মধ্যরাতের নিস্তব্ধতাকে ভেদ করে স্যালাইন বোতলের ড্রিপ থেকে বেদনানাশক ওষুধটি ক্যানুলার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমার শিরায় প্রবেশ করছিলো। মিনিট খানেকের ব্যবধানে ঘটে চলা জরায়ুর সংকোচন আর প্রসব-বেদনাকে সাময়িক প্রছন্ন করে ওষুধের প্রভাব অতি ধীরে আমার মস্তিষ্ক কে আচ্ছন্ন করতে সক্ষম হচ্ছিলো। একাধারে তলিয়ে যাচ্ছিলাম নিদ্রার অতলে, অপরধারে প্রসব আসন্নকালে শরীর চাইছিল জাগিয়ে রাখতে। চেতন-অবচেতনের সেই দোলাচলে কেবল আমি নই, প্রতিটি নারীর মনন জুড়ে থাকে একটিই প্রার্থনা তার সন্তান যেন সুস্থ দেহে পৃথিবীর আলো দেখে, সে নিজে যেন নবজাতকের জন্য সুস্থ থাকে। আমিও সেই মুহূর্তে এই প্রার্থনাই করেছিলাম। আমার সন্তানকে নিয়ে সুস্থ দেহে যেদিন বাড়ি ফিরেছিলাম সেদিন ঈশ্বরের সাথে সাথে ধন্যবাদ ... ...
সেসময়টা ছিল সেপ্টেম্বর মাস; সপ্তাহান্তের আর পাঁচটা দিনের মতো এক রবিবার। প্রতিবেশী বন্ধু-দম্পতির সৌজন্যে বেড়িয়ে পড়েছিলাম মোরেৎ-স্যুর-লোঁয়ার উদ্দেশ্যে। প্যারিসের অদূরে বহমান এক ছোট্ট নদীর নামটি লোঁয়া, সেই নদীর তীর ধরে এক ছোট্ট গ্রাম, মোরেৎ-স্যুর-লোঁয়া; ছবির মতো সেই গ্রামের আলোকেই নিজের ছবির মধ্যে বেঁধে রাখলেন চিত্রশিল্পী আলফ্রেড সিসিলি, ঠিক যেন তুলির আঁচড়ে সময়কে বেঁধে রাখা।ছবির মধ্যে বন্দী আলো, এও কি সম্ভব! আসলে একেকটি স্থান যখন দৃশ্যপট রচনা করে তখন বুঝি সে ইন্দ্রিয়াতীত হয়ে যায়। আলো ইন্দ্রিয়াতীত, কিন্তু সত্যিই কি আলোকে অনুভব করা যায় না! আমাদের জীবনের বিশেষ বিশেষ ক্ষণে, আনন্দে, অনুভবের গভীরতায় আলোকের ঝর্ণাধারায় স্নাত হই। অ্যান্থন ডোয়ারের বিখ্যাত উপন্যাস “All ... ...