ইউ পি তে একটা ফুড ম্যাপিং হয়েছে সরকারের তরফ থেকে, তাতে কোনো নন ভেজ খাবার নেই। লখনৌর এত সব বিখ্যাত নবাবী খাবার, তার একটিরও এই ফুড ম্যাপে উল্লেখ নেই। ইউ পির ইতিহাসে শুধুমাত্র মুসলিম রাই ননভেজ খানাতে অভ্যস্ত তা কিন্তু নয়। ইউ পির কায়স্থ সমাজ কিন্তু সমান ভাবে ননভেজ খাবার খেয়ে থাকে। এ ব্যাপারে কারণ হিসেবে বলা হয় যে ইউ পি তে নবাবী আমলে নবাবের কর্মচারীর মধ্যে কায়স্থ সমাজের লোকই বেশী ছিল, তাই তাদের খাওয়াদাওয়ায় নবাবী প্রভাব খুব বেশী মাত্রায় দেখা যায়। আমার প্রতিবেশী ছিল এক সাক্সেনা, ইউ পি র কায়স্থ, তার বাড়িতে খাবারে মাংস প্রায় একদিন অন্তর থাকত, এছাড়া নানারকম সুস্বাদু কাবাব ইত্যাদি ঘরে তৈরী মাঝে মাঝে আমাদের দিয়ে যেত।
এবার এই মিড ডে মিলের ব্যাপারটা ইস্কনের অক্ষয় ফাউন্ডেশনকে দেওয়ার উদ্দেশ্য এই ছোট থেকে ভেজ চালু করা। এ নিয়ে প্রচুর বাকবিতণ্ডা, প্রতিবাদ এর আগে হয়েছে, ওড়িশা এবং সাউথে। এদের কোথাও একটা কিছু ঘোটালাও ধরা পড়েছিল। এবার এই সরকারের একটা খুব সুন্দর ব্যাপার আছে, এরা যা করার তা বিনদাস করে, কোনো কিছুতেই কোনো সিদ্ধান্ত বদলায় না। ওড়িশাতে এখন বিজেপি এসে প্রতিবাদ ইত্যাদি বন্ধ।
কোনোদিন হয়ত বাংলার ফুড ম্যাপ বানাবে তাতে ছানার পাতুরি আর ধোকার ডালনা থাকবে কিন্ত ইলিশ ভেটকি থাকবে না।
তবে আর এস এসের এই সবাইকে ভ্যাজ বানানোর এজেন্ডা টা একটা গাঁট এজেন্ডা, এটা ওরা চেষ্টা করেই যাবে।
তবে এই নতুন সরকার আসায় বঙ্গবাসী যেমন উথালপাতাল আর শিশুর অবাক বিস্ময়ে সব কিছুকে যেমন ডিফেন্ড করছে,
(উনি করেছেন জব কুছ সোচকেহি কিয়া হোগা" টাইপস)
তাতে আমি রিয়ালাইজ করলাম যে এই বেশীরভাগ সবজান্তারা আসলে প্রচন্ড ইনসুলার। সারা দেশে কী হচ্ছে না হচ্ছে সেসব খবর রাখেও না বদারও করেনা।
এছাড়া আজ থেকে প্রায় বছর দুয়েক নিউটাউন ফোরামে দেখেছিলাম যে অনেক স্কুলে নাকি আনঅফিশিয়ালি বলে দেওয়া হয় বাচ্চাদের টিফিনে ননভেজ না দিতে, বিশেষ করে অবাঙালি ম্যানেজমেন্ট যে স্কুল গুলিতে আছে। কিছু প্লে স্কুল ও প্রাইমারি সেকশনে বাঙালি মায়েরা টিফিনে ডিম দেওয়ায় তাদের গার্জেন কল হয়েছে। বাচ্চারা যারা ভেজ তারা না বুঝে যদি বন্ধুদের টিফিন শেয়ার করে ফেলে তাই এই সতর্কতা। এছাড়া আই এল এস হসপিটালে দেখলাম নন ভেজ নিষিদ্ধ।
বিজেপি এসে বাংলাকে শোধরাবার গ্রাউন্ড ওয়ার্ক অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে, তিমু র আমলে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতায়।.... আজকে সব এম পি এমেলে চলে যাচ্ছে বলে লোকে অবাক হচ্ছে কেন যেখানে অনেকদিন থেকেই পুরোদমে এবাড়ি ও বাড়ি যাতায়াত লেগেই থাকত।
রায়পুরে একটা বিশাল স্টারবাক্স খুলেছে সেখানে কোনো ননভেজ আইটেম রাখে না। খুব বড় হোটেল রিসর্ট নয়ত সস্তা ধাবা ছাড়া মধ্যবিত্তের খাবার জায়গা সবই ভেজ। পাঞ্জাবী রেস্তোরাঁ তে কাঁঠালের বিরিয়ানি!