এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • জননী [ ছোট গল্প ]

    humm
    অন্যান্য | ০৫ জুলাই ২০১১ | ১২৫২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • humm | 122.*.*.* | ০৫ জুলাই ২০১১ ১৫:৩১478316
  • শীতের দুপুর । বারান্দাতে মিষ্টি রোদে গায়ে একটা পাতলা চাদর দিয়ে বসে আছেন বিনতা দেবী। হাতে বই, যদিও পড়াতে তাঁর মন নেই, বরং বারান্দাতে বসে রাস্তার দিকেই মাঝে মাঝে মন চলে যাচ্ছে তাঁর। একটু আগে স্কুলের বাস নামিয়ে দিয়ে গেলো তাঁরই ফ্ল্যাটের কিছু বাচ্চাকে। রাজা, টিকলু রা কলকল করতে করতে ঢুকে গেলো । আজ আচমকা ছুটি পেয়ে গেছেন বিনতা। কলেজের ইউনিয়ন আচমকা এক বন্ধ ডেকে বসে আছে। সবে নতুন বছর শুরু হয়েছে। সেরকম ভাবে পড়াশুনো এখনো শুরু হয়নি। তাই অত চাপ ও নেই। বরং আজ ছুটিতে ঘরে বসে একটু আরাম করা গেলো !

    এই প্রসঙ্গে বিনতা দেবীর কথা বলে নেওয়া যাক। ওনার বয়স ৫৬ বছর। কলকাতার একটি কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপিকা তিনি। বিনতার যখন ২১ বছর, তখনই ওনার বিয়ে হয়ে যায়। ছেলে জয় যখন ৩ মাসের, তখন এক পথ দুর্ঘটনাতে স্বামীকে হারান তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিতেও বেশ সময় লাগে। দাদা বৌদি অনেক করে বলেছিলেন ওদের ওখানেই থাকতে। প্রথম ২ বছর ওদের ওখানেই ছিলেন তিনি। এই ফাঁকে এম এ ও কমপ্লিট করে নেন। তারপরে পি এইচ ডি। এখন নিজের কলকেজেরই তিনি হেড অফ ড ডিপার্টমেন্ট। যবে থেকে চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তবে থেকেই নিজে আলাদা হতে চেয়েছিলেন। কারোর মুখোপেক্ষী হয়ে থাকা যে তার পোশাবেনা। বরং এই বেশ ভালো। দাদা বৌদির সাথেও সম্পর্ক ভালো। ওরাও আসেন, উনিও যান।
  • humm | 122.*.*.* | ০৫ জুলাই ২০১১ ১৬:৫৯478317
  • জয় এর বিয়েও হয়েছে। স্ত্রী দিশা ভারি মিষ্টি মেয়ে। এক দুর সম্পর্কের আত্মীয়ের বিয়েতে ওকে দেখেন তিনি। সেদিন বাসর ঘরে দারুন গান গেয়েছিলো দিশা। এর পরে দিশার বাবা মাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, জয় এর সাথে। জয় এর ও পছন্দ হয় দিশাকে। ২ বছর হোলো ওদের বিয়েও হয়ে গেছে। এক কথাতে বলা যায় এখন বেশ সুখের সংসার।

    এই মুহুর্তে বিনতা দেবীর পরনে হালকা নীল রং এর তাঁতের শাড়ী, গায়ে কালো রং এর চাদর। সোনালী ফ্রেমের চ্‌শমার আড়ালে বুদ্ধিদীপ্ত চোখ। এই বয়সেও ওনাকে বেশ সুন্দরীই লাগে। যদিও মাথাতে লক্ষ করলে দেখা যাবে কিচু রূপার তারের উঁকি, । যদিও তাকে কালো করার কোনো প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখেন নি।
  • humm | 122.*.*.* | ০৬ জুলাই ২০১১ ১৮:১৯478318
  • আজ বারান্দাতে বসে থাকতে থাকতে কখন যে চোখ দুটো জুড়ে এসেছিলো খেয়ল ছিলোনা। আচমকা কলিং বেল এর আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। এই অসময়ে কে আসতে পারে ? ঘরে তো খালি তিনি আর দিশা আছেন। দিশা এই সময়ে বিভিন্ন ম্যাগাজিন পড়ে, কখনো বা টিভিতে কিছু দেখে, কখনো বা আবার ভিডিও গেমস খেলে। মাঝে মাঝে জয় এর সাথে ও খেলা হয় দিশার। দুজনেরই এটা ফেভারিট পাস টাইম। কিন্তু কে এলো ? কারো গলা তো শোনা যাচ্ছেনা। অনেক সময়ে পাশের বাড়ির পুচকু সোহম আসে, কিন্তু সে এলে তো এতক্ষনে যুদ্ধ কালীন পরিস্থিতি এসে যায়। এই সোফা থেকে ঐ সোফাতে ঝাপ,কখনো বা রিমোট চালিয়ে জোড়ে কার্টুন দেখবে। ঘরে ঝড় এলেও সেই ঝড়ে কিন্তু খারাপ লাগেনা কারো। বরং এক প্রকার ভাল লাগাই তাতে মিশে আছে। কিন্তু কে এলো ?
    বিনতা উঠে গিয়ে মেন দরজার দিকে এগিএ গেলেন। দরকা খোলা, অল্প করে ভেজানো। আচমকা শুনলেন দিশার ঘর থেকে এক ফিসফিশানির আওয়াজ। তবে কি জয় ফিরে এলো তাড়াতাড়ি ? দরজার বাইরে দেখলেন এক অচেনা জুতো। আড়ি পাতা তার কখনৈ স্বভাব নয়, কিন্তু দিশার তুমি প্লিজ চলে যাও - এই কথাটা শুনে তিনি থমকে গেলেন । কাকে বলছে দিশা এই কথা !
  • Kulada Roy | 74.*.*.* | ০৭ জুলাই ২০১১ ০৬:৫৮478319
  • বেশ জমাটি আসছে মনে হয়। একটা রহস্য সৃষ্টি হচ্ছে। লেখাটা ভাল লাগছে। শেষ করুন।
  • humm | 122.*.*.* | ০৭ জুলাই ২০১১ ১৪:১৫478320
  • থাংকু kulada roy :)
  • humm | 122.*.*.* | ০৭ জুলাই ২০১১ ১৫:০৫478321
  • ভেজানো দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন বিনতা। অল্প একটু দেখা যাচ্ছে ঘরের ভিতরে। দিশা এবং আর একটি যুবক মুখোমুখি। দিশা বসে আছে খাটে, অপরিচিত ঐ ছেলেটি বসে আছে চেয়ারে। ছেলেটি ঘরের কম্পুটার চেয়ারটিকে টেনে এনেছে। ছেলেটির রং মাঝারী, বেশ সুঠাম চেহারা। হলুদ রং এর টি শার্ট, সঙ্গে অলিভ কালারের কড এর প্যান্ট। হাতে ঘড়ি অন্য হাতে একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট।
    তাহলে তুমি ৫০০০ টাকা এখন দেবে কিনা ?ছেলেটি বেশ উত্তেজিত স্বরে বলে । দিশা বলে, প্লিজ রাজা, বিশ্বাস করো, আমার কাছে এখন অত টাকা নেই। তুমি ২০০০ রাখো, বাকি না হয় পরে দেবো। উঁহু, ছেলেটি অবিচল। যদি এখন না পাই, তাহলে তোমার কি হবে ভেবে দেখেছো ? ছেলেটি বলে। তোমার ৩ টে চিঠি এখনি তোমার শাশুড়ির হাতে ডিপোজিট করে দিচ্ছি। বেশি ঘাঁটিওনা, তাড়াতাড়ি দাও, নইলে হাতের আংটি খুলে দাও। আমি চলে যাচ্ছি। কিন্তু আজ এখন আমার ৫,০০০ টাকা চাই। নইলে আমার সাথে তোমার সেই প্রেম পর্ব সব ফাঁশ করে দেব। দরজার ফাঁক দিয়ে নজরে আসে দিশা কপালের ঘাম মুছছে। মুহুর্তের মধ্যে বিনতা দেবী ডিশিশন নিয়ে নিলেন।

    তিনি বারান্দাতে ফিরে এলেন। নিচে দেখেন বাহাদুর মুখার্জী দের ড্রাইভার বিমলের সাথে গল্প করছে। হাতের ইশারাতে ওকে ডাকেন তিনি। ২ মিনিটের মধ্যেই বাহাদুর এসে যায় । বাহাদুর কে বলেন একটু ওয়েট করো।
    বিনতা এগিয়ে যান দিশার ঘরের দিকে। ভেজানো দরজা খুলে বলেন কে তুমি ? আচমকা তাঁকে দেখে দুজনেই চমকে ওঠে। ছেলেটি মুহুর্তের মধ্যে তা সামলে নেয় , বলে দিশা জানে আমি কে। বিনতা বলেন তুমি বলো, তোমার পরিচয় তোমাকেই দিতে হবে। ছেলেটি বলে আমি রাজা ঘোষ। সেতো বুঝলাম, বলেন বিনতা। কিন্তু এখানে কি দরকার তোমার ? রাজা বলে আছে দরকার, সব আপনাকে বলতে হবে নাকি ? হুঁ বলতেতো হবেই, নইলে এখান থেকে ছাড়া পাবেনা যে, বলেন বিনতা। দিশা এক কোনে সিঁটিয় এ আছে, দেখেন বিনতা। তোমার হাতের প্যাকেটে কি সব চিঠি আছে বলছিলে, কই দেখাও তো একবার। ছেলেটি বলে এই সব দিশা আমাকে লিখেছে । কবে লিখেছে দিশা ? বিনতা জানতে চান। ও যখন ইউনিভারসিটিতে পড়ত তখন , ছেলেটি উত্তর দেয় । সেত প্রায় ৫ বছর আগে ! হুম ৫ বছর, ছেলেটি বলে। আমি ছিলামনা। কাজে বাইরে চলে যেতে হোয়েছিলো। এসে খবর পেলাম দিশা অন্য ছেলেকে বিয়ে করে বসে আছে। সনজুর কাছ থেকে দিশার শশুর বাড়ির ঠিকানা পেয়ে এলাম বিনতা বলেন আমাকে দাও চিঠিগুলো। রাজা বলে দেখুন আপনার বৌমার কান্ড। বিনতা বলেন তুমি এবার এসো , আর যেন কখনো এই বাড়ির আশে পাশে না দেখি তোমাকে। এই ভাবে ব্ল্যাক মেল করছো, জানো তোমাকে এখনি পুলিশে দিতে পারি আমি। যদি ভালো চাও, আর যেন এই তল্লাটে না দেখি তোমাকে। রাজা বেড়িয়ে যায় , বাহাদুরের সঙ্গে।

    দিশা - ডাকেন বিনতা। আয় মা। দিশা এগিয়ে আসে, চোখে জল। মা - আমি জয়কে ভালো বাসি মা। দিশা বলে। আমি জানি তো রে পাগলি বলে বিনতা জড়িয়ে ধরেন দিশাকে। কিন্তু এই চিঠিগুলো ? জয় যদি দেখে ও কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে মা ? জয় জানতে পারবেনা, বলে চিঠি ৩ টে ছিড়ে ডাস্ট বিনে ফেলে দেন বিনতা।

    ***** সমাপ্ত *****
  • abastab | 61.*.*.* | ০৭ জুলাই ২০১১ ১৫:০৯478322
  • কই এতো দেখি শেষ হয়ে গেল একেবারে, শেষ হয়ে হইলো না শেষ হল না তো!
  • Lama | 117.*.*.* | ০৭ জুলাই ২০১১ ১৮:৫২478323
  • হুম্‌ম্‌ম
  • Nina | 12.*.*.* | ০৭ জুলাই ২০১১ ১৯:১৬478324
  • জননী--যথার্থ!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন