এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ব্যাটল অফ বী (Battle of the Bees) বা **তাঙ্গা’র যুদ্ধ** 

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯ বার পঠিত
  • **ব্যাটল অফ বী** (Battle of the Bees) বা **তাঙ্গা’র যুদ্ধ** প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি অত্যন্ত নাটকীয় এবং কিছুটা অদ্ভুত যুদ্ধ। এটি ১৯১৪ সালের ২ থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে তৎকালীন জার্মান পূর্ব আফ্রিকায় (বর্তমান **তানজানিয়া**) ব্রিটিশ ও জার্মান বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

    ব্রিটিশদের লক্ষ্য ছিল ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত 'তাঙ্গা' বন্দরটি দখল করা। এটি করতে পারলে জার্মান পূর্ব আফ্রিকার একটি প্রধান রসদ পথ বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হতো। ব্রিটিশ জেনারেল আর্থার এইটকেন প্রায় ৮,০০০ ভারতীয় ও ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে এই আক্রমণ চালান।

    জার্মান বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন বিখ্যাত জেনারেল **পল ফন লেটো-ভরবেক**। ব্রিটিশদের তুলনায় জার্মান বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল অনেক কম (মাত্র ১,০০০ থেকে ১,১০০ জন, যার বেশিরভাগ ছিল স্থানীয় 'আস্কারি' সৈন্য)। তবে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং ভৌগোলিক অবস্থানে সুবিধাজনক জায়গায় ছিল।

    যুদ্ধের এক পর্যায়ে বনের মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে বুনো মৌমাছির বিশাল সব চাক (hives) ভেঙে যায়। হাজার হাজার উত্তেজিত মৌমাছি সৈন্যবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
    মৌমাছির কামড়ে ব্রিটিশ বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শৃঙ্খলা একদম ভেঙে পড়ে।

    মজার বিষয় হলো, মৌমাছিগুলো জার্মানদেরও কামড়েছিল, কিন্তু ব্রিটিশরা ছিল খোলা জায়গায়, তাই তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পরবর্তীতে গুজব ছড়িয়েছিল যে, এটি জার্মানদের একটি "জৈবিক যুদ্ধ" কৌশল ছিল, যদিও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি দুর্ঘটনা।

    অত্যধিক মৌমাছির আক্রমণ, ব্রিটিশ কমান্ডের ভুল সিদ্ধান্ত এবং জার্মানদের কৌশলী প্রতিরোধের মুখে ব্রিটিশরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ৪ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনী তাদের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র এবং রসদ ফেলে রেখে জাহাজে করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন