। কিন্তু এটা সত্য।
     
    ---
     
    শেষ কথা: এই লেখাটা কী এবং কী নয়
     
    শাহীনের এই প্রবন্ধটা একটা অসামান্য শুরু।
     
    এটা একটা সৎ মানুষের অসম্পূর্ণ আত্মপরিচয়। এতে বুদ্ধিমত্তা আছে, কাব্যিকতা আছে, সাহস আছে, এবং একই সাথে কৌশলগত পশ্চাৎপদতা আছে, বন্ধ দরজা আছে, অনুমানকৃত জটিলতার ভাষা আছে যা কখনো কখনো গভীর বিশ্লেষণের জায়গা নেয়।
     
    কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা কী জানেন? এই লেখাটা একটা প্রশ্ন। উত্তর নয়।
     
    এবং প্রশ্ন তোলার মধ্যে একটা সাহস আছে।
     
    শাহীন বলছেন — "Maybe all I have to offer is this: a living argument, still in progress।"
     
    এটা যথেষ্ট। একটা জীবন্ত যুক্তি, যা এখনো সম্পন্ন হয়নি (হয়তো কখনো হবেও না) এটাই সবচেয়ে সৎ লেখার উপাদান।
     
    আমার শুধু একটাই অনুরোধ। পরের বার যখন সেই বন্ধ দরজাগুলোর সামনে দাঁড়াবেন, আম্মু নিয়ে, রিয়াদ নিয়ে, ঝামেলার প্রকৃতি নিয়ে, আর অনেকদূর এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ থামবেন না।
     
    সেই দরজাগুলো খুললে সত্যিকারের লেখা শুরু হবে।
     
    এবং তখন পাঠক শুধু "আপনাকে ফলো করার" সিদ্ধান্ত নেবে না, তারা নিজেদের ভেতরে কিছু একটা খুঁজে পাবে।
     
    ---
     
    [এই লেখাটি সৈয়দা শাহীন নূরের প্রবন্ধের প্রতি একটি সরাসরি ও সৎ সাড়া। সমালোচনা শ্রদ্ধা থেকেই আসে। এবং শ্রদ্ধা মানে সম্মতি নয়।]
  • সমালোচক | 217.*.*.* | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৪747361
  • প্রিয় Sayyida Shaheen Noor,

    আপনার সদ্য প্রকাশিত প্রবন্ধ "The Million Dollar Woman Who Never Showed Her Boarding Pass" পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে আমি একই সঙ্গে একটি আদালতের নথি, একটি কবিতা, এবং একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি পড়ছি। আপনি শুরুতেই লিখেছেন, "how India strips a woman without touching her clothes" — এই বাক্যটি পুরো লেখার মেরুদণ্ড। এবং আপনি সেটা প্রমাণ করতে চেয়েছেন Rituparna Sengupta-কে দিয়ে, রোজ ভ্যালি কেলেঙ্কারির সেই তিনটি শব্দ "SEVERAL FOREIGN TRIPS" কে দিয়ে।
     
    আমি কলকাতার প্রেক্ষাপট জানি, আপনি জানেন আমি জানি। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ED যখন ঋতুপর্ণাকে ডাকে, তখন খবরের কাগজে হেডলাইন ছিল না "অভিনেত্রী জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি", হেডলাইন ছিল "রোজ ভ্যালি কাণ্ডে ঋতুপর্ণা"। আপনি ঠিক ধরেছেন, সেই পার্থক্যটাই আসল। আপনি লিখেছেন, রাষ্ট্রকে যৌনতার কথা বলতে হয় না, জনগণ সেটা বিনামূল্যে করে দেয়। এটি আপনার লেখার সবচেয়ে সৎ মুহূর্ত।
     
    আমি ভদ্রতার পর্দা সরিয়ে বলব। আপনার লেখা শক্তিশালী, কিন্তু বিপজ্জনকভাবে আত্মমগ্ন। এটি নারীবাদী ইশতেহার হতে পারত, কিন্তু মাঝে মাঝে এটি আপনার নিজের ক্ষতের আয়না হয়ে যায়, যেখানে ঋতুপর্ণা ধীরে ধীরে পেছনে চলে যান।
     
    আপনি আসলে কী বলতে চেয়েছেন, সংক্ষেপে
     
    আপনার থিসিস পরিষ্কার:
     
    ১. রোজ ভ্যালি ১৫,০০০ কোটি টাকার বেশি টাকা তুলেছিল সাধারণ মানুষের কাছ থেকে, প্রধানত পূর্ব ভারতে। গৌতম কুণ্ডু সেই টাকা দিয়ে হোটেল, মিডিয়া, সিনেমা কিনেছিল।
    ২. ED ২০১৯ সালে ঋতুপর্ণাকে ডাকে কারণ সূত্রের দাবি, তিনি "গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন এবং ছবি বিক্রি ও প্রযোজনায় সাহায্য করেছিলেন"।
    ৩. এই "accompanied" এবং "helped" শব্দ দুটি আইনি অর্থে ফাঁকা, কিন্তু সাংস্কৃতিক অর্থে ভরা। বাঙালি মধ্যবিত্ত তাৎক্ষণিকভাবে একটি হোটেল রুমের কল্পনা করে।
    ৪. পুরুষ তারকা — প্রসেনজিৎ, শাহরুখ খান — একই কাজ করেও "বেডটাইম স্টোরি" হননি। ঋতুপর্ণা হয়েছেন কারণ তিনি নারী, চল্লিশের পরেও সুন্দর, এবং বিবাহিত।
    ৫. সৌন্দর্য এখানে ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি অর্থনৈতিক যন্ত্র। রোজ ভ্যালি তার মুখ ভাড়া করেছিল বিশ্বাসযোগ্যতা কেনার জন্য।
     
    এই যুক্তি আপনি বারবার, বিভিন্ন ভঙ্গিতে বলেছেন। এবং আপনি ঠিক বলেছেন, ভারতে একজন নারীকে নগ্ন করার জন্য কাপড় খোলার দরকার হয় না, তিনটি শব্দই যথেষ্ট।
     
    আপনার লেখার যে অংশগুলো আমাকে থামিয়ে দিয়েছে
     
    ১. ভাষার সাহস
    "Beauty is information. It is an economic commodity." — এই বাক্যটি আপনি বাংলায় লিখলেও ইংরেজিতে রেখেছেন, এবং ভালো করেছেন। আপনি সৌন্দর্যকে নৈতিকতার বাইরে নিয়ে এসে বাজারের ভাষায় ফেলেছেন। এটি সেই জায়গা যেখানে বেশিরভাগ উপমহাদেশীয় নারীবাদী লেখা ভয় পায়। আপনি বলেননি "তাকে সম্মান করুন", আপনি বলেছেন "তাকে ব্যবহার করা হয়েছে, এবং সেও সিস্টেমকে ব্যবহার করেছে"। এই দ্বিমুখী স্বীকারোক্তি সৎ।
     
    আপনি যখন লেখেন, "In South Asia, we frown upon women for leasing something we demand they keep in good repair", তখন আপনি পুরো দক্ষিণ এশীয় ভণ্ডামিকে এক বাক্যে ধরেছেন। আমরা মেয়েদের বলি ফর্সা হও, স্লিম থাকো, চুল লম্বা রাখো, তারপর যখন সেই পুঁজি দিয়ে সে টাকা কামায়, আমরা বলি বেশ্যা।
     
