বাদ ও সংবাদ
'Psephologist ' শব্দটার মানে কী, বা আদৌ এমন একটা শব্দ যে হয়, সেটা জেনেছিলাম আপনার কাছ থেকে।সাদা কালো ফিলিপস চোদ্দ ইঞ্চি, ক্রিকেট, বুনিয়াদ বা নুক্কর সবার সাথেই দেখা উচিত, পরীক্ষা যার,সে দরকারে পাশের ঘরে, ছাদে,বা বন্ধুর বাড়ি গিয়ে পড়ো --- পড়শীরা ওয়ার্ল্ড কাপ দেখবে না তাই বলে?
এমনি একটা সময় একজন দাড়িওয়ালা লোক শুক্কুরবার রাতে হাজির হত World This Week নিয়ে। গিলতাম জাস্ট।আর ভোটের সময় তার বিশ্লেষণ। সব বুঝতাম তাতো নয়, তবে আসতে আসতে মন, বুদ্ধি তৈরি হত পরিণততর কিছু গ্রহণ করতে।
এখনকার মত তখন টিভি পর্দায় ঘোর গরমে বেগুনি শুট পরে কেউ চিৎকার করতে করতে ছুটে আসতনা,পর্দাটা কে বড়, মেজো,ছোট -- নানান ভাগে ভাগ করে খামচা খামচা হেডিং এর ফাজলামো ছিলনা। এগুলি আমাদের মনকে বিকশিত করেনা। বরং বিক্ষিপ্ত করে দেয়! গ্রহণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এটাও একটা কর্পোরেট চক্রান্ত।
তখন খবর ছিল। একটি শুদ্ধ বাক্য সম্পূর্ণ উচ্চারণ ছিল। ভাষা ব্যবহারের মধ্যে বুদ্ধি, রসিকতা এবং ভব্যতা ছিল। দূরদর্শন দেখলে কিছু শেখা যেত। কিছু সিরিয়াল আমাদের মত শিশু বালিকাদের স্বপ্ন দেখতে শেখাতো, স্বামীর দ্বিতীয় বা তৃতীয় পত্নীর সাথে ক্ষমতা যুদ্ধের টিপস দিতে আসতনা। অমরা এচোড়ে পাকা হতাম হয়তো, পচে যেতামনা!
প্রণয় রায় নামের সেই ভদ্রলোক তাঁর সাধের World this week এ যখন মৃত সহাধ্যায়ী রাজীবের চিতার পাশে প্রদক্ষিণরতা শ্বেতবস্ত্রা সোনিয়াকে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে দেখিয়েছিলেন, সে দৃশ্য ছিল সংক্ষিপ্ত, বেদনা বিধুর, অতিনাটকীয় অসভ্যতাহীন।
NDTV তাঁর মানসকন্যা। তারপর একদিন তাঁকে ছেড়ে আসতে হলো তাকেই! সবাই তো আর সব কিছু পারেনা! কেবল যেটা পারে, সেটাই করতে চায়।
তাই, নিজের শর্তে আজ তিনি নেমেছেন কলকাতার পথে। আসন্ন নির্বাচনের বিশ্লেষণের নেশায় পথের ধুলো মাখছেন তিনি। আদানীর খপ্পরে পড়া হিমশীতল NDTV নামক সাংবাদিকতার মর্গে তিনি থাকবেন কেন?
আমরাও মুখিয়ে আছি সেই সাংবাদিকতা নামক, অধুনা দুর্লভ, বৌদ্ধিক অমৃতর স্বাদ আবারও পেতে ! সংবাদ বা নির্বাচনী বিশ্লেষণের নামে আগে থেকে অনুদান প্রাপ্ত,গ্যাদগেদে, সস্তা, ন্যাবা ধরা ক্যাবলামোর হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে। আমরা এটাও আশা রাখি, বিসমিল্লাতে যখন বৌদ্ধিক ভালোলাগা ছড়িয়েছে তখন ভবিষ্যৎ এও নিরপেক্ষতার শর্তের অজুহাতে বিষাক্ত সত্যের ম্যাচ ফিক্সিং ঘটবেনা।তাতে ধুলোমাটির অপমান হবে। আপনাকে স্বাগত।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।