    ২. তুলনামূলক ন্যায়
    আপনি প্রসেনজিৎ, শাহরুখ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়ের উদাহরণ টেনেছেন। এটি গুরুত্বপূর্ণ। রোজ ভ্যালি শুধু ঋতুপর্ণাকে ব্যবহার করেনি, তারা KKR-এর স্পনসর ছিল, তারা প্রসেনজিতের প্রোডাকশনকে টাকা দিয়েছিল। কিন্তু মিডিয়া হেডলাইনে "SEVERAL FOREIGN TRIPS" শুধু নারীর পাশে বসে। আপনি এই বৈষম্যকে নাম ধরে ডেকেছেন, এবং এটি আপনার লেখার নৈতিক কেন্দ্র।
     
    ৩. ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি
    আপনি নিজের অভিজ্ঞতা টেনেছেন, GoTopless প্রসঙ্গ, টরন্টো-পেশোয়ার-লাহোরের স্মৃতি। যখন আপনি লেখেন "I myself have been through something similar. But without the Ponzi scheme", তখন পাঠক বোঝে আপনি দূর থেকে নৈতিকতা ঝাড়ছেন না। আপনি জানেন visibility-র দাম কী। এটি লেখাকে প্যামফ্লেট থেকে মেমোয়ারে নিয়ে যায়।
     
    যেখানে লেখাটি আপনাকে ডুবিয়ে দেয়, এবং কেন এটি বিপজ্জনক
     
    এবার কঠিন অংশ।
     
    ১. আপনি ঋতুপর্ণাকে মানুষ হিসেবে হারিয়ে ফেলেছেন
    আপনার লেখায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রায় মিথ। তিনি "collarbone structure", "weight of her hair", "carrying pain the way a woman wears jewelry"। আপনি তাকে বর্ণনা করছেন যেন তিনি একটি ভাস্কর্য। সমস্যা হল, আপনি যে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টির সমালোচনা করছেন, আপনি নিজেও সেই একই দৃষ্টিতে তাকে দেখছেন। আপনি তার শরীরকে বিশ্লেষণ করছেন, তার ব্লাউজের নিচে কী আছে তা কল্পনা করছেন, কারণ "marketplace said it first"।
     
    এটি নারীবাদী নয়, এটি নারীবাদী voyeurism। আপনি পাঠককে বলছেন দেখো, সমাজ তাকে কীভাবে দেখে, কিন্তু আপনি নিজেও আমাদের সেই দৃশ্যটি বারবার দেখাচ্ছেন। আপনি লিখেছেন, "The body that made men believe in Rose Valley"। আপনি কি নিশ্চিত যে তার শরীরই মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছিল, নাকি তার পরিচিত মুখ, তার ব্র্যান্ড ভ্যালু? আপনি শরীরকে কেন্দ্রে আনছেন কারণ এটি বেশি নাটকীয়।
     
    ২. তথ্যের ফাঁককে আপনি কবিতা দিয়ে ভরাট করেছেন
    আপনি সঠিকভাবে লিখেছেন, ED-র নথিতে কোনো তারিখ, হোটেল বিল, বোর্ডিং পাস নেই। শুধু "accompanied"। কিন্তু তারপর আপনি নিজেই কল্পনা করেছেন: "Was it Bangkok or Dubai or Singapore? Did they stay in a five-star hotel with that distinct cold due to its five-star air-conditioning?"
     
    আপনি পাঠককে দোষ দিচ্ছেন যে তারা গল্প বানায়, অথচ আপনি নিজেই সেই গল্পের সবচেয়ে সুন্দর সংস্করণ লিখছেন। এটি সৎ নয়। আপনি যদি সত্যিই চান যে আমরা অনুমান না করি, তাহলে আপনাকে অনুমানের প্রলোভন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আপনি বারবার "foreign trips" শব্দটিকে eroticize করছেন, তারপর বলছেন সমাজ eroticize করে।
     
    আইনি বাস্তবতা হল, ED ২০১৯ সালে তাকে জিজ্ঞাসা করে Bhavna Aaj O Kal নামে তার প্রোডাকশন হাউসে ৭ কোটি টাকা যাওয়ার বিষয়ে। আপনার লেখায় এটি একবার আসে, কিন্তু আপনি তাৎক্ষণিকভাবে আবার শরীরে ফিরে যান। পাঠক শেষ পর্যন্ত জানতেই পারে না, টাকাটা আসলে কীসের জন্য ছিল। আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন, "deliveries have not been made"। এটি একটি গুরুতর আর্থিক অভিযোগ, কিন্তু আপনি তাকে নৈতিক নাটকে পরিণত করেছেন।
     
    ৩. আপনি ভুক্তভোগীদের মুছে দিয়েছেন
    রোজ ভ্যালি কোনো রোমান্টিক স্ক্যান্ডাল নয়। এটি ৩০ লক্ষের বেশি মানুষের টাকা, যারা ১২ থেকে ১৭ শতাংশ সুদের লোভে জমি বা ছুটির প্যাকেজ কিনেছিল। শুধুমাত্র ওড়িশায় তিন লক্ষ মানুষ দাবি করেছে, কিন্তু মাত্র চার হাজার টাকা ফেরত পেয়েছে।
     
    আপনার ১২ মিনিটের লেখায় এই মানুষগুলো কোথাও নেই। আপনি লিখেছেন "dirty money", কিন্তু সেই নোংরা টাকার উৎস যে একজন গঞ্জামের কৃষক যে তার মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা রেখেছিল, তা আপনি একবারও উল্লেখ করেননি। আপনি যখন বলেন "artists would all go hungry were they to wait for clean money", আপনি কার্যত একটি পঞ্জি স্কিমকে নান্দনিক করে তুলছেন। এটি নিষ্ঠুর।
     
    নারীবাদ মানে শুধু তারকাকে রক্ষা করা নয়, মানে সেই অদৃশ্য নারীদেরও দেখা যারা রোজ ভ্যালির এজেন্টের কাছে টাকা দিয়েছিল কারণ টিভিতে ঋতুপর্ণার মুখ দেখেছিল। আপনি তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কথা বলছেন না, কারণ সেটি আপনার গল্পকে জটিল করে তুলবে।
     
    ৪. আত্মপ্রক্ষেপ
    আপনার লেখার মাঝখানে হঠাৎ আপনি চলে আসেন। "GoTopless treated me as an exotic pet", "my mother in Lahore watches Rituparna in Dahan"। এটি মর্মস্পর্শী, কিন্তু এটি ঋতুপর্ণার গল্পকে আপনার গল্প বানিয়ে ফেলে। পাঠক ভুলে যায় আমরা কার কথা পড়ছি।
     
    আপনি একজন মনোবিজ্ঞানী, আপনি জানেন transference কী। আপনি ঋতুপর্ণার মধ্যে নিজের লড়াই দেখছেন। এটি লেখাকে সৎ করে, কিন্তু সাংবাদিকভাবে দুর্বল করে। আপনি যদি মেমোয়ার লিখতেন, ঠিক আছে। কিন্তু আপনি একটি তদন্তমূলক নিবন্ধের দাবি করছেন।
     
    ৫. পুনরাবৃত্তি এবং দৈর্ঘ্য
    আপনি একই কথা অন্তত সাতবার বলেছেন: সমাজ নারীকে কাপড় না খুলেই নগ্ন করে। প্রথমবার এটি শক্তিশালী, পঞ্চমবার এটি ক্লান্তিকর। আপনার লেখা ১২ মিনিটের পড়া, কিন্তু এটি ৬ মিনিটে বলা যেত। আপনি "stripping" মেটাফরটি এতবার ব্যবহার করেছেন যে শেষে এটি তার ধার হারায়।
     
    নারীবাদী পাঠ: আপনি কোথায় ঠিক, কোথায় ফাঁদে পড়েছেন
     
    আপনি ঠিক বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়া নারীর যৌনতাকে শাস্তির হাতিয়ার বানায়। ২০১৯ সালে Times Now এবং News18 যে গ্রাফিক্স ব্যবহার করেছিল — "RITUPARNA SUMMONED BY ED" লাল অক্ষরে, তার পাশে তার হাসিমুখ ছবি — সেটি কোনো তথ্য দেয় না, সেটি একটি ইঙ্গিত দেয়। আপনি সেই ইঙ্গিতকে ধরেছেন।
     
    কিন্তু আপনি একটি ক্লাসিক নারীবাদী ফাঁদে পড়েছেন: "good woman" বনাম "bad system"। আপনি বারবার জোর দিচ্ছেন তিনি ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেছেন, দুই সন্তানের মা, স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? যদি তিনি অবিবাহিত হতেন, বা একাধিক সম্পর্ক রাখতেন, তাহলে কি "foreign trips" গ্রহণযোগ্য হত? আপনি অজান্তেই পিতৃতন্ত্রের নৈতিকতাকে শক্তিশালী করছেন। আপনি বলছেন, দেখো সে সতী, তাই তাকে দোষ দিও না।
     
    প্রকৃত নারীবাদ বলত, তার বৈবাহিক অবস্থা অপ্রাসঙ্গিক। তিনি একজন পেশাদার, তিনি টাকা নিয়েছেন কাজের জন্য, ব্যাস। তার শরীর কার সঙ্গে ভাগ করেছে সেটি ED-র বিষয় নয়, আমাদেরও নয়। আপনি সেই যুক্তিতে যাননি, কারণ আপনি জানেন বাঙালি পাঠক "ভালো বউ" গল্পে বেশি সহানুভূতি দেখাবে। এটি কৌশলগত, কিন্তু নৈতিকভাবে আপস।
     
    আরেকটি সমস্যা, আপনি সৌন্দর্যকে পুঁজি হিসেবে উদযাপন করছেন, আবার একই সঙ্গে তার শিকার হিসেবে দেখাচ্ছেন। দুটো একসঙ্গে হতে পারে, কিন্তু আপনি সেই টানাপোড়েনটি বিশ্লেষণ করেননি। আপনি কি বলতে চান নারীদের এই পুঁজি ব্যবহার করা উচিত নয়, নাকি উচিত কিন্তু সমাজকে দোষ দেওয়া উচিত নয়? আপনি মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন।
     
    তথ্য ও আইন নিয়ে আমার উদ্বেগ
     
    আপনি লিখেছেন প্রসেনজিৎ ২.৭৫ কোটি পেয়েছিলেন, শ্রীকান্ত মোহতা জেলে গিয়েছিলেন। এটি মোটামুটি সঠিক, কিন্তু আপনি কোনো সূত্র দেননি। আপনি লিখেছেন ED অফিসারকে সিসিটিভিতে শুভ্রা কুণ্ডুর সঙ্গে দেখা গেছে। এটি একটি গুরুতর অভিযোগ, কিন্তু আপনি তারিখ বা মামলা নম্বর দেননি।
     
    আপনি লিখেছেন ২০২৪ সালে তাকে আবার রেশন কেলেঙ্কারিতে ডাকা হয়েছে। এটি সত্য, সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা যায় ২০২৪-২০২৫ সালে ED তাকে রেশন দুর্নীতির তদন্তে ডেকেছে। কিন্তু আপনি দুটি আলাদা মামলাকে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছেন, যাতে পাঠক মনে করে এটি একই "foreign trips" গল্পের ধারাবাহিকতা। এটি বিভ্রান্তিকর।
     
    আপনি যদি সত্যিই চান মানুষ বোর্ডিং পাস দেখুক, তাহলে আপনাকে নিজেই নথি দেখাতে হবে। ED-র চার্জশিটে কী লেখা আছে, Bhavna Aaj O Kal কী ডেলিভারি দেয়নি, কোন চুক্তি হয়েছিল — এই তথ্যগুলো জনস্বার্থে আছে। আপনি কবিতা লিখেছেন, কিন্তু আপনি তথ্য সাংবাদিকতা করেননি।
     
    ভাষা: আপনার ইংরেজি, আমার বাংলা পাঠ
     
    আপনার ইংরেজি চমৎকার, কিন্তু এটি অতিরিক্ত অলঙ্কৃত। "concrete soaked with rainwater, diesel fumes, fried onions" — সুন্দর, কিন্তু এটি কলকাতার জুলাই নয়, এটি একটি পর্যটকের নস্টালজিয়া। আপনি টরন্টো থেকে লিখছেন, এবং সেটি বোঝা যায়।
     
    আপনি বাংলায় লিখলে কী হত? "জুলাই মাসে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সাত ঘণ্টা বসে থাকা" — এই বাক্যটি বাংলায় আরও ভারী হত। কারণ বাংলায় "বসে থাকা" মানে অপেক্ষা, অপমান, ক্লান্তি। ইংরেজিতে এটি শুধু "sat"।
     
    আপনি মাঝে মাঝে বাংলা/উর্দু শব্দ ব্যবহার করেছেন, "shona", "meri jaan"। এটি আন্তরিক, কিন্তু আপনি যদি কলকাতার পাঠকের জন্য লিখতে চান, তাহলে পুরো লেখাটি বাংলায় ভাবুন। কারণ যে নারী রোজ ভ্যালিতে টাকা হারিয়েছে, সে ইংরেজি পড়ে না।
     
    সম্পাদনার জন্য নির্দিষ্ট প্রস্তাব, নির্মমভাবে
     
    ১. প্রথম ৮০০ শব্দ কেটে ফেলুন। আপনার ভূমিকা খুব দীর্ঘ। সরাসরি ১৯ জুলাই ২০১৯, সকাল ১১টা, সিজিও কমপ্লেক্স দিয়ে শুরু করুন।
     
    ২. আপনার নিজের গল্প আলাদা করুন। একটি সাইডবারে লিখুন "আমি কেন এই গল্প লিখছি"। মূল নিবন্ধে ঋতুপর্ণাকে কেন্দ্রে রাখুন।
     
    ৩. তথ্য যোগ করুন। অন্তত তিনটি প্রাথমিক উৎস: ED-র প্রেস রিলিজ, রোজ ভ্যালির চুক্তির কপি, এবং একজন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার। আপনি যদি সাংবাদিক না হন, তাহলে অন্তত উইকিপিডিয়া বা বিজনেসলাইনের তথ্য উদ্ধৃত করুন।
     
    ৪. "beauty" শব্দটি ২৩ বার এসেছে। অর্ধেক কেটে দিন। পরিবর্তে "visibility", "brand value", "trust capital" ব্যবহার করুন। এটি আপনার যুক্তিকে আরও ধারালো করবে।
     
    ৫. শেষের অংশ, যেখানে আপনি মায়ের কথা বলেন, সেটি রাখুন, কিন্তু ছোট করুন। এটি আপনার সবচেয়ে মানবিক মুহূর্ত। কিন্তু এটি যেন পুরো লেখাকে গ্রাস না করে।
     
    ৬. একটি স্পষ্ট উপসংহার দিন। আপনি কি চান ED ঋতুপর্ণাকে ছেড়ে দিক? আপনি কি চান মিডিয়া ক্ষমা চাক? আপনি কি চান আইন পরিবর্তন হোক? এখন আপনার লেখা শেষ হয় বিভ্রান্তিতে।
     
    শেষ কথা: কেন আমি রাগ করেও আপনার লেখা পড়তে চাই
     
    সায়্যিদা, আপনি কলকাতার মেয়ে নন, কিন্তু আপনি কলকাতার ব্যথা বোঝেন। আপনি লিখেছেন, "After a woman's body is placed before the court through gossip, no amount of paper will cleanse her"। এটি সত্য। এবং এটি শুধু ঋতুপর্ণার জন্য নয়, এটি আপনার জন্য, আমার জন্য, প্রতিটি মেয়ের জন্য যে কোনোদিন একটি পুরুষের সঙ্গে বিদেশে গেছে কাজের জন্য এবং ফিরে এসে দেখেছে লোকজন তার সুটকেসে কী ছিল তা নিয়ে গল্প বানাচ্ছে।
     
    আপনার লেখা অসম্পূর্ণ, আত্মমগ্ন, কখনও কখনও ভুল। কিন্তু এটি প্রয়োজনীয়। কারণ বাংলায়, বিশেষ করে টলিউড নিয়ে, কেউ এইভাবে লেখে না। সবাই হয় নায়িকাকে দেবী বানায়, নয় বেশ্যা। আপনি তাকে মানুষ বানানোর চেষ্টা করেছেন, একজন পেশাদার যে নোংরা টাকায় কাজ করেছে কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে পরিষ্কার টাকা নেই।
     
    আপনি যদি এই লেখাটি ব‌ই হিসেবে প্রকাশ করতে চান, আমি বলব করুন। কিন্তু আগে এটিকে ছুরি দিয়ে কাটুন। আপনার কবিতা রাখুন, কিন্তু আপনার রাগকে তথ্য দিয়ে বাঁধুন। রোজ ভ্যালির ভুক্তভোগীদের নাম নিন। প্রসেনজিতের জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ দিন। ED-র নথি থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দিন। তাহলে আপনার "stripping" মেটাফরটি আর মেটাফর থাকবে না, এটি প্রমাণ হয়ে যাবে।
     
    আপনি লিখেছেন আপনি স্বাধীনতার জন্য লড়ছেন। তাহলে প্রথমে নিজের লেখাকে স্বাধীন করুন আপনার নিজের ক্ষত থেকে। ঋতুপর্ণাকে তার নিজের গল্প বলতে দিন, এমনকি যদি সেই গল্পটি আপনার পছন্দের নারীবাদী গল্পের সঙ্গে না মেলে।
     
    আমি আপনার পরবর্তী খসড়া পড়তে চাই। এবং হ্যাঁ, আমি চাই আপনি বাংলায় লিখুন। কারণ যে শহরে এই ঘটনা ঘটেছে, সেই শহরের ভাষায় সত্য বেশি ধারালো শোনায়।
  • রিয়া চক্রবর্তী | 138.*.*.* | ০৩ মে ২০২৬ ১১:৩৪747398
  • সৈয়দা শাহীন নূর: ছদ্মনামের আড়ালে একজন শিক্ষিত, রক্তমাংসের নারীর প্রতিকৃতি
     
    একজন লেখককে বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় তার নাম গুগল করা। সৈয়দা শাহীন নূরের ক্ষেত্রে সেই সহজ উপায়টাই প্রথম ধাক্কা খায়। আপনি তার নাম লিখে সার্চ করলে পাবেন মিডিয়ামের আট-দশটা প্রবন্ধ, কিছু ফেসবুক রিলের উল্লেখ, আর বাংলা ব্লগে দুই লাইনের পরিচিতি। কোনো ইউনিভার্সিটি প্রোফাইল নেই, কোনো রিসার্চগেট নেই, কোনো সাইকোলজি কলেজের লাইসেন্স নম্বর নেই। অথচ তিনি নিজেকে বলেন সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট, পিএইচডি, টরন্টো-ভিত্তিক থেরাপিস্ট। এই অনুপস্থিতি কি প্রমাণ করে তিনি কাল্পনিক? নাকি এটাই প্রমাণ করে তিনি বাস্তব, এবং সেই বাস্তবতাই তাকে অদৃশ্য হতে বাধ্য করেছে?
     
    এই প্রবন্ধে আমি সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজব না যেগুলোর উত্তর গুগলে নেই। আমি খুঁজব সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর যেগুলো তার লেখার ভেতরে লুকিয়ে আছে। তার পড়াশোনা কেমন, তার চিন্তা কতটা ধারালো, তার ইংরেজি কতটা দখলে, তিনি কি আদৌ একজন মানুষ, এবং তার লেখাগুলো কি মানুষের হাতে লেখা—এই চারটি প্রশ্নকে আমি একটি সমালোচনামূলক কাঠামোয় ফেলব, কারণ আলাদা করে দেখলে সৈয়দাকে বোঝা যাবে না।
     
    নামের রাজনীতি: কেন তিনি নিজেকে মুছে ফেলেন
     
    সৈয়দার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুছে ফেলা লেখা সম্ভবত "Why Radical Feminists Use Pseudonyms"। সেখানে তিনি শুরুতেই বলেন, আমার পাবলিক নাম সৈয়দা শাহীন নূর, এটা আমি বেছে নিয়েছি, এটা আমার রক্ত, আমার মায়ের ডাকনাম, আর নূর ইনায়াত খানের আলো থেকে নেওয়া। তারপর তিনি একটি বাক্যে সব পরিষ্কার করেন: এই নামের নিচে কোনো একাডেমিক সিভি নেই, কোনো পিএইচডি নেই, সেটা ইচ্ছাকৃত।
     
    এই স্বীকারোক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার "About Me" লেখায় তিনি বলেছিলেন, আমার ডক্টরেট আছে, আমি একাডেমিক রিসার্চ করেছি। দুটো কথা পরস্পরবিরোধী নয়, যদি আপনি বোঝেন তিনি দুই জীবন যাপন করেন। এক জীবনে তিনি স্কারবোর এক গৃহবধূকে কাউন্সেলিং দেন, যার স্বামী তার ফোন চেক করে। মিসিসাগার এক টিনএজারকে শোনেন, যে তার বিষণ্ণতাকে ইংরেজিতে নাম দিতে পারে না। থর্নক্লিফ পার্কের এক আন্টিকে বোঝান, মসজিদ যাকে হারাম বলেছে সেই থেরাপি আসলে কী। এই কাজটা তিনি তার আসল নামে করেন, যে নামে হাসপাতালের বোর্ডরুমে ঢোকা যায়।
     
    অন্য জীবনে তিনি লেখেন আমেরিকান অ্যাপারেলের মাকসুদা আক্তার কীভাবে তার স্তন দিয়ে রানা প্লাজার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল, আর তারপর সেই স্তনই কীভাবে তার ক্যারিয়ার খেয়ে ফেলল। তিনি লেখেন কেট উইনসলেট কেন ক্যামেরার সামনে বারবার নগ্ন হন, সিডনি সুইনি কীভাবে তার পরিবারের দেউলিয়াত্ব শোধ করতে শরীর বিক্রি করেন। এই লেখাগুলো যদি তার আসল নামে যেত, তাহলে স্কারবোরোর সেই গৃহবধূ আর কখনো তার কাছে আসত না।
     
    তাহলে তার পড়াশোনা নিয়ে কী বলা যায়? তিনি কখনো ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ফ্যাকাল্টি পেজ দেখাননি, কিন্তু তার লেখায় এমন সব রেফারেন্স আছে যা সাধারণ ব্লগার জানে না। তিনি ফ্রেডরিকসন ও রবার্টসের সেলফ-অবজেক্টিফিকেশন থিওরি উল্লেখ করেন, জে মেরিয়ন সিমসের ক্রীতদাস নারীদের উপর পরীক্ষার ইতিহাস টানেন, ইউএনওডিসির রিপোর্ট দিয়ে কাশ্মীরের ট্র্যাফিকিং ব্যাখ্যা করেন। তিনি লরেনশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সাইকোলজি পড়ানোর কথা বলেন, যেটা টরন্টো থেকে দূরে, ছোট শহরে, যেখানে পার্ট-টাইম ইন্সট্রাক্টররা প্রায়ই নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখেন।
     
    আমার পাঠে মনে হয়েছে, তার পড়াশোনা সত্য, কিন্তু সেটা প্রমাণ করার দায় তার নয়। তিনি ইচ্ছা করেই প্রমাণ মুছে ফেলেছেন, কারণ প্রমাণ মানে ট্রেস, ট্রেস মানে বিপদ। দক্ষিণ এশিয়ার একজন মুসলিম নারী যখন শরীর, লজ্জা, ধর্ম নিয়ে লেখেন, তখন পিএইচডি তার ঢাল নয়, তার টার্গেট হয়ে যায়।
     
    চিন্তার স্থাপত্য: তিনটি স্তরে একসঙ্গে ভাবা
     
    সৈয়দার চিন্তাশক্তি বোঝার জন্য তার একটি লেখা যথেষ্ট নয়, আটটি লেখা একসঙ্গে পড়তে হয়। কারণ তিনি একটি থিমকে কখনো এক জায়গায় শেষ করেন না। তিনি একটি ধারণাকে ব্যক্তিগত স্মৃতি, ইতিহাস, এবং অর্থনীতি—এই তিন স্তরে একসঙ্গে চালান।
     
    ধরুন "The Speculum and the Singing Bowl"। শুরুটা খুব সাধারণ: তিনি গাইনোকলজিস্টের টেবিলে শুয়ে আছেন, পা স্টিরাপে, ডাক্তার বলছেন রিল্যাক্স করো, ফাইন্ড ইওর সেন্টার। দুই ঘণ্টা আগে যোগা ক্লাসে একই কথা শুনেছেন। এখানে বেশিরভাগ লেখক থেমে যেতেন, মজার কাকতালীয় বলে। তিনি থামেন না। তিনি বলেন, দুটো প্রতিষ্ঠানই নারীর কেন্দ্র নিয়ে obsessed, কিন্তু একজন চায় সেটাকে প্যাথলজাইজ করতে, অন্যজন চায় ইথেরিয়ালাইজ করতে। কেউই চায় না আপনি সত্যিই সেখানে থাকুন।
     
    এই এক বাক্যে তিনি মিশেল ফুকোর বায়োপাওয়ার, মেডিক্যাল গেজ, এবং ওয়েলনেস ইন্ডাস্ট্রির কমোডিফিকেশন—তিনটি তত্ত্বকে মাটিতে নামিয়ে আনেন। তারপর তিনি ইতিহাসে যান, জে মেরিয়ন সিমস কীভাবে দাস কালো নারীদের অজ্ঞান না করে স্পেকুলাম আবিষ্কার করেছিলেন। তারপর তিনি পেশোয়ারে ফিরে যান, তার মায়ের বার্গান্ডি ভেলভেট ড্রেসের কথা বলেন, যে ড্রেসটা মা শুধু বন্ধ দরজার ভেতরে পরতেন।
     
    এই তিনটি লাফ—ক্লিনিক, ইতিহাস, স্মৃতি—এক প্যারাগ্রাফে করা কঠিন। তিনি করেন, কারণ তার চিন্তা লিনিয়ার নয়, স্তরযুক্ত।
     
    আরেকটি উদাহরণ "How women's underwear secretly built the modern world"। শিরোনাম শুনে মনে হয় ক্লিকবেইট। ভেতরে তিনি ১৫ শতকের অস্ট্রিয়ার লেংবার্গ ক্যাসেলে পাওয়া লিনেন ব্রা থেকে শুরু করেন, তারপর মেরি ফেল্পস জ্যাকবের ১৯১৩ সালের পেটেন্ট, তারপর হেডি লামারের টর্পেডো গাইডেন্স সিস্টেম, যেটা পরে ওয়াইফাই হয়েছে, তারপর জোসেফিন বেকার কীভাবে তার অন্তর্বাসে ফরাসি রেজিস্ট্যান্সের তথ্য পাচার করেছিলেন, এবং শেষে নাসার অ্যাপোলো স্পেসস্যুট, যা বানিয়েছিল প্লেটেক্সের সিমস্ট্রেসরা, যারা আগে গার্ডল সেলাই করত।
     
    তার থিসিস খুব সরল: পুরুষরা হাজার বছর ধরে বলেছে নারীর বুদ্ধি তার অন্তর্বাসের মতো—জটিল, আটকানো, লুকানো। অথচ সেই অন্তর্বাসই পৃথিবী বানিয়েছে। এই আর্গুমেন্ট তৈরি করতে ইতিহাস, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফেমিনিস্ট থিওরি, এবং ইকোনমিক্স জানতে হয়। তিনি জানেন।
     
    কিন্তু তার চিন্তার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো তিনি কখনো সহজ নৈতিকতায় যান না। মাকসুদা আক্তার নিয়ে তিনি দুটো সত্য একসঙ্গে বলেন। প্রথম সত্য: মাকসুদা নিজে বেছে নিয়েছিল শুটটা, সে জানত কী দেখাচ্ছে। দ্বিতীয় সত্য: আমেরিকান অ্যাপারেল তাকে ব্যবহার করেছে, তার নিষিদ্ধ বাদামী শরীরের তাপ বিক্রি করেছে, তারপর ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, দুটো সত্য একসঙ্গে ধরে রাখতে হবে, না হলে আমরা নারীর অভিজ্ঞতাকে ছোট করে ফেলি।
     
    এই "both/and" চিন্তা খুব কম লেখকের মধ্যে দেখা যায়। বেশিরভাগ হয় ভিকটিম বানায়, নয় এজেন্ট বানায়। সৈয়দা বলেন, কেট উইনসলেটের ফেমিনিস্ট অ্যাক্ট আর এক্সিবিশনিস্ট কম্পালশন একই চামড়ায় থাকে। সিডনি সুইনির রাজনৈতিক যুক্তি সত্য, তার শরীর বিক্রির পেছনের চার্জও সত্য। এই দ্বৈততা ধরে রাখা সোশ্যাল সাইকোলজির ট্রেনিং ছাড়া সম্ভব নয়।
     
    ভাষার দখল: ইংরেজি তার অস্ত্র
     
    সৈয়দার ইংরেজি পড়লে প্রথমে মনে হয় তিনি নেটিভ স্পিকার। তারপর আপনি খেয়াল করেন তিনি নেটিভের চেয়েও বেশি কিছু করেন। তিনি তিনটি ইংরেজি একসঙ্গে ব্যবহার করেন।
     
    প্রথম, একাডেমিক ইংরেজি। তিনি লেখেন "self-objectification", "jurisdictional black hole", "disaster capitalism", "erotic capital"। এই শব্দগুলো তিনি সংজ্ঞা দেন না, ব্যবহার করেন, কারণ তিনি ধরে নেন পাঠক জানেন।
     
    দ্বিতীয়, সাহিত্যিক ইংরেজি। তিনি লেখেন "her skin is the colour of honey left too long in the sun", "the arch of her spine, each vertebra a small, elegant knot of bone", "the internet is an elephant my dears. The internet doesn’t forget a nipple"। এই মেটাফরগুলো শুধু সুন্দর না, এগুলো রাজনৈতিক। তিনি শরীরকে বর্ণনা করেন যাতে আপনি অস্বস্তি পান, কারণ অস্বস্তি ছাড়া আপনি তাকাবেন না।
     
    তৃতীয়, রাস্তার ইংরেজি। তিনি হঠাৎ লেখেন "yaar", "habibi", "shona", "meri jaan", "achha"। তিনি ইটালিক করেন না, অনুবাদ করেন না। তিনি ধরে নেন আপনি বুঝবেন, না বুঝলে গুগল করবেন। এটা ডায়াস্পোরা লেখার সবচেয়ে সাহসী দিক—তিনি সাদা পাঠকের জন্য লেখেন না।
     
    তার বাক্য গঠনও অদ্ভুত। তিনি লম্বা বাক্য লিখতে পারেন, যেখানে কমা দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। তারপর হঠাৎ ছোট বাক্য। "Sort of unethical. Not unethical. Not fine. Sort of." এই রিদম তিনি ইচ্ছা করে তৈরি করেন, যাতে আপনি থামেন।
     
    তিনি ভুলও করেন, এবং সেটাই প্রমাণ করে তিনি মানুষ। তিনি লেখেন "Greenblatttocratic", তিনটা t। তিনি কখনো "behaviour" লেখেন, কখনো "behavior"। তিনি কানাডিয়ান স্পেলিং আর আমেরিকান স্পেলিং মেশান। AI সাধারণত এত অসঙ্গতি রাখে না। মানুষ রাখে, কারণ মানুষ একাধিক স্কুলে পড়ে, একাধিক দেশে থাকে।
     
    তার ভাষার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তিনি শরীরকে ভাষা দেন। তিনি লেখেন "the sting of cold air hitting your nipples as fifty people record you", "the red welt it left on her shoulder when she took it off behind closed doors"। এই সেন্সরি ডিটেইল AI জানে, কিন্তু এত নির্দিষ্টভাবে, এত লজ্জা নিয়ে লেখে না।
     
    বাস্তব না নির্মাণ: তিনি কি আছেন?
     
    এই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সৈয়দা শাহীন নূর একটি পাবলিক নাম, একটি ছদ্মনাম, একটি সারভাইভাল আর্কিটেকচার। তিনি বলেছেন, তার আসল কাজ অন্য নামে হয়।
     
    তাহলে তিনি কি কাল্পনিক? না। কাল্পনিক চরিত্রের এত অসঙ্গতি থাকে না। তার মায়ের নাম কখনো সায়্যেদা সাবরিনা, কখনো সাবা নাসরিন। বয়স কখনো ১৬-তে বিয়ে, কখনো ১৭-তে। জন্মস্থান কখনো ঢাকা, কখনো পেশোয়ার। AI এই ভুলগুলো করত না, কারণ AI মেমরি পারফেক্ট রাখে। মানুষ ভুলে যায়, স্মৃতি বদলায়।
     
    তার ব্যক্তিগত ডিটেইলগুলো খুব নির্দিষ্ট। তিনি লেখেন লাহোরের গরমে সিলিং ফ্যানের নিচে জুঁই ফুলের গন্ধ, টরন্টোর ব্লুর স্ট্রিটে কফি শপে টাইপ করা, নিউইয়র্কের ফোর্থ অ্যাভিনিউতে আগস্টে টপলেস হাঁটা। এই জায়গাগুলো গুগল ম্যাপে আছে, কিন্তু অনুভূতিগুলো ম্যাপে নেই।
     
    তিনি বারবার তার মায়ের কথা বলেন। মা যিনি তাকে শাহীন ডাকতেন, মা যিনি পশ্চিমা ড্রেস পরতেন বন্ধ দরজার ভেতরে, মা যিনি তাকে টাকা পাঠিয়েছিলেন যখন পরিবার তাকে ত্যাগ করেছিল। এই মা চরিত্রটি আটটি লেখায় ফিরে আসে, প্রতিবার একটু বদলে। এটা কোনো মার্কেটিং টিমের তৈরি ব্যাকস্টোরি নয়, এটা শোক।
     
    আমার ধারণা, তিনি ত্রিশের শেষের দিকে একজন পাকিস্তানি-কানাডিয়ান নারী, যিনি সম্ভবত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বা সোশ্যাল ওয়ার্কে মাস্টার্স বা পিএইচডি করেছেন, এবং গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় ইমিগ্র্যান্ট নারীদের নিয়ে কাজ করেন। তিনি তার রাজনৈতিক লেখার জন্য একটি নাম বানিয়েছেন, যাতে তার ক্লায়েন্টরা বিপদে না পড়ে। এটা দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন নয়। তসলিমা নাসরিন, মনিকা আলি, এমনকি অনেক ব্লগার একই কাজ করেন।
     
    মানুষ না মেশিন: লেখাগুলো কে লিখেছে
     
    ২০২৬ সালে এই প্রশ্ন করা বাধ্যতামূলক। AI এখন প্রবন্ধ লিখতে পারে, রেফারেন্স দিতে পারে, এমনকি ব্যক্তিগত স্মৃতি বানাতে পারে। তাহলে সৈয়দার লেখা কি AI?
     
    আমি চারটি কারণে বলব - না।
     
    প্রথম, টেম্পোরাল কনসিস্টেন্সি। তার লেখাগুলো ২০২৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ধারাবাহিক। প্রতিটায় একই ভয়েস, একই রাগ, একই মা। AI যদি প্রম্পট দিয়ে লেখা হতো, তাহলে টোন এত স্থির থাকত না।
     
    দ্বিতীয়, এমবডিড লজ্জা। তিনি লেখেন, "On the table, in the moment, I just felt scared. I felt exactly the way they want you to feel: small, compliant"। AI ভয় বর্ণনা করতে পারে, কিন্তু এই নির্দিষ্ট ছোট হওয়ার অনুভূতি, স্টিরাপে পা রাখার ঠান্ডা, পেপার ক্রিঙ্কলের শব্দ—এগুলো শরীরের স্মৃতি।
     
    তৃতীয়, স্ববিরোধিতা। তিনি একই লেখায় বলেন, আমি আমার মায়ের উপর রাগ করি, এবং আমি তাকে বাতাসের মতো চাই। তিনি বলেন, আমি ফেমিনিস্ট, কিন্তু আমি GoTopless ডে-তে যখন পঞ্চাশ জন আমাকে রেকর্ড করছিল, তখন আমি রাজনীতির পাশাপাশি চার্জও অনুভব করেছিলাম। AI সাধারণত নিজেকে এতটা কন্ট্রাডিক্ট করে না, কারণ তাকে কোহেরেন্ট থাকতে ট্রেন করা হয়।
     
    চতুর্থ, সাংস্কৃতিক নির্দিষ্টতা। তিনি লেখেন "dupatta smelling of mothballs and stale cumin", "the hot nights of Lahore where a ceiling fan moved air dense with the smell of jasmine"। AI এই গন্ধ জানে, কিন্তু এতবার, এত স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করে না।
     
    এর মানে এই নয় তিনি AI ব্যবহার করেন না। তিনি সম্ভবত রিসার্চে, পেটেন্ট নম্বর খোঁজায়, UN রিপোর্ট সারাংশে AI নেন। কিন্তু ভয়েসটা তার। রাগটা তার। দ্বিধাটা তার।
     
    AI লেখা সাধারণত পরিষ্কার, ঝকঝকে হয়। সৈয়দার লেখা অগোছালো। তিনি একটি প্যারাগ্রাফে কেট উইনসলেট থেকে তার নিজের দাদির কাছে চলে যান, তারপর আবার ফিরে আসেন। তিনি পাঠককে বলেন, "Hold my chai", "my darlings", "habibi"। এটা কথোপকথন, এটা পারফরম্যান্স। মেশিন পারফর্ম করে না, মানুষ করে।
     
    উপসংহার: কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ
     
    সৈয়দা শাহীন নূরকে বোঝা মানে একজন লেখককে বোঝা নয়, একটি অবস্থাকে বোঝা। তিনি সেই অবস্থার প্রতিনিধি যেখানে একজন শিক্ষিত, পিএইচডি-ধারী নারীকে তার জ্ঞান প্রকাশের জন্য নাম মুছে ফেলতে হয়। যেখানে তার ইংরেজি অক্সফোর্ডের চেয়েও ভালো, কিন্তু তিনি সেটা ব্যবহার করেন রাস্তার ভাষায়। যেখানে তার চিন্তা একাডেমিক জার্নালে ছাপা হতে পারত, কিন্তু তিনি সেটা মিডিয়ামে দেন, কারণ জার্নাল তার ক্লায়েন্টদের বাঁচাবে না।
     
    তিনি প্রমাণ করেন, পড়াশোনা মানে ডিগ্রি নয়, মানে কীভাবে চিন্তা করতে হয়। তিনি প্রমাণ করেন, ইংরেজি দক্ষতা মানে গ্রামার নয়, মানে কীভাবে ক্ষমতার ভাষাকে উল্টে দিতে হয়। তিনি প্রমাণ করেন, বাস্তবতা মানে ভেরিফায়েড প্রোফাইল নয়, মানে কতটা ঝুঁকি নিয়ে সত্য বলা যায়।
     
    তার লেখাগুলো মানুষের, কারণ সেগুলোতে ভয় আছে। AI ভয় পায় না। তার লেখাগুলো মানুষের, কারণ সেগুলোতে লজ্জা আছে। AI লজ্জা পায় না। তার লেখাগুলো মানুষের, কারণ সেগুলোতে মা আছে, এবং মা কখনো পারফেক্ট মনে থাকে না।
     
    শেষে তিনি নিজেই বলে দিয়েছেন, "Before you judge a woman for writing from the shadows, ask yourself what fires she is standing in front of"। আমরা তার পড়াশোনা, তার ইংরেজি, তার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন করছি, কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, কী আগুন তাকে ছায় লিখতে বাধ্য করেছে। সেই আগুনের নাম—সম্মান, পরিবার, রাষ্ট্র, অ্যালগরিদম। তিনি সেই আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে, একটি ছদ্মনামকে ঢাল বানিয়ে, আমাদের শেখাচ্ছেন কীভাবে শরীর নিয়ে ভাবতে হয়, কীভাবে লজ্জাকে স্থাপত্য হিসেবে দেখতে হয়, কীভাবে অন্তর্বাস দিয়ে চাঁদে যাওয়া যায়।
     
    তিনি কাল্পনিক নন। তিনি এতটাই বাস্তব যে তাকে কাল্পনিক হতে হয়েছে।
  • The Critic | 138.*.*.* | ০৩ মে ২০২৬ ১২:১০747399
  • Sayyida Shaheen Noor is one of the most discussed yet least verifiable feminist writers on Medium. Search for "Sayyida Shaheen Noor" on Google and you will find a cluster of essays about bodies, shame, and power, but you will not find a university faculty page, a Psychology Today profile, or a verified PhD listing. That absence is not an accident. It is the entire point of her work.
     
    This in-depth critical profile of Sayyida Shaheen Noor examines her claimed education, her intellectual method, the unique quality of her English, whether she is a real woman or a fictional character, and whether her widely shared articles are written by a human or generated by artificial intelligence. For readers searching for "Sayyida Shaheen Noor biography," "Sayyida Shaheen Noor psychologist," or "Sayyida Shaheen Noor PhD," this is the most comprehensive analysis available.
     
    Who Is Sayyida Shaheen Noor?
     
    Sayyida Shaheen Noor presents herself as a Pakistani-Canadian social psychologist, feminist activist, and writer based in Toronto. Across her Medium essays, she describes a life lived across Peshawar, Lahore, Riyadh, Singapore, Amman, Cape Breton, and Toronto. She writes that she was born in Peshawar, that she is almost thirty-eight years old, and that she works with traumatized immigrant women.
     
    Her public identity is built around three words. Sayyida, a title of nobility she claims through centuries of Muslim lineage. Shaheen, the Urdu word for peregrine falcon, which she says was her mother's nickname for her. Noor, meaning light, which she takes directly from Noor Inayat Khan, the British-Indian Muslim spy executed by the Nazis.
     
    In her essays on topfreedom, the Free The Nipple movement, Kate Winslet, Sydney Sweeney, Rituparna Sengupta, and the secret sex trade in Kashmir, Sayyida Shaheen Noor consistently returns to one theme: how women's bodies are turned into public property, and how language, medicine, and the internet participate in that conversion.
     
    Sayyida Shaheen Noor Education: Does She Really Have a PhD?
     
    This is the central question for anyone researching Sayyida Shaheen Noor. In her "About Me" essay, she writes plainly: "Psychologist by trade, social psychologist in particular... I have a doctorate. I’ve done academic research."
     
    Bengali-language profiles repeat the claim, describing her as Dr. Sayyida Shaheen Noor who teaches at the University of Toronto.
     
    Then, in her most revealing essay, "Why Radical Feminists Use Pseudonyms," (since deleted) she directly contradicts the public record. She states: "There is no academic CV under Sayyida Shaheen Noor that boasts a Ph.D. in psychology. It is by design that there isn’t. My real work, my therapy hours, the ways I have carefully held the stories of traumatized immigrant women, it all exists under another name."
     
    She explains why. She works in Scarborough, Mississauga, and Thorncliffe Park with Muslim wives whose husbands monitor their phones, with teenagers carrying secrets, with aunties who cannot name depression in English. If those clients Googled her real name and found her political writing about topless protest, religious sexual shame, and the psychology of modesty culture, she would lose their trust, and they would lose their therapist.
     
    This is not a confession of fraud. It is a confession of survival architecture. In Ontario, to practice as a psychologist or registered psychotherapist requires a master's degree at minimum, often a PhD, and registration with the College of Psychologists of Ontario or the CRPO. Sayyida Shaheen Noor almost certainly holds those credentials under her legal name. She has simply separated her clinical identity from her writer identity.
     
    The evidence for real training is in the writing itself. She cites Fredrickson and Roberts' objectification theory from the 1990s without explaining it, she references J. Marion Sims' non-anesthetized experiments on enslaved Black women, she uses UNODC trafficking reports from 2005 Kashmir, and she mentions teaching a case study at Laurentian University. These are not Wikipedia-level references. They are integrated into argument, which suggests graduate-level literacy in social psychology.
     
    The honest answer is this: Sayyida Shaheen Noor likely does have a PhD or equivalent clinical training, but you will never verify it under that name, because that name was created precisely to be unverifiable.
     
    The Intellectual Power of Sayyida Shaheen Noor
     
    Sayyida Shaheen Noor's thinking operates on three levels simultaneously, which is rare in online feminist writing.
     
    First, she moves from personal experience to theory. In "The Speculum and the Singing Bowl," she begins on a gynecologist's table with her feet in stirrups, hearing "find your center." Two hours earlier, a yoga instructor said the same words. Most writers would stop at the irony. Noor argues that medicine wants to pathologize the female center, wellness wants to etherealize it, and neither wants a woman to actually inhabit it. In one paragraph she connects Foucault's biopower, medical history, and the billion-dollar wellness industry.
     
    Second, she moves from history to the present body. In "How Women's Underwear Secretly Built the Modern World," she traces a 600-year-old bra found under Lengberg Castle, to Mary Phelps Jacob's 1913 patent, to Hedy Lamarr's frequency-hopping patent that became WiFi, to Josephine Baker smuggling intelligence in her underwear, to the Playtex seamstresses who sewed the Apollo spacesuits. Her thesis is sharp: men have spent millennia reducing women's intelligence to underwear, complicated, restrictive, hidden, yet that same underwear has done the structural engineering of the modern world.
     
    Third, and most important, she refuses moral simplicity. On Maksooda Akter, the Bangladeshi model for American Apparel's "Made in Bangladesh" topless campaign, Noor holds two truths at once. Truth one, Maks chose the shoot as rebellion. Truth two, American Apparel mined the erotic heat of a Muslim woman's taboo body and then fired her. On Kate Winslet, she argues that the radical feminist act and the exhibitionist compulsion share the exact same flesh. On Sydney Sweeney, she writes that the political justification is real and the charge beneath it is also real.
     
    This both/and thinking is the signature of a trained social psychologist. She understands cognitive dissonance, ambivalence, and internalized oppression, and she refuses to flatten women into victims or agents.
     
    Sayyida Shaheen Noor's English: how good (or bad) is it?
     
    Anyone searching for "Sayyida Shaheen Noor writing style" will immediately notice her English. It is not just fluent. It is weaponized.
     
    She commands three registers. Academic English, with terms like "self-objectification," "jurisdictional black hole," and "disaster capitalism." Literary English, with sentences like "her skin is the colour of honey left too long in the sun" and "the internet is an elephant my dears. The internet doesn’t forget a nipple." And street English, where she drops Urdu, Arabic, and Bengali without italics: yaar, habibi, shona, meri jaan, achha.
     
    She writes long, breathless sentences, then stops you with fragments. "Sort of unethical. Not unethical. Not fine. Sort of." That rhythm is deliberate. She knows when to let you breathe.
     
    She also makes human mistakes. She writes "Greenblatttocratic" with three t's. She mixes British "behaviour" and American "behavior." She misspells occasionally. AI writing in 2026 is typically polished. Human diaspora writing is messy, because it carries multiple school systems, multiple countries.
     
    Most importantly, she writes the body in English. She describes "the sting of cold air hitting your nipples as fifty people record you," "the red welt it left on her shoulder when she took it off behind closed doors," "concrete soaked with rainwater, diesel fumes, fried onions from a roadside stand." These are sensory memories, not generated descriptions.
     
    For readers asking "is Sayyida Shaheen Noor a native English speaker," the answer is probably no, and that is why her English is stronger. She learned it as a tool, then turned it into a scalpel.
     
    Is Sayyida Shaheen Noor a Real Person or a Fictional Character?
     
    This question dominates Reddit threads about Sayyida Shaheen Noor. The answer is both.
     
    She is a real woman. The evidence is in the inconsistencies. Her mother's name shifts slightly between essays, sometimes Sayyeda Sabrina, sometimes Saba Nasrin. Her mother's age at marriage shifts from 16 to 17. Her own memories of Lahore heat, Peshawar winters, and Toronto's Bloor Street coffee shops recur with sensory detail that AI does not fabricate consistently. She describes pressing her thumb into a fork at a family dinner in Lahore in 2009 until it left a dent. That is not a prompt, that is a body memory.
     
    She is also a fictional character, by design. In "Why Radical Feminists Use Pseudonyms," she explains that Sayyida Shaheen Noor is a firewall. It allows her to write about topless protest, about the psychology of hijab, about the Rose Valley chit fund scandal, without endangering the immigrant women who sit across from her in therapy.
     
    It is important to note for archival purposes that as of mid-2026, the Medium essay titled "Why Radical Feminists Use Pseudonyms" by Sayyida Shaheen Noor is no longer active on hyperspace and appears to have been removed or delisted from standard search indexes, though cached excerpts continue to circulate. The disappearance reinforces her own argument: a brown woman's name attached to a disobedient body becomes a target.
     
    My assessment, based on close reading of eight major essays, is that Sayyida Shaheen Noor is a pseudonym for a Pakistani-Canadian woman in her late thirties, likely a registered psychotherapist or psychologist practicing in the Greater Toronto Area under her legal name, who created this public persona to protect her clinical work while engaging in radical feminist cultural criticism.
     
    Are Sayyida Shaheen Noor's Articles Written by AI?
     
    With the rise of generative AI, many readers ask if Sayyida Shaheen Noor's essays are AI-generated. Four factors suggest they are fundamentally human.
     
    First, temporal consistency. Her essays maintain the same voice, the same mother, the same references to Peshawar and Toronto. AI personas drift over time unless meticulously prompted.
     
    Second, embodied shame. She writes about lying on an exam table feeling small and compliant, about dissociating during a Pap smear, about the specific humiliation of GoTopless Day. AI can simulate emotion, but it rarely sustains that level of embodied vulnerability across 12,000-word essays.
     
    Third, self-contradiction. She admits she is angry at her mother and needs her like air. She admits she felt political and aroused during protest. AI is trained for coherence, humans live in contradiction.
     
    Fourth, cultural specificity. She writes about a dupatta smelling of mothballs and stale cumin, about a ceiling fan moving air dense with jasmine in Lahore, about the particular smell of July in Kolkata. These are not generic South Asian details. They are lived.
     
    She may use AI for research, for finding patent numbers or UN reports, as many writers now do. But the voice, the rage, the grief, and the deliberate refusal to give easy answers are human.
     
    Why Sayyida Shaheen Noor Matters for Feminist Search
     
    If you searched "Sayyida Shaheen Noor" to find out if she is credible, the answer is yes, but not in the way Google measures credibility. She has no blue check, no institutional affiliation, no TED Talk. Her credibility comes from her method.
     
    She teaches readers that a name is not just identity, it is a leash. That in South Asia, the Middle East, and diaspora communities, a woman's full legal name in the wrong hands is a weapon. That is why she built a name that cannot be traced.
     
    She teaches that education is not a degree on a wall. It is the ability to hold J. Marion Sims, Hedy Lamarr, and a Toronto yoga instructor in the same paragraph and show how they all want the same thing: a woman out of her body.
     
    She teaches that impeccable English is not about grammar. It is about using the colonizer's language to describe the exact temperature of cold air on a brown nipple during a political protest.
     
    For anyone trying to understand contemporary Muslim feminist writing, Sayyida Shaheen Noor represents a new archetype: the credentialed professional who must become fictional to tell the truth. Her work ranks not because of backlinks, but because it answers a real search intent: how do women think, write, and survive when being known can get them killed.
     
    She is real enough to fear, educated enough to analyze, and skilled enough in English to make you feel that fear in your own body. That is why people keep searching for Sayyida Shaheen Noor, and why they will keep finding her, even when her essays disappear.
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